প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলো, রেনেসাঁ হলো, শিল্প বিপ্লব হলো, আরো কত কিছুই না হলো- তারপরও আমরা পৃথিবীকে মনের মত করে সাজাতে পারলাম না।অথচ প্রতিটি কর্ম ও কান্ডের পেছনে আমরা দার্শনিক বক্তব্য শুনেছি, রাষ্ট্রনেতার ভাষণ শুনেছি, শুনেছি উন্নত জীবন ও শান্তিময় সমাজের কথা।কিন্তু এসব কথামালায় এখনো পৃথিবী মানুষের বসবাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি।পৃথিবীতে কর্মযজ্ঞও কম হয়নি। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সমাজ-সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতির পেছনে মানুষ অনেক শ্রম ঢেলেছে, ঘাম ঝরিয়েছে- তারপরও লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। কিন্তু কেন?
কিন্তু কেন, এটি আসলে একটি দার্শনিক প্রশ্ন। মানুষকে অসহায়ভাবে এই প্রশ্নটি করতে হতো না, যদি সমাজপতিরা প্রকৃতি-জগতের স্থিতি ও বিকাশের রহস্য উপলব্ধি করতে পারতো। প্রকৃতি জগৎও স্রষ্টার সৃষ্টি, মানুষও স্রষ্টার সৃষ্টি। প্রকৃতি জগৎ চলছে স্রষ্টা-নির্ধারিত প্রাকৃতিক নিয়মে। সেখানে নির্ধারিত নিয়ম-শৃংখলার কোন ব্যত্যয় নেই। ফলে প্রকৃতি এখনো মানববান্ধব। কিন্তু আমরা মানুষরা? আমরা এখন না মানব-বান্ধব, না প্রকৃতি-বান্ধব। মানুষের কর্মকান্ডে প্রকৃতি বিপর্যস্ত হচ্ছে, বিধ্বস্ত হচ্ছে মানবসমাজও। এর কারণ স্বার্থান্ধ অহংকারী মানুষের অন্যায় আচরণ। স্রষ্টা প্রকৃতি-জগতের মত মানুষের জন্যও মানবপ্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনবিধান উপহার দিয়েছেন। এবং এই জীবনবিধান আধুনিককালের কোন বিষয় নয়, যেমন প্রকৃতি জগতের বিধানও আধুনিককালের কোন বিষয় নয়।প্রকৃতি-জগতের বিধানের মত মানবের জন্য প্রেরিত স্রষ্টার বিধানও আদি ও শাশ্বত বিষয়। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ)কে যেমন স্রষ্টা জীবন-যাপনের বিধান উপহার দিয়েছেন, তেমনি জীবন-যাপনের বিধান উপহার দিয়েছেন শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (স:) কেও। সৃষ্টির শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষের জন্য স্রষ্টাপ্রদত্ত জীবনবিধান এক বিশেষ নেয়ামত। কিন্তু সব মানুষ এই নেয়ামতের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করেনি। যারা উপলব্ধি করেছে তাদের জীবন সুন্দর হয়েছে, সমাজ হয়েছে শান্তিময়। আর যারা স্রষ্টাপ্রদত্ত জীবনবিধানকে অবজ্ঞা করেছে তাদের জীবনই শুধু অশান্তিতে ক্লান্ত হয়নি, তাদের পরিচালিত সমাজও হয়েছে বিপর্যস্ত। বর্তমানে আমরা ইহুদী, খৃস্টান এবং মুসলিম সমাজে যে অশান্তি ও বিপর্যয় লক্ষ্য করছি, তা ধর্ম মানার কারণে নয় বরং ধর্মকে অমান্য করার কারণেই। ধর্মকে কেউ অস্বীকার করে অমান্য করছে, আবার কেউ ধর্মকে স্বীকার করার পরও কথা-কাজে গরমিলের মাধ্যমে অমান্য করছে। কেউ ধর্মকে ব্যবহার করছে ভেদ-বিভেদ ও কায়েমী স্বার্থে। এসব কারণে বর্তমান সময়ে পৃথিবীর মানুষ ধর্মের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। তবে যারা সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে অবগত, স্রষ্টা-প্রদত্ত জীবন বিধান সম্পর্কে সচেতন, তারা বর্তমান সময়েও স্পষ্টভাবে বলছে যে, ধর্মের জন্য নয় বরং ধর্মকে না মানার জন্যই পৃথিবীতে এত অশান্তি ও দুর্ভোগ।
