বয়ে যায় নদী: পর্ব-৮ [বাতাসে লাশের গন্ধ]

zswapan's picture
Posted by
zswapan
Thursday, March 26, 2009 - 1:30pm BST

আজ আমার এখানে ২৫শে মার্চ রাত, আর ঢাকায় ২৬শে মার্চের সকাল। খুবই তাৎপর্যময় একটি সময়। ১৯৭১ সালের এই রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নেমে এসেছিল আমাদেরকে একটি মৃত্যু উপত্যকা বানানোর জন্য। আবার এই মুহুর্তেই আমরা ডাক দিয়েছিলাম স্বাধীনতার। আমি যত বারই “স্বাধীনতা” শব্দটার দিকে তাকিয়ে থাকি, ততই আমার বুকের ভেতর বাতাস ভারী হতে থাকে। ৩৯ বছর আগে যদি এই ঘটনাটি না ঘটতো তাহলে আমি আজ বিশাল বুক ফুলিয়ে যে এই গ্রহের উপর ঘুরে বেড়াই, সেই ব্যাপারটি হতো না। আমি আজ পৃথিবীকে যেভাবে দেখি, মানুষকে যেভাবে দেখি, সেভাবে হয়তো দেখতাম না। আবার ঠিক এই এক মাস আগেই, ২৫শে ফ্রেব্রুয়ারীতে আমাদের উপর নেমে এসেছিল একটি কালো দিন; কিন্তু সেটা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নয়, আমাদের নিজের মাটির নিজের মানুষরাই হয়ে উঠেছিল হিংস্র দানবের চেয়েও পাশবিক। ২৫শে মার্চের সেই ঘটনায় আমরা খুব সহজেই শত্রুকে চিহ্নিত করতে পারি, আঙ্গুল তুলে দেখাতে পারি। কিন্তু ২৫শে ফ্রেব্রুয়ারীর ঘটনায় কার দিকে আঙ্গুল তুলবো! দুটোই যে আমার নিজের হাত।

২৫শে ফ্রেব্রুয়ারীতে পিলখানাতে ঘটে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রকমের মতবাদ রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এর পেছনে সরকার নিজেই জড়িত, কেউ বলছেন বিরোধী দল জড়িত, কেউ জঙ্গীদের কথা ভাবছেন, কেউ ভাবছেন বিগত দুই বছরে জেলখাটা রাজনীতিবিদদের কথা, কেউ মনে করছেন পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা করিয়েছে, আবার কেউ কেউ ভাবছেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাজ এটি। এবং প্রতিটি ভাবনার পেছনেই যথেষ্ঠ যুক্তি আছে, বিশ্বাস আছে। তবে একটি বিষয় আমি ভেবে খুব বিচলিত, সেটা হলো মানুষের বিশ্বাসের ব্যারোমিটার। আজকাল চারদিকে মানুষের ভেতর এমন অদ্ভুৎ বিশ্বাসের পাহাড় দেখতে পাচ্ছি, যা দেখে রিতিমত আঁতকে উঠছি। মানুষের বিশ্বাস এভাবে দ্বিখন্ডিত হয় কিভাবে মাথায় ঢুকছে না।


বিএনপি কি আওয়ামী লীগ - কারো কাছেই কি এই কান্নার কোনও অর্থ আছে?

