জাকির হোসেন: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই এখন স্বল্পমেয়াদে ধার করে তহবিল ব্যবস্থাপনা করছে। তারা ধার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং একই সঙ্গে কলমানি বাজার থেকে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ঈদের আগে ও পরে গ্রাহকদের নগদ অর্থ উত্তোলন বেড়ে যাওয়ায় কিছু ব্যাংক বড় ধরনের তারল্য সংকটে পড়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি ব্যাংকে তারল্য সংকট থাকলেও সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে বড় অংকের অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ঈদের সপ্তাহখানেক আগ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় প্রতিদিনই রেপোর মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্পমেয়াদে ধার দিচ্ছে। বুধবার ১০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে রেপোতে ২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা ধার দেয়া হয়েছে। সোমবার রেপোর মাধ্যমে তহবিল সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। রেপোর সুদের হার এখন ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরে রেপোর সুদ হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়। তবে বর্ধিত সুদ হার সত্ত্বেও রেপোতে ধার নেয়ার প্রবণতা কমেনি বরং বেড়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় অংকের তহবিল সরবরাহ করায় কলমানির সুদ হার এবারের ঈদে খুব একটা বাড়েনি। ঈদের পরপরই দু-একদিন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে কলমানি লেনদেন হয়েছে। বুধবার কলমানির সর্বোচ্চ হার ছিল ১৭ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক রেপোর মাধ্যমে তহবিল দেয়া সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কলমানি বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমেনি।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান যুগান্তরকে জানান, নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেপো সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। প্রাইমারি ডিলার নন এমন কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তারল্য সংকট এ মুহূর্তে খুব প্রকট। এ কারণে কলমানি মার্কেটের ওপর তারা নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছে।
