রাজনীতি
হারুন হাবীব
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার আগামী জানুয়ারিতে মাত্র এক বছর পূর্ণ করবে। কাজেই সামনে আরও চার বছর আছে। কিন্তু এরই মধ্যে প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া এবং শীর্ষ কিছু বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ যেভাবে আগাম নোটিশ দিয়ে যাচ্ছেন, তাতে সরকার বদলের সাংবিধানিক রীতির প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞা প্রদর্শন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শুধু বাংলাদেশের নয়, আমার বিশ্বাস, কোনো দেশেরই গণতন্ত্রকামী মানুষ সাংবিধানিক নিয়মের প্রতি এ ধরনের অবজ্ঞা প্রদর্শন সহজে মেনে নেবে না।
আগে এবং দীর্ঘদিন ধরেই, বাংলাদেশে সামরিক শাসন বলবৎ ছিল, অসাংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিক সরকার নিজেদের ইচ্ছামতো দেশ শাসন ও সরকার পরিচালনা করত। মূলত জে. জিয়াউর রহমান ও জে. এরশাদ এই অগণতান্ত্রিক ধারার প্রবর্তক এবং একই সঙ্গে ধারক ও বাহক। কিন্তু ১৯৯০ সাল থেকে সে রকম কোনো দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের মানুষকে সইতে হয়নি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পূর্ণ স্থায়িত্ব হয়তো আমরা পাইনি, হয়তো এখনও অনেক অপূর্ণাঙ্গতা রয়েছে; কিন্তু কেউই আজ ভেবে নিতে পারেন না যে, পাঁচ বছরের জন্য বৈধভাবে ক্ষমতাসীন একটি সরকারের রাজনৈতিক বিরোধীদের হুঙ্কার বা আন্দোলনে পতন ঘটবে। কারণ এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে বা ঘটার পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে জাতির গণতান্ত্রিক ভিত কখনোই পোক্ত হতে পারে না।
একটি কথা এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, ১৯৭৫-এর রক্তাক্ত প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি দুটি সুস্পষ্ট ধারায় বিভক্ত হয়ে গেছে। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় এমন একটি ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শত্রুরা নিঃসন্দেহে আত্মতৃপ্তি লাভ করেছিল। ওরা বাংলাদেশের জন্মকে বাধাগ্রস্ত করতে ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। এরপর চলেছিল পাকিস্তানি ধারার সেই শাসন, যার বিরুদ্ধে মাত্র সাড়ে তিন বছর আগে এ দেশের মানুষ একটি রক্তাক্ত যুদ্ধ করে স্বাধীনতা লাভ করেছিল। বলতেই হবে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিরোধীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। ফলে জাতি উত্তরোত্তর বিভক্ত হয়েছে। সামরিক শাসকরা সে বিভক্তিতে ঘি ঢেলেছে, কারণ এতে তাদের লাভ ছাড়া ক্ষতি ছিল না। কাজেই ভিনদেশি কিছু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে নিছকই 'দুই বেগমের লড়াই' বলে অভিহিত করেন, তখন সত্যি সত্যি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির অসারতা নিয়ে প্রশ্ন করতে হয়! দেশের শীর্ষ আদালতে এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার চূড়ান্ত শুনানি চলছে। বাদী ও বিবাদী পক্ষের কেঁৗসুলিদের যুক্তিতর্ক ও মতামত প্রতিদিন দেশের গণমাধ্যমগুলো প্রচার করছে। অনেকেই বলেন, বছরের পর বছর ধরে এমন একটি ভয়ঙ্কর হত্যা মামলা ঝুলিয়ে রাখা ঠিক হয়নি। অর্থাৎ তারা বলতে চান, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রাতারাতি ঝুলিয়ে দিলেই ল্যাঠা চুকে যেত। কিন্তু আমার মনে হয় আর দশটা হত্যাকাণ্ডের মতো দেশের সাধারণ আইনে এ মামলাটি অগ্রসর হওয়ায় বাদী ও বিবাদীদের প্রতিটি যুক্ততর্ক দেশবাসীকে জানতে দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার গণতান্ত্রিক মনমানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আছে তারা আত্মপক্ষ সমর্থনে আইনের পরিপূর্ণ সুবিধা ভোগ করছে। আমরা কি একবার ভেবে দেখব, জেনারেল জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার কী প্রক্রিয়ায় করা হয়েছিল এবং কত দ্রুত অভিযুক্তদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল! কাজেই বলতেই হবে এই দুই রাজনৈতিক শক্তির মাঝে দর্শনগত বা উপলব্ধিগত ফারাক আছে। গণতান্ত্রিক সভ্যতার প্রতি আনুগত্যের ব্যাপার আছে।