আমি অবাক হয়ে একটি বিষয় লক্ষ্য করছি তাহলো, যারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত কিংবা যেকোন দলকে সমর্থন করেন, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অন্ধের মতো সেই দলকে সমর্থন করে থাকেন। আমি অবাক হয়ে যাই, যখন তারা নিজের দলের ভেতর কোনও সমস্যাই দেখতে পান না। আওয়ামী লীগ যদি আজ একটি মানুষ খুন করে ফেলে, সেখানেও সেই অন্ধ সমর্থকরা একটি “কারন” খুজে পান। একইভাবে বিএনপি যদি দশটি লাশ ফেলে দেয়, তাহলে সেখানেও বিএনপির সমর্থকরা নির্ভেজাল যুক্তি খুজে পান। এ কী এক অদ্ভুৎ সময়ের ভেতর এসে পড়লাম! এই আচরনটি যে কেবলমাত্র মফস্বলের কলেজগুলোর ছাত্রদল আর ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে তা নয়, এটি খুব শিক্ষিত মানুষদের ভেতরও একই রকমভাবে প্রতিষ্ঠিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যেমন সেই হত্যার পক্ষে যুক্তি খুজে পান, একইভাবে নাসায় কর্মরত একজন বাংলাদেশীও একটি যুক্তি খুজে পান। আমরা কেমন যেন সবাই অন্ধ হয়ে পড়ছি। কিন্তু কখনই কি কেউ নিরঙ্কুশ ভালো কিংবা খারাপ হতে পারে? একটি খুব খারাপ মানুষেরও কিছু ভালো কাজ থাকে; আবার অনেক মহান মানুষেরও কিছু খারাপ কাজ থাকে (যেগুলো হয়তো আমরা প্রকাশ করি না।) এবং উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের উচিৎ হলো কোনও একটি কর্মকে সমর্থন বা অসমর্থন করা, পুরো মানুষ বা দলটিকে অন্ধের মতো নয়। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কিংবা জামাত - কেউই ধূয়া তুলশি পাতা নয়। সবারই কিছু ভালো দিক আছে, আবার সবারই অনেক খারাপ দিক আছে।

কিন্তু বিডিআর-এর এই ঘটনায় আমরা আবারো একই জিনিস দেখতে পেলাম। সবাই যার যার অবস্থান থেকে বিষয়টিকে না দেখে দলগত অবস্থানই বেশি নিয়েছেন। এই লেখাটি যখন লিখছি তখন পর্যন্ত ছয় জন বিডিআর সদস্য এবং একজন ইমাম মারা গিয়েছেন। যদিও বলা হচ্ছে মারা গিয়েছেন, কিন্তু আসলে মেরে ফেলা হয়েছে। সরকারী হেফাজতে কিভাবে এই লোকগুলো মারা যাচ্ছে, যেখানে সেই লোকগুলোই আবার সাক্ষী! সরকার এটাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবে! সরকারের তো এদেরকে আরো প্রটেকশন দিয়ে রাখার কথা! কিন্তু আওয়ামী লীগের কেউ এটা নিয়ে কিছু বলছে না। সকল বুদ্ধিজীবিরা এখন চুপ। তাহলে কিছু কিছু মানুষ যে বলছেন, এই জঘন্য হত্যাকান্ডের পেছনে সরকারের হাত ছিল, সেটাই কি সত্যি হতে চলেছে? পুরো রহস্যটি আমরা এখনো জানি না। তবে, সরকারের হেফাজতে এই মৃত্যু ২৫শে ফ্রেব্রুয়ারীর মতোই জঘন্য এবং নিন্দনীয়।


২৫ শে ফ্রেব্রুয়ারী: সেদিন সকালে এভাবেই বসে শুরু হয়েছিল দরবার হল। ঘটনার কিছু আগে তোলা ছবি।

২৫ তারিখ দিবাগত রাত আড়াইটায় (২৬শে ফ্রেব্রুয়ারীর ভোর) আমি ঘুমাতে গেলাম। মনে মনে বেশ একটা স্বস্তি নিয়েই ঘুমাতে গেলাম এই জন্য যে, যাবতীয় অস্ত্র সমর্পণ শেষ হয়েছে। সাহারা খাতুন ভেতর থেকে বাইরে এসে এই কথাটিই জানালেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে এই কথা বলছেন। তার উপর তো আর কথা থাকতে পারে না। সমস্ত বিদ্রোহী বিডিআর জোয়ানরা অস্ত্র জমা দিয়েছেন, আপাতত এটাই স্বস্তির কথা। তার কথা বিশ্বাস করেই আমি ঘুমাতে গেলাম। (যদি বুঝতে পারতাম যে তিনি সঠিক তথ্যটি দেননি, তাহলে হয়তো আর ঘুমাতেও যেতাম না।)

সকালে একটু দেরী করেই ঘুম থেকে উঠলাম। একটা মানসিক চাপের ভেতর থেকে মুক্তি মিললে যেমন প্রশান্তি, আমি তেমনটাই অনুভব করছিলাম। বেশ আয়েশ করেই খবরের কাগজটা নিয়ে নাস্তার টেবিলে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, উফ কী যে একটা সময় পার হলো!

