স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক : এ টু জেড-৩
জিবলু রহমান
স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আতাউর রহমান খানও বলেনি শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন বা এ ধরনের কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছিল। অবরুদ্ধ নয় মাস (২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৯১, পৃষ্ঠা. ৩২-৩৫) গ্রন্থে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের ভাষ্য হলো-“ দীর্ঘ দশ-বারো দিন মুজিব-ইয়াহিয়ার অবিরাম আলোচনার জের ২৪শে মার্চেও অব্যাহত ছিল। জনগণ জানিতে পারে নাই সেই আলোচনার কোন কিছুই। এতো সঙ্গোপনে আলোচনার বিষয়বস্তু সংরক্ষিত হইল যে, কেহ কিছুই জানিতে পারিল না। শেখ মুজিব বা তাহার পক্ষের কেহ কোন কিছুই বলে নাই। আলোচনা ব্যর্থ হইয়া থাকিলে জনগণের তাহা জানার অধিকার ছিল। ভবিষ্যতে কি কর্মপন্থা অবলম্বন করা হইবে তাহার নির্দেশ দেওয়া উচিত ছিল। ২৫ তারিখ সারাদিন হাতে ছিল। দেশবাসীকে পরিষ্কার বুঝাইয়া বলা উচিত ছিল তাহাদের কর্তব্য কি? দেশবাসী প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন হয়তো করিতে পারিত। কিন্তু শেখ মুজিব তাহা করেন নাই। জনগণকে এমন এক অতর্কিত প্রচন্ড আক্রমণের মুখে ফেলিয়া দিলেন। কেন দিলেন তাহার কারণ আজও রহস্যাবৃত রহিয়া গেল। এই বর্বর আক্রমণের নির্দেশ দিয়া ইয়াহিয়া খাঁন সন্ধ্যার আগেই ঢাকা ছাড়িয়া চলিয়া যায়। ভুট্টো তার পরদিন সেনাবাহিনীর সাহায্যে করাচী চলিয়া যায়। কাইয়ুম খাঁ, ওয়ালী খা ইহারা আগেই চলিয়া গিয়াছলেন। ইহারাও পৃথকভাবে শেখ মুজিবের সাথে আলোচনা করেন কিন্তু তাহার ফলাফলও কেহ জানিতে পারে নাই। শেখ মুজিব নিশ্চয়ই স্বাধীনতার কথা বলেন নাই; অন্তত আলোচনার সময় তো নয়ই। তিনি বলিয়াছেন, ছয়-দফার ভিত্তিতে দেশের শাসনতন্ত্র রচনার কথা। এই তো অপরাধ? ইয়াহিয়ার পক্ষ হইতেও কোন ঘোষণা করা হয় নাই যে, আলোচনা ব্যর্থ হইয়াছে এবং কি কারণে। শেখ মুজিবের ঘাড়ে সব দোষ চাপাইয়া দিয়াও তো আলোচনার ব্যর্থতার কথা বলা যাইতে পারিত। পঁচিশ তারিখে নির্ধারিত অধিবেশনের তারিখ পিছাইয়া দিয়াও তা শেষ চেষ্টা করিয়া দেখা যাইত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল কিনা। এইসব না করিয়া ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করিয়া দিয়া চবিবশ ঘণ্টা পর ছাবিবশ তারিখে রাতে ইয়াহিয়া রেডিও মারফত বক্তব্যে তাহার কৈফিয়ত দিল। জাহাজে বসিয়া বক্তৃতা শুনিলাম : শেখ মুজিব দেশের শত্রু-দেশকে ধ্বংস করিতে উদ্যত হইয়াছিল।
পাকিস্তানের পতাকা ও জাতির জনকের ছবি পোড়াইয়া ফেলিয়াছে। স্বাধীন বাংলার পতাকা আকাশে উড়াইয়াছে। ইয়াহিয়া এই সঙ্গে বলিল ঃ শেখ মুজিব দুই দেশের দুই অংশের জন্য দুইটি কমিটি গঠন করিয়া দুইটি শাসনতন্ত্র রচনা করিতে চাহিয়াছিলেন, আমি নীতিগতভাবে মানিয়াছিলাম। তবে শর্ত ছিল যে, অন্য অংশের নেতৃবৃন্দও তাহাতে কোন আপত্তি করিবে না। কিন্তু তাহারা আপত্তি করে তাই উহা করা সম্ভব হয় নাই। কি জঘন্য কৈফিয়ত ও যুক্তি! তাহা হইলে দোষটা কার? তুমি নীতিগতভাবে মানিয়া নিলে অন্যের আপত্তি শোন কেন? কার আপত্তি? তাহারা তো সংখ্যালঘু। তাহাদের আপত্তি উড়াইয়া দেওয়া তোমার কর্তব্য ছিল না? অন্তত সংখ্যাগুরু দলের দাবী নীতিগতভাবে মানিয়া নিবার পর তাহাদের বিরুদ্ধে বর্বর আক্রমণ করার কোন অধিকার কাহারও থাকিতে পারে না। এমনকি সেই দাবী নীতিগতভাবে উপেক্ষা করিলেও এহেন অপকর্ম করার দৃষ্টান্ত কোন দেশের ইতিহাসে নাই... ভোরে জাহাজ ছাড়িয়া নারায়ণগঞ্জের নিকট নিতাইগঞ্জে ভিড়িল। সেখান হইতে ঢাকায় টেলিফোন করার চেষ্টা করিলাম। জাহাজ হইতে নামিবার আগেই কয়েকজন লোক বলিল : ঢাকা যাবেন না। সেখানে দুই আড়াই লাখ লোক মেরে ফেলেছে।
শেখ মুজিবের বাড়িসহ ধানমন্ডি এলাকায় চৌদ্দটি বাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে। তাহা হইলে আমার বাড়িও নিশ্চয়ই বাদ যায় নাই। পরিবারবর্গের কি অবস্থা দাঁড়াইল আল্লাহই জানেন। টেলিফোন করা গেল না। পঁচিশের রাতেই সব লাইন কাটিয়া দিয়াছে। নারায়ণগঞ্জে হরতাল। গাড়ি-ঘোড়া চলে না। ঢাকা যাওয়ার পথ বন্ধ। যাত্রীদের অনেকেই পদব্রজে রওয়ানা হইল। স্থানীয় এক ব্যক্তি পরামর্শ দিল, হাঁটিয়া ফতুল্লা গিয়া নৌকাযোগে ঢাকা যাওয়ার জন্য। উহাই সাব্যস্ত করিলাম। স্টীমার কোম্পানীর সামসুদ্দিনও সঙ্গি হইল। সারারাত রাস্তায় ইটের ব্যারিকেড।
চলার পথে কয়েকজন ছেলের সাক্ষাৎ পাইলাম। শেষ পর্যন্ত দল ভারী হইতে হইতে শ'খানেক হইল।উহারা বলিতে লাগিল : মুজিব ভাই'র খবর নাই। আপনি এখানেই থেকে যান। আমাদের প্রস্তুতি আছে। রাইফেল আছে অনেকগুলো। একটা কামানের জোগাড়ও হয়েছে। ঢাকা যাওয়া আপনার পক্ষে নিরাপদ হবে না। আপনি কিছুতেই ধরা দেবেন না। তাহলে সব ব্যর্থ হয়ে যাবে। কিন্তু আমার মন ঢাকা যাওয়ার জন্য উতলা। পরিবারের লোকজনের হাল-হকিকত না জানা পর্যন্ত স্বস্তি নাই।
কাশীপুর ঘাটে জেলেদের নৌকা ঠিক করা হয়। পুরাতন কর্মী দায়েমউদ্দিন আর স্থানীয় চেয়ারম্যান সাথী হইল। চারটার আগেই ঢাকা পৌঁছাতে হইবে। তারপর কারফিউ। বেলা বারোটায় রেডিওতে খবর দিল পঁচিশ ও ছাবিবশ তারিখের মধ্যবর্তী রাত্রে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হইয়াছে। নৌকায় বসিয়া খবর শুনিলাম... একদিন বহু চেষ্টার পর ধরা পড়িল, মেজর জিয়াউদ্দিন না জিয়াউর রহমান নামে এক ব্যক্তি স্বাধীন বাংলা সরকার প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করিয়া তাহার সর্বাধিনায়ক হইয়াছেন। তাহার পক্ষ হইতে জনৈক ক্যাপ্টেন সংবাদ ঘোষণা করেন বিশ্বের সকল দেশের প্রতি এই সরকারকে স্বীকৃতি দিবার জন্য আকুল আবেদন জানাইয়াছেন...।“
’স্বাধীনতা সংগ্রামের নেপথ্য কাহিনী' গ্রন্থে’বদরুদ্দিন আহমদ (অক্টোবর ১৯৮৮, পৃষ্ঠা. ৭৭ ও ৮০-৮১) লিখেছেন,“ ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক সমাবেশ ঘটলো রেসকোর্স ময়দানে। মানুষের ঢল নেমেছিল সেদিন ঐ উদ্যানে। বাংলার মানুষ শুনতে চায় বঙ্গবন্ধু কি বলেন, কি তার নির্দেশ। অনেকেই এইদিন মনে করেছে যে, রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন। ইতিপূর্বে মাওলানা ভাসানী ও আতাউর রহমান খান প্রমুখ নেতা শেখ মুজিবকে স্বাধীনতা ঘোষণা করার আহবান জানিয়েছিলেন। বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআর-এর বাঙালী কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে শেখ মুজিবকে ঐদিন স্বাধীনতা ঘোষণা করার অনুরোধ জানান। তারা তাদের স্ট্রাটেজী ঠিক করে ফেলেছিলেন। গোলন্দাজ বাহিনী বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে মাত্র হাজার পাঁচেক পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্য ছিল। শেখ মুজিবকে একথাও জানানো হয় যে, তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করবে। ২রা মার্চ থেকে দু'তিনটি ফ্লাইটে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য আসছে। এরপর বাঙালি সৈন্যদের তারা পশ্চিম পাকিস্তানে বদলি করার আদেশ দেবে। তখন কিছুই করার থাকবে না। ঐদিন বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের বাঙালি সৈন্যরা শেখ মুজিবের নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সেদিন শেখ মুজিব চাননি- পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাক।