বর্তমান সময়ে কথামালার কোন অভাব নেই।পাশ্চাত্য থেকে শুরু করে আমাদের সমাজেও কথার মাধ্যমে সবকিছু বিজয়ের একটা আস্ফালন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।এর একটি হলো সেক্যুলারিজম।সেক্যুলারিজম যেন আলাদীনের আশ্চর্য-প্রদীপ!বলা হচ্ছে, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণই নাকি ধর্মমনস্কতা।সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নাকি মুসলিম বিশ্বের সমস্যার সুরাহা করা সম্ভব।কিন্তু সমাজ সচেতন ব্যক্তি মাত্রেই একথা জানেন যে, মুসলিম বিশ্বের কোন দেশেই ইসলামী জীবন বিধান যথার্থভাবে প্রতিষ্ঠিত নেই।বরং বর্তমান বস্তুবাদী বিশ্ব-সভ্যতার প্রভাবে সেক্যুলারিজমই এখন মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে প্রবলভাবে বিরাজমান।এ কারণেই মুসলিম দেশগুলো বর্তমান সময়ে নানা সমস্যায় ক্ষত-বিক্ষত।
প্রকৃত অর্থে বর্তমান বিশ্বে তো সেক্যুলারিজমই প্রতিষ্ঠিত আছে।কিন্তু বিশ্বশান্তি কোথায়? জাতিসংঘসহ বিশ্বের শক্তিমান দেশগুলোর রাষ্ট্রনায়করা তো এই সেক্যুলার বিশ্বে প্রতিনিয়ত শান্তির ললিত বাণী উচ্চারণ করে যাচ্ছেন, গণতান্ত্রিক সমাজের গুণগান গেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তারপরেও বিশ্বে এত সংঘাত-সংঘর্ষ, এত অনাস্থা ও অশান্তির বাতাবরণ কেন?বাস্তব এই অবস্থাদৃষ্টেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাজ্ঞ মানুষরা এখন বলছেন, ক্রমেই পৃথিবী মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।
প্রাচ্য-পাশ্চাত্য নির্বিশেষে ইতিহাস সচেতন প্রাজ্ঞজনরা এখন সেক্যুলার সমাজের প্রতি অনীহা প্রকাশ করছেন।তারা আবার বলতে শুরু করেছেন, স্রষ্টার বিধান মানার কারণেই প্রকৃতি-জগৎ যেমন এখনো মানব-বান্ধব, তেমনি স্রষ্টার বিধান মেনেই এই পৃথিবীর মানুষ গঠন করতে পরে মানুষের বসবাস উপযোগী মানব-বান্ধব সমাজ। বিশেষত নাইন-ইলেভেনের পরে এ দৃশ্যটি আরো স্পষ্ট হয়েছে। সেক্যুলার সভ্যতায় যুক্তরাষ্ট্রের মত বিশাল দেশের রাষ্ট্রপ্রধানও যে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক আচরণের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি বিনষ্ট করতে পারে তা এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বুদ্ধিজীবী এবং গবেষকরা স্পষ্টভাবেই বলছেন। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই নির্মিত হয়েছে তথ্যভিত্তিক অনেক প্রামাণ্যচিত্র। নাইন-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রমূলক অমানবিক কর্মকান্ডে সেক্যুলারিজমের শীর্ষ কেন্দ্রের যে কুৎসিত চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়েছে তাতে মানুষের আগ্রহ এখন আত্মার আহবানের দিকে। তাইতো খোদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে। ব্রিটেনসহ পাশ্চাত্যের অন্যান্য দেশেও স্রষ্টাপ্রেরিত জীবন বিধানের প্রতি মানুষের আগ্রহ লক্ষণীয়।
সম্প্রতি আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দিন বদলের কথা শুনেছি।দিন বদলের সেই রূপরেখা কেমন হতে পারে তা আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামার কায়রো-ভাষণে লক্ষ্য করেছি।কায়রো-ভাষণে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, মানব সভ্যতা ইসলামের কাছে অনেকাংশে ঋণী। ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।পবিত্র কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ইসলাম যে শান্তির কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র সে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।'
আমাদের দেশেও দিন বদলের কথা শোনা যাচ্ছে।তবে বারাক ওবামার কায়রো-ভাষণে দিন বদলের যে চেতনা লক্ষ্য করা গেছে, আমাদের দেশে দিন বদলের বক্তব্যে তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।সেক্যুলারিজমের ব্যর্থতার পটভূমিতে পাশ্চাত্যের জ্ঞানবান মানুষ যখন ঐশীবিধানে মুক্তির পথ খুঁজছে, তখন আমাদের দেশের দিন-বদলের চ্যাম্পিয়নরা সেক্যুলারিজমের গোলক ধাঁধায় বিভ্রান্তির পথে হাঁটছে।