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচার চলছে। আইনের স্বাভাবিক নিয়মেই একদিন এ বিচারপর্বের সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু পরিস্থিতি যেভাবে গড়াচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় থাকে না। দৃশ্যতই ধারণা করা যাচ্ছে, সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও সেদিনকার জাতীয় নেতৃত্বকে যারা হত্যা করেছিল তারা বসে নেই। বঙ্গবন্ধু পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্য, সাংসদ ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসকে সম্প্রতি হত্যার চেষ্টা হয়েছে। তরুণ এই সাংসদ ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছেন। তাপসকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। বাইরে থেকে তাকে একজন স্বল্পভাষী প্রাজ্ঞ তরুণ হিসেবেই আমার মনে হয়। আরও মনে হয়, রাজনীতিতে তিনি অবশ্যই ভালো করবেন। মুক্তিযুদ্ধের মাঠ থেকে দেশে ফিরেই সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেছিলাম বলে শেখ ফজলুল হক মনির সঙ্গে এক ধরনের ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য প্রখর বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ফজলুল হক মনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক। কিন্তু পঁচাত্তরের হত্যাযজ্ঞে তাপস তার বাবা-মাসহ সবাইকে হারিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম আইনজীবী।
ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে সপরিবারে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ হুমকির প্রধান উদ্দেশ্য একটিই হতে পারে_ যাতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি থেমে যায় কিংবা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়। সবারই জানা যে, ১৯৯৮ সালে যেদিন বিচারিক আদালত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন সেদিন বিএনপি-জামায়াত জোট সারাদেশে হরতাল ডেকেছিল। এসব কর্মসূচিতে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কেউ অবশ্য বিস্মিত হয়নি। কারণ জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজেই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষা করেছিলেন। তাদের বিদেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন। এ ধারা খালেদা জিয়া পর্যন্ত বহাল ছিল। আমরা আরও জানি যে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটির বিশেষ কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবেই সরকার আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ করেনি। কারণ নির্দিষ্টসংখ্যক বিচারক থাকলে এ মামলার শুনানি অনেক আগেই সম্পন্ন হতে পারত।
সাম্প্রতিককালে আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। খালেদা জিয়া সরকার উৎখাতের ডাক দিয়েছেন। যে সরকারের এক বছরও পূর্ণ হয়নি সে সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় জানাতে বেগম জিয়ার কেন এত ব্যস্ততা তা সবাই বোঝেন। কারণ তিনি চান না বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা শেষ হোক। তিনি চান না যারা স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বাংলাদেশের স্বাভাবিক ইতিহাসকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল তাদের বিচার হোক। তিনি আরও চান না, এই বাংলাদেশের মাটিতে মুক্তিযুদ্ধের ঘাতক-দালাল বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। আরও চান না, মুক্তিযুদ্ধের লাখো দেশপ্রেমিকের রক্তে যে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, সে বাংলাদেশ রক্তস্নাত সেই চেতনা অবলম্বন করে সামনের দিকে অগ্রসর হোক। বাংলাদেশ অসাম্প্র্রদায়িক হোক। তা না হলে একটি সরকারের মাত্র নয় মাসের মাথায় গণআন্দোলনে পতন ঘটাবার ডাক তিনি কীভাবে দিতে পারেন?