তিনি ছাত্র নেতাদের পীড়াপীড়িতে রেসকোর্স ময়দানে ভাষণে বললেন, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। কিন্তু তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন না। বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের বাঙালি সৈনিক ঐদিন বাংলাদেশের নতুন পতাকা উড্ডীন করার দৃপ্ত শপথ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাশ হতে হলো তাদের। শেখ মুজিব সেদিনও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের মীমাংসা চেয়েছিলেন। নইলে তিনি অবস্থার প্রেক্ষিতে রেডিও মারফত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারতেন। রেডিও স্টেশনসমূহ পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনযন্ত্র তখন শেখ মুজিবের নিয়ন্ত্রণে।গণপরিষদ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে আওয়ামী লীগের অনেক সুবিধা ছিল।স্বাধীনতা ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহাতীতভাবে স্বীকৃতিও পেয়ে যেতো বহু রাষ্ট্রের। ভারত সরকারে সক্রিয় সাহায্য ছাড়াই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনে সমর্থ হতো।
২৫ মার্চ রাত ১২টায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে ট্যাংক চালানো হলো বহরের দিকে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস তছনছ করা হলো। কয়েকজন অধ্যাপকসহ বহু ছাত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টারে তোপ দেগে উড়িয়ে দেয়া হলো। পিলখানার ইপিআরদের অবরোধ করা হলো। ঢাকা শহরসহ বাংলাদেশের বহু শহর-বন্দরের বেসামরিক অবস্থান তোপ দেগে ধ্বংস করা হলো। ক্র্যাকডাউন হবে শেখ মুজিবুর অনেক আগেই এ খবর জানতে পেরেছিলেন। তাই তিনি ২৫ মার্চ বেলা ৪টার পর থেকে জাতীয় পরিষদ সদস্যদের ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি নিজে পালিয়ে যেতে রাজি হলেন না। তাকে বহু অনুরোধ-উপরোধ করা সত্ত্বেও তিনি ধানমন্ডির বাসভবন থেকে কিছুতেই চলে যেতে রাজি হলেন না। রাত ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুরকে তাদের সঙ্গে পালিয়ে যেতে পীড়াপীড়ি করলে তিনি বললেন, আমার বাড়ি কমান্ডোরা ঘেরাও করে ফেলেছে, আমার যাওয়ার উপায় নাই।তোমরা চলে যাও। এরপরও যখন তারা তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য জিদ ধরেন, তখন তিনি বলেন যে,আমাকে না পেলে পাক হানাদার বাহিনী সমস্ত ঢাকা শহর ধ্বংস করে দেবে। পরিশেষে শেখ মুজিবকে রেখেই তাদের চলে যেতে হয়েছিল। প্রাদেশিক পরিষদ এবং গণপরিষদের সদস্য যে যেদিকে পারছেন ছুটছেন প্রাণের ভয়ে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা ঢাকা শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্ররা এমন ভয়ঙ্কর রূপের কথা কল্পনা করেনি কোনদিন।ছাত্রাবাসগুলোর উপর নগ্ন হামলায় মানুষ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল সেদিন। তারাও শহর ছেড়ে পালিয়ে গেল প্রতিরোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। রাত সাড়ে ১২টায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে প্রথমে ক্যান্টনমেন্টে পরে পিন্ডি নিয়ে যায় হানাদার বাহিনী। শেখ মুজিব ধৃত হয়েছেন হানাদার বাহিনী কর্তৃক। এ কথা প্রচার হলে যে মানুষের মনোবল ভেঙ্গে যাবে। উত্তাল তরঙ্গমালার মধ্যে চালকহীন নৌকার যে অবস্থা, নেতা বিহনে সারা বাংলার মানুষের তখন সেই অবস্থা। কে দেবে সিদ্ধান্ত, কে শোনাবে আশার বাণী। গোটা দেশটাকে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের দিকে ঠেলে দিয়ে তিনিতো ধরা দিতে পারেন না। সেনাপতি যদি ধরা পড়েন, তাহলে গোটা যুদ্ধই যে শেষ। ঢাকা নগরী তছনছ করে দিয়ে শান্ত হলো না পাকিস্তানী সৈন্যরা। দ্রুত তারা ছড়িয়ে পড়লো দেশের অভ্যন্তরে। অত্যাচারের স্টীম রোলার চললো নিরীহ খোদাভীরু মানুষের উপর। যেন রোজ কেয়ামতের আলামত। অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, বাঙ্গালীরা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না কোনদিন। তাদের মেরুদন্ড চিরদিনের মত ভেঙ্গে দেবে পাকিস্তানী প্রশাসন। নৃশংসতার চরমে চলে গেছে পাঞ্জাবী সৈন্যরা। পিতামাতার সামনে আদরিণী কন্যাকে ধর্ষণ করেছে। আর্তচিৎকারে ফেটে পড়েছে অসহায় পিতামাতা- এই দৃশ্য দেখার জন্য কি খোদা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছো। জনাব তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, মনসুর আলী প্রমুখ নেতা উদ্ভ্রান্তের মত ছুটলেন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে। পাক-বাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের দৃষ্টি এড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরে আত্মগোপন করে সংগ্রাম পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না তাদের পক্ষে। পাক বাহিনীকে প্রতিরোধ করার কোন পূর্বপরিকল্পনা নেই, স্বাধীনতা সংগ্রামের নেই কোন প্রস্তুতি”|
বদরুদ্দিন আহমদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা শোনার জন্য যখন সবাই ব্যাকুল তখন শেখ মুজিব আপোষের আলোচনা নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। তার মাথায় স্বাধীনতা ঘোষণা করার কোন চিন্তাই ছিল না। আপোষ! কোন আপোষ! শেখ মুজিব চেয়েছেন ভাগাভাগী করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে।
