জামিউল আহসান সিপু: মোবাইল ফোনে মিসকল দিয়ে বন্ধুত্ব। এক সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো ও মোবাইলে আড্ডা। রোমান্টিক সব মুহূর্ত। চোখে সব রঙিন স্বপ্ন। অতঃপর দুইজন দুইজনার প্রেমে বিভোর। এরই মধ্যে হঠাৎ করে প্রেমিকের মটর সাইকেল বা প্রাইভেট কার উধাও। কে বা কারা চুরি করেছে তা প্রেমিক বুঝতেই পারে না। তার ছদ্মবেশী প্রেমিকাই যে তার গাড়ি চুরি করেছে তা তার অজানা। এ গাড়ি চুরির জন্যই প্রেমিকা মোবাইল ফোনে মিস্ডকল দিয়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। ঢাকা মহানগরে গাড়ি ছিনতাইকারী চক্র এখন গাড়ি চুরির কৌশল পরিবর্তন করেছে। এখন ছিনতাই বা চুরি করতে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে তারা। এজন্য তাদের দলে নেয়া হয়েছে সুন্দরী তরুণীও। তরুণীকে গাড়ি ছিনতাইয়ে টোপ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, অপরিচিত মেয়েদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বন্ধুত্ব করতে গিয়ে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। এ চক্রের মেয়েরা অধিক স্মার্টনেস দেখায় বলে ছেলেরা সহজেই তাদের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। আর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি চুরি সেল সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ৩টি করে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চুরি হচ্ছে। অস্ত্র ঠেকিয়ে অথবা চালকের যোগসাজশে কিংবা মাস্টার কি দিয়ে এসব গাড়ি চুরি হচ্ছে। সম্প্রতি গাড়ি চুরির এসব ঘটনা সম্পর্কে গাড়ির মালিকরা সচেতন হওয়ায় চুরির চক্রগুলো তাদের কৌশলও পাল্টে ফেলেছে। এখন তাদের চক্রে যুক্ত করেছে সুন্দরী তরুণী। মোবাইল ফোনে বিভিন্ন নম্বরে মিসকল দেয়ার পর কল ফেরত আসলে তারা বুঝে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। তিনি যদি যুবক হন তাহলে ঐ তরুণী তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। আস্তে আস্তে জানেন, তার প্রাইভেট কার বা মোটর সাইকেল আছে কিনা।
গত ২২ অক্টোবর এভাবেই পোশাক-আশাকে আধুনিক তাসনিয়া তানুন নামের এক তরুণী নিজেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী পরিচয় দিয়ে পুরানো ঢাকার কসমেটিক্স ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম মামুনের সঙ্গে আলাপ করে। পরদিন তাসনিয়া তাকে বসুন্ধরা শপিং সিটিতে আসতে বলে। কথা অনুযায়ী পরের দিন সকাল ১০টায় মোটর সাইকেল নিয়ে বসুন্ধরা সিটিতে হাজির হয় মামুন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাসনিয়ার সঙ্গে আরো এক তরুণীকে দেখতে পায়। পরে দুইজনকে নিয়েই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিকালে বনানীর একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে নাস্তা করতে যায় তারা। এ সময় তাসনিয়া মাঝে মাঝে দোকান থেকে বের হয়ে যায়। সে জানায় যে তার বাড়ি থেকে ফোন করেছে। নাস্তা করার এক পর্যায়ে তাসনিয়া জানায় যে তাকে জরুরি ভিত্তিতে বাড়িতে যেতে হবে। দোকান থেকে বের হয়ে এসে মামুন দেখেন যে তার মোটর সাইকেলটি নেই। এ ঘটনার দেড় মাস পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মোখলেসুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল বসুন্ধরা শপিং সিটিতে অভিনব কৌশলে তাসনিয়াকে গ্রেফতার করে। সে জানায়, তাকে একটি চক্র গাড়ি চুরিতে ব্যবহার করেছে। ঐ চক্রটি তাকে দিয়ে বিভিন্ন মোবাইল ফোনে মিসকল দেয়। এছাড়া বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে তরুণদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আধুনিক পোশাক পরিধান করে ঐসব তরুণের সঙ্গে সে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। অনেক সময় পার্কে বসে গল্প করা বা কোন নির্দিষ্ট রাস্তায় হেঁটে বা রিকশায় যাওয়ার সময় তার সেই চক্রটি ঐ যুবকের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তার অপারেশন শেষ হলেই সে ঐ যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
ছয় মাস আগে খিলগাঁওয়ে মেঘলা নামের এক তরুণী মোবাইল ফোনে মিসকল দিয়ে মামুন নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে মামুনকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে পাবনার একটি চরাঞ্চলে নিয়ে আটকে রাখে। পরে মামুনের পরিবারের লোকজনের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে মেঘলার সহযোগিরা। পরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঐ চরাঞ্চল থেকে মামুনকে উদ্ধার এবং মেঘলা ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে।
