প্রথম একক অ্যালবাম

হাবিবের সুর ও সঙ্গীত আয়োজনে হৃদয়ের কথার রি-মেইক ভার্সন, আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা এবং চন্দ্রগ্রহণ ছবিতে প্লে-ব্যাক আর কয়েকটি জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়েই অনেক শ্রোতার মন জয় করেছেন ন্যান্সি। বর্তমানে তার একক অ্যালবামের কাজ চলছে। একক অ্যালবাম, প্লে-ব্যাক, জিঙ্গেল ও অন্যান্য প্রসঙ্গে ন্যান্সির সাক্ষাৎকার।

একক অ্যালবামের কাজ কতোদূর, এতো দেরি হচ্ছে কেন?

মোটামুটি অনেক দূর এগিয়েছে। যেহেতু এটা আমার প্রথম একক, তাই একটু সময় নিয়ে কাজ করছি। যাতে গানের মানের দিকটা অক্ষুন্ন থাকে। আমার মনে হয়, যে কোনো শিল্পীর প্রথম অ্যালবাম তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এ স্বপ্নটা নিয়ে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো।

গানগুলোর সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করছেন কে কে?

জন প্রমিন্যান্ট সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালকের সুর-সঙ্গীতে গানগুলো তৈরি হচ্ছে। এর মাঝে হাবিব ওয়াহিদের নাম অন্যতম। তার সুর-সঙ্গীতে কয়েকটি গান এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি গানগুলো সম্পন্ন হলেই আশা করি শ্রোতারা অ্যালবামটি হাতে পাবে।

জিঙ্গেল দিয়ে আপনার যাত্রা শুরু। এ পর্যন্ত কয়টি জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়েছেন?

এ পর্যন্ত ৬টি জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়েছি। ফ্রেস সয়াবিন, ফ্রেস লবণ, মেরিল বিউটি সোপ, প্রাণ আপ, মেরিল প্রটেক্টিভ কেয়ার এবং লাক্স। লাক্সের জিঙ্গেলটি অবশ্য প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনটির সঙ্গে যে জিঙ্গেলটি রয়েছে, তার বাংলা ভার্সন।

এ পর্যন্ত প্লে-ব্যাক করা গানগুলোর শ্রোতা রেসপন্স পাচ্ছেন কেমন?

আকাশছোঁয়া ভালোবাসা আর চন্দ্রগ্রহণ-এর গানগুলোর খুবই ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। গানগুলো মানুষ এতো পছন্দ করবে কখনো ভাবিনি। এ কীর্তিত্ব অবশ্য আমার নয়, পুরোটাই হাবিব ভাইয়ের। হাবিব ভাই এতো সুন্দর সুর আর মিউজিক করেন যে, গানগুলো খুব সহজেই মানুষকে মুগ্ধ করতে পারে।

নতুন কোন ছবিতে প্লে-ব্যাক করছেন?

আপাতত না। সর্বশেষ প্লে-ব্যাক করেছি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার-এর। আমার আগের সবগুলো গানই ছিল হাবিব ভাইয়ের সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে। এই প্রথম আমি এককভাবে গান করেছি। গানটি লিখেছেন মারজুক রাসেল। সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন হাবিব ওয়াহিদ।

আপনার প্রায় সব গানই হাবিব ওয়াহিদের করা, অন্যদের সঙ্গে কাজ করবেন?

এটা সত্যি যে, আমার সব গানই হাবিব ভাইয়ের করা। জিঙ্গেলগুলো, আরটিভির থিম সং এবং লাবণ্যপ্রভা নাটকের সূচনা সঙ্গীত। মাঝখানে শুধু অর্ণবের সুর-সঙ্গীতে ঝালমুড়ি-১ অ্যালবামে একটি গান করেছি। অনেকেই মনে করে, আমি শুধু হাবিবের সঙ্গেই কাজ করবো, আর কারো সঙ্গে করবো না। এটা আসলে ঠিক নয়। কারো সঙ্গেই কাজ করতে আমার কোনো আপত্তি নেই, যদি কাজের মান ভালো হয়। আমার শুরুটাই হয়েছিল হাবিব ভাইকে দিয়ে এবং এখন পর্যন্ত হাবিব ভাই-ই আমাকে দিয়ে গান কিংবা জিঙ্গেল করাচ্ছেন। অন্যরা চাইলে আমি অবশ্যই করবো।

হাবিবের সঙ্গে আপনার পরিচয়ের যোগসূত্র কি?

আমার মামা নূরুল ইসলামের সঙ্গে ফেরদৌস ওয়াহিদের খুব ঘনিষ্ঠতা। সেই সূত্রে একদিন তিনি আমাদের বাসায় আসেন। সেদিন প্রথম তিনি আমার গান শোনেন এবং বাসায় গিয়ে হাবিবের কাছে আমার কথা বলেন। এর কিছুদিন পর হাবিব তার হৃদয়ের কথা গানটির কোরাস পার্টে আমাকে দিয়ে হামিং করান। গানটি শিরিনের পাঞ্জাবীওয়ালা অ্যালবামে অন্তর্ভুক্ত হয়। এভাবেই হাবিব ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করা শুরু।