ভাসানী (জানুয়ারি ১৯৮৬,পৃষ্ঠা. ৩৪৬) গ্রন্থে সৈয়দ আবুল মকসুদ উল্লেখ করেছেন,”যাই হোক, এরপর আসে ২৫শে মার্চের কালো রাত। নিরস্ত্র বাঙালীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বর্বর পাকবাহিনী। রেডিও পাকিস্তান থেকে ঘোষণা করা হয় শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৬শে মার্চ বাংলার কতিপয় দামাল ছেলে প্রতিষ্ঠা করেন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। সেখান থেকে ২৭ মার্চ শোনা যায় মেজর জিয়াউর রহমানের দীপ্ত কণ্ঠস্বর...পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের কথা ঘোষণা করলেও বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র জানান যে, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেই রয়েছেন”|
এমাজউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ছিল,”১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাত্রি ইতিহাসে এক কালরাত্রি-সবচেয়ে তমসাচ্ছন্ন রাত্রি।এটিকে কালরাত্রি বলা হয় দ্বিবিধ কারণে।
এক. এই রাত্রিতে বাংলাদেশে নিরস্ত্র ও নিরীহ সাধারণ মানুষের উপর পাকিস্তানের প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়।এক হিসেবে দেখা যায়, শুধুমাত্র ঢাকা নগরীতে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং তাও এমন এক সময়ে যখন কর্মক্লান্ত সাধারণ মানুষেরা ঘুমে অচেতন, মধ্য রাত্রিতে।
দুই. জাতীয় ইতিহাসের এই দুর্যোগময় মুহূর্তে জাতীয় নেতৃবৃন্দ কোন দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়ে ব্যস্ত রইলেন হয় আত্মসমর্পণে, না হয় আত্মগোপনে। এর পূর্বে তিন সপ্তাহব্যাপী জাতীয় পর্যায়ে গণমনে পাকিস্তান বিরোধী যে তীব্র উন্মাদনা সৃষ্টি হয় এবং ১ মার্চের বলদর্পী ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদ অনির্দিষ্টকালের জন্যে স্থগিত ঘোষণার ফলে সবার অলক্ষ্যে ছয়-দফা দাবি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এক-দফা দাবিতে রূপান্তরিত হয়। তা উপেক্ষা করে নেতৃবৃন্দ জনগণকে ঘাতকের সামনে ফেলে যেভাবে নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে চললেন বুড়িগঙ্গা পার হয়ে কেউ কেউ পশ্চিম সীমান্তের দিকে, কেউ বা উত্তর-পূর্বে। এও এক অমার্জনীয় ব্যর্থতা। সেই ঘোর অমানিশার মধ্যে, অত্যন্ত আকস্মিকভাবে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো উদয় হলেন জিয়াউর রহমান। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বেতারকেন্দ্রের কর্মীদের সহযোগিতায় তিনিই স্বাধীনতার ঘোষণা উচ্চারণ করলেন। এই ঘোষণা ঐতিহাসিক। এই ঘোষণা প্রত্যয়দীপ্ত। সামনে চলার সাহসিকতাপূর্ণ আহবান। সমগ্র জাতি যখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নির্মমতায় স্তম্ভিত, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিক-নির্দেশনাহীনতায় সম্বিতহীন সেই বিশৃক্মখল এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন মুহূর্তে জিয়ার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা সমগ্র জাতিকে ঘুরে দাঁড়াবার সাহস যোগায়।সবার মধ্যে এই অবস্থা সৃষ্টি করে যে, তিন সপ্তাহব্যাপী অসহযোগ আন্দোলনের পরে সশস্ত্র সংগ্রামের অধ্যায় শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী অগ্রবর্তী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। 'একটি জাতির জন্ম' শীর্ষক নিবন্ধে জিয়াউর রহমান নিজেই লিখেছেন, ‘আমরা বন্দরের পথে বেরোলাম (২৫ মার্চ ১৯৭১)। আগ্রাবাদে আমাদের থামতে হলো। পথে ছিল ব্যারিকেড। এই সময়ে সেখানে এলো মেজর খালেকুজ্জামান চৌধুরী। ক্যাপ্টেন অলি আহমদের কাছ থেকে একটা বার্তা এসেছে। আমি রাস্তায় হাঁটছিলাম। খালেক আমাকে একটু দূরে নিয়ে গেল। কানে কানে বললো, তারা (পাকিস্তানী সৈনিকরা) ক্যান্টনমেন্ট ও শহরের সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে। বহু বাঙ্গালীকে ওরা হত্যা করেছে। এটি ছিল একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত সময়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমি বললাম, আমরা বিদ্রোহ করলাম। তুমি ষোলশহর বাজারে যাও। পাকিস্তানী অফিসারদের গ্রেফতার করো। অলি আহমদকে বলো ব্যাটেলিয়ান তৈরি রাখতে, আমি আসছি।এইভাবে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়, মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
’আমরা বিদ্রোহ করলাম' এই ঘোষণা সমগ্র চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম কেন দেশের সকল ক্যান্টনমেন্টে সামরিক অফিসারদের মুহূর্তের মধ্যে প্রস্তুত করে তোলে মুক্তিযুদ্ধের জন্য।সেই কলঙ্কিত ‘অপারেশন সার্চলাইটের' ঝড়ে লন্ডভন্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে আমার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে সাথে নিয়ে বাসাবোর ছোট্ট বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম ২৭ মার্চের সকালে। ঐ দিন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে প্রদত্ত জিয়ার সেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভাষণ নিজে শুনেছি।শুনেছেন আমার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরাও। তখন বিস্ময়বিমূঢ় হয়ে ভেবেছি, কে সেই মেজর জিয়া? এতো শক্তি ও সাহস তিনি পেলেন কোথা থেকে? তার ক্ষমতার উৎস কি? ২৫ মার্চের রাত্রি সাড়ে দশটা পর্যন্ত বাংলাদেশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান। রেডিও, টেলিভিশন, টেলিফোন সবই ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। তার নিয়ন্ত্রণে ছিল এদেশের শাসন-প্রশাসন। নিয়ন্ত্রণে ছিল ছাত্র-জনতা-আইন-শৃক্মখলা রক্ষাকারী সংস্থাও। অন্তত সেই কুখ্যাত অপারেশন সার্চলাইটের পূর্ব পর্যন্ত। দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরাও ঐ মুহূর্তে তার সিদ্ধান্ত জানবার জন্য প্রাণবাজি রেখে অপেক্ষা করেছেন ঢাকায়। কেউ কিছু জানল না। কারণ জানানোর মতো কিছু ছিল না। সকলে জেনে গেছে, ২৭ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাত্রি এগারোটার পরে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর হাতে। জিয়াউর রহমান শুধুমাত্র স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সৈনিকও। তার নেতৃত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটেলিয়নই স্বাধীনতা যুদ্ধের পথিকৃৎ। প্রকৃত প্রস্তাবে জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণাই স্বাধীনতা যুদ্ধকে আনুষ্ঠানিকতা দান করে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জিয়াউর রহমানই ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ক। স্বল্প উচ্চতা সম্পন্ন বনাঞ্চলে ছোট গাছপালা মনে করে তাদের শীর্ষই আকাশস্পর্শ করেছে। দূরে কোনো বটবৃক্ষ বা তালগাছকে তাই তারা এড়িয়ে চলে। মনে করে ঐগুলো ব্যতিক্রম। দু'দিন পরে তারা ঐসব ছোটখাটো পর্যায়ে নেমে আসবে।