শুধু সরকারের মন্ত্রী বাহাদুর এবং আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবীরাই যে এ পথের পথিক তা নয়, ক্ষমতার আস্ফালনে সরকারি দলের প্রান্তিক পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও সেক্যুলারিজমের মাদকতায় এখন ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছে।গত কিছুদিন পুবে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে পিরোজপুরে। পিরোজপুরের পর্দানশীন তিন মহিলাকে অমূলক অভিযোগে শুধু গ্রেফতারই করা হয়নি, তাদের বোরকা কেড়ে কোর্টে চালান করা হয়।বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম প্রধান দেশে বোরকা কেড়ে নেয়ার ঘটনায় হতবাক হয়েছে মানুষ। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাউন্টিং অনার্স প্রথমবর্ষের ছাত্রী পিরোজপুর শহরের বাসিন্দা ফৌজিয়া আক্তার ও শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তানিয়া আক্তার গত শুক্রবার সকালে বাসযোগে জিয়ানগর উপজেলার বালিপাড়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে নামেন। পূর্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা বালিপাড়ার চরবলেশ্বর গ্রামের বান্ধবী জেসমিন নাহারের বাড়িতে যাচ্ছিলেন।বান্ধবী জেসমিন নাহার স্থানীয় মোসলেম আলীর কন্যা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।তারা বাসস্ট্যান্ডে নামার পর এগিয়ে নিতে আসা জেসমিন তাদের সাথে যোগ দেন।তারা সবাই বোরকা পরিহিত ছিলেন। এ সময় বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা প্রায় জনশূন্য থাকায় এলাকার চিহ্নিত যুবক মনির শেখ ও অপর দুই-তিনজন যুবক এগিয়ে এসে মেয়েদের উত্যক্ত করার শুরুতেই জানতে চায়, ‘আপনারা যাবেন কোথায়'? জেসমিনদের বাড়ি বেড়াতে যাবার কথা বলার পর বখাটেরা তাদের বলে, আপনারা আমাদের বাড়ি চলুন, এরই সাথে সাথে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় তাদের গালমন্দ করতে থাকে।মনির ও অপর একটি ছেলে মেয়েদের হাতে থাকা একটি মোবাইল ও ডায়েরী ছিনিয়ে নেয়।স্কুল শিক্ষিকা তানিয়া তার পরিচয় তুলে ধরলে যুবকরা তাদের প্রতি আরও ক্ষিপ্ত হয়।এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা মাওলানা রফিকুল ইসলামের কাছে মোবাইল ও ডায়েরী ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা মেয়েরা বর্ণনা করলে তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন। এরপর যুবকরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তোদের দেখে নিচ্ছি বলে মেয়েদের হুমকি দেয়।এসময় মেয়েরা যুবকদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য স্থানীয় বালিপাড়া মাদরাসায় কর্মরত কাঠমিস্ত্রিদের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয়।এসময় মোবাইল ও ডায়েরী ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ‘জেএমবি আটক করেছি' বলে যুবকরা চিৎকার করতে থাকে।তারা বিষয়টি মোবাইলযোগে জিয়ানগর থানা পুলিশের কাছে জানালে পুলিশ গিয়ে মেয়েদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে জেএমবি সন্দেহে তাদের কোর্টে প্রেরণ করা হয়।কোর্ট তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন।এ ব্যাপারে জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল রাজ্জাক এক প্রশ্নের জবাবে নয়াদিগন্তকে বলেন, তাদের কাছে কিছু বইপত্র ছাড়া অবৈধ কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রী সংস্থা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়।রাজনীতি সবাই করতে পারে। তবে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।উল্লেখ্য, বখাটে মনির শেখ বালিপাড়া গ্রামের আবদুল গনি শেখের পুত্র। তিনি এক সময় ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন।একটি নারী সংক্রান্ত অভিযোগে এলাকার মানুষ মনিরকে জুতাপেটা করেছিলেন যা পরদিন দৈনিক নয়াদিগন্তে প্রকাশিত হয়েছিল।
