বৈশাখী অনুষ্ঠানমালা

শাইখ সিরাজের ‘কৃষকের বৈশাখী আনন্দ’

‘চ্যানেল আই’-এর জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর আয়োজনে দেশের প্রথম ফার্মারস গেম শো ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’। গত বছর ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের বিগত দুটি আয়োজনই ছিল চমকপ্রদ।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং কৃষি উন্নয়ন কর্মী শাইখ সিরাজের পরিকল্পনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনায় চ্যানেল আইতে প্রচারিত হয় কৃষকের ঈদ আনন্দ। বিগত অনুষ্ঠানগুলোর প্রেক্ষাপট ছিল আলাদা। পর পর দু’বারের বন্যা এবং প্রলয়ংকরী সিডরের আঘাতে সারাদেশের প্রান্তিক এই কৃষি জনগোষ্ঠীকে উজ্জীবিত করার জন্য হৃদয়ে মাটি ও মানুষ হাজির হয় দুর্দশাগ্রস্ত কৃষকদের পাশে।

গত দু’বারের অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেয়া হয় প্রথমে ময়মনসিংহের চরপুলিয়ামরি এবং তারপর সিরাজগঞ্জের যমুনা-তীরবর্তী ভাটপিয়ার গ্রাম। অনুষ্ঠানগুলো প্রচার হওয়ার পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায় দেশবাসীর পক্ষ থেকে।

সবার একটাই কথা- কবে আবার তারা দেখতে পাবে এরকম আরেকটি বিনোদনমূলক আয়োজন। বিপুল দর্শকপ্রিয়তা এবং আগ্রহের কারণে এবার হৃদয়ে মাটি ও মানুষ নিয়ে আসছে কৃষকের বৈশাখী আনন্দ। সারা পৃথিবীতেই বাঙালির প্রাণের মাস এই বৈশাখ। সেই প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠার আনন্দই কৃষকের বৈশাখী আনন্দ।

হাজার হাজার কৃষকের উপস্থিতিতে ময়মনসিংয়ের শম্ভুগঞ্জের চরনিলয়িক্ষায় খেলার মেলা বসেছিল কৃষকের বৈশাখী আনন্দে। বাংলাদেশ থেকে কখনই যেমন আলাদা করা যায় না বৈশাখ, তেমনি আলাদা করা যায় না কৃষক। এই দুইয়ের সম্মিলনেই এবার সবাইকে চমকে দেবে কৃষকের বৈশাখী আনন্দ।

গতবারের দুটি অনুষ্ঠানের মতো এবারও বিনোদনের অভাব নেই অনুষ্ঠানটিতে। এবার এসেছে আরও নতুন মাত্রা। শুধু শারীরিক খেলার প্রতি এবার নজর দেয়া হয়নি, বরং যেসব খেলার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে আমাদের আদি বাঙালিশৈলী এবং শিল্প, সেসব খেলাও রাখা হয়েছে এ আয়োজনে।

একঝলকে এসব খেলা হলো : ঘোড়দৌড়, মহিষ-গাড়ি দৌড়, মইদৌড়, তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠা, লাটিম ঘোরানো, ব্যাঙ লাফ (শিশু), ঘুড়ি ওড়ানো, নতুন বৌ-সাজ, কুমোরদের মৃৎপাত্র তৈরি প্রতিযোগিতা, ভেলার বাইচ, বালিশ লড়াই, হাঁস ধরা, লাঠিখেলা এবং মোরগ লড়াই। মোট ১৪টি বিভাগে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক। হাজার মানুষের কলতানে পুরো চরনিলয়িক্ষা ভরে ওঠে আনন্দের উৎসবে। দিনব্যাপী এই বিনোদনের শেষ অংশে বরাবরের মতো ১০ জন প্রান্তিক এবং দুস্থ মানুষকে তুলে দেয়া হয় ১০টি বাড়ি।

কৃষকের বৈশাখী আনন্দ শুধু একটি গেম শো নয়, এই অনুষ্ঠান বহু প্রান্তিক মানুষকে বিমল আনন্দ দেয়ার পাশাপাশি দিয়েছে আগামীতে হাজারো বিরূপ সময়ের ভেতরে প্রবল উৎসাহের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