আরও একটি বক্তব্যে সত্যি সত্যি বিস্মিত হতে হয়। খালেদা জিয়া সম্প্রতি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার শুধু রাষ্ট্র চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে না বরং দেশের মানচিত্রকে পর্যন্ত বদল করার ষড়যন্ত্র করছে। দেশ বা সরকার চালানোর ব্যর্থতার কথা একজন বিরোধী রাজনীতিবিদ বলবেন, সেটিই স্বাভাবিক। বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, তা সরকারের পছন্দ হোক বা না হোক। কারণ বিরোধী দল গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে 'শ্যাডো গভর্নমেন্ট'। আমাদের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রে সরকারের বিশেষ কিছু কাজের সমালোচনাও হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের টেন্ডারবাজি, মারামারি ও দখলদারি তৎপরতায় সরকার নিঃসন্দেহে সমালোচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও শক্ত হাতে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরাও চাই সরকার এ ধরনের তৎপরতা শক্ত হাতে দমন করুক। দেশে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরে আসুক।
কিন্তু খালেদা জিয়ার মতো একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেত্রীর মুখে যখন দেশের মানচিত্র বদলানোর অভিযোগ শুনি তখন সত্যি সত্যি ভূতের মুখে রাম নাম মনে হয়। কারণ খালেদা জিয়া রাজনীতি করেন জামায়াতে ইসলামীর মতো এমন একটি দলের সঙ্গে, যারা বাংলাদেশের মানচিত্রকে কখনোই স্বীকার করেনি। আজও স্বীকার করছে বলে মনে করার কারণ নেই। বেগম জিয়ার আরও যারা রাজনৈতিক সহযোগী আছে তাদের বেলায়ও এ কথাটা খাটে। তারা এমনই এক ভূখণ্ড চায় যেখানে বাংলাদেশের বদলে পাকিস্তান হলে তাদের আনন্দের সীমা থাকে না। প্রশ্ন হচ্ছে সেই খালেদা জিয়ার মুখেই আজ শুনতে হচ্ছে আওয়ামী লীগ দেশের মানচিত্র বদলানোর ষড়যন্ত্র করছে!
খালেদা জিয়ার অবশ্যই জানা উচিত যে, মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীকালের আওয়ামী লীগ বা মুক্তিযুদ্ধপন্থি অন্যান্য দলের উপলব্ধি বা প্রস্তুতির সঙ্গে আজকের আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগীদের প্রস্তুতি ও উপলব্ধির অনেক ফারাক আছে। আমার বিশ্বাস, নিশ্চয়ই আছে। কারণ আওয়ামী লীগ বিলক্ষণ জানে, কী পরিস্থিতিতে স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশের ইতিহাসকে পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। আরও জানে, এ ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল, কী তাদের চেহারা ছিল। কাজেই আমার বিশ্বাস, নতুন যে ষড়যন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে সামলে নিতে হচ্ছে তাতে প্রখর রাজনৈতিক সতর্কতা প্রয়োজন।
ভাবতে হাস্যকর লাগে, যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান থেকে একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম, একটি নতুন মানচিত্র ও তার পতাকা, সেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই মানচিত্র বদলানোর অভিযোগ তুলছেন খালেদা জিয়া! মোট কথা বেগম জিয়া ও তার রাজনৈতিক সহযোগীরা তাদের সাধের পাকিস্তান ভাঙার জন্য চূড়ান্তভাবে দুঃখিত, এমনকি সে দুঃখমোচন কীভাবে, কী উপায়ে করা যায় তা নিয়েই পেরেশান, এটা সবাই জানেন। কাজেই এমন একটি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কেবল তার রাজনৈতিক অসহায়ত্বই ফুটে ওঠে।
বর্তমান সরকার পাঁচ বছরের জন্য এসেছে। আমাদের সংবিধানে সরকারের সময়কাল এটিই। সরকারের কর্মকাণ্ড বা কর্মসূচি পছন্দ না হলে বিরোধী দল ইচ্ছা করলে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে। কিন্তু তারা জাতীয় সংসদে যেতে চান না। সম্ভবত জাতীয় সংসদে গেলে তাদের সদস্য সংখ্যা মানুষ গুনে দেখবে। কিন্তু তাতে কী? ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮-এর নির্বাচনী ফলাফল তো আর বদলানো যাবে না ।
