লিয়াকত আমিনী, যুগান্তর: মসজিদের শহর ঢাকা, এটা সবার জানা। কিন্তু একই সঙ্গে এ শহরে মাজার, দরবার শরিফও একেবারে কম নয়। ঢাকার রাস্তাঘাট, অলি-গলিতে চলতে গিয়ে আল্লাহর অনেক অলির মাজার চোখে পড়ে। রাজধানীর পরিচিত দরবারগুলোর ভেতর আজিমপুর দায়রা শরিফ অন্যতম। এর প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেনÑ হজরত শাহ সূফি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ দায়েম (রহঃ)।
বর্তমানে আজিমপুর দায়রা শরিফের দশম মোতাওয়াল্লি হচ্ছেনÑ হজরত শাহ সূফি সাইয়্যেদ আহমদ উল্লাহ জোবায়ের। তিনি ১৯৭৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোট ১৬ বার হজ করেছেন। একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ হাজী হিসেবে যুগান্তরের পক্ষে আমার সঙ্গে হজ বিষয়ে কথা হয়। সেই আলাপচারিতাই তুলে ধরা হল :
সাইয়্যেদ আহমদ উল্লাহ জোবায়ের বলেন, দেশের অধিকাংশ হজ এজেন্সি উন্নত সেবা দিতে চেষ্টা করে থাকে। কোন এজেন্সি হয়তো ব্যতিক্রম। তবে তাদের সেবার মানসিকতা আরও বাড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে সরকারেরও করণীয় রয়েছে। প্রতিবেশী ভারতে হাজীদের জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে, অথচ আমাদের দেশে তা করা হয় না। তা করলে আমাদের হাজীদের খরচ অনেকটা কম হতো।
তিনি বলেন, আমাদের বিমানবহরে কম বিমান থাকায় দু’একটিতে কোন রকম যান্ত্রিক ত্র“টি দেখা দিলে হাজীদের কষ্ট হয়। তাছাড়া হাজীদের বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সই বহন করে থাকে। এক্ষেত্রে যে কোন এয়ারলাইন্সে বহনের অনুমতি দেয়া এবং দেশের বিমানবহরে আরও এয়ার ক্রাফট সংযুক্ত করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমাদের হজ এজেন্টদের থেকে মোয়াল্লিমরা যদি ফি কিছুটা কম গ্রহণ করেন, তবে হাজীদের অনেকটা সাশ্রয় হতে পারে। সৌদিতে মোয়াল্লিমরা অধিক মুনাফার আশায় পর্যাপ্ত বাহনের ব্যবস্থা না করায় আল্লাহর মেহমানদের বেশ কষ্ট পোহাতে হয়। মিনায় অবস্থান করা সুন্নতে মোয়াক্কাদা সত্ত্বেও সেখানে তাঁবুর ব্যবস্থা করা হয় না। এসব সমস্যা সমাধানে সৌদি সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
জনাব জোবায়ের বলেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ মুসলমান হজ ফরজ হওয়া মাত্রই তা সম্পন্ন করেন না। বৈষয়িক নানা অজুহাতে বৃদ্ধ বয়সে হজে যান। এটি করা আদৌ ঠিক নয়। আর এমন প্রবণতার কারণেই তাদের হজে গিয়ে অধিক কষ্ট শিকার করতে হয়। আমরা যেমন ওয়াক্তমতো নামাজ পড়ে থাকি, ঠিক তেমনি হজ ফরজ হওয়া মাত্রই তা সম্পন্ন করা কর্তব্য। কারণ জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই।
সবশেষে তিনি বলেন, জীবনের প্রথম যখন হজে গিয়েছি, তখন হজ ব্যবস্থাপনায় বহুবিধ সমস্যা ছিল। অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বাথরুম, টয়লেট ও বাহনসহ অনেক কিছুই মক্কা-মদিনায় ছিল না। আর এখন সব আছে। মুসলিম উম্মাহর এ বৃহৎ সম্মেলনে কিছুটা কষ্ট হবে- তা মেনে নিয়েই হজে যাওয়া উচিত।
