- ‘জিন্নাহ্কে ভারতে এক দানব বানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এক মহান ব্যক্তি'
-যশোবন্ত সিংহ|
যে পথে গেছেন বিজেপি'র সুপ্রীম নেতা লালকৃষ্ণ আদভানী তার চেয়ে আরো কাঁটা বিছানো পথে যেতে হ'ল বিজেপি'র আরেকজন শীর্ষ নেতা যশোবন্ত সিংকে। দুইজনেরই ভাগ্য বিড়ম্বনার কারণ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির জনক কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্। তবে যশোবন্ত সিংয়ের পরিণতি যতখানি করুণ হয়েছে এলকে আদভানীর পরিণতি ততোখানি করুণ হয়নি। আদভানী এখনও দলে আছেন। শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটেছে, সেটি সম্ভবত আদভানীর বয়সের কারণে। কিন্তু যশোবন্ত সিংকে দল থেকে রীতিমত বহিষ্কার করা হয়েছে। এই বহিষ্কারের ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, বিজেপি নামক দলটি কত বড় ফ্যাসিস্ট। ওরা গণতন্ত্রের কথা বলে। একটি দলের এমন কিছু আদর্শ বা নীতি থাকে যেগুলোর সাথে মতদ্বৈততার কোনো সুযোগ থাকে না। তেমনি দেশে বা বিদেশে অসংখ্য ইস্যু থাকে যেগুলো সম্পর্কে দলের কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান থাকে না। সূর্যের নীচে যত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যু আছে তার সবগুলো যদি তালিকাভুক্ত করতে হয় তাহলে একটি মহাকাব্য রচনা করতে হবে। পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্, তেমনই একটি ইস্যু যেটা নিয়ে কংগ্রেস বা বিজেপি কোনো দলেরই সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান নাই। থাকার কথাও নয়। কারণ, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ পাকিস্তানেরই ইস্যু। সেই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্র মূল্যায়ন ভারতের বিভিন্ন নেতার কাছে বিভিন্নভাবে হতে পারে। আমাদের দেশেও আমরা মিঃ জিন্নাহ্ বা মিঃ গান্ধীকে এক একজন এক একভাবে মূল্যায়ন করি। একটি দলের এক শ্রেণীর নেতা জিন্নাহ্ বা গান্ধীকে একভাবে মূল্যায়ন করবেন। আরেক শ্রেণীর নেতা আরেকভাবে মূল্যায়ন করবেন। দুই গ্রুপের দুই রকম মূল্যায়নের জন্য তাই বলে কি এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে বহিষ্কার করবে? যদি করে তাহলে সেটা কি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচায়ক হবে? সেই রকম একটি অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে বিজেপি। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করায় মিঃ যশোবন্ত সিংকে বিজেপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এভাবে যশোবন্ত সিংয়ের ২৯ বছরের বিজেপি ক্যারিয়ারকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলমের এক খোঁচায় খতম করা হয়েছে। অথচ দলীয় কোনো ফোরামে তিনি ঐ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি। এ সম্পর্কে দলের কোনো সিদ্ধান্ত নাই। তাই দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করারও প্রশ্ন আসে না। মিঃ জিন্নাহ্ সম্পর্কে মিঃ সিং ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন জিন্নাহ্ সম্পর্কে তাঁর সদ্য প্রকাশিত একটি গ্রন্থে। এই গ্রন্থে তিনি ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাস বিধৃত করেছেন। সেই বর্ণনায় তিনি যা বলেছেন সেটি তো বিজেপির মতামত নয়। সেটি তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। আর সে মতামতের জন্য তাঁর ২৯ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার খতম হয়ে যাবে কেন?