আকাশছোঁয়া বটবৃক্ষ কিন্তু অন্য বটবৃক্ষের মূল্যায়নে কোনো ভুল করে না। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ কর্তক মেজর জিয়ার মূল্যায়নের দিকে দৃষ্টি দিলে এর সত্যতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের কৃতিত্বকে তিনি ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত বেতার ভাষণে স্ট্যালিনগ্রাডের যুদ্ধের সাথে তুলনা করে বলেন,”চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের সমর পরিচালনার ভার পড়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের উপর। নৌ, স্থল ও বিমানবাহিনীর আক্রমণের মুখে চট্টগ্রাম শহরে যে প্রতিরোধ ব্যুহ গড়ে উঠেছে এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী ও বীর চট্টলার ভাইবোনেরা যে সাহসিকতার সাথে শত্রুর মোকাবিলা করেছেন স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই প্রতিরোধ স্ট্যালিনগ্রাডের পাশে স্থান পাবে।“
এই বক্তৃতায় মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তাজউদ্দিন আহমদ বলেন,”এই প্রাথমিক বিজয়ের সাথে সাথে মেজর জিয়াউর রহমান একটি পরিচালনা কেন্দ্র গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে আপনারা শুনতে পান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কণ্ঠস্বর।“ এক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কণ্ঠস্বর বলতে কি বোঝায় তার বিস্তৃত ব্যাখ্যার কোনো প্রয়োজন নেই। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কণ্ঠস্বর শুধুমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে শোনা গিয়েছিল তাই নয়,প্রতিবেশী দেশেও তা শ্রুত হয়। ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে যান তখন ভারতের রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি তার সম্মানে প্রদত্ত ভোজসভায় ১৯৭৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর বলেছিলেন, “একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা এবং সর্বপ্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দানকারীরূপে আপনার মর্যাদা এরই মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত।“
বাংলাদেশের অভ্যূত্থানে শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য অবদানকে কে অস্বীকার করবে?জাতীয়তাবাদের হাজারো সূত্রে বিন্যাসে এবং জনগণকে সেই সূত্রের ঐক্যবন্ধনে আবদ্ধ করার ক্ষেত্রে বাংলার কৃতী সন্তান ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অবদানকে অস্বীকার করা আত্মপ্রবঞ্চনার নামান্তর। তেমনি এদেশের ইতিহাসের ক্রান্তিলগ্নে জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করার প্রচেষ্টাও বিরাট এক প্রবঞ্চনা। শুধুমাত্র স্বাধীনতার ঘোষণাই নয়, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বও তিনি পালন করেছিলেন। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের হাতেই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এই যুদ্ধে সামিল হয়েছেন এদেশের জনগণ-ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-মজুর, অখ্যাত পল্লীর দুরন্ত তরুণ, নগর-মহানগরীর যুবশক্তি, বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরির শ্রমিক বিভিন্ন পেশার নাগরিকগণ|” (সূত্র : ২৬ মার্চে তাদের স্মরণ করি, এমাজউদ্দিন আহমদ, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ ক্রোড়পত্র)
শেখ মুজিব গ্রেফতার হওয়ার সময় ঢাকার পরিস্থিতি কি ছিল? খোন্দকার আলী আশরাফের ভাষায়:”রাত সাড়ে দশটার পর থেকেই রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রান্ত ও মহাখালী অয়ারলেস কেন্দ্র সন্ধ্যার পর থেকে হানাদার বাহিনীর করায়ত্তে ছিল। টেলিগ্রাম পাঠানোও সম্ভব হয়নি। কেননা, সেগুলোও সন্ধ্যার পর থেকেই ছিল হানাদার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। বস্তুত, রাত এগারোটার পর থেকেই রাজধানীর সঙ্গে দেশের অন্য সকল অংশের যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। শুধু সরকারি চ্যানেলগুলো খোলা থাকে। কিন্তু তা তো ছিল হানাদারের হাতে। এই অবস্থায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা বা অন্য কোন মেসেজ প্রেরণ শুধু টেলিপ্যাথির মাধ্যমেই সম্ভব ছিল। ফলতঃ চট্টগ্রামে শেখ সাহেবের পক্ষ থেকে না যেতে পেরেছে কোন টেলিগ্রাম, না যেতে পেরেছে কোন অয়ারলেস মেসেজ।“ (সূত্র : সাপ্তাহিক বিচিত্রা- ১৭ জুলাই ১৯৮১)|
লেখক শিরীন মজিদ তার ‘শেখ মুজিব থেকে খালেদা জিয়া' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা. ১৩-১৪) বলেছেন,” মেজর জিয়াউর রহমানের এই ঘোষণায় অন্ধকারে নিমজ্জিত বাঙালী যেন হারানো মনোবল ফিরে পায়। পায় অন্ধকারে আলোর সন্ধান। সমস্ত বাঙ্গালী জাতির দেহের অভ্যন্তরে রক্তকণিকা এক সাথে টগবগিয়ে ওঠে। ওরা অসীম সাহসে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। পা বাড়ায় রণাঙ্গণে। শুরু হয় স্বাধীনতার যুদ্ধ। বাঙ্গালী জাতির জীবনে এ এক গৌরবময় অধ্যায়। বলা যেতে পারে সোনালী অধ্যায়। আওয়ামী লীগের সামনে দেখা দেয় বিরাট চ্যালেঞ্জ। কেননা আওয়ামী লীগ ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। যারা একটি শাসনতন্ত্র রচনার জন্য জনতার ম্যান্ডেট পেয়েছিল। পাকিস্তানী বাহিনী নিরীহ বাঙালী জাতির উপর এ যুদ্ধ চাপিয়ে না দিলে হয়ত তাই করত।কিন্তু ততক্ষণে ঘটনা দাঁড়িয়ে গেছে অন্যরকম। শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হয়ে যান ২৫ মার্চ রাতে’|
bd08: limited resource, greed, over population is the reason
After freedom, we never became financially well off, greedy people instead of sharing trying to grab whatever they can; because of way too over populated & limited resource the struggle has become nacked, people classifying themselves to stay in the dominent group. The division among us more financial than others.
When AL in power they try to grab everything, 50% get kicked to side way. When BNP in power, they grab all, 60% wait for their turn, this is the law of pendulum in BD.
BD people not creating wealth proportionately with the growth of population, begging has become way of life; educated people starts NGO and try to live better on other peoples' donations.