যয১৯৭১@মসধরষ.পড়স
- হারুন হাবীব : মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও সাংবাদিক
রেটিং দিন :
আওয়ামী লীগ মানেই পরাধীনতা বিএনপি মানে স্বাধীনতা |
কোন সার্বভৌম রাষ্ট্রই তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে উপেক্ষা করতে পারে না। বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান এবং তার পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক-সামরিক বাস্তবতায় পররাষ্ট্রনীতির বহুমুখীকরণের কৌশল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কার্যকর ও ইতিবাচক ভারসাম্য আনতে পারে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক--মেধা-মননের সাথে দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অনুপানের মিশ্রণ ঘটলে কোন সরকারই একমাত্র ভারতের কাছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতকে জিম্মি করে রাখতে পারে না।বর্তমান সরকার পররাষ্ট্রনীতির ভারতীয়করণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু ভারতের হাতে তুলে দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অপ্রাপ্তির বঞ্চনা মিটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে সাধারণ মানুষ শংকিত। ভারতকে তারা প্রতিবেশী বন্ধুদেশের মর্যাদার বদলে ‘ধাত্রীমাতা' বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একক জিম্মাদার হয়ে থাকতে চায়। আধুনিক যুগে এমন মধ্যযুগীয় ভাবনা স্বাধীন দেশের কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা মগজে ঠাঁই দিতে পারেন, তা ভাবতেও অবাক লাগে। আওয়ামী লীগ তাদের রাজনীতির বাইরে সবগুলো দল ও সামাজিক-রাজনৈতিক শক্তিকে তাদের বৈরী এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বলে মনে করে। সংসদে ও সংসদের বাইরে যে রাজনৈতিক বিভাজনরেখা তৈরি করা হয়েছে, তার ভিত্তিটা তারা এভাবেই তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী ‘কিচেন' মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী-মুখরা সদস্য এককালের ‘অগ্নিকন্যা' মতিয়া চৌধুরী অগ্নিশর্মা হয়ে বলেছেন : ‘বিরোধী দলকে ৪ বছর ২ মাস অপেক্ষা করতে হবে।' জনগণ তাদের পাঁচ বছরের জন্যই ম্যান্ডেট দিয়েছে। সুতরাং এ কথা তিনি বলতেই পারেন। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, সরকারকে মেয়াদের আগেই বিদায় নিতে হবে। একই সাথে তিনি বলেছেন যে, সরকার দেশের মানচিত্র বদল করতে চায়।
বিরোধীদলীয় নেত্রীর এই বক্তব্যকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ ‘দেশদ্রোহিতামূলক' অপরাধ বলেও মন্তব্য করেছেন। এখন শুনছি, সরকার বিরোধী দলীয় নেত্রীকে নিজ বাড়িতেই নজরবন্দী করে রাখার কথাও ভাবছে। মানচিত্র বদল বা বিদেশী শক্তির কাছে জাতীয় সার্বভৌমত্ব তুলে দেবার যে আশঙ্কা জনমনে তৈরি হয়েছে, তার নিরসনে তিনি কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ভারত বাংলাদেশের জন্য ‘ক্ষতিকর কিছু করবে না' এবং ভারত বাংলাদেশের ‘মহান বন্ধু', সরকারের নীতি-নির্ধারকরা এর বাইরে যেতেই প্রস্তুত নন। বরং যে সব মিডিয়া ও রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তি ভারতের আধিপত্যমুখী ফাঁদ থেকে সরকারকে তথা দেশকে বের হয়ে আসার সদুপদেশ দিচ্ছে তাদেরকে সরকার পক্ষ ‘অপশক্তি', ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি' হিসেবেই অভিহিত করে সার্বভৌমত্ব বিলোপের বিদেশী ষড়যন্ত্রের সারথী হতে ইচ্ছুক। সরকারের ভাব-গতিক দেখে ভারতের হাই কমিশনার পিনাক চক্রবর্তী বাংলাদেশের প্রতি তার স্বভাবসুলভ অভিভাবকের ঔদ্ধত্য নিয়ে বলেই ফেলেছেন যে, ‘ভারতীয় জুজু দেখানো রাজনীতির কোন ভবিষ্যৎ নেই' এবং প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেই ফেলেছেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ‘রাজনৈতিক বিভাজন রেখা' একদিন থাকবে না, ভিসা প্রথাও উঠে যাবে। তবে তখন তাদের বন্ধু সরকারের সার্বভৌম পরিচয়টুকু থাকবে কিনা, পিনাক বাবু সে কথা বলেননি।
