নতুন পরিচয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন অভিনেত্রী ফারজানা ছবি। তাঁর রচনায় নির্মিত হয়েছে নাটক অদৃশ্য পলেস্তারা । নাটকটি পরিচালনা করেছেন হাসান শিকদার।
শুটিং লোকেশন থেকে
সূর্যটাকে মেঘে ঢেকে রেখেছিল আকাশটা। মেঘ কেটে মাঝে মধ্যে যখন সূর্যটা উঁকি দিচ্ছিল তখন পুকুরের পানিগুলো চিকচিক করছিল। হঠাৎ পীযূষ বন্দোপাধ্যায়ের হাতে বিশাল তরবারি দেখে আঁতকে উঠতেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফারজানা ছবি বললেন, ভয় পাবেন না। এটা নাটকের প্রয়োজনে ছাড়া অন্য কাজে লাগানো হবে না।
পরিচালক হাসান শিকদার ব্যস্ত রয়েছেন তাঁর নাটকের পরবর্তী দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতিতে। তৌকির আহমেদ পরিচালকের কাছ থেকে দৃশ্য বুঝে নিচ্ছেন বেশ মনোযোগ দিয়ে। ফারাজানা ছবি চৌকষ দৃষ্টি নিয়ে এদিক সেদিক তাকাচ্ছেন। পর্দার সামনে থেকে নেপথ্যে যাওয়ার চেষ্টা কেন?
এমন প্রশ্ন তাঁর কানে বাজতেই ছবি বলেন, আমি যখন কোনো নাটকে কাজ করতে গিয়ে দুর্বল মানের স্ক্রিপ্ট দেখে হতাশ হতাম, তখন মনে হতো আমার নাটক রচনায় আসা উচিত। বলা যায় ভাল স্ক্রিপ্টের দৈন্যতাই এ কাজে আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছে। এ নাটকটির নাম অদৃশ্য পলেস্তারা । আমি নাটকটি রচনা করেছি মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ছোটগল্প বিবেক অবলম্বনে।
আমি চেষ্টা করেছি গল্পের বিষয় বস্তু ঠিক রেখে এতে আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করে সুন্দর একটি নাটক দর্শকদের উপহার দিতে। কতোটা পেরেছি তা নাটকটি দেখার পর দর্শকরা বিবেচনা করবেন। নাটকটি রচনা ছাড়াও আমি এর সেট ডিজাইন ও এতে অভিনয় করছি। এ নাটকে মনিমালা চরিত্রে আমাকে দেখা যাবে।
আজ আমার অভিনয়ের কাজ নেই তাই নেপথ্যের কাজ করছি। আর আমাকে এ কাজে তৌকির ভাই, পরিচালক ও পীযূষদা বেশ সহযোগিতা করছেন। আমি আগে শুধু অভিনয় করতাম। এখন অভিনয়ের পাশাপাশি নেপথ্যের কাজগুলো করতে গিয়ে বুঝতে পারছি যে, এ কাজগুলো বেশ কঠিন। এটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। পরিচালকের নির্দেশ পেয়ে খাপ থেকে ছোরা বের করলেন পীযূষ বন্দোপাধ্যায়।
তৌকির নতজানু হয়ে বসলেন তার সামনে। দুজনই সাবলীল সংলাপ আওড়ালেন বলে প্রথম চেষ্টাতেই দৃশ্যটি ওকে হলো। ছবির স্ক্রিপ্ট নিয়ে তাঁর অভিমত জানাতে গিয়ে পীযূষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, চমৎকার স্ক্রিপ্ট লিখেছে ছবি। তবে এখন নাটকটির সফলতা নির্ভর করছে পরিচালকের ওপর।
তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন তৌকির আহমেদ। আমারও মনে হয়েছে এ স্ক্রিপ্টটি বেশ সমৃদ্ধ। ছবি তাঁর কাজে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। আমি ওর সফলতা কামনা করি। তারপর একটু দম নিয়ে তৌকির আহমেদ আরো বললেন, বিবেক গল্পটি আমি প্রথম পড়েছিলাম দেশ পত্রিকায়। গল্পের ঘনশ্যাম চরিত্রটি তখনই আমার ভাল লেগেছে।
মজার ব্যাপার হলো আমি এখন সেই চরিত্রেই অভিনয় করছি। নাটকে দেখা যাবে ঘনশ্যাম মফস্বল শহরের ছা-পোষা একজন কেরানী শ্রেণীর লোক। হঠাৎ করেই চাকরি চলে যাবার পর একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এসময় স্ত্রী মনিমালার কঠিন ব্যাধি ধরা পড়ে।
শুরু হয় স্ত্রীকে বাঁচিয়ে তোলার প্রাণান্তকর চেষ্টা। কিন্তু কোন ভাবেই সে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারে না। এই অসহায়ত্ব তাকে বোধহীন করে তোলে। তাঁর বিবেককে ঘিরে ধরে অদৃশ্য এক পলেস্তারা। ঘনশ্যাম চুরি করে বাল্যবন্ধু অশ্বিনীর সোনার ঘড়ি, এমনকি উপকার করতে আশা বন্ধু শ্রীনিবাসের টাকার থলি। কিন্তু এক পর্যায়ে ঘনশ্যাম পলেস্তারার অন্তরালের বিবেককে অনুভব করে।
তাঁর বিবেক বোধ তার প্রয়োজন এবং অভাব বোধের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। শুরু হয় দ্বন্দ্ব, পাপের সঙ্গে পুণ্যের বিবেকের সঙ্গে পলেস্তারার। অবশেষে জয় হয় বিবেকের, মুক্তি পায় ঘনশ্যাম, ভেঙ্গে ফেলে বস্তুবাদের অদৃশ্য পলেস্তারা। বস্তুবাদের জীর্ণ গলি থেকে বেরিয়ে পড়ে সে। আবিস্কার করে ক্ষুদ্র বোধের অন্তরালে বৃহৎ বোধকে! অদৃশ্য পলেস্তারার গভীরের বিশাল পৃথিবীকে।
নাটক নিয়ে পরিচালক হাসান শিকদার বলেন, আমি বেশ সচেতনভাবে নাটকটি নির্মাণ করছি। আমি আশাবাদী এটি দর্শকপ্রিয় হবে। আড্ডা ঘর-এর ব্যানারে নির্মিত এ নাটকটি যেকোনো চ্যানেলে প্রচারিত হতে পারে বলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্র জানিয়েছে।