Financial struggle dividing us, and we are trying to categorize ourselves using any known facts to be in dominent group.
bd08, in postings, please do not use FF before my id; I want to be known like all other friends, just a fellow citizen.
FF farmar
It is absolutely true that a lot of educated along with their sons did not participated in our liberation war in 1971.
I heard a lot of people collected the FF certificate though they did not participate the liberation war, they collected through by the link of AL leaders.
I know, its not my task to undermine Mujib or even Zia .
I am not writing anything from my mind, I just put such a question that come in my mind.
আমার পয়েন্টা হলো, বাংলাদেশকে কে, বা কারা এবং কেন স্বাধীনতার পক্ষ, বিপক্ষ ধারায় বিভক্ত করেছে। এটা তো ঐতিহাসিকভাবে সত্য ৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সহ সব দল ব্যান করে একদলী বাকশাল চালু করা হয়েছিলো। কাজেই আজকের হাসিনার আওয়ামী লীগ আর মুজিব-তাজ এদের আওয়ামী লীগ কি করে এক হয়? দুটো ভিন্ন সত্তা।
কাজেই এর পর হাসিনার আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি, আর বাদ বাকি সব রাজাকার হলো কিভাবে। এই সরলীকরন কারা করেছে?
আমি এর জন্য ৭১-প্রজন্মের মুজিব ভক্তদের দোষ দিই, কারন তাদের সামনেই এই বিভক্ত ধারা তৈরী করা হয়েছে কিন্তু বাধা দিচ্ছে না।
জোর করে কিংবা হাইকোর্টের রায় দিয়ে কি কোন কিছু বাস্তবায়ন করা যায়? ১ কোটি নতুন ভোটার আকাশ থেকে পড়েই স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিকে ভোট দিবে,এই সব হিটলারী তত্ত্ব বাংলাদেশে একেবারেই অচল।
Save Bangladesh: No more farakka
bd08: in 1971, Ctg college had 400 students in 2nd yr.
bd08, in 1971, there were close 4 crores BD people able to take part in war; we did not expected all 4 croes to take part. But educated people were expected to take part. If not brave enough to fight with arms, there were so many things to do.
From 400 second yr. students of Ctg college only 2 took part in arms struggles. The rests later became Engrr, doctor, judges etc. Do I care what they say today? Do I care what Justice Nandolal Habibur Rahman, Shahabuddin, Sayem, Bodruddoza, Moudud, Alamgir, Emajuddin, Moniruzzaman Mia etc. say? Shit with them.
I listen to workers, farmers of Mirsarai, Feni, Noakhali, Hathazari, Comilla, when they say about FF, I saw them helping FFs, providing foods, shelter, worked as guides, those who could not take the arms.
I knew lots of Habibur Rahmans took tests during 1771, I know who taught in classes.
During Freedom fight, nation expected all educated people will help the nation; the Habiburs did not; today, they have lots to say, shit with them.
আমাদের বিশ্বাস, সেদিন যুবকেরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি
আমাদের বিশ্বাস, সেদিন যুবকেরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হিন্দু বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে হিন্দুস্তানকে খতম করে সারা বিশ্বে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করবে।" Nizami
Formation of paramilitary forces
Ashraf Hossain, a leader of Jamaat's student wing Islami Chhatra Sangha, created the Al-Badr militia in Jamalpur District on 22 April, 1971. [5] Current Jamaat leader Matiur Rahman Nizami was the supreme commander of this militia. On an editorial published on the Daily Sangram on November 14, 1971, Nizami stated that "আমাদের বিশ্বাস, সেদিন যুবকেরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হিন্দু বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে হিন্দুস্তানকে খতম করে সারা বিশ্বে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করবে।" (We believe that our young members will fight side by side with our army to defeat the Hindu forces, and destroy India, and raise the flag of Islam in the whole world"). [6]
In May, 1971, Jamat leader Mawlana Yusuf created the Razakar militia in Khulna. The first recruits included 96 Jamaat party members, who started training in an Ansar camp at Shahjahan Ali Road, Khulna. [7][8]
farmer speaks the truth
farmer saw the Bangladeshi events unfolding in 1971 when bd08 was probably on baby formula.
Iconic Mujibur with all his flaws was the symbol of Bangladesh to the world in 1971. World hardly knew Zia.
'Shono ekti mujiborer theke lokhkho mujiborer kontho shorer dhoni' was the battle cry which Major Zia probably sang with his troops.
Like it or not, Mujibur's legacy will be forever be intertwined with the creation of Bangladesh.
Robin
Carmel, California
মি ফারমার, ও তার কুৎসিত বক্তব্য
১। হাবিবুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহন না করার জন্য তাকে বা এইরুপ লোকজনকে নন্দলাল বলাটা একেবারেই কুৎসিত। কারন অনেকেই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার মত সাহস ছিলো না, অনেক সাধারন জনগনও তো ইন্ডিয়াতে আশ্রয় নিয়েছে, কিন্তু তারাও দেশের স্বাধীনতার পক্ষেই ছিলো। তবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জন্য আশ্রয় শব্দটির পরিবর্তে পালানো হবে। শুধু তাজ উদ্দিনদের মত বড় নেতাদের জন্য আত্মগোপন শব্দটি ব্যবহার চলবে।
২। মুজিব নিজেও সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন নি বা অংশ গ্রহন করেন নি। তবে উল্লেখ থাকে যে, ৭০ এর নির্বাচনের পর পাকিস্তানের দাদাগিরিতে জনগন অতিষ্ট হয়ে পড়েছিলো, এবং মুখ্যত জনগন মুজিবের মুখ থেকেই সরাসরি স্বাধীনতার ডাক শুনতে চেয়েছিলো।
২ খ, মুজিব স্বাধীনতার ডাক না দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলেও বাংলাদেশের জনগন আবারো স্বাধীনতার জন্যই আন্দোলনে নেমে পড়তো, মুজিবকে বাদ দিয়েই।
২ গ, একই ঘটনা ঘটেছিলো, ৫২ এর ২১শে ফ্রেব্রুয়ারীতে, পার্টির সিদ্ধান্ত ভংগ করেই সাধারন ছাত্রেরা ১৪৪ ধারা ভেংগে রাস্তায় নেমে পড়েছিলো।
২ ঘ, একই ঘটনা ঘটেছে ১৯৭১, মুজিব স্বাধীনতার ঘোষন দিয়েছে কি দেয় না এটা নিশ্চিত না হয়েও বাংলাদেশের সাহসী যুব সমাজ স্বাধীনতার পক্ষে ছিলো, এবং প্রথম প্রহরেই এরাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। আমি বলতে চাইছি, মেজর জিয়া ও তার বাহিনী সেই সাহসী জনগোষ্টির অংশবিশেষ, আরো স্পষ্ট করে বললে বলা যেতে পারে মেজর জিয়ার কন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষনা বাংগালীদেরকে অনুপ্রাণিত করেছিলো, তখন এই অজানা মেজরই বাংগালীর প্রাণের কথা বলেছিলেন, তাই কেঊ তার ঘোষনার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করেন নি।
৩, একই সাথে মুজিব দায়িত্বশীল নেতা হলে, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে গোপনে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতিমুলক আলোচনা ও কার্যপ্রণালী ঠিক করা উচিত ছিলো মুজিবের। তিনি করেন নি, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন। একইভাবে, আলোচনা ব্যতিত তিনি এককভাবে স্বাধীনতা ঘোষনা করতে পারেন না, কারন আওয়ামী লিগ তখন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকাতেই ছিলো ।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটেলিয়নই স্বাধীনতা যুদ্ধের পথিকৃৎ
৪, মেজর জিয়া বা অন্য কারো জন্য এইরুপ বাধ্যবাধকতা ছিলো না। বেঙ্গল রেজিমেন্ট বা যে কোন ক্ষুদ্র দলও বাংলাদেশের স্বাধিনতার ডাক দিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারতো। (মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলেও, এদের হয়তো বিছিন্নবাদী বলা হতো, কিন্তু শেষমেষ এদের সাথে বাংলার জনগন যোগ দিতো)। আর এই কারনে মুজিব বাদে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য (মুজিবের জন্য নয়) জনগন ঝাপিয়ে পড়েছিলো।
আওয়ামী ভন্ডামী শুরু
৫, যারা মুজিবের ভক্ত ছিলো, পরবর্তীতে জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান মেনে নিতে পারেন নি, এরাই দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করেছে এবং এখনও করছে। এদের নেতা এখন ভুয়া হাসিনা। হাসিনার কোনই রাজনৈতিক সাফল্য নেই, আছে শুধু মিথ্যাচারে আওয়ামী কর্মীদের ডুবিয়ে রাখা,
৬, আরো উল্লেখ থাকে, জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, কাজেই তার রাজনৈতিক আর্দশ নিয়ে যে কেঊ রাজনিতি করতেই পারে। আর বাস্তবতার সাপেক্ষেই জামাতীদেরকে রাজনৈতিক পুর্ণবাসন করা হয়েছে। এবং খালেদার বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রথমে এরশাদ-হাসিনাই জামাতিদেরকে সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ৮৬তে নির্বাচন করেছিলো।
Save Bangladesh: No more farakka
Mr. Matin
"জিয়া নিজেকে সরকার প্রধান হিসাবে ঘোষনা দেন,"
Is there any evidence to support this notion? If so, can you post here that documents.