আলোচ্য ঘটনায় বেশ কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। লাদেশের সমাজজীবনে মেয়েদের পর্দা বা হিজাব একটি প্রশংসনীয় ও ইতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন কিছু মানুষ হিজাবের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়ে উঠেছে।নব্য এই সেক্যুলাররা যে সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তা পুলিশের আচরণে উপলব্ধি করা যায়।পুলিশের যেখানে বখাটেদের আটক করে নারীদের নিরাপত্তা দেয়ার কথা, সেখানে লক্ষ্য করা গেছে উল্টোচিত্র।পুলিশ নারীদের বোরকা কেড়ে নিয়ে গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে চালান করে দেয়।এমন আচরণের মাধ্যমে পুলিশ একথাই প্রমাণ করলো যে, শিষ্টের দমন ও দুষ্টের পালনই এখন তাদের নীতি।
আলোচ্য ঘটনায় ধর্মপ্রাণ নারীদের মানবাধিকার লংঘিত হয়েছে।কিন্তু এ ব্যাপারে তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কোনো উচ্চারণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আসলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখন বহু মানবাধিকার সংগঠনের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাদের কাজই হলো সুযোগ পেলেই ধর্মকে হেয় করে সেক্যুলারিজমের জয়গান গাওয়া।এদের কাছ থেকে সঙ্গত তৎপরতা আশা করা যায় না। বরং বর্তমান সরকারের আমলে তারা তৎপর রয়েছে সাংবিধানিকভাবে সেক্যুলারিজমকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে।সরকারের মন্ত্রী বাহাদুরদের বক্তব্যও তাদের তৎপরতার অনুকূলে। অথচ নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ কোনো কোনো মন্ত্রীকে আমরা হিজাব ধারণ করতে দেখেছি। মাত্র কিছুদিন আগে ওমরা পালনের পরও তেমন দৃশ্য লক্ষ্য করেছি।প্রধানমন্ত্রী ও কোনো কোনো মন্ত্রীর এমন আচরণ থেকে একথা উপলব্ধি করা যায় যে, তারা দেশের জনগণের ধর্মভাবনাকে সম্মান করে থাকেন। এটা যদি প্রকৃত অবস্থা হয়ে থাকে তাহলে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা কিংবা পুলিশ প্রশাসন পর্দা কিংবা বোরকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় কেমন করে? এ ব্যাপারে কি সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পলিসি আছে? যার ইঙ্গিত পাওয়া যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ও ইহুদী লেখক কার্ল সিওভক্ক লিখিত `Stemming the Rise of Islamic Extremism in Bangladesh' নিবন্ধে।এবারের সংসদ নির্বাচনের আগে লেখা ঐ প্রবন্ধে নানা আজগুবী তথ্যের সাথে একথাও বলা হয়েছে যে, বিগত জোট সরকারের ৫ বছরে দেশে বোরকা পরিহিতের হার ৫০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইসলামীকরণ ঠেকিয়ে সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠায় একমাত্র আওয়ামী লীগই বিশ্বস্ত দল।
সজিব ওয়াজেদের বক্তব্য অনুযায়ী ক্ষমতালাভের পর আওয়ামী লীগ সরকার কি এখন ইসলাম ঠেকিয়ে সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠায় তৎপর হয়ে উঠেছে? পিরোজপুরের জিয়ানগরে পর্দানশীন নারীদের হেনস্থা করার ঘটনা কি তারই উদাহরণ? এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ সরকারের কাছে এর জবাব চায়।
