মহাজোটের বিজয়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন । আর চারদলীয় জোটের বিজয়ে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেকারনেই দুইজনের তুলনামুলক আলোচনা প্রাসঙ্গিক। দূর অতীতে আমরা দেখেছি স্বৈরশাসনকে বৈধতা দিয়ে শেখ হাসিনা নিজেই নিজেকে জাতীয় বেঈমান ঘোষনা দিয়েছিলেন । '৯১তে জনগন কেন ভোট দিয়ে বিএনপিকে জিতিয়েছিল তার জন্য জনগনের উপর দিনের পর দিন নিপীড়ন চালিয়েছিল। ক্ষমতা যখন হাতে পেলেন তখন ১ টাকায় গনভবন আর ৫ টাকায় ধানমন্ডির্ বাড়ী কিনে (আসলে লুট) নিয়েছিলেন। উগ্র আচরন উগ্র নির্দেশ দিয়ে উগ্রতাকে উস্কে দিয়ে শেখ হাসিনা পুরো দলটাকেই সন্ত্রাসী দল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সন্ত্রাস আর অশ্লীলতার আড্ডাখানা বানিয়ে ছেড়েছেন - যা এমনকি এই ফোরাম পাঠ করলেও টের পাওয়া যায়। নিকট অতীতে গ্রেপ্তার হবার পর ভয় পেয়ে গিয়ে ছলছুতা করে পালিয়ে গেলেন। বিদেশী স্বার্থের সাথে জড়িয়ে যাওয়া সব ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন বিদেশে রেখে দেশের ভাল করার চিন্তা তার মধ্যে কিভাবে আসবে। বিদেশে টাকা
পাচার করার সুযোগ খালেদা জিয়ার নেই। শেখ হাসিনার মত বিদেশ ভরা যাদের ঠিকানা তাদের পক্ষেই সম্ভব দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা।
খালেদা জিয়ার অসাধারন চারিত্রিক দৃঢ়তা তাঁকে দেশনেতৃর মর্যাদা দিয়েছে। জাতীয় নেতৃর মর্যাদা তিনি অর্জন করেছেন সকল কিছুর উর্ধে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দিয়ে। পরাশক্তির দালাল বর্তমান সরকার তাই চরম নিপীড়ন চালিয়েছে তাঁর আর তাঁর পরিবারের উপর। পরিকল্পিত প্রচার দিয়ে অনেক নোংরা ঢালার চেষ্টা হয়েছে। খালেদা জিয়ার সেই সৎসাহস আছে বলে তিনি বলেন সমস্ত অভিযোগ আইনগতভাবে মোকাবেলা করবেন। অপরদিকে শেখ হাসিনার দাবী তাঁর বিচার
করা যাবেনা! অভিযোগ থাকলেও বিচার করা যাবেনা এ কেমন নাগরিক তিনি এদেশের? ভোটে হারলেই জনগনের উপর তিনি নিপীড়ন্ আর ব্ল্যকমেল শুরু করে দেন।
দেশের জনগনের উপর শেখ হাসিনার কোন আস্থা নেই বলে '৯১এ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলতে পেরেছেন- বাঙালী জাতি বেঈমান।
তাই সংকটের সময় এদেশের জনগনকে ছেড়ে চলে যেতে পারেন বিনা দ্বিধায়। গিয়ে বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়দের মাধ্যমে পরাশক্তির সাথে দেনদরবার করেছেন অনেক। অনেক প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ক্ষমতালাভের গ্যারান্টি চেয়ে আসলেন তাদের কাছে! ক্ষমতা নিয়ে পরাশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন তিনি।
১৭৫৭ সনে মীরজাফর একাজ করেছিলেন।
এ এক নির্মম পরিহাসের বিষয় যে স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী দলটি ক্ষমতার লোভে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী দলে পরিনত হয়ে গেল।
এই লড়াকু জাতি এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেই করবে। আর সেকারনে এ সংকটের সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ন খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব জাতির বড় প্রয়োজন।
শেখ হাসিনার উগ্রতা দিয়ে রাস্তার আন্দোলন হয়, জনগন বা বিরোধী দল নিধন হয় দেশ চালানো যায়না।