নাস্তার টেবিলের লোকজন আমার কথা শুনে ছোট করে বললেন, এখনো গোলাগুলী হচ্ছে।
হঠাৎ করেই অনেক উচু কোনও ভবন থেকে মাটিতে পড়ে গেলে যেমন একটা অনুভূতি হয়, আমারো তেমন একটা অনুভূতি হলো। আমি হরবর করে বললাম, কাল রাতে না সব অস্ত্র জমা হয়ে গেলো। এখন আবার গোলাগুলী কেন? কথাটা বলেই আমি নাস্তার টেবিল ছেড়ে টিভি রুমে গিয়ে টিভি ছেড়ে দিলাম।

অস্ত্র তখনো সমর্পন হয়নি। তখনো ভেতর থেকে প্রচন্ত গুলীর শব্দ আসছে। নাস্তা নিয়ে টিভির সামনেই বসে গেলাম। আবার শুরু হলো আরেক দফা স্নায়ু যুদ্ধ।


বেরিবাধের পানিতে চলে আসে লাশ।

একটু পরেই ঝিগাতলার বেরিবাধের ড্রেনে ছয়টি লাশ ভেসে উঠলো। তাদের গায়ে অসংখ্য গুলীর চিহ্ন। কর্নেল আনিস-এর লাশ সনাক্ত করা গলে। আর তখুনি সবার টনক নড়ে উঠলো। এই প্রথম আমি মানুষকে ঘুরে দাড়াতে দেখলাম। লোকজন বলাবলি করতে শুরু করলো, এটা কী! এটা কেউ আশা করেনি।

তারপর আসতে শুরু করলো লাশের খবর। তখুনি প্রথম বলা হলো, ভেতরে মৃতের সংখ্যা ৫০-এর মতো হতে পারে। আবার সেনাবাহিনীর একটি সংবাদে বলা হলো, মৃতের সংখ্যা ১৫০-ও হতে পারে। এই খবরে সবাই যেন লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিল। নিজের দেশের মাটিতে নিজের দেশের মানুষের হাতে এটা কি করে সম্ভব, সেটা কেউই যেন কল্পনাও করতে পারেনি।

বড় বড় নেতারা পিলখানায় ভিড় জমাতে শুরু করলেন। মতিয়া চৌধুরী এলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাহায্য করার জন্য। তিনি পিলখানার পাশের আম্বালা হোটেলে অবস্থান নেন। এরশাদও এলেন তার আত্মীয়ের খোঁজে। তবুও গিয়েছিলেন তো। মানুষ তাতে আশ্বস্থ্য হয়েছিল এই ভেবে যে, এরশাদ তো সামরিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন। হয়তো একটা কোনও সমাধান হলেও হতে পারে। মানুষ যেন এতটুকু খড়কুটো জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিল। (এখানে আবারো প্রমানিত হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারন মানুষ শান্তিপ্রিয়।) কিন্তু এতো বড় বিপদে খালেদা জিয়া যাননি। এটা নিয়েও হয়তো কারো কারো কোনও ব্যাখ্যা থাকবে। কিন্তু সেই ব্যাখ্যা আমার কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। আমি যদি রাজনীতি করি দেশের জন্য, তাহলে দেশের মানুষের এই বিপদে আমি সেখানে যাবো না কেন? দেশ তো হাসিনার একার নয়। ওই দেশ যদি হয় আমার, তাহলে আমি যাবই। কিন্তু খালেদা জিয়া তো ওখানে আসেননি, উপোরন্তু তিনি ৩ দিন তার সেনানিবাসের বাসায় ছিলেন না। অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। তাহলে কি তিনিও কিছু আঁচ করতে পেরেছিলেন! আর সেনানিবাসেও বুঝি তার নিরাপত্তা হয় না? হাসিনা অবশ্য কটাক্ষ করে বলেছেন যে, এটা কি তার ছেলের বিয়ে নাকি যে দাওয়াত দিয়ে আনতে হবে? হাসিনা অনেকদিন পর তার স্বভাবসুলভ কথাই বলেছেন। (অনেকদিন ধরে আমরা তার এই ধরনের চটুল কথা মিস করছিলাম।) এটা তো আসলেই তার ছেলের বিয়ে নয়। তবে তিনি হয়তো ভুলে গিয়েছেন, তার বাসায় সবার যাওয়ার অনুমতি নেই। তিনি না ডাকলে সেখানে আরেকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী যেতে পারেন না। কিন্তু পিলখানায় যেতে তো খালেদা জিয়ার কোনও বাধা ছিল না!

