অডিও বাজারে এ বছরের অনেকটা জুড়েই ক্যারিয়ার মন্দায় আছেন ফোক ঘরানার শিল্পীরা। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অডিও বাজারে তেমন কোন সফলতা আসেনি পুরোপুরি ফোক নির্ভর কোন আয়োজনকে ঘিরে। একমাত্র ব্যতিক্রম ঘটেছে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের অ্যালবাম পাঞ্জাবীওয়ালার ক্ষেত্রে।
হাবিবের রিমেক সংগীতায়োজনে শিরিনের এই আঞ্চলিক গানের অ্যালবামটি ছাড়াও বছরের শেষ প্রান্তে এসে সুপারহিট হয় অর্ণবের সংগীত পরিচালনায় মনপুরা ছবির অ্যালবামটি। যাতে ফোক গান থাকলেও বেশির ভাগ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আধুনিক গানের অর্ণব, কৃষ্ণকলি এবং অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু ও চঞ্চল চৌধুরী।
মজার বিষয় হচ্ছে, এ দুটি অ্যালবামের শিল্পী এবং সংশ্লিষ্টরা কেউ ট্র্যাডিশনাল ফোক শিল্পী নন। যারা গেল প্রায় দশ বছর ধরে একটানা ফোক গান গেয়ে রাজত্ব করেছেন তাদের কাউকেই কোন বিশেষ অ্যালবাম কিংবা সফল কোন গানে পাওয়া যায়নি চলতি বছরে। তবে এদের সবাই যখন নিয়মিত অ্যালবাম প্রকাশ করেও সফলতার অভাবে ঝিমুচ্ছিলেন ঠিক তখনি শান্ত এবং ইমন খান নামের দুই নবীন শিল্পী ফোক ধারার গান গেয়ে খানিক ঝড় তুলেই ক্ষণজন্মাদের মতো পলকে নিভে যান।
আপাতত এ দুই জনেরও কোন অস্তিত্ব নেই অডিও বাজারে। তাই বলে যে আধুনিক কিংবা ব্যান্ডওয়ালাদের বাজার খুব রমরমা তা-ও নয়। এ প্রসঙ্গে ব্যান্ড তারকা জেমস্ বলেন, পুরো সময়টাই বুঝি পিছিয়ে পড়া। সাইন্স ফিকশনের মতো কেমন জানি পিছিয়ে পড়া প্রতিযোগিতায় দৌড়াচ্ছি সবাই। অথচ শত চেষ্টা করেও এগুতে পারছি না এক কদম। ফোক প্রসঙ্গেই বলি।
এর আগে আমার একক তুফান অ্যালবামে নাগর আলী কুমকুম নামের একটি ট্র্যাডিশনাল ফোক গান করি। ভাল সাড়া পাই। সেই সুবাদে গত অ্যালবাম কাল যমুনাতেও কিছু ফোক গান করার চেষ্টা করি। প্রত্যাশা ছিল পথে পথে ঘুরে ফেরা ট্র্যাডিশনাল ফোক গানগুলোও প্রাণ পাক, শ্রোতারাও শুনক। অথচ লক্ষ করলাম ফোক গানগুলো থেকে তেমন সাড়া পাইনি যতটা পেয়েছি মৌলিক গান থেকে।
ফোক গান করে আইয়ুব বাচ্চু, জেমস্, বালামরা সফল না-ও হতে পারেন। হলে সেটা মিরাকল। যেমনটা ঘটেছে মনপুরা দিয়ে অর্ণব-বাবু কিংবা লন্ডন প্রবাসী শিরিনের বেলায়। বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে ফোক শিল্পীরা ক্রমশ হেরে যাচ্ছেন কেন? কেন অনেক দিন পর প্রকাশ পাওয়া ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজের পাঙ্খার বাতাস স্তিমিত হলো ন্যূনতম প্রত্যাশার বিপরীতে।
কেন মমতাজকে টপকে ফেলার মতো মতাধর শাহনাজ বেলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তেমন কোথাও। কেনইবা দেশের রিয়েলিটি শো থেকে পাওয়া নোলক, বিউটি, সালমা কিংবা রিংকুদের কোণঠাসা অবস্থা অডিও বাজারে? এমন প্রশ্নে মমতাজ একদমই ধরা দেননি। উল্টো বলেছেন তার অটুট শীর্ষ অবস্থানের কথা। তিনি বলেন, প্রথমত, একজনের কাছে আজীবন আশা করা উচিত না। অনেক তো হলো।
সে ভাবনা থেকেই অ্যালবামের সংখ্যা কমিয়ে ফেলেছি। চেষ্টা করছি দুই ঈদে ভাল করে এক দুটি অ্যালবাম প্রকাশ করতে। যাতে গানগুলোর আউটপুট ভাল দাঁড়ায়। মমতাজের এমন কথা শুনলে যে কেউ ধরে নিবেন ভূতের মুখে রাম নাম প্রবাদের কথা। কারণ, এই মমতাজই টানা তিন বছর প্রতি ঈদে প্রায় হাফ ডজন থেকে এক ডজন অ্যালবামের শিল্পী হিসেবে আবির্ভূত হতেন।
এদিকে মমতাজ শাক দিয়ে মাছ ঢাকলেও দেশের প্রথম সংগীত আইডল নোলক বাবুর সাদামাটা উত্তর, আমাকে কেউ না ডাকলে, না গাওয়ালে কি করবো ভাই! নিয়মিত অ্যালবাম করে যদি বারবার ফ্লপ হতাম তাহলে না হয় কথা ছিল। তাও তো নয়। নোলকের মতো এমন অভিমান রিয়েলিটি শো-গুলোর অন্য অনেক তারকার।
তবে অভিযোগ যা-ই হোক না কেন, সার্বিকভাবে এটুকু পরিষ্কার, অডিও বাজারের ফোক গানের মূল শিল্পীরা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। হারাচ্ছেন উর্বরতা। এ প্রসঙ্গে চলতি বছরের সর্বাধিক ফোক সফল অ্যালবাম পাঞ্জাবিওয়ালা এবং মনপুরার প্রযোজক লেজার ভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজহারুল ইসলাম বলেন, সুখের বিষয় হচ্ছে আমাদের অডিও সাউন্ডে এরই মধ্যে ঘটেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
আমাদের দুটি অ্যালবামই সে সাউন্ড এবং কম্পোজিশন পেয়েছে। শ্রোতারা নিয়েছে। শুনেছে মন ভরে। যা অন্য ফোক গানের অ্যালবাম কিংবা ফোক শিল্পীরা পান না। আমার মনে হয় ফোক গানের নিয়মিত শিল্পীরা এ কারণেই পিছিয়ে পড়ছেন ক্রমশ।