What Nandolal Habibur Rahman did? Why his interview?
Who care what those Nandolal's say? Those shits always there to lie. Sheikh was arrested, Habibur Rahman was not arrested, did he fight? Fucked up Nandolals.
Zia continued Mujib's work, not Jamati's or Muslimleague's
Mujib arrested, Dhaka suffered messaccre; Chittagong continued fighting, Zia joined Chittagong fighters. Fighting started in Chittagong when Pak army tried to unload 2 shipfull of arms, people took over Agrabad Radio station, blocked Ctg port, sorrounded Chittagong Cantonment.
Zia continued Mujib's work, not Jamati's or Muslim League's agenda.
salimC, you have nothing to be happy, he joined the people, not your people.
২৫শে মার্চের রাতে বঙ্গবন্ধুর পতন হইয়া যায়
২৫শে মার্চের রাতে বঙ্গবন্ধুর পতন হইয়া যায়:
বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ২৫শে মার্চের রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেই তার পতন হইয়া যায়| আওয়ামী নেতৃবৃন্দ জনগণকে ঘাতকের সামনে ফেলে যেভাবে নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে চললেন বুড়িগঙ্গা পার হয়ে কেউ কেউ পশ্চিম সীমান্তের দিকে, কেউ বা উত্তর-পূর্বে। এও এক অমার্জনীয় ব্যর্থতা। সেই ঘোর অমানিশার মধ্যে, অত্যন্ত আকস্মিকভাবে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো উদয় হলেন জিয়াউর রহমান। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বেতারকেন্দ্রের কর্মীদের সহযোগিতায় তিনিই স্বাধীনতার ঘোষণা উচ্চারণ করলেন। এই ঘোষণা ঐতিহাসিক। এই ঘোষণা প্রত্যয়দীপ্ত। সামনে চলার সাহসিকতাপূর্ণ আহবান। সমগ্র জাতি যখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নির্মমতায় স্তম্ভিত, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিক-নির্দেশনাহীনতায় সম্বিতহীন সেই বিশৃক্মখল এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন মুহূর্তে জিয়ার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা সমগ্র জাতিকে ঘুরে দাঁড়াবার সাহস যোগায়। ২৬শে মার্চ জিয়া নিজেকে সরকার প্রধান হিসাবে ঘোষনা দেন, কাজেই ২৬ তারিখ থেকে ১০ এপ্রিল দেশের মুক্তিয়ুদ্ধ বা দেশের নিয়ন্ত্রন জিয়ার হাতে ছিলো।তখন অন্য কেউ সরকার প্রধান হিসাবে দাবী করে নি|১০ এপ্রিল স্বাধিন বাংলা সরকার গঠিত হওয়ার আগ পযনত,জিয়াকেই প্রধান হিসাবে ইতিহাসে লিপিবদ করিবে,যদি আমরা ২৬শে মার্চকে আমাদের স্বাধিনতা দিবস হিসাবে ধরি|কোনভাবেই আওয়ামী ইতিহাস জিয়াকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বেড় করে দিতে পারিবেনা,যদি তা করিতে যায় তাহলে ওরাই বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বেড় হয়ে যাবে,ঘোষক হাইজাক করেও শেষ রককা হবেনা|বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ কর্তক মেজর জিয়ার মূল্যায়নের দিকে দৃষ্টি দিলে এর সত্যতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হওয়া যায়।মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের কৃতিত্বকে তিনি ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত বেতার ভাষণে স্ট্যালিনগ্রাডের যুদ্ধের সাথে তুলনা করে বলেন,”চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের সমর পরিচালনার ভার পড়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের উপর। নৌ, স্থল ও বিমানবাহিনীর আক্রমণের মুখে চট্টগ্রাম শহরে যে প্রতিরোধ ব্যুহ গড়ে উঠেছে এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী ও বীর চট্টলার ভাইবোনেরা যে সাহসিকতার সাথে শত্রুর মোকাবিলা করেছেন স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই প্রতিরোধ স্ট্যালিনগ্রাডের পাশে স্থান পাবে।“এই বক্তৃতায় মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তাজউদ্দিন আহমদ বলেন,”এই প্রাথমিক বিজয়ের সাথে সাথে মেজর জিয়াউর রহমান একটি পরিচালনা কেন্দ্র গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে আপনারা শুনতে পান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কণ্ঠস্বর।“ এক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কণ্ঠস্বর বলতে কি বোঝায় তার বিস্তৃত ব্যাখ্যার কোনো প্রয়োজন নেই।এদেশের ইতিহাসের ক্রান্তিলগ্নে জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করার প্রচেষ্টাও বিরাট এক প্রবঞ্চনা। শুধুমাত্র স্বাধীনতার ঘোষণাই নয়, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বও তিনি পালন করেছিলেন। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের হাতেই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এই যুদ্ধে সামিল হয়েছেন এদেশের জনগণ-ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-মজুর, অখ্যাত পল্লীর দুরন্ত তরুণ, নগর-মহানগরীর যুবশক্তি, বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরির শ্রমিক বিভিন্ন পেশার নাগরিকগণ|” স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কণ্ঠস্বর শুধুমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে শোনা গিয়েছিল তাই নয়,প্রতিবেশী দেশেও তা শ্রুত হয়। ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে যান তখন ভারতের রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি তার সম্মানে প্রদত্ত ভোজসভায় ১৯৭৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর বলেছিলেন, “একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা এবং সর্বপ্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দানকারীরূপে আপনার মর্যাদা এরই মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত।“ হাইকোর্টের রায়ে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা কোন বিচারকের ভাষা নয়।
Suddenly Bangladesh was independent?
No.