এর মাঝেই খবর আসতে শুরু করে, দেশের আরো কয়েকটি জায়গায় বিডিআর আর সেনাবাহিনীর ভেতর মুখোমুখি অবস্থান শুরু হয়েছে। বিডিআর জোয়ানরা তাদের বাংকারে অবস্থান নিয়েছে - সেই ছবি টিভির পর্দায় দেখানো হলো। তাদের ভেতর আতংক ছড়িয়ে পড়েছিল যে, সেনাবাহিনী তাদের উপর হামলা চালাতে পারে। তাই তারা প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। আমার কিছু বন্ধু জানালো যে, তাদের কিছু পরিচিতি সেনাবাহিনী অফিসার যারা বিভিন্ন স্থানে (বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায়) বিডিআর-এর দায়িত্বে ছিল, তারা অনেকেই পালিয়ে এসেছে। কোথাও কোথাও বিডিআর-এর জোয়ানরাই তাদের অফিসারদেরকে চলে যেতে সাহায্য করেছে। নৌকায় করে নদী পার করে দিয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে।

দুপুরের দিকে পিলখানার বাইরে থেকে কারা যেন ফাঁকা গুলী করলো। সেটার জবাবে ভেতর থেকে বৃষ্টির মতো গুলী হতে থাকে। পুরো পরিস্থিতি আবারো খুব জটিল আকার ধারন করে।


এটাই ছিল জেনারেল শাকিলের শেষ সালাম গ্রহন। তখনও কি তিনি জানতেন, কী ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে!

পিলখানার গেটে তখন অনেক জোয়ানের মুখেই ডিএডি তৌহিদের নাম শুনা যায়; এবং তারা তৌহিদকে তাদের নেতা বলে দাবী করে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ডিএডি তৌহিদকে ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে ঘোষনা দেয়। এবং এই ঘোষনার মাধ্যমেই সরকার স্বীকার করে নেয় যে, পূর্ববর্তি ডিজি জনাব শাকিল সাহেব নিহত হয়েছেন। তবে তখন পর্যন্ত এই মৃতের কোনও ঘোষনা দেয়া হয়নি। (তবে তারো ২৪ ঘন্টা আগেই জনগন জেনে গেছে যে, ডিজি সাহেব এবং তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন।) সরকার পরবর্তিতে অস্বীকার করেছে যে, তারা তৌহিদকে ডিজি পদে নিয়োগ দেয়নি। তবে সবগুলো টিভির পর্দায় এটি প্রচার হয়েছে যে, তৌহিদকে ডিজি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের কাছে এই খবরের নিশ্চই কোনও সূত্র থেকে থাকবে।

পরিস্থিতি তখনো খুব সংকটাপন্ন। এমন অবস্থায় আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনার জন্য অপেক্ষা করছি। সকাল থেকেই এই ভাষনের কথা প্রচার করা হচ্ছিল। অনেক অপেক্ষার পর তিনি ভাষণ দিলেন। এবং সেখানে বিডিআর জোয়ানদেরকে সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করলেন। পরবর্তি পরিস্থিতিতে অবশ্য তাকে সেই সাধারন ক্ষমা প্রত্যাহার করতে হয়েছে। এটি হতে পারে তার ষ্ট্রাটেজি; নয়তো তিনি সত্যি সত্যি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, পরে চাপে পড়ে সেটা আর রাখতে পারেননি। তবে তার বক্তৃতা ছিল খুবই সুলিখিত। তিনি খুব পরিষ্কার একটি ম্যাসেজ দিতে পেরেছিলেন বলেই আমার মনে হয়েছে। তিনি পরিষ্কারভাবেই বলেছিলেন যে, অস্ত্র সমর্পন না করলে দেশের স্বার্থে তাকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রথমে দুপুর ২টার ভেতর সকল অস্ত্র জমা দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যেতে বলা হয়। তারপর সেটা বাড়িয়ে আরো ৪০ মিনিটি দেয়া হয়।