আমাদের দেশের কৃষকরা এমনিতেই যথেষ্ট ধৈর্যশীল; বন্যা, খরা, সিডর এরকম বহু দুর্যোগেও তারা স্থিরচিত্তে অপেক্ষা করে ভাল সময়ের জন্য। এ মুহূর্তে দেশব্যাপী চলছে চালের ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং আমাদের খাদ্যের মজুত নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। কৃষকরা এমনিতেই বছরব্যাপী থাকে নানা দুশ্চিন্তায় কিষ্ট।

এই দুঃসময়ে তাদের একটু খেই ধরিয়ে দেয়াই ছিল কৃষকের বৈশাখী আনন্দের আরও একটি লক্ষ। আশার কথা হলো, বোরো ফসল উঠতে শুরু করায় তারা খানিকটা হলেও আশ্বাস পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে স্বস্তি পেতে শুরু করেছেন দেশবাসী। কৃষকের বৈশাখী আনন্দ প্রচার হবে চ্যানেল আইতে পহেলা বৈশাখ রাত ৭টা ৫০ মিনিটে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন শাইখ সিরাজ।

সজল-তিশার 'চেনা অচেনার গল্প'

পহেলা বৈশাখের জন্য নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক 'চেনা অচেনার গল্প'। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন কৌশিক শংকর দাশ। নাটকটির কাহিনী গড়ে উঠেছে ভালোবাসার টানাপড়েন নিয়ে। গল্পে দেখা যাবে, নাফিদ বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর ব্যবসার হাল ধরেন। মা জোর করলেও সে বিয়ের কথা ভাবছে না।

নাফিদের বন্ধু শোয়েবের বিয়ে হয় সোমার সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের রাতেই শোয়েবের পরিবারের সঙ্গে সোমার ব্যবহারে শোয়েব অবাক। যা শুনে বিয়ের কথা চিন্তাই করছে না নাফিদ। নাফিদের সঙ্গে তিতলীর আকস্মিক দেখা হয়। নাফিদ এক পর্যায়ে ফোন করে তিতলীকে। তিতলীও রাজি হয় নাফিদের সঙ্গে দেখা করতে।

ভালো-মন্দ, পছন্দ-অপছন্দ জানার পর সিদ্ধান্ত নেয় দুজনে দেখা হওয়ার ব্যাপারটা পরিবারকে জানাবে। বিয়ের কথা বললে নাফিদ বলে, বিয়ের আগে কিছুদিন তিতলীকে জানতে চায়, বুঝতে চায়। এক পর্যায়ে নাফিদ ভুল বুঝতে পেরে তিতলীকে সরি বলে এবং বিয়ের কথা বলে।

তিতলী বিয়ের কথা অস্বীকার করে। নাফিদ কি করবে এখন। নাটকের কাহিনী সম্পর্কে সজল ও তিশার কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, অসম্ভব রকমের একটা ভালো গল্প। এ গল্পের শেষে কিছু হৃদয় বিদারক ঘটনা আছে।

আশা করি, নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে। অর্কি প্রডাকশনের ব্যানারে শাহীন কবির টুটুল প্রযোজিত নাটকটিতে সজল, তিশা ছাড়া আরো অভিনয় করেছেন তরু মোহমশফা, শাওন জাহিদ, কুমকুম হাসানসহ আরো অনেকে

বৈশাখী সুরেলা উৎসব

সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শো-বিজ এন্টারটেইনমেন্ট আবহমান বাংলার ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকার ৪০০ বছর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করতে যাচ্ছে বৈশাখী মেলার। ধানমন্ডিস্থ কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে পাইরেসি প্রতিরোধে বাংলা সংগীতকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষে ১৩ থেকে ১৫ই এপ্রিল তিন দিনব্যাপী ‘বৈশাখী সুরেলা উৎসব-১৪১৫’ শিরোনামে এ বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