ন্যায়বিচার মানবজীবনের সর্বস্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ন্যায়বিচার ছাড়া জীবনের কোনো অবস্থাতেই শান্তি-শৃঙ্খলা, জানমাল ও মানসম্মানের নিরাপত্তা রক্ষিত হতে পারে না। তাই সমাজকে শান্তিপূর্ণ ও আবাসযোগ্য করার নিমিত্তে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন প্রয়োগ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি সমাজকে শান্তিপূর্ণ ও সুখী সমৃদ্ধিশালী সমাজে পরিণত করা সম্ভব।
ন্যায়বিচার কীঃ ন্যায়বিচার শব্দটির আরবি প্রতিশব্দ আদল। যার বাংলা অর্থ¬ সোজা করা, সমতা রক্ষা করা, কম-বেশি না করা, ইনসাফ করা, ভারসাম্য রক্ষা করা ইত্যাদি। ইংরেজিতে এর অর্থ করা হয়েছে¬ Right, Judgement, Similarity, Resemblance, Faint appearance, Justice ইত্যাদি। এর থেকে প্রতীয়মান হয়, মানুষের জীবনের সব ক্ষেত্রে শরিয়তের মানদণ্ডে বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক সমতা রক্ষা করা বা কম-বেশি না করাকে আদল বা ন্যায়বিচার বলে। ন্যায়বিচার বা আদলের ক্ষেত্র ব্যাপক। মানুষের সামগ্রিক জীবনে আদলের ব্যাপারটি পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে।
ন্যায়বিচার বা আদলের গুরুত্বঃ আদল বা ন্যায়বিচারের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একটি অন্যতম সিফাত বা গুণের নাম হচ্ছে আদিল বা ন্যায়বিচারক। গোটা সৃষ্টি জগতকে তিনি আদল বা ন্যায়বিচারের সাথে পরিচালনা করেন। তাঁর আদেশ-নিষেধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোথাও বিন্দুমাত্র অন্যায় বা অবিচার নেই। সর্বত্রই পরিপূর্ণ আইনের বিধান ও নিয়মশৃঙ্খলা নির্দেশ বলবৎ রয়েছে।
আইন কী? আইনের প্রতিশব্দ হলো¬ Law, Regulation, Statue, Rule ইত্যাদি। আইন শব্দটি দুটো ধারণার সমন্বয়। যথা¬ ১. আদেশ ২. শক্তি।
Austin-এর মতে, 'Law is the command of the soverign’ তথা, আইন হলো সার্বভৌম সত্তার আদেশ।
According to Salmond-এর মতে, 'Law as the body of prinheiples recogninzed and applied by the state in the administration of justice.’ তথা, আইন হলো নীতির সমষ্টি যা রাষ্ট্র কতৃêক বিচারব্যবস্থায় স্বীকৃত এবং প্রয়োগ করা হয়।
তাই ইসলামী আইন হলো সার্বভৌম সত্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আদেশ, যা প্রয়োগে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সর্বক্ষেত্রে সবার চাহিদা ও সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম। রাষ্ট্র কতৃêক স্বীকৃত হোক বা না হোক।
মূলত আইন এমন একটি অপরিহার্য বিষয়, যার দ্বারা মানবসমাজকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমেই সমাজের ভারসাম্য রক্ষা হয় এবং জুলুম-অত্যাচারের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয় ও সবার অধিকার সংরক্ষিত হয়। মানুষকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে রাখা তথা কল্যাণ লাভ ও ক্ষতির হাত থেকে রেহাই দেয়া আইনের মূল উদ্দেশ্য। আইন সমাজের, মানুষের মুক্তি, সাফল্য ও কল্যাণের হাতিয়ার বিশেষ। নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘ্নে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা প্রদান করাই আইনের কাজ।
ইসলামী আইনের উৎসঃ ন্যায় ও সৎবৃত্তির প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায় ও অসৎবৃত্তির মূলোৎপাটনে ইসলামী আইনে বাস্তবনির্ভর দিকনির্দেশনা রয়েছে। মানবরচিত আইনের মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ কামনা করা নিতান্তই হাস্যকর। সৃষ্টিকুলের সামগ্রিক কার্যক্রম, গতি-প্রকৃতি, অত্যন্ত সুচারুরূপে ও কার্যকরণে ইসলামী আইনের কোনো বিকল্প নেই। আর ইসলামী আইনের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে।