Long stragule of the people of Bangladesh with the ledership of Sheikh Mujib and his other associate ,we got freedom.
History never changes.
মুক্তিযোদ্ধা ফারমার সাহেবের বিবৃতি
আপনারা জানেন মি ফারমার আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সৈনিক। কাজেই ঊনার যে কোন স্টেটমেন্ট খুবই গুরুত্বপুর্ন। এখানে উনার বিবৃতিটি পেষ্ট করলাম মাত্র।
২৫ মার্চে জিয়া রিভোল্ট করেছিলেন, এই সময় থেকেই আনুষ্টানিক মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।
Save Bangladesh: No more farakka
স্বাধীনতার ঘোষনা সম্পর্কে বিচারপতি হাবিবুর রহমান
দৈনিক আমাদের সময় প্রত্রিকায় হাসিবুল ফারুকের নেয়া বিচারপতি হাবিবুর রহমানের সাক্ষাৎকারটি নীচে তুলে দিলাম -
‘২৭ মার্চ মেজর জিয়া নিজের উদ্যোগে স্বকণ্ঠে ঘোষণা দেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার। পরের দিন ২৮ মার্চ জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মেজর জিয়ার অধিকার, কর্তৃত্ব বা খ্যাতি-অখ্যাতি নিয়ে কেউ সেদিন প্রশ্ন তোলেনি। এক বাঙালি জওয়ানের মুখে স্বাধীনতার কথা শুনে সকলে অনুপ্রাণিত হয়েছিল।’ ২০০৬-এর ২৬ মার্চ দৈনিক প্রথম আলোতে ‘স্বাধীনতা দিবসে এক বিনীত প্রসত্মাব’ শিরোনামের প্রবন্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান একথাই লিখেছিলেন।
ওই প্রবন্ধে তিনি লিখেন, “২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিসত্মান সৈন্যবাহিনী ঢাকায় এক পিটুনি অভিযান চালালে বহু লোক নিহত হয়। শেখ মুজিব গ্রেপ্তার হন। ২৬ মার্চ রাতে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেন কি না তা নিয়ে একটা বিতর্ক চলে আসছে। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাড়িতে বসে থেকে শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করার ব্যাপারটা নানাভাবে আলোচিত হয়েছে। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে, চট্টগ্রামে একটা খবর হয় যে, ওই রাতে ‘প্রতিরোধ ও স্বাধীনতা’ যুদ্ধের প্রস্তুতিকল্পে শক্তি সংহত করার জন্য শেখ মুজিব এক বাণী পাঠিয়েছেন। সেই বাণী চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হান্নান পাঠ করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে।”
বিচারপতি হাবিবুর রহমান আরো লিখেছিলেন, “শেখ মুজিব বেঁচে থাকতে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। মুক্তিযুদ্ধ শেখ মুজিবের নামে পরিচালিত হয়। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ ‘মুজিবের দেশ’ হিসেবে পরিণত হয়। জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় এ নিয়ে তেমন কোনো উচ্চবাচ্য করেননি। এখন এই প্রশ্ন নিয়ে দেশের লোক দ্বিধাবিভক্ত। সংবিধানের কালো অক্ষরে শেখ মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যে বিবৃতি রয়েছে যেকোনো ইতিহাসের ছাত্র তা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। বঙ্গবন্ধু নিজে ঘোষণা লিখে গিয়েছিলেন, না তাঁর নামে ওই ঘোষণা প্রচার করা হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিহাসের ছাত্র গবেষণা করুক না।”
Pogo: Thanks
Pogo, I am reading the postings, but do not want to comment on this topic. Moreover, it is hard to understand Mr. mailsmsi. Zia was a decorated officer in Pak army from 1955 to March24, 1971; on the 25th March, 1971, he revolted against the Pak gov & took arms against them and fought until we won( with some changes in the middle).
Arrested Mubib President ?
Is Indpendence war legal?
It may be illegal for Pakistani & their agent.
Pakistan was not ageree Mujibnagar Govt. But Freedoom loving Bangla accepted them.
How a country born . A long stragule Sheikh Mujib,Tajuddin Ahmed
Sheikh Mujib is the leader of independence loving Bangladesh.
"To form Mujibnagar administration might be legal" -----You do not need to agree this govt.
Freddom Loving Bangla accepted them.
arrested মুজিব সরকার প্রধান হতে পারে না, এটা লিগাল ছিল না।
মুজিব নগরে সরকার ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে গঠিত হয়।
জিয়ার ভাষন দেশের জনগন ১০ই এপ্রিলের আগেই শুনেছে। এব্নং জিয়া নিজেকে সরকার প্রধান হিসাবে ঘোষনা দেন, কাজেই ২৬ তারিখ থেকে ১০ এপ্রিল দেশের মুক্তিয়ুদ্ধ বা দেশের নিয়ন্ত্রন জিয়ার হাতে ছিলো। অন্য কেউ দাবী করে নি.
arrested মুজিব সরকার প্রধান হতে পারে না, এটা লিগাল ছিল না।
To form Mujibnagar administration might be legal but to select mujib as head was illegal, because he was arrested by enemy forces, and his role was not fully clear at that moment.
Bangabandhu declaration of independence at Dacca on 26/03/1971
Whereas in the facts and circumstances of such treacherous conduct Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, the undisputed leader of the 75 million people of Bangladesh, in due fulfillment of the legitimate right of self-determination of the people of Bangladesh, duly made a declaration of independence at Dacca on March 26, 1971, and urged the people of Bangladesh to defend the honour and integrity of Bangladesh,
Source : Proclamation of Independence formally announced by the Bangladesh government-in-exile on 17 April 1971. The Proclamation so announced in effect provided the fundamental instrument of law as well as an interim constitution of the mujibnagar government during the war of liberation, including that of the government in liberated Bangladesh until the adoption of the Constitution, made effective from 16 December 1972.
Source :http://banglapedia.search.com.bd/HT/P_0289.htm
দেশে বিরাজমান রাজনীতিতে বি.ন.পি. ছিল, আছে এবং থাকবে।
If 100 % people support BNP in any election , history will not change.
কথার খাতিরে ধরে নিলাম মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নন.I do not agree.
Sheikh Mujib : Independendence Leader/Founder of Bangladesh
Major Zia : War Hero
The government-in-exile at Mujibnagar had an elaborate structure of administrative departments, agencies and activities. Even though elaborate agencies were established, the government's main work remained coordinating the guerrilla insurgency and to bolster popular support in East Pakistan by its political organisational work, media and propaganda.
* Sheikh Mujibur Rahman: President of Bangladesh
* Syed Nazrul Islam: Vice President; Acting President
* Tajuddin Ahmed: Prime Minister
* Khondaker Mostaq Ahmed: Foreign Affairs and Law Minister
* Muhammad Mansur Ali: Finance Minister
* A. H. M. Qamaruzzaman: Home, Relief and Rehabilitation Minister
* Muhammad Ataul Gani Osmani: Commander-in-Chief of the Mukti Bahini
* Major General Abdur Rab: Chief of Staff
* Abdul Mannan: Chief of the Department of Press, Information, Radio and Film
* Yusuf Ali: Chief of the Department of Relief and Rehabilitation
* Matiur Rahman: Chief of the Department of Commerce
* Amirul Islam: Chief of the Volunteer Corps
---------------------------------------------------------------------------------
The inaugural transmission of Swadhin Bangla Betar Kendra was broadcasted at 7:30 pm on the 26 of March 1971, under the leadership of Abdullah-Al-Faruque, Abul Kashem Sandwip and myself.
