কলসেন্টার খাতে গার্মেন্টসের চেয়েও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে বাংলাদেশ

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে লাইসেন্স দেবে বিটিআরসি

শাহজাহান আকন্দ শুভ: এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কলসেন্টারের লাইসেন্স দেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই লাইসেন্স সবার জন্য উš§ুক্ত থাকছে। লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো সময় বেঁধে দিচ্ছে না বিটিআরসি। ট্রেড লাইসেন্স আছে এমন যেকোনো নাগরিক কলসেন্টার লাইসেন্স নিতে পারবেন। লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এ লক্ষ্যেই গতকাল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিটিআরসি গণশুনানি গ্রহণ করে। এতে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

কলসেন্টার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যবসায়ী গতকাল জানান, অনেক পরে হলেও বিটিআরসি কলসেন্টারের লাইসেন্স প্রদান এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার বিষয়টি প্রশংসনীয়। তারা বলছেন, যথাযথভাবে এই ব্যবসার প্রসার ঘটলে ভবিষ্যতে কলসেন্টার থেকে গার্মেন্ট শিল্পের চেয়েও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতে পারে। তারা আরো বলছেন, পার্শ্ববর্তী ভারত বর্তমানে কলসেন্টার থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করছে। জানা গেছে, কলসেন্টারের লাইসেন্স দিতে গত মাসে বিটিআরসি একটি খসড়া গাইডলাইন তৈরি করে জনগণের মতামতের জন্য তা ওয়েবসাইটে দেয়। এরপরই বিটিআরসি এ ব্যাপারে প্রচুর পরামর্শ পায়। প্রাপ্ত পরামর্শের ভিত্তিতে বিটিআরসি গাইডলাইনে বেশকিছু বিষয় সংযোজন এবং বিয়োজন করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে গতকাল গণশুনানিতেও বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পায়।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঞ্জুরুল আলম বলেন, কলসেন্টারের লাইসেন্স দেয়ার আগে পৃথিবীর অনেক দেশেই পাবলিকের মতামত নেয়া হয়। তিনি বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই লাইসেন্স ফি ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। আরো অনেক বিষয়ে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। কলসেন্টারের লাইসেন্সের মেয়াদ হবে ৫ বছর। প্রতি ৫ বছর অন্তর তা নবায়ন করা যাবে।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশে কলসেন্টারের ব্যাপ্তি ঘটবে। পড়াশুনা করে যারা ভালো চাকরি পাচ্ছেন না তাদের কর্মসংস্থান হবে। ২০০৯ সালে বিশ্বে কলসেন্টারের মার্কেট হবে ৬৪০ বিলিয়ন ডলার। আমরা যদি এর এক পার্সেন্টও নিতে পারি তাহলেও ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যা বর্তমান আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চেয়েও বেশি। একটি কোম্পানি একটি লাইসেন্স নিয়ে একাধিক এবং বিভিন্ন টাইপের কলসেন্টার করতে পারবে। যারা এ ব্যবসায় আসবেন তাদের অবশ্যই জেনেশুনে আসতে হবে।

কলসেন্টার স্থাপনে দেশের প্রথম উদ্যোক্তা ডেফোডিল অনলাইনের সিইও এস এম আলতাফ হোসেন বলেন, কলসেন্টার চালুর পর সরকারকে অবশ্যই এর গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারবে না। কলসেন্টারের মতোই ডাটা এন্ট্রি, মেডিকেল ট্রান্সক্রিপসন ও ডাটা কনভারসন থেকে ট্রিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে বাংলাদেশ।