ইসলামী আইনের উৎস চারটি। যথা¬
ক) আল কুরআন তথা ঐশীবাণী।
খ) মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ-এর সুন্নত তথা আল-হাদিস।
গ) ইজমা ও
ঘ) কিয়াস।
আইনের উৎস সম্পর্কে Certen Coolidye বলেন, Assigning to the law a divine source and authority and identity it with right reason is but a confession of inability to define or explain it. It is but saying that law is so far the product of our highest reason that no human origin can be assigned to it and therefore that its source and authority must be devine.
ন্যায়বিচার ও ইসলামী আইনঃ ন্যায়বিচার ও ইসলামী আইন দু’টি বিষয় বাহ্যিক দৃষ্টিতে ভিন্ন মনে হলেও মৌলিকভাবে এটি এক ও অভিন্ন এবং একটি আরেকটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইসলামী আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত বিষয় হচ্ছে ন্যায়বিচার। ন্যায়বিচার ছাড়া যেমন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তেমনি ইসলামী আইন ছাড়া ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা দুরূহ। তাই সমাজ, রাষ্ট্র সর্বস্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা এবং অগ্রগতি খুঁজে পেতে হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী আইন অনিবার্য।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাঃ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হলো ইসলামী সমাজ বা রাষ্ট্র কায়েম না থাকা। তথা সমাজব্যবস্থায় ইসলামের বিধি-বিধানের অনুপস্থিতি, ইসলাম বা ইসলামী জ্ঞানে সমৃদ্ধ, নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের দ্বারা সমাজ পরিচালিত না হওয়া। ন্যায়বিচার না থাকার কারণে সত্যিকারের শাস্তির ব্যবস্থা না থাকা, মানুষের মনে আল্লাহভীতি বা দীনি অনুভূতির অভাব, তা ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও কায়েমী শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে দুনিয়ার মোহ আচ্ছন্নে ডুবে থাকা। তা ছাড়া মানুষের মধ্যে বড় একটি অংশের ধর্মীয় অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও দীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের বিধান জারির বিষয়ে গণসচেতনতার অনুপস্থিতিই অন্যতম।
মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বাণীঃ ‘এরা এমন সব লোক, যাদের আমি যদি পৃথিবীতে কতৃêত্ব দান করি, তাহলে এরা নামাজ কায়েম করবে, জাকাত আদায় করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং খারাপ কাজ করতে নিষেধ করবে। আর সব বিষয়ের পরিণাম আল্লাহর হাতে।’ (সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত-৪১)
‘তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক অবশ্যই থাকতে হবে, যারা নেকী ও সৎকর্মের দিকে আহ্বান জানাবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে। যারা এ দায়িত্ব পালন করবে তারাই সফলকাম হবে।’ (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১০৪)
‘হে ঈমানদারগণ! ইনসাফের পতাকাবাহী ও আল্লাহর সাক্ষী হয়ে যাও, তোমাদের ইনসাফ ও সাক্ষ্য তোমাদের নিজেদের ব্যক্তিসত্তার অথবা তোমাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনদের বিরুদ্ধে গেলেও। উভয়পক্ষ ধনী বা অভাবী যাই হোক না কেন, আল্লাহ তাদের চেয়ে অনেক বেশি কল্যাণকামী। কাজেই নিজেদের কামনার বশবর্তী হয়ে ইনসাফ থেকে বিরত থেক না। আর যদি তোমরা পেঁচানো কথা বল অথবা সত্যতাকে পাশ কাটিয়ে চলো, তাহলে জেনে রাখো, তোমরা যা কিছু করছো আল্লাহ তার খবর রাখেন।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত-১৩৫)