সারা পৃথিবী জুড়ে একটি কথা চালু আছে যে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। ভারতে প্রতি ৫ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুতরাং সেই নিরিখে ভারতকে গণতান্ত্রিক বলা যেতেই পারে। কিন্তু মিঃ সিংকে বহিষ্কারের পর যদি বলা হয় যে, বিজেপি'তে গণতন্ত্রের কোনো অস্তিত্বই নাই তাহলে কি ভুল বলা হবে? এ সম্পর্কে আরো কিছু কথা বলার আগে বিজেপি'র এই সাবেক নেতার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করা যাক।
\ দুই \
১৯৩৮ সালের ৩ জানুয়ারি মিঃ যশোবন্ত সিং ভারতের রাজস্থান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁর নির্বাচনী এলাকা হ'ল দার্জিলিং। ভারতের সেনাবাহিনীতে ১৯৬০ সালে অর্থাৎ মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি একজন অফিসার ছিলেন। তিনি ভারতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমীর প্রাক্তন ছাত্র। ১৯৯৬ সালের মে মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে বিজেপি'র যে সরকার গঠিত হয় সেই সরকারে মিঃ যশোবন্ত সিং অর্থমন্ত্রী ছিলেন। দু'বছর পর মিঃ বাজপেয়ী যখন পুনর্বার সরকার গঠন করেন তখন মিঃ যশোবন্ত সিং ঐ সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত মিঃ সিং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ২০০২ সালের জুলাই মাসে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ইয়াশবন্ত সিনহা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মিঃ যশোবন্ত সিং ভারত পাকিস্তানের জটিল সম্পর্ক সহজ করার চেষ্টা করেন। অবশ্য তিনি সফল হতে পারেননি। তবে দুই বছর অর্থমন্ত্রী থাকাকালে তিনি ভারতে মুক্তবাজার অর্থনীতির মূলনীতিসমূহ আংশিকভাবে চালু করেন। বিজেপি'র মত একটি কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলে তিনি ছিলেন কিছুটা উদারপন্থী। মিঃ যশোবন্ত সিং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। কিন্তু এরপর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ভারত সফরে এলে যশোবন্ত সিংয়ের সুদক্ষ নেগোশিয়েশনে এই সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী স্ট্রোব ট্যালবট মিঃ সিংয়ের কূটনৈতিক দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হল এই যে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আরএসএসএ'র সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিজেপি'তে একজন প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। চলতি বছরের সাধারণ নির্বাচনে মিঃ সিং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং নির্বাচনী এলাকা থেকে বিজেপি টিকেটে এমপি নির্বাচিত হন।
\ তিন \
যে পুস্তকটি প্রকাশের কারণে যশোবন্ত সিংকে বহিষ্কার করা হ'ল সেই পুস্তকটি প্রকাশের সাথে সাথেই সারা ভারতে প্রচন্ড আলোড়ন তুলেছে। প্রকাশের সাথে সাথেই কট্টরপন্থী বিজেপি'র নেতা মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রদেশ গুজরাটে এই বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। বইটির নাম ‘‘জিন্নাহ-ইন্ডিয়া পার্টিশন, ইন্ডিপেন্ডেন্স। অর্থাৎ ‘‘জিন্নাহ্ ভারত, ভারত বিভাগ এবং স্বাধীনতা’’ বইয়ের লেখক যশোবন্ত সিং বহিষ্কৃত হওয়ার সাথে সাথেই বইটি হটকেক হয়ে গেছে। গত শুক্রবার