শাহরুখ খান মনে করেন মৌলবাদ নতুন এক ধর্ম

পেশাদার মুসলিম সন্ত্রাসবাদী বলে কিছু নেই। আছে শুধু পেশাদার সন্ত্রাসী। অন্যায়-অপকর্মগুলোও এখন বেশ নিয়মতান্ত্রিক। এগুলোর কিছু নিজস্ব বিশ্বাসও আছে। বিস্ফোরক তৈরি ও বোমা ফাটাতে যথেষ্ট পরিকল্পনার দরকার হয়। তাই বলা যায়, মৌলবাদ নিজেই এখন একটি ধর্ম। বোমা বিস্ফোরণের খবর শুনলেই দুটো বিষয় আমাকে ভাবিয়ে তোলে। প্রথমটি ইতিবাচক। তা হচ্ছে, যারা বিস্ফোরণের শিকার তাদের কেউ এর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কম্যুনিটিকে দায়ী করে না। আর যে বিষয়টি আমাকে রাগিয়ে দেয়, তা হচ্ছে বোমার আঘাতে আমার বিশ্বাসের একটি দেয়াল ভেঙে যায়। বিশ্বাসটি হচ্ছেÑ সব সমস্যার মুক্তি দিতে পারে শিক্ষা। কিন্তু যখনই দেখি বোমা বিস্ফোরণের নেপথ্যে কিছু ‘শিক্ষিত’ও আছে, তখন আমিও আহত হই। এমন হতে পারে যে, ঐ ব্যক্তির পোশাকি শিক্ষা তার বোধবুদ্ধিকে সঠিকভাবে গড়তে পারেনি।

আমার কাছে কাজই আমার ধর্ম। অনেক সিনেমায় আমি ‘রাহুল’ ‘রাজ’ (হিন্দু চরিত্রে) নামে অভিনয় করেছি। কিন্তু যখন আমি কোনো মুসলিম কমুনিটিতে যাই, তখন কিন্তু ঐসব নাম আমার পরিচয় থাকে না। সেখানে আমাকে অনেকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে। আমি সমানভাবে দিওয়ালি ও ঈদ পালন করি।

যতোদূর মনে পড়ে, কেবল চাক দে ইন্ডিয়াতেই আমি বড় মাপের মুসলমানের চরিত্রে অভিনয় করেছি। তাতে আমার দাড়ি ছিল, একটু আধটু উর্দুও শিখেছিলাম। তবে সেটা নিয়েও কাউকে কিছু বলতে শুনিনি। তবে দুই যুগ আগে যখন গৌরির সঙ্গে আমার বিয়ে হয় তখন পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল। রেজিস্ট্রেশনে ভুয়া ঠিকানা দিতে হয়েছিল। কিন্তু এখন? কিছুদিন আগে দুবাই যাওয়ার পথে এক এয়ার হোস্টেস বলল, সে হিন্দু এবং সে দুবাইতে এক মুসলিমকে বিয়ে করবে। তাকে বললাম, এটা কি খুব বড় কোনো ব্যাপার? উত্তরে সে জানাল, সে শুধু ব্যাপারটা আমার সঙ্গে শেয়ার করার জন্যই বলল।

ভারতীয়দের প্রতি আমার প্রার্থনাÑ উড়িষ্যায় যদি কোনো খ্রিস্টান নান ধর্ষিত হয়, তবে তা যেন ‘খ্রিস্টান বনাম হিন্দু’ ইসু না হয়। বোমা বিস্ফোরিত হলে তা যেন ‘হিন্দু বনাম মুসলিম’ ইসু না হয়। সাধাসিধে অর্থে তারা হচ্ছে খুনি। তাদের কোনো ধর্ম নেই। তাদের এজেন্ডা যদি এমনটি হয়েও থাকে, তবে তাদের বলবোÑ যাও অন্যকিছু করে দেখাও। দরিদ্রদের সাহায্য কর, সুবিধাবঞ্চিত কোনো মেয়ে-শিশুকে শিক্ষিত কর, আর তা না হলে অন্তত প্রাণীদের প্রতি সদয় হও।

আমার বিশ্বাস আধুনিক ভারতীয় যুবসমাজকে মনে করা উচিৎ যে, কাজই তাদের ধর্ম, তাদের পরিচয়ের সংজ্ঞা।