‘হে ঈমানদারগণ! সত্যের ওপর স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত ও ইনসাফের সাক্ষ্যদাতা হয়ে যাও। কোনো দলের শত্রুতা তোমাদের যেন এমন উত্তেজিত না করে দেয়, যার ফলে তোমরা ইনসাফ থেকে সরে যাও। ইনসাফ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠিত করো।’ (সূরা আল-মায়েদা, আয়াত-০৮)
রাসূলে করিম সাঃ-এর বাণীঃ রাসূলে করিম সাঃ-এর গোটা জীবনই ছিল আদল ও ইনসাফের প্রতিচ্ছবি। আদল ও ইনসাফের বাইরে কখনো তিনি কোনো কাজ করেননি, করতে নির্দেশও দেননি। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রেই তিনি আদল বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। আদল বা ন্যায়-নীতির গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূলে করিম সাঃ এরশাদ করেন, ‘তোমার ওপর তোমার চোখের অধিকার আছে, আছে দেহের অধিকার, এমনকি তোমার স্ত্রীরও অধিকার।’
রাসূলে করিম সাঃ আরো বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে কলহে লিপ্ত হত্যাকারী এবং নিহত উভয়ই জাহান্নামী।’ ( বোখারি)
এমনিভাবে রাসূলে করিম সাঃ অসংখ্য হাদিসের মাধ্যমে আদল বা ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছেন।
ইসলামী আইনের প্রায়োগিক সাফল্যঃ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলামী আইনের প্রায়োগিক সাফল্য অপরিসীম ও বর্ণনাতীত। এতে মানুষের সামগ্রিক জীবনেই রয়েছে সুদূরপ্রসারী সফলতা। যেমন¬
ক) ব্যক্তিগত জীবনঃ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে আদলের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক। ব্যক্তিগত জীবনে যদি কোনো ব্যক্তি তার যাবতীয় কাজ-কর্মে ভারসাম্য রক্ষা না করে তবে তার জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। পক্ষান্তরে ভারসাম্য রক্ষা করে চললে তার জীবন হয় উন্নত, সাফল্যমণ্ডিত এবং সে হয় সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। তাই তো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘হে মুসলিমগণ! আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় আমানত তার হকদারদের হাতে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। আর লোকদের মধ্যে ফয়সালা করার সময় আদল ও ন্যায়নীতি সহকারে ফয়সালা করো।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত-৫৮)
খ) পারিবারিক জীবনঃ পারিবারিক জীবনে আদলের ভূমিকাও অনেক বেশি। মহান আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পুরুষ এবং নারীরূপে। এবং উভয়কে মর্যাদা ও অধিকার প্রদান করে আদল বা ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। তাই পারিবারিক জীবনে স্বামী এবং স্ত্রী আল্লাহর বিধান তথা আদলের ভিত্তিতে চললে তাদের জীবন হয় সুখী ও সমৃদ্ধময়। পবিত্র কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে¬
‘আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের ওপর অধিকার রয়েছে তেমনিভাবে স্ত্রীদেরও নিয়মানুযায়ী অধিকার রয়েছে পুরুষদের ওপর। আর নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। (সূরা বাকারা, আয়াত-২২৮)
তিনি আরো বলেন, ‘তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছেদ এবং তোমরাও তাদের জন্য পরিচ্ছেদস্বরূপ।’ (সূরা বাকারা, আয়াত-২২৮)
অসংখ্য আয়াত ও হাদিসে স্ত্রীদের পক্ষ থেকে স্বামীর অধিকার, স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর অধিকার সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যা পালন করলে মানুষের পারিবারিক জীবন হয়ে উঠবে সফল ও শান্তিময় এমনকি অশান্তির লেশমাত্র সেখানে থাকবে না।