একটি পত্রিকায় বলা হয়েছে যে, বইয়ের লেখক যশোবন্ত সিংকে বহিষ্কারের কারণে বিক্রির শীর্ষে চলে যাওয়া বইটিকে টেনে নামানো তার দলের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকা। এ বইয়ের প্রতি জনগণের আগ্রহ বেড়ে গেছে এবং তারা ছুটছেন বইয়ের দোকানগুলোতে। বইটিতে সমগ্র ভারতের বইয়ের দোকানগুলো এমনকি উপমহাদেশে সোমবার বইটি বাজারজাত শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। কারণ, বইয়ে পাকিস্তানের স্থপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রশংসা এবং ভারত বিভক্তি যুগের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা ও ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের ভূমিকায় সমালোচনা করা হয়। খান মার্কেটের বাহরি লাল এন্ড সন্স দোকানের এক বই বিক্রেতা বলেন, গত ৩ দিনে আমরা ১শ' বই বিক্রি করেছি। এর প্রকাশক রূপা ইতোমধ্যে ৪ দফা বইটির প্রিন্ট অর্ডার দিয়েছেন। পাকিস্তান থেকে গত দু'দিনে এসেছে তৃতীয় দফা অর্ডার। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর কে মেহরা বলেন, বাংলাদেশ থেকেও বইটি পাবার ব্যাপারে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এদিকে ১৯৪৭ সালে এই উপমহাদেশের বিভক্তি, যা তখনকার হিন্দু সম্প্রদায়কে বিক্ষুব্ধ করেছে, এ বিষয়ে লেখা একটি নতুন বই ভারতের গুজরাট রাজ্য সরকার নিষিদ্ধ করেছে। শীর্ষ স্থানীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা যশোবন্ত সিংয়ের লেখা জিন্নাহ্ ইন্ডিয়া পার্টিশন ইন্ডিপেন্ডেন্স নামের বইয়ে পাকিস্তানের স্থপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্র প্রশংসা করা হয় এবং তৎকালীন শীর্ষ কংগ্রেস নেতা এবং ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। এই পুস্তকে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহর লাল নেহেরুর তীব্র সমালোচনা করা হয়। ভারত বিভক্তির জন্য ভারতের এই সাবেক অর্থ, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী করেছেন পন্ডিত নেহেরুকে। তিনি বলেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্কে ভারতীয় কংগ্রেস দানব হিসেবে চিত্রিত করেছে। কিন্তু মিঃ জিন্নাহ্ ছিলেন একজন খাঁটি ভারতীয়। মিঃ যশোবন্ত সিং বলেছেন যে, নেহেরু এককেন্দ্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করতেন। তিনি চেয়েছিলেন, ভারতের রাষ্ট্র কাঠামো সেরকমই হোক। এমন কি মিঃ গান্ধীও নেহেরুর এই চিন্তাধারা মেনে নিয়েছিলেন। ভারতকে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে গঠনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন সব সময়। কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারত যখন ভাগ হয়ে যায় তখন নেহরু ফেডারেশনের ধারণা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত ও সুসংগঠিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির জন্য প্রধানত দায়ী ছিলেন মিঃ জিন্নাহ্ এবং তিনি ছিলেন এই বিভক্তির খলনায়ক। এই ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেন মিঃ যশোবন্ত সিং। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘‘এই ধারণা কি ভুল?’’ উত্তরে মিঃ সিং বলেন, ‘‘হ্যাঁ এটি ভুল ধারণা। এই ধারণার সমর্থনে কোন তথ্য নাই। আমাদেরকে এই ধারণা সংশোধন করতে হবে।’’
