মডেল তিন্নি হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি অভি ।। স্বামীসহ ৫ জনের অব্যাহতি

ইত্তেফাক রিপোর্ট: ছয় বছর পর বহুল আলোচিত মডেল তিন্নি হত্যা মামলায় সাবেক এমপি গোলাম ফারুক অভিকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি মোজাম্মেল হোসেন গত ২৫ নভেম্বর আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিট দাখিলের পর আদালত অভির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। গত বছর এ মামলায় সিআইডি ইন্টারপোলের মাধ্যমে অভির বিরুদ্ধে রেড ওয়ারেন্ট জারি করে। চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তিন্নির স্বামী শাফায়াত হোসেন পিয়াল, ওবায়দুল্লাহ, দারোয়ান ইসলাম ও সোমনাথকে। চার্জশিটে ৪১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

চার্জশিটে তিন্নিকে হত্যা করার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, মডেল কন্যা তিন্নির সঙ্গে আসামি গোলাম ফারুক অভির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ঘনিষ্ঠতার কারণে এক পর্যায়ে অভি তাকে বিয়ে করতে প্রস্তাব দেয়। এ ব্যাপারে জোরাজরি করতে থাকলে অভির বিভিন্ন কর্ম ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেয় তিন্নি। ফলে নিজের কর্ম ঢাকতে অভি ২০০২ সালের ১১ নভেম্বর কলাবাগান বাসায় পরিকল্পিতভাবে তিন্নিকে হত্যা করে। এরপর তার লাশ বুড়িগঙ্গা ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়া হয়। কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ তিন্নির লাশ অজ্ঞাত হিসাবে উদ্ধার করে সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। চারদিন তিন্নির লাশ বেওয়ারিশ হিসাবে মর্গে পড়ে থাকে। পরে ময়না তদন্ত শেষে তিন্নির লাশ বেওয়ারিশ হিসাবে দাফন করা হয় জুরাইন কবরস্থানে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ঘটনাটি প্রকাশিত হলে তিন্নির আত্মীয়-স্বজনরা লাশ শনাক্ত করে। এরপর কেরানীগঞ্জ থানার এসআই সফি উদ্দিন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার প্রথমে তদন্তভার গ্রহণ করেন কেরানীগঞ্জ থানার এএসআই কাইয়ুম আলী। এরপর ৭ বার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। সর্বশেষে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির এসপি মোজাম্মেল হক।