উৎসবের ইভেন্ট পার্টনার মাইন্ডস আই মিডিয়া কমিউনিকেশন, ওয়েব পার্টনার বাংলাদেশইনফো ডটকম ও রেডিও পার্টনার রেডিও ফুর্তি। ‘বৈশাখী সুরেলা উৎসব’-এ অংশগ্রহণ করবেন সংগীতের সঙ্গে সম্পৃক্ত অডিও সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি প্রোডাকশন হাউজ ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিডি ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি, সংগীত বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুতকারক ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান, ইলেক্ট্রনিক্স, অডিও ভিজ্যুয়াল কোম্পানি, মিউজিক ইনস্টিটিউট/মিউজিক একাডেমী, টেলিকম ও মোবাইল কোম্পানি।

তাছাড়া সীমিত কিছু স্টলে হ্যান্ডিক্রাফট ব্লক-বুটিক, নকশিকাঁথা, পুতুল নাচ, মাটির তৈরির খেলনা, পানীয় ও ঢাকাইয়া খাবার, পান্তা ইলিশ এবং বিভিন্ন খাবারসহ আরও অন্যান্য স্টল থাকবে। বৈশাখী সুরেলা উৎসব ও অডিও মেলাকে আকর্ষণীয় ও দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য নতুন নতুন অডিও, সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি রিলিজ, মোড়ক উন্মোচনসহ প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পল্লীওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, লালন ও বাউল শিল্পীরা। অটোগ্রাফ, ফটোসেশন, জেমিং সেশনে অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশের সেলিব্রেটি সংগীত শিল্পীরা।

এছাড়াও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সাপ খেলা, লাঠি খেলা, বাঁশি, জাদু, সার্কাস, নাগরদোলাসহ বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন করা হয়েছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে এবং পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে।

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠান

প্রতিবারের মতো বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এবারও ১৩ই এপ্রিল ২০০৮, ৩১শে চৈত্র, ১৪১৪ নাটক সরণির মহিলা সমিতি মিলনায়তনে বিকাল ৫ টায় আয়োজন করেছে চৈত্রসংক্রান্তির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।

আলোচক থাকবেন আফরোজা বানু, রোকেয়া রফিক বেবী, ফাল্গুনী হামিদ ও কৃষ্টি হেফাজ। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, নাট্যকর্মীদের আড্ডা এবং দেশের বরেণ্য শিল্পীদের সংগীত, আবৃত্তি, যন্ত্রসংগীত ও নৃত্য পরিবেশিত হবে। ফেডারেশনের চৈত্রসংক্রান্তি অনুষ্ঠানকে সফল করার লক্ষে ঝুনা চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও প্রবীর সরদারকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট চৈত্রসংক্রান্তি উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

একুশে টেলিভিশনের বর্ষপূর্তির আয়োজন

বাংলা নববর্ষে নবম বর্ষে পা দিচ্ছে একুশে টেলিভিশন। এ উপলক্ষে তিনব্যাপী এ চ্যানেলটির পর্দাজুড়ে থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। এ উপলক্ষে সম্প্রতি একুশে টিভির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, অনুষ্ঠান প্রধান আতিকুল হক চৌধুরী, বার্তা বিভাগের প্রধান শাহ আলমগীর, অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক শামীম শাহেদ।

আবদুস সালাম বলেন, আপনারা সবসময় একুশের সঙ্গে ছিলেন- আশা করছি ভবিষ্যতেও থাকবেন। সবার সহযোগিতা নিয়েই একুশ এগিয়ে যাবে। আতিকুল হক চৌধুরী বলেন, পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে একুশের যাত্রা।
সেই যাত্রা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

শাহ আলমগীর বলেন, একুশে টিভি ব্যর্থ হলে সবাই ব্যর্থ হবে। আমরা সবসময় নতুন কিছু দিতে চেষ্টা করছি। এদেশের মানুষের অনেক চাওয়া একুশে টেলিভিশনের কাছে। শামীম শাহেদ তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন সূচি সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শোনান।

উল্লেখ্য, একুশে টেলিভিশনের তিন দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে থাকছে চারটি নাটক। হুমায়ূন আহমেদ-এর রচনা ও পরিচালনায় প্রচার হবে বিশেষ নাটক ‘হাবিবের সংসার’। আনিসুল হকের রচনা ও সালাহ উদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় প্রচার হবে বিশেষ নাটক ‘ক্র্যাচ’।