মিঃ যশোবন্ত সিং বলেন, আমরা তার সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দিয়েছি। কারণ আমাদের প্রয়োজন ছিল একটি দানব সৃষ্টি করার। আমাদের একজন দানব প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কারণ বিংশ শতাব্দীতে এই উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো ভারত, বিভক্তি। গত ১৯ আগস্ট থেকে সিমলায় বিজেপির ৩ দিন ব্যাপী ‘চিন্তন বৈঠক' (Brain Storming) শুরু হয়েছে। এই বৈঠকের প্রাক্কালে ভারতের প্রাক্তন অর্থ, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী মিঃ যশোবন্ত সিংয়ের আলোচ্য বইটি প্রকাশিত হলো এবং সিএনএনএ মিঃ জিন্নাহ সম্পর্কে মিঃ সিং তার মন্তব্য প্রকাশ করলেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ২০০৫ সালে বিজেপির তৎকালীন প্রধান মিঃ লাল কৃষ্ণ আদভানী পাকিস্তানে যান এবং সেখানে মিঃ জিন্নাহ্ সম্পর্কে প্রশংসা বাক্য উচ্চারণ করেন। তখন বলা হয়েছিল যে মিঃ আদভানীর ঐ প্রশংসা বাক্য ছিল কৌশলগত। ২০০০ সালে জিন্নাহ সম্পর্কে বিজেপি যে অবস্থান গ্রহণ করে সেই অবস্থান এখনো অপরিবর্তনীয় রয়েছে।
মিঃ যশোবন্ত সিং বলেন, মিঃ জিন্নাহ্ সম্পর্কে ভারতে যে ধারণা বিরাজ করছে তার সাথে তিনি একমত নন। কারণ, তিনি জিন্নাহ্র ব্যক্তিত্বে আকৃষ্ট হয়েছেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমি যদি তার ব্যক্তিত্বে আকৃষ্ট না হতাম তাহলে হয়তো এই বই লেখার প্রয়োজন হতো না। তার ব্যক্তিত্ব ছিল জটিল। তিনি ছিলেন বিশাল চরিত্রের এক দৃঢ় চেতা ব্যক্তিত্ব। যারা জিন্নাহকে একজন মহান ভারতীয় বলে স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করেন তাদের প্রজ্ঞা সম্পর্কে মিঃ সিং সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তিনি কি মিঃ জিন্নাহ্কে একজন মহান ব্যক্তি বলে মনে করেন? মিঃ যশোবন্ত সিংয়ের উত্তর, ‘‘গুহ, অবশ্যই। কারণ তিনি শূন্য থেকে কিছু একটা সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি কংগ্রেসের বিশাল শক্তি এবং বৃটিশ রাজ্যের বিরুদ্ধে একাই লড়েছিলেন। গান্ধী নিজেই জিন্নাহ্কে একজন ‘মহান ব্যক্তি' বলে সম্বোধন করেছিলেন। আমরা সেটার স্বীকৃতি দেইনা কেন? মহাত্মা গান্ধী যে তাকে কেন মহান ব্যক্তি বলেছিলেন, সেটি আমরা বোঝার চেষ্টা করিনা কেন?’’
তিনি বলেন, ‘‘তিনি ছিলেন একজন জাতীয়তাবাদী নেতা। তিনি স্বাধীন ভারতের জন্য বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। একই সাথে তিনি ভারতীয় মুসলমানদের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করেছিলেন। তার জাতীয়তাবাদী অর্জনের শীর্ষে ছিল ১৯১৬ সালে সম্পাদিত হিন্দু মুসলিম ঐক্য সম্পর্কে ঐতিহাসিক লক্ষ্মৌ চুক্তি।’’ তিনি বলেন, ‘‘তার চরিত্রের কতগুলো দিক আমার ভালো লাগে। একটি হলো তার দৃঢ় মনোবল। তিনি ছিলেন একজন আত্মপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। মহাত্মা গান্ধী ছিলেন একজন দেওয়ানজাদা। নেহেরুসহ এসব ব্যক্তি জন্ম নিয়েছিলেন অর্থ এবং মর্যাদাবান পরিবারে। কিন্তু জিন্নাহ্ বোম্বেতে এসে বসবাস শুরু করেন। শুরুতে হাতে তার কোনো পয়সা ছিল না। তিনি পায়ে হেঁটে তার কর্মস্থলে যেতেন। তার অফিস ছিল ভবনের সবচেয়ে ওপর তলায়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার জন্য কোনো লিফট ছিল না।