এর পরপরেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে নিরাপত্তা আরো বাড়িয়ে দেয়া হয়। তার বাড়ির সামনে কামান এবং ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী অস্ত্র বসানো হয়। এই নিরাপত্তা কার ভয়ে বাড়ানো হয়েছিল সেটা নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুলেছিল। কারন, বিডিআর-এর কাছে তো কামান বা ট্যাঙ্ক নেই। ওগুলো আছে সেনাবাহিনীর কাছে। তাহলে কি প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর কাছ থেকেও আঘাত আশা করছিলেন? বিশেষকরে তার নিরাপত্তার সাথে জড়িত বাহিনী কি তাই মনে করেছিল? নাকি এটা নেহায়তই একটি প্রচলিত নিরাপত্তা বেষ্টনি ছিল, সেই প্রশ্ন এখনো বাতাসে উড়ছে।

তখন এমপি ফজলে নূর তাপস পিলখানার চারপাশের দুই কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা খালি করে ফেলতে বললেন। সবাইকে বাসা ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে বললেন তিনি। আমরাও তার প্রস্তুতি নিতে শুরু করি।

[চলবে]

২৫ মার্চ ২০০৯
ক্যালিফোর্নিয়া

[পুনশ্চ: সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা। স্বাধীনতা, আহ আমার স্বাধীনতা। ]

Comments

Shamim Hasan's picture

Dear, I would like to write

Dear,
I would like to write something in bengali. But I dont know what to do. Would you pls help me.

The One Eleven's picture

স্বপন ভাই

এই সেই পুল

In the event of BDR-Army battle, you support -
(by priyo.com | February 25, 2009 - 7:24pm)

BDR jawans----36% (453 votes)

Army Officers----25% (310 votes)

None------39% (488 votes)

Total votes: 1251
Tags:* Army BDR

স্বপন ভাই
আপনার চমৎকার লেখাটি পড়লে যে কেহই অভিভুত হবে,আমি নিজে ও হয়েছি।কিন্তু তাৎক্ষনিকভাবে আপনার ই-মেলায় একটি পুল বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল যা অত্যন্ত মর্মান্তিক,যেখানে মানুষের বিশ্বাসকে দ্বিখন্ডিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।এই পুলটিতে বলা হয়েছিল এই যুদ্ধে আপনি কাকে সমর্থন করেন?ইহা ছিল আর্মির বিরুদ্ধে বিডিআরের বিদ্রোহ,যুদ্ধ নহে।আর এই ধরনের ঘটনায় কি উদ্দেশ্যে পুলটি দেওয়া হয়েছিল তা ও পরিষ্কার।আর্মিরা আপনার নেত্রীকে জেলে নিয়েছিল সেই ক্ষোভ আপনার ভিতেরে ও ছিল আর সেই ক্ষোভ থেকেই আপনার মনের অজান্তেই এই পুলের আইডিয়া বেড়িয়ে আসে।আপনি এই ঘটনার জন্য যতই আফসোস করেন না কেন আপনার দেয়া পুল সেই আফসোসকে হাস্যকর করে তুলবে।আশা করি আমার কথায় দ্বিমত পোষন করতে আপনার বিবেকে বাধবে।যা সত্যি আমি তাই বলেছি।আপনার জ্ঞাতার্থে প্রথমেই সেই পুলটিকে তুলে ধরা হল।

Image

zswapan's picture

আমার লেখার উত্তর - জাকারিয়া স্বপন

পোল কখনই কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে হয় না। যদি সেটা হয়ে থাকে, তাহলে সেটা স্বীকার করতেও কোনও সমস্যা নেই। তবে আমরা পোল দেই, শুধু মাত্র মানুষের সমর্থন কোন দিকে, সেটাকে বুঝার জন্য। এর বেশি কিছু নয়। আমার ধারনা, এভাবেই সারা পৃথিবীতে পোল তৈরী করা হয়। জন সমর্থন দেখার জন্য। আর আমরা কোনও পোলের ফলাফল তো মেনিপুলেট করছি না। তাই এই সব বাড়তি সন্দেহ না থাকাই ভালো।

এবং যে পোলটির কথা এখানে উল্লেখ করেছেন, সেটা আমি এখনও সমর্থন করি। এবং মোটেও তার জন্য লজ্জিত নই। কারন, এই পোলটি থেকেই আমরা এখনও বুঝতে পারছি, ওই মুহুর্তে বিডিআর-এর প্রতি মানুষের সমর্থন ছিল। এবং মানুষ বিডিআরকে সমর্থন দিয়েছিল সেনাবাহিনীর দূর্নীতির জন্য। এটাই সত্যি। আবার এটাও সত্যি যে, শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ কাউকেই সমর্থন করেননি। এটাই আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। আর পোলের উদ্দেশ্যই তো তাই। আমি তো বিভিন্ন লেখায় এই পোলটিকে রেফারেন্স হিসেবে দেখাবো বলে ভাবছি।