গ) সামাজিক জীবনঃ সামাজিক জীবনে মানুষের সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে ইসলামী আইন শাস্ত্রে অন্যায়-অনাচার প্রতিরোধে যে বিধি-বিধান রয়েছে সত্যিকারভাবে এই বিধান প্রয়োগ হলে সমাজে কোনো অশান্তি ও অরাজকতা থাকতেই পারে না।
ইসলামী বিধানে সামাজিক জীবনে মদ, জুয়া, সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, ফ্যাসাদ ইত্যাদি অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার যত পন্থা আছে সব কিছুর ব্যাপারে স্পষ্ট হয়েছে, যা প্রয়োগ করতে পারলে যেকোনো সমাজ একটি সফল ও আদর্শ সমাজে পরিগণিত হতে বাধ্য।
ঘ) রাষ্ট্রীয় জীবনঃ 'Islam is the complete code of life' হিসেবে জীবন সমস্যার সব বিষয়ে সমাধান দেবে ইসলাম এটাই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলাম এমন বিধান প্রণয়ন করেছে যা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র সুখী-সমৃদ্ধিশালী ও শৃঙ্খলাময় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে পৃথিবীতে ইসলাম ছাড়া বিকল্প কোনো ধর্ম বা মতবাদ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
রাষ্ট্রে শান্তি-শৃঙ্খলা, উন্নতি, অগ্রগতি, সংহতি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলাম বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যেমন¬ উশর, খারাজ, বায়তুলমাল গঠনসহ নানা ধরনের সুন্দর দৃষ্টান্ত ইসলামী রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থাকে করেছে অত্যন্ত সুসংহত।
ঙ)বিশ্বব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণেঃ ইসলাম শুধু ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের ব্যাপারে সমাধান দেয়নি বরং বিশ্বব্যবস্থার ব্যাপারেও ইসলামের রয়েছে সুমহান নির্দেশনা ও সমাধান।বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর জুলুম করবে, প্রভুত্ব কায়েম করবে, অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে দেবে, আক্রমণ করবে, ইসলাম তা আদৌ সমর্থন করতে পারে না এবং তা পছন্দও করে না বরং হাদিস শরিফে এসেছে¬ ‘গোটা বিশ্বে মুসলিম জাতি একটি দেহের মতো, তাই দেহের কোথাও আক্রান্ত হলে যেমনি গোটা দেহ আক্রান্ত হয় তেমনি পৃথিবীর কোনো প্রান্তে কোনো মুসলমান আক্রান্ত হলে পৃথিবীর সব জায়গায় সব মুসলমান তাতে আক্রান্ত হবে, দুঃখিত হবে, ব্যথিত হবে এবং জালিমের জুলুম প্রতিহত করবে, মজলুমকে সাহায্য করবে।
পরিশিষ্টঃ পরিশেষে একথা সুস্পষ্ট ভাষায় বলা যায় যে, কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে উন্নতি, অগ্রগতি, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী আইনের প্রয়োগের বিকল্প নেই। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত এমন একটি রাষ্ট্রের উদাহরণ মিলবে না যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া বা ইসলামের বিধি-বিধান প্রয়োগ ছাড়া শান্তি-শৃঙ্খলা, সাম্য, উদারতা, উন্নতি ও অগ্রগতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও প্রায়োগিক সফলতার জন্য মহান আল্লাহর নির্দেশের দিকেই আমাদের ফিরে আসতে হবে।
In George Begum's kingdom live millions of George Mias
George Begum & her son built a kingdom from free BD, established the capital in Hawabhaban. To kill the opposition, her son with her people conducted battles; one was on 21st of Aug.
How she used her power, George Mia is a living example; millions of citizen of this country were nothing to them, just George Mias.