প্রথমআলো: কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ মুজিবুর রহমান মঞ্জুর বিরুদ্ধে নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি তাহেরউদ্দিন হত্যা মামলা বিচারাধীন আছে। ইতিমধ্যে মামলার সাক্ষ্য কার্যক্রমও শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। এ রকম অন্তত ছয়টি হত্যা মামলা আছে তাঁর বিরুদ্ধে। তিনবার সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন তিনি। জরুরি অবস্থা জারির পর বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে আটক ছিলেন বাজিতপুর-নিকলীর এই গডফাদার। গতকাল শনিবার বিএনপি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তদের যে তালিকা ঘোষণা করেছে, সেখানে নাম আছে মুজিবুর রহমান মঞ্জুর।
শুধু তিনি নন, তাঁর মতো অনেক গডফাদার, সাজাপ্রাপ্ত সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ এবং তাঁদের আত্মীয়স্বজনকেও প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে বিএনপি।
কর ফাঁকির মামলায় ঢাকার সাবেক সাংসদ সালাহউদ্দিনের আট বছরের কারাদন্ড হয়েছে। তাঁকে ঢাকা-৫ আসনের চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় রেখেছে বিএনপি। যদিও শিক্ষক নেতা সেলিম ভুঁইয়া এই আসনে তাঁর বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তালিকায় আছেন। আবার আয়কর ফাঁকির মামলায় কারাদন্ডপ্রাপ্ত সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসকে ঢাকা-৮ আসনে দলের প্রার্থী করেছে বিএনপি। এখানে তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে বিভিন্ন অভিযোগে কারাগারে আছেন আরেক সন্ত্রাসী-গডফাদার নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু। ঢাকা-৭ আসন থেকে এবারও তিনি বিএনপির প্রার্থী। যদিও তাঁর বিকল্প হিসেবে স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনার নামও প্রার্থী তালিকায় আছে।
জঙ্গি মদদদাতা হিসেবে অভিযুক্ত ও কারাদন্ডপ্রাপ্ত সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে নাটোর-২ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। যদিও এখানে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতিসহ বর্তমান জেলা কমিটির অনেক নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। রাজনীতিতে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও দুলুর স্ত্রী পরিচয়েই মনোনয়ন পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জরুরি অবস্থা জারির পর থেকেই পলাতক আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দুদকের সন্দেহভাজন দুর্নীতিগ্রস্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। কুষ্টিয়া-২ আসনে তাঁকেই প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে বিএনপি।
দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যে কারাদন্ড হয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের। জরুরি আইনে সাজা হওয়ায় তাঁকে প্রার্থী করতে না পেরে স্ত্রী রোমানা মাহমুদকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে বিএনপি। সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব এবারও লালমনিরহাট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী। দুদকের সন্দেহভাজন দুর্নীতিগ্রস্তদের তালিকায় তাঁরও নাম আছে।
ঝিনাইদহ-১ আসনে সাবেক সাংসদ মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদক সম্প্রতি মামলা করেছে। তাঁকে আবার প্রার্থী করা হয়েছে। একইভাবে ঝিনাইদহ-৩ আসনে দুদকের তালিকাভুক্ত শহিদুল ইসলাম আবার দলের প্রার্থী। বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সাংসদ এম এ এইচ সেলিমের কারাদন্ড হয়েছে চাঁদাবাজির মামলায়। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর ভাই এম এ সালামের সম্পর্ক নেই। তবু এই সালামই বাগেরহাট-২ আসনে দলের প্রার্থী। সাবেক সাংসদ মতিয়ার রহমান তালুকদার দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। তাঁরও সাজা হয়েছে। বরগুনা-১ আসনে আবারও তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সাংসদ শহীদুল আলম তালুকদার অস্ত্র মামলায় দন্ডিত হয়েছেন। তিনি এবারও প্রার্থী। ঢাকা-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন সাবেরা আমান। তিনি দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমানের স্ত্রী। রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও আমানের স্ত্রী পরিচয়ের কারণে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। কুমিল্লা-৪ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বিতর্কিত সাংসদ, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর স্ত্রী মাজেদা আহসানকে।
বিতর্কিত যাঁরা বাদ পড়লেন: বিভিন্ন অভিযোগে সাজা হওয়ার কারণে যাঁদের প্রার্থী তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে তাঁরা হলেন হেলালুজ্জামান তালুকদার, আমিনুল হক, নাদিম মোস্তফা, কাজী সালিমুল হক, আলী আসগার লবী, নুরুল ইসলাম মনি, হাফিজ ইব্রাহিম, শাজাহান ওমর, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, লুৎফুজ্জামান বাবর, মোসাদ্দেক আলী ফালু, এম মোরশেদ খান প্রমুখ।
সংস্কারপন্থীদের মধ্যে যাঁরা বাদ পড়লেন: ড. এম ওসমান ফারুক, আব্দুল আলীম, রেজাউল বারী ডিনা, ডা. জিয়াউল হক মোল্লা, জি এম সিরাজ, মাসুদ অরুণ, রেজা আহমেদ মোল্লা, জহিরউদ্দিন স্বপন, শাহ মোহাম্মদ আবুল হোসাইন, মফিকুল হাসান, নজির হোসেন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন, শামসুজ্জোহা খান, কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, হাজী মোজাম্মেল হক, ধীরেন্দ্রনাথ সাহা, ডা. রোস্তম আলী ফারাজী, সৈয়দ শহিদুল হক জামাল, সহিদুজ্জামান, ফজলুল আজিম, মো. আবু আব্বাস, আতাউর রহমান খান, কাজী আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মো. ইউনুস প্রমুখ।
Still we were in power longer than any1 else.
BNP is the best BD has. It is why we got elected every time the election was not rigged.
BNP
Godmother khaleda has no option, most of the party men are corrupted, their friend Jamat is war criminal, what a party !! She is looking for a chance not to perticipate the election, she knows EC might reject the bad nominations, she will get a chance not to participate.