আপনি কাকে ঠিক আমার নেত্রী বলছেন, সেটা বুঝতে পারছি না। আপনি হয়তো ভাবছেন, আমি বুঝতে পারছি কিন্তু এখানে লিখছি না। নাহ, আমি আসলেই বুঝতে পারছি না। প্রকৃতি এখনও আমাকে সত্যি কথা লেখার মতো সাহস দিয়েছে। আপনি ভাববেন না, আমার ব্লগগুলো আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাকেও ছোট-খাটো চাপে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু দোয়া করবেন, যেন প্রকৃতি আমার সাথে থাকে। কখনও যদি মিথ্যা কথা লিখতে হয়, সেদিন যেন আমার মৃত্যু হয়। লেখালেখিকে এখনও আমি একটি পবিত্র কাজ বলেই মনে করি। এবং দিনে দিনে এটি আমার কাছে ধ্যানে পরিনত হচ্ছে। সেকারনই, আমি যা লিখি তা নিজের নামেই লিখি। এবং তার দায়িত্বও আমি নিয়ে থাকি।

তবে সত্যি সত্যি যদি আমার একজন নেত্রী থাকতো, তাহলে খুব খুশি হতাশ। তার ছায়ায় গিয়ে দেশ সেবায় নেমে পড়তাম। কিন্তু আমি সেই সৌভাগ্য নিয়ে জন্মাইনি। মাঝে মাঝে ভাবি, কেন আমার জন্ম আরো ত্রিশ বছর আগে হলো না? তাহলে তো কিছু মানুষ পেতাম যাদের সাথে কাজ করতে পারলে এই জীবন ধন্য মনে হতো। কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত শুধু এটাই মনে হয়, একটা কীট-পতঙ্গের জীবন যাপন করছি। একটা বড় দুঃসময়ের ভেতর দিয়ে সময় পার করছি যখন কিছু অমানুষ আমাদের ঘাড়ের উপর চেপে বসেছে। এর থেকে মুক্তি চাই, প্রকৃত মুক্তি। একটু বুক ভরে প্রশ্বাস নিতে চাই। প্রকৃতি যেন আমার মৃত্যুর আগেই আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে সেই মুক্তিটুকু দেয়, সেটাই এখন একমাত্র চাওয়া। তাদের মনে যেন আমার আপনার মতো কষ্ট না থাকে।

ভালো থাকবেন।

amjonota007's picture

Swapan bhai.... great

I always read the article of Swapan Bhai, Watchdog, one eleven, Mukhe modhu, Hasan Imam, Hridoy, bootytrap, Nazrul, Selim C and others also. Actually we use this platform to express our idea, thinking and what we believes. I must say after getting this answer of Swapan bhai, you r a broad minded person and I like u very much. Thanks u once again for your great article as well as your answer regarding the querry of The One Eleven.

The One Eleven's picture

স্বপন ভাই

স্বপন ভাই
আপনাকে ধন্যবাদ।আমার লেখাটির উত্তর অনেক সুন্দর,সহজ এবং সঠিকভাবে দিয়েছেন।আপনি একজন বড় মাপের মানুষ বলেই সরাসরি আপনাকে লিখেছিলাম।তার উত্তর ও আপনি সেইভাবেই দিয়েছেন।
তবে আমার কাছে এখন ও মনে হয় ঐ সময়ের জন্য এই ধরনের পুল সঠিক ছিল না।
এক একজন মানুষের ধ্যান ধারনা এক এক রকম বলেই হয়তো আমরা অপরের ধারনাকে মেনে নিতে পারি না।
আমি আপনাকে আঘাত করার জন্য লিখিনি।আপনি যদি আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।সত্যিই আপনাকে আমরা অনেক পছন্দ করি।একজন ভাল মানুষ এবং ব্যাক্তিত্বের অধিকারি বলে আপনাকে জানি।আপনিই প্রথম এদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারিদের জন্য একটি সাইট খোলে সেখানে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।আবার ও ধন্যবাদ আপনাকে।

Image