এই হল ভারতীয় তথা বিজেপি'র গণতন্ত্র। বড় নেতা আদভানী যখন জিন্নাহ্র প্রশংসা করেন তখন সেটি হয় কৌশলগত ব্যাপার। কিন্তু যশোবন্ত সিং যখন সেই প্রশংসা করেন তখন সেটি হয়ে যায় দলীয় আদর্শ বিরোধী ব্যাপার। ‘ডবল স্ট্যান্ডার্ড' আর কাকে বলে? সত্যকে কতদিন ছাই চাপা দিয়ে রাখা যায়? মিথ্যার আবরণ ভেদ করে জিন্নাহ্ সম্পর্কে সত্য আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হচ্ছে।

জিন্নাহ এবং বি যে পি
জিন্নার প্রশংসা করে বি যে পি থেকে প্যাটেলকে বের হতে হয়েছে। এটা অবশ্যয় একটি দুঃখজনক আচরন বি যে পির। আমি বি যে পিকে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সাথে তুলনা করব। বি যে পি মুসলমানদের জন্য আতংক। কংগ্রেসও কম নয়। জিন্নাহ ব্রিটিশদের ফাদে পা দিয়েছিল। তার প্রশংসা করার কিছুই দেখি না আমি। মুসলিম জনতাকে ৩ ভাগে ভাগ করে দিয়ে গেছেন। ফাকিস্তানি, বাংলাদেশী এবং ভারতীয় মুসলমানদের সংখ্যা কাছাকাছি। ডিভাইড আন্ড রুল করে হিন্দুরা আমাদের অত্যাচার করছে। গুজরাটের অনেক অজানা কাহিনী আমি আমার বসের কাছ থেকে শুনেছি। অনেক রাত আমার ঘুমও হয়নি। হাইদ্রাবাদি, কাশ্মিরি এবং গুজরাটের মুসলমানরা আজও অনেক ভাবে নিপীড়িত। ভারতীয়দের একটা গুন ভাল আছে। তারা তাদের কাছের লোক ছাড়া কারও কাছে তাদের খারাপ দিক স্বীকার করে না।
সেলিমসির জিন্নাহ্ প্রীতি
এম্নিতে ভারতের নাম শুনলেই সেলিমসির শরীরে র্যাশ্ উঠে...আর নেতা-নেত্রীদের কথাতো উনার কাছে ষড়যন্ত্র ছাড়া অন্য কিছুনা, বিষের মতো। আর যখনি একজন জিন্নাহ্র প্রশংসা করে কিছু লিখলো উনি আর লোভ সাম্লাতে পারলেন্না। ভারতের সাথে উনার সম্পর্কের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন। কোন সাম্প্রদায়িক মন্তব্য ছাড়াই পুরো রিপোর্টটি ছাপিয়ে দিয়েছেন - কত উন্নতি!! এখন আমাদের পালা কি বলেন? - এদেশের অনেকেইতো উনাকে মনে মনে জাতির পিতা মানেন! এটা পড়ে ওরাও উতসাহিত হবে!! কে যেন কিছুদিন আগে লিখলো - 'যে কারনে মুজিব জাতির পিতা নয়'! তাদের মনেও একই ব্যক্তির মুখ ভেসে উঠে। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেনা। i hate the hypocrite...কি দরকার, আপনার ভাষায়, 'ভারতের দাদা'দের মুখ দিয়ে আপনার মনের কথা প্রকাশ করা!! সাহস করে বলে ফেলুন, শান্তি পবেন।।
আওয়ামী Rana, আপনি এত সংকীর্ণমনা
আওয়ামী রানা আপনার প্রীতিটা কিন্তু প্রকাশ হয়ে গেল। জিন্নাহ পাকিস্তানের জনক, পাকিস্তানের ইস্যু। এতে আপনিও ভারতীয়দের মত মর্মাহত হয়ে কোন লাভ নেই। জিন্নাহ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন সফল রাজনীতিবিদ, এবং পাকিস্তান সৃষ্টি তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অর্জন। শুধু তাই নয়, ভারতের ১দিন আগেই পাকিস্তানের স্বাধীনতা আনতে সক্ষম হয়েছিলো, এগুলো সবই এখন ইতিহাস। আপনার ভারত প্রীতির ইমোশন দিয়ে কি ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারবেন ? পারবেন না। হে decent রানা, আপনি এত সংকীর্ণমনা ।
একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিস্টার সিং বলেছেন, "আমি ভাবতেই পারিনি বিজেপি এত সংকীর্ণমনা দল... তারা জিন্নাহ এবং প্যাটেলের ব্যাপারে এতটা আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছে। আমার মনে হয় আমাকে বহিস্কারের আগে তারা আমার লেখা বইটি পড়েন নি।"
