রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা দিলকুশায় স্থাপিত বলাকা ভাস্কর্য ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ চারজনকে আটক করে। ঘটনাস্থলে সাতজন আহত হয়। রাত ১২টায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি কারা কী উদ্দেশে ঘটিয়েছে সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি। উল্লেখ্য, ভাস্কর মৃণাল হক নির্মিত এই ভাস্কর্যটি ১৯৮৯ সালে উদ্বোধন করা হয়।
হুজুর.......
hello everybody,
cheers,
ভাংগা পা
ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের ‘দেশদ্রোহী’ ঘোষণার দাবি
শিল্প-সংস্কৃতির ওপর উগ্র ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাম্প্রদায়িক শক্তির হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ পালন করেছে। বলাকা ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় গড়ে ওঠা আন্দোলনের তৃতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা রাজু স্নৃতি ভাস্কর্যের সামনে টানা পাঁচ ঘণ্টা প্রতিবাদ কর্মসুচি পালন করে। এ সময় তারা বাউল ভাস্কর্য ও বলাকা ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।
‘শিল্প ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন রুখো’ স্েলাগান সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা রাজু ভাস্কর্যের চারদিকের সড়ক ‘মুক্তাঞ্চল’ ঘোষণা করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
কর্মসুচি পালনের সময় শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেয়, সরকার শিল্প ও সংস্কৃতির ওপর ‘ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলা’ বন্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসুচি অব্যাহত রাখা হবে। এ সময় তারা পাঁচ দফা দাবির ঘোষণা দেয়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো: রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বাউল ভাস্কর্য ও বলাকা ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা এবং তাদের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে ঘোষণা করা, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে পুনর্বহাল করা, সব সাম্প্রদায়িক সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা, মুক্ত সংস্কৃতির ওপর সব ধরনের অন্যায় হামলার বিরুদ্ধে আইন করে শাস্তির বিধান করা এবং বিমানবন্দর গোলচত্বরকে সরকারিভাবে ‘লালন চত্বর’ ঘোষণা করে নামফলক স্থাপন করা।
রাজু স্নৃতি ভাস্কর্যের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলে, ধর্মের নামে সম্প্রতি কিছু মৌলবাদী চরমপন্থী গোষ্ঠী ভাস্কর্য ভেঙে দিচ্ছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ যেহেতু মুসলমান, তাই এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো ইসলামের নাম নিয়ে তা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, এমনকি কিছু রাজনৈতিক দলের সমর্থনও আদায় করেছে।
সমাবেশের আগে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ ছাড়া বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
বলাকা ভাস্কর্য ভাঙচুর: দুটি মামলায় রাজারবাগের পীরসহ আসামি ৪০০
মতিঝিল বিমান অফিসের সামনে স্থাপিত বলাকা ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় মতিঝিল থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। দু’টি মামলারই বাদী মতিঝিল থানার এএসআই নাসিরুজ্জামান। মামলার এজাহারে রাজারবাগের বড় হুজুর সৈয়দ দিল্লুর রহমানসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩/৪শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে বড় হুজুর সৈয়দ দিল্লুর রহমান ও মাহবুবুল আলমের নির্দেশেই বলাকা ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মামলায় এজহারনামীয় ১০ জনের মধ্যে ৮ জনকে ঘটনার সময় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ২ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকী ৬ জনকে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়। দুটি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার এসআই জামালউদ্দিন। এদিকে ঘটনার পর থেকে মতিঝিল বলাকা ভাস্কর্যের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন সাবেক সেনা সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জামালউদ্দিন তা অস্বীকার করেছেন। গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, তারা সবাই রাজারবাগের বড় হুজুর সৈয়দ দিল্লুর রহমানের সংগঠন উলামা আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাতের নেতা-কর্মী। গত সেপ্টেম্বরে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত উদীচীর নাটকে ইসলামের অবমাননা করা হয়। এরপরই তারা দেশ থেকে সিনেমা, নাটক বাজেয়াপ্ত করতে দেশব্যাপী লিফলেট বিতরণ করেন। এছাড়াও সারাদেশ থেকে মূর্তি, ভাস্কর্য নিশ্চিহ্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শনিবার দিনভর উলামা আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাতের অফিসে দিনভর গোপন বৈঠক হয়। গতকাল পর্যন্ত পুলিশ উলামা আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাতের প্রধান ঘটনার মূল হোতা সৈয়দ দিল্লুর রহমানকে গ্রেফতার করতে পারেনি।