মানিক বন্দোপাধ্যায়ের শততম জন্মজয়ন্তী

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক মানিক বন্দোপাধ্যায়ের শততম জন্মদিন ছিল গত ১৯ মে। এ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমী ও নাগরিক নাট্যঙ্গন যৌথভাবে আয়োজন করে ‘মানিক শততম জন্মজয়ন্তী উৎসব’। তিনপর্বে বিভক্ত এই আয়োজনে বিকেল ৩টায় ‘শতবর্ষের মানিক এবং আমাদের নাট্য ও সাহিত্য’ শীর্ষক মুক্তবুদ্ধি আড্ডায় অংশ নেন নবীন-প্রবীন নাট্যজন, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাহিত্যপ্রেমী নাট্যদর্শক।

তরুণ নাট্যকার মাহমুদুল ইসলাম সেলিম এই আড্ডায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা পর্ব। অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি ছিরেন বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও সাহিত্য সমালোচক আবদুশ শাকুর।
বিশেষ অতিথি হয়ে আলোচনায় অংশ নেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব শরফুল আলম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনিষ্ঠপুত্র সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশিষ্ট সংস্কৃতিসেবী ও শিক্ষাবিদ যতীন সরকার, নাট্যজন আতাউর রহমান, মান্নান হীরা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুস।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক লাকী ইনাম এবং আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ডঃ ইনামুল হক। তৃতীয় পর্বে রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প অবলম্বনে মাহমুদুল ইসলাম সেলিমের নাট্যরূপ এবং লাকী ইনামের নির্দেশনায় ‘প্রাগৈতিহাসিক’ নাটকের রজতজয়ন্তী মঞ্চায়ন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ট ছোটগল্প প্রাগৈতিহাসিক-এর এই নাট্যায়ন ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে মঞ্চে আসলেও ইতোমধ্যে ঢাকা ও কলকাতায় মঞ্চায়ন হয়েছে।

সমাজের নিচুস্তরের মানুষের দুঃখ কান্না, ভালোবাসা আর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার গল্প প্রাগৈতিহাসিক। এ নাটকে যেমন ভিখু ডাকাতের পাশবিকতা, ভন্ডামী ওঠে এসেছে তেমনি কামনার নোংরা ইচ্ছেও প্রকাশ পেয়েছে। পায়ে দগদগে ঘাঁ সম্বলিত বাউল কন্যা পাঁচী ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে খঞ্জ ভিখারী বশিরের সাথে রাত্রিযাপন করলেও পূন্যাবাউলকেই কামনা করে সবসময়।

নাটকটিতে প্রত্যেক অভিনেতাই মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। আলোক সম্পাদনায় ছিল দক্ষতার পরিচয়। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- মাহমুদুল ইসলাম সেলিম, হৃদি হক, গিয়াস বাবু, সাজ্জাদ রেজা, প্রলয় জামান, আয়শা আক্তার, কামরুজ্জামান রনি, মেহেদী হাসান, নোমান, সোমন সুমী, মেরাজুল, লিমা প্রমুখ। নাটকটির মঞ্চ পরিকল্পনায়- সাজু খাদেম, আলোক পরিকল্পনায়- মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পোষাক পরিকল্পনায়- হৃদি হক, কোরিওগ্রাফি ও শিল্পনির্দেশনায় আনিসুল হক বরুণ।