আরও থাকছে ফেরদৌস হাসানের রচনা ও আরিফ খানের পরিচালনায় বিশেষ নাটক ‘কাটা’। রেদওয়ান রনির রচনা ও পরিচালনায় ‘অপার্থিব’ নামের একটি নাটকও প্রচার হবে। চলচ্চিত্র প্রচার হবে তিনটি। এগুলো হচ্ছে-‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘ব্যাচেলর’ ও শ্রাবণ মেঘের দিন’। ফোনো লাইভ স্টুডিও কনসার্ট থাকবে তিনদিনই।

ঋষিজের বর্ণাঢ্য আয়োজন

আবহমান বাংলার হাজার বছরের কৃষ্টি, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সমগ্র বাঙালি জাতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী ১৪১৫ সালকে হৃদয়ের অর্ঘ্যে বরণ করবে। ‘জাগো নব আনন্দে শুভ নববর্ষ’ ওই স্লোগানকে ধারণ করে প্রতি বছরের মতো এবারও ভাসানী সড়কে, শিশু পার্কের প্রবেশদ্বারে নারকেলবীথি চত্বরে ঐতিহ্যবাহী প্রভাতী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। আবৃত্তি, নৃত্য গানে সংগঠন বাংলা নতুন বছরকে আহ্বান জানাবে।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বীর শ্রেষ্ঠের স্ত্রী মিলি রহমান। বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান শিল্পীরা ঋষিজের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এই উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঋষিজ শিরোনামে একটি বর্ণাঢ্য স্মরণিকা ও গুণীজন সংবর্ধনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী এই প্রভাতী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হবে একুশের প্রথম কবি মাহবুবউল আলম চৌধুরী ও প্রখ্যাত নাট্যকার ড. সেলিম আলদীনের স্মৃতির উদ্দেশে। এছাড়া প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী নারগিস পারভীন, সুরকার প্রণব ঘোষ, অবিনাষ চন্দ্র শীল, লেখক প্রবণ ভট্ট, সাংবাদিক বজলুর রহমান, শিল্পী সঞ্জীব চৌধুরী ও নায়ক মান্নাকে এ অনুষ্ঠান থেকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে।

এখানে উল্লেখযোগ্য, ইতিপূর্বেও এই অনুষ্ঠান উৎসর্গ করা হয়েছে অভিনেতা গোলাম মুস্তাফা, কণ্ঠশিল্পী নীলুফার ইয়াসমিন, আবদুল আলীম, কানাই লাল শীল, বিনয় বাঁশী জলদাস, ওয়াহিদুল হক, হাজেরা বিবি, আবদুল হালিম বয়াতী, শেফালী ঘোষ, আবদুল লতিফ এবং অধ্যাপক মযহারুল ইসলাম প্রমুখদের স্মৃতির উদ্দেশে।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত হয়েছেন শওকত ওসমান, ড. আবদুল্লাহ আলমুতী শরফুদ্দিন, আবদুল হালিম বয়াতী, হাজেরা বিবি, ফরিদা পারভীন, আবদুল জব্বার খান, কাইয়ুম চৌধুরী, সোহরাব হোসেন, শামসুজ্জামান খান, আবদুল আলীম পরিবার, কানাইলাল শীল পরিবার, মীনা বড়ুয়া, কুটি মনসুর, মিল্টন খন্দকার, শিমুল মুস্তাফা, ভারতের মিত্রায়ণ, মাদল, ত্রিপুরা লোকসঙ্গীত একাডেমী, কাজল চক্রবর্তী, আশেক মাহমুদ প্রমুখ।

সেই ১৩৯০ থেকে ঋষিজের বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান একই স্থানে একই সময়ে ২৬ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই লোকপ্রিয় অনুষ্ঠানে হাজার হাজার শ্রোতা সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান উপভোগ করবে। এবার বৈশাখী টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটি সকাল ৭টা থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আয়োজনে এফডিসিতে বৈশাখী মেলা