As content material for the first broadcast, we managed to collect a number of materials. As signature tune, we used the title song 'Joy Bangla, Banglar Gan' from the film 'Joy Bangla'. We also managed to acquire a photocopy of the leaflet that included a telegram from Bangabandhu carrying more instructions for the nation and stated Independence, and we translated that into English. We had another broadcast, at 10:00 pm that night, where, Mahmud Hossain, a close friend of mine read out an announcement, in the form of an SOS, under the name 'Hello Mankind'. That night we ended with an invitation to stay tuned at around 9:00 am the next morning.
That was pretty much how we managed things the first day.
On returning home to Enayet Bazar, I instructed everyone to listen to other radio stations, such as BBC and Voice of America, and jot down important news and headlines, which we could use as material for later broadcasts.
Dr. Shafi's residence at Enayet Bazar was a flurry of activity that night as everyone worked with enthusiasm towards doing their part for the people. And I started thinking of ways to deal with the immediate problem at hand- that was, to gather some sort of security for the next day's broadcast.
On contacting many of my friends, one of them, Taher Sobhan, mentioned that he knew the where about of a Major, who was currently away from the HQ and staying at Potiya Thana. On more questioning, Taher explained, that this 'Major', whose name he did not know, had a company of 150 soldiers under him and he had been put in charge of unloading the cargo from two Pakistan army battleships, the Babar and Swat, that had arrived at the Chittagong Port.
I decided to seek this anonymous Major out, and my friend Mahmud Hossain helped us out by providing transport for us to go to Potiya.
We reached Potiya on the afternoon of the 27th, and there we found ourselves face to face with Major Ziaur Rahman. As it was, the Major who my friend Taher had mentioned, was none other then Major Zia himself.
On meeting the Major, who seemed genuinely excited to see us, I told him of our predicament and asked for his help, whereupon he immediately agreed to help us in every way he could. That day, we returned to Kalurghat feeling victorious. As we all got down to working, I stated to the Major, that since he held a position of importance among the people, it would be very valuable if he would address the nation in a speech over the radio. Again, he readily agreed, and we sat down to work on the speech.
It was thence that we worked for the next two days.
The Kalurghat radio centre was abandoned when it was heavily shelled by the Pakistan Air Force on March 30. The centre, however, resumed its second phase of activities from 3 April 1971 at Bagafa (Tripura State) with a short wave transmitter. The centre was later shifted to Shalbagan and Bagafa-Belonia Forest Hills Road, Agartala. Several other liberation activists who joined later included Abdullah-Al-Faruque, Abul Kashem Sandwip, Kazi Habibuddin Ahmed Moni, Aminur Rahman, Rashidul Hussain, A M Sharfuzzaman, Rezaul Karim Chowdhury, Syed Abdus Shaker, and Mustafa Monwar. The damaged transmitter that they brought with them from Kalurghat was made operative by engineer Syed Abdus Shaker. The daily programme in this phase consisted of a morning transmission between 8.30 and 9 and an afternoon session between 5 and 7.
Swadhin Bangla Betar Kendra was renamed Bangladesh Betar on 6 December 1971, when India gave formal recognition to independent Bangladesh and its provisional government. The Bangladesh government moved to Dhaka on 22 December 1971 and Bangladesh Betar started broadcasting in independent Bangladesh on the same day.
Recently, a documentary has been made on the efforts of Belal Mohammad and others behind the formation of the Swadhin Bangla Betar Kendra, under the name “Ekkattorer Shobdo Shainik”.
Belal Mohammad, author of many literary works, including stories for youngsters, such as ' Joy Bangla Radio', a novel 'Amar Protiridher Bhasha' and a series of anthologies, concluded with: “Swadhin Bangla Betar Kendra was the first organised group venture by the people to fight for what they believed in. It was an organization that was conceived as a means of great requirement during that moment, and was ended and shifted to something new, after having served its purpose.”
http://www.thedailystar.net/lifestyle/2009/03/04/page04.htm
সাবেক বিচারপতি হাবিবুর রহমান বলেছেন জিয়া নিজ উদ্যোগে ...
Save Bangladesh: No more farakka
Where was Zia in 62,64 ,69?
mailsmsi:
If you had heard of Zia in 62, 64 and 69, then he would had already been dead or a politician by 71. Everyone knows athat an army officer cannot revolt while in service. But the opputunity came in 71. And, nobody is saying that Zia brough idependence for Bangladesh. Rather, many people inlcuding me are saying that he had contribution to bring independence. Independene of BD came due to the contribution of many FFs, politicians, and general public of Bangladesh. That's all.
We have an honorable FF here Mr. farmer who took order from Zia. It would be nice if he can answer why Zia along with himself did not speak up in 62, 64 or in 69. Then you may get your answer.
ধন্যবাদান্তে,
পোগো
স্বাধীনতার ঘোষক
কথার খাতিরে ধরে নিলাম মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নন। কিন্তু উনি দেশ পরিচালনায় যে অবদান রেখেছেন এবং যে সমর্থক গোষ্টি তৈরী করেছেন তারা তাকে এবং বিনপিকে সমর্থন করে তার অবদানের জন্য। রায়ের মাধ্যমে এ সমর্থন বন্ধ করা যাবে কি? বরং আওয়ামী নিম্ন মানষিকতা তাদের সমর্থন কমাবে।
দেশে বিরাজমান রাজনীতিতে বি.ন.পি. ছিল, আছে এবং থাকবে।
Where is Major Zia in 62,64 ,69? Where is Zia 70 ?March 71
Where is Major Zia in 62,64 ,69? Where is Zia 70 ?March 71
Where is zia long movement against Pakistani Occupation?
Sheikh Mujib speaks 7 March one go throug.
You know everything in history.But , for political reason you try to destory history.
If a mjor declaras independence in radio ,Kasmir ,Palastine in now independent country.
Bangladesh was free country now in the leadership of Sheikh Mujib.
’আমরা বিদ্রোহ করলাম'
তিনি ছাত্র নেতাদের পীড়াপীড়িতে রেসকোর্স ময়দানে ভাষণে বললেন, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। (’স্বাধীনতা সংগ্রামের নেপথ্য কাহিনী' গ্রন্থে’বদরুদ্দিন আহমদ (অক্টোবর ১৯৮৮, পৃষ্ঠা. ৭৭ ও ৮০-৮১) )
...তার মানে এই ঘোষনাটিও মুজিব দিতে চায় নি, ছাত্র নেতাদের পীড়াপীড়িতে বলেছিলেন। বিস্তারিত জানতে চাই।
”এই প্রাথমিক বিজয়ের সাথে সাথে মেজর জিয়াউর রহমান একটি পরিচালনা কেন্দ্র গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে আপনারা শুনতে পান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কণ্ঠস্বর।“ (তাজ উদ্দিন)
শুধুমাত্র স্বাধীনতার ঘোষণাই নয়, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বও তিনি পালন করেছিলেন। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের হাতেই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এই যুদ্ধে সামিল হয়েছেন এদেশের জনগণ-ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-মজুর, অখ্যাত পল্লীর দুরন্ত তরুণ, নগর-মহানগরীর যুবশক্তি, বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরির শ্রমিক বিভিন্ন পেশার নাগরিকগণ|” (সূত্র : ২৬ মার্চে তাদের স্মরণ করি, এমাজউদ্দিন আহমদ, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ ক্রোড়পত্র)
জিয়াউর রহমান শুধুমাত্র স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সৈনিকও।
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়, মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
Save Bangladesh: No more farakka