মতিন সাহেব, নিজের দিকে তাকান
আমাকে সংকীর্নমনা বলে শান্তি পাচ্ছেন ভালো; কিন্তু নিজের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন! জিন্নাহ্র অর্জনগুলো কিভাবে তোতাপাখির মতো গড়্গড় করে বলে গেলেন যদিও এসবে আমরা কতটা লাভবান হয়েছিলাম তা আপনাকে মনে করিয়ে দিয়ে লাভ নেই। জিন্নাহ্র গুনকীর্তনের ধরন দেখেই বুঝা গেছে ওসব আপনার প্রথম চিন্তায় আসেনা। সিং সাহেবের প্রতি আপনার ভক্তি দেখেই যে কেউ বলতে পারবে জিন্নাহ্র প্রতি আপনার সহানুভুতি কোন পর্যায়ে! পাকিস্থান সৃষ্টিতে যতটা পুলকিত হয়েছেন ততটা যদি নিজের দেশের বেলায় হতে পারতেন তাহলে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বের প্রতিও আপনার এতো অবহেলা থাকতোনা ।।
রানা সাহেব আমাকে নিজের দিকে দেখতে বললেন
তবে ১৯২৯ সালেও জিন্না মোটেও পাকিস্থানের কথা ভাবছেন না। বরং ঐক্যবদ্ধ ভারতে মুসলীমদের স্বার্থরক্ষার জন্যে ১৪ দফা দাবী জানালেন। কংগ্রেস সেই দাবীগুলি প্রত্যাখ্যাত করলে, পাকিস্থানের দাবী করা ব্যাতীত জিন্নার হাতে আর কোন উপায় থাকল না।
http://www.somewhereinblog.net/blog/ibnesalamblog/28998546
রানা সাহেব, আমি জিন্নাহর ঐতিহাসিক অবস্থানটা বিভিন্ন ব্লগ থেকে পাওয়া তথ্যটা তুলে ধরতে চেয়েছি। আমি আওয়ামী লীগের মত মিথ্যাচারে লিপ্ত হয় নি। ভারতীয় উপমহাদেশে জিন্নাহর স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। পাকিস্তান একদিনে রাতারাতি সৃষ্টি হয়নি। রাজনৈতিক গতিপ্রবাহের উপর ভিত্তি করেই পাকিস্তান নামক একটি স্বাধীন রাজনৈতিক সত্ত্বার জন্ম হয়েছিলো, তখন কে বা কারা এর বিরোধিতা করেছিলো তা অবশ্যই আলোচনার বিষয়, একই সাথে রাজনৈতিক গতিপ্রবাহের সাথে সাথে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানেরও পরিবর্তন হতেই পারে।
এক কালের আওয়ামী মুসলিম লীগ রাজনৈতিক স্রোত ধারায় আওয়ামী লীগে রুপ নিয়েছিলো এবং পরিশেষে বাকশালে এর অপমৃত্যু ঘটেছিলো, এগুলো ইতিহাস। আওয়ামী ইমোশন দিয়ে ইতিহাস পরিবর্তন সম্ভব নয়। একই সাথে ১৯৭১ সালে জানুয়ারী বা ফেব্রুয়ারীতে জামাতের মিটিং-এ আওয়ামী লীগ ন্যাক্কারজনকভাবে আক্রমন করে মানুষ হত্যা করেছিলো, তখনও অখন্ড পাকিস্তান ছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগের ঐ আচরন ছিলো রহস্যজনক। উল্লেখ থাকে, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা (আগরতলা মামলার জন্য বিতর্কিত বললাম ) মুজিব অংশগ্রহন করেছিলেন ( অখন্ড পাকিস্তানের সংবিধানের আওতায়)।
ইবনেসিনা,জিন্নাহ আর সালমান রুশদি এবং তসলিমা নাসরিন
পাচ্যাত্যের অনুসারী ইবনেসিনা কে তৎকালীন মুসলিম স্কলাররা আখ্যায়িত করেছিল মুরদাদ হিসাবে,জামাত এখন তার নামে ইবনেসিনা ট্রাষ্ট করেছে।জিন্না জানতেন না কিভাবে নামাজ পড়তে হয়,পাকিস্থানী জামাতিরা পাকিস্থান সৃষ্টির বিরোধীতা করেছিল-ভারত সৃষ্টিতে বিরোধীতা করেছিল বিজেপি।জিন্নাহর বিরোধীতা করেছিল মৌলভীরা এখন সেলিম সি রা জিন্নাহকে ইসলামের খেদমতকারী বানিয়ে খুশি হতে চায়। ভবিষ্যতে যদি এরা সালমান রুশদি এবং তসলিমা নাসরিনকে মুসলিম মনিষী বলে নিজেদের আত্মতৃপ্তি বৃদ্বি করতে চায় তবে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।