চলচ্চিত্র শিল্পীদের সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি বরাবরের মতো এবারও এফডিসিতে আয়োজন করছে বৈশাখী মেলার। এফডিসির ৮ ও ৯ নম্বর ফোরের মাঝখানের মাঠে আয়োজন করা হয়েছে এই মেলার। ১ বৈশাখ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আয়োজিত এই মেলায় বিভিন্ন পণ্যের স্টল ছাড়াও থাকবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কেবল চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত এই মেলাকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান চুন্নু। তিনি জানান, মেলায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে মুড়ি মুড়কি আর বাতাসা দিয়ে আপ্যায়ন করবে শিল্প সমিতি।

এটিএন বাংলায় বৈশাখী পাঁচফোড়ন

দেশের প্রথম প্যাকেজ অনুষ্ঠান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নির্মাণ করছে বৈশাখের বিষয় পাঁচফোড়ন। পাঁচফোড়নের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নাটকীয়ভাবে এর প্রতিটি আইটেম পরিবেশন করা হয়। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বৈশাখের বিশেষ ‘পাঁচফোড়ন’ প্রচারিত হবে ১ বৈশাখ রাত ৯টায় এটিএন বাংলায়।

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বৈশাখের এই বিশেষ ‘পাঁচফোড়ন’ সাজানো হয়েছে। পহেলা বৈশাখে এক দম্পতির সংসারে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা দিয়ে এর নাটকীয় উপস্থাপনা সাজানো হয়েছে। আর দম্পতির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ ও অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান।

নববর্ষের প্রথম দিনে এই দম্পতির মধ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার ফাঁকে ফাঁকে আসতে থাকে একের পর এক চকমপ্রদ আইটেম। ফাগুন অডিও ভিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘পাঁচফোড়নের প্রতিটি পর্বেরই উপস্থাপনার ঢং ভিন্নরকম, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো উপস্থাপক নেই।

বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন তারকা শিল্পীরা এই নাটকীয় উপস্থাপনায় অংশগ্রহণ করেন। এতে দর্শকরা যেমন একটি নাটকের গল্পের স্বাদ পান তেমনই অনুষ্ঠানও হয়ে ওঠে বৈচিত্র্যময়। এবারের পাঁচফোড়নে বৈশাখের ওপর নতুন দুটি গান রয়েছে।

একটি দ্বৈতসঙ্গীত গেয়েছেন দিনাত জাহান মুন্নি ও পলাশ। কথা লিখেছেন কবির বকুল, সুর ও সংগীত পরিচারনা করেছেন তাপস। আর একটি গান পরিবেশন করেছেন শিল্পী পান্থ কানাই। নববর্ষকে নিয়ে গানটির কথা লিখেছেন লিটন অধিকারী রিন্টু, সংগীত পরিচালনা করেছেন আলী আকবর রুপু।

গ্রামীণ পরিবেশে দেশীয় বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে পরিবেশিত গান দুটি ঢাকার অদূরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে ধারণা করা হয়। দেশের সবচেয়ে বড় বটগাছ এবং একটি ভিন্নধর্মী মেলার ওপর রয়েছে চমৎকার দুটি রিপোর্টিং। রয়েছে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারে একটি যন্ত্রসংগীত।

পাঁচফোড়ন যেহেতু বিশেষ দিন উপলক্ষে নির্মিত হয় তাই বিশেষ দিনকে নিয়ে পাঁচফোড়নে বিভিন্ন ধরনের ব্যঙ্গাত্মক নাট্যাংশ থাকে। এবারও বৈশাখের ওপর বেশকটি নাট্যাংশ রয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন মহিউদ্দিন বাহার, অশোক বড়ুয়া, কাজী আসাদ, জিল্লুর রহমান, তোফা হাসান, সুব্রত, মতিউর রহমান টুটু, দুর্বার, লাভলী ইয়াসমীন, নজরুল অলিউল হক রুমী, রবিন, আপেল, মৌতা, দীপু, শিখা, রিয়া, চানু, পাপিয়া ও শম্পাসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটি পরিবেশিত হবে কেয়া কসমেটিক্স লিমিটেডের সৌজন্যে।