পিনাক বাবুর এই বক্তব্যের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার অভিযোগ সরকার দেশের মানচিত্র বদলাতে চায়, এই আশঙ্কা আরো বিশ্বাসযোগ্যতা পেল। ফলে সৈয়দ আশরাফের আনীত বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘দেশদ্রোহিতার' অপবাদ তার নিজের ওপরই বুমেরাং হয়ে ফিরে গেছে। নির্বাচিত বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকারকে ঝাঁকি দিয়ে', ফেলে দিতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। বলেছেন, ‘আংগুল বাঁকা করলে সরকার কীভাবে ক্ষমতায় থাকে, দেখে নেবো। এটাও কি তাহলে দেশদ্রোহিতা?' বিএনপি'র মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার বলেছেন, সরকার মনে করছে, তারাই সর্বশেষ সরকার। কিন্তু গণতন্ত্রে কোন সরকারই সর্বশেষ সরকার হয় না।
আমাদের দেশে সোভিয়েত পেরেস্ত্রয়কার হাত ধরে যেসব কমরেড সংস্কারপন্থী হয়েছিলেন তাদের শেষ ঠিকানা হয়েছে ‘প্রথম আলো'র রূপান্তরিত কমরেড মতি সাহেবদের মতো সাম্রাজ্যবাদীদের উচ্ছিষ্ট পূঁজির সেবাদাস হওয়া। ভারতের ‘র'-এর কারখানায় তৈরি নকল তালেবান ও ইসলামী জঙ্গিরা শুধু পাকিস্তানকেই ছারখার করছে না, তাদের প্রেতাত্মারা বাংলাদেশেও ভর করেছে। তারা ইসলাম, মুসলমান ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদেশের মার্সিনারী বাহিনী হয়ে অন্তর্ঘাত চালাচ্ছে। সরকারকে এদের সাথে ডুব-সাঁতার খেলতেই হবে। পরাভূত হওয়া ইসলামী জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকারের ব্যাপক প্রচারণা এই সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দলে দলে মোস্ট ওয়ান্টেড ভারতীয় জঙ্গিরা বাংলাদেশী গোয়েন্দাদের জালে পঙ্গপালের মতো ধরা পড়ছে। এও কম রহস্যপূর্ণ নয়। ভারতের গোয়েন্দা ও সীমান্ত প্রহরীদের দৃষ্টি এড়িয়ে ঐ দেশের ভয়ঙ্কর ও মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিরা বাংলাদেশে এসেই ধরা পড়ছে। এদের বাংলাদেশে যারা ঢুকিয়েছে, তারাই ধরিয়ে দেবার নাটক করছে না তো?
এশিয়ান হাইওয়ের বিতর্কিত ভারতীয় রুটপ্লান গ্রহণ করার পর সরকারের বিরুদ্ধে ভারতকে করিডোর দেবার অভিযোগ খন্ডন করার যে সব যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, এমনকি প্রধানমন্ত্রী তার সমালোচকদের ‘গুগল' মানচিত্র দেখে নেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। কিন্তু তাতে করিডোর আতংক অপসৃত হয়নি। এবার চীন-মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সাথে মিলতে চেয়ে যে প্রস্তাব দিয়েছে, সরকার তা গ্রহণ করতে না পারলে প্রমাণ হবে, আমাদের সরকার পিনাক বাবুদের বুদ্ধি-- পরামর্শের বাইরে এসে কোন স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।কিন্তু সরকার যদি ‘আমাদের' প্রতিনিধিত্ব না করে তাদের নিজস্ব দলীয় স্বার্থে কোন একটি আধিপত্যবাদী শক্তির বৃত্তে আবদ্ধ থাকার দায় গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে এই ঔচিত্যবোধ তাদের কাছে আশা করে কোন ফল পাওয়া যাবে না।
১/১১ জারজ অশ্বডিম্বের প্রসবকৃত কুসন্তান আজকের মহাচোর সরকার।ম উ আহমদের অবৈধ ধারণকৃত ক্ষমতায় প্রসবকৃত সরকারকে দেশের মানুষ সন্দেহের চোখে দেখছে প্রথমদিন থেকেই।৮৭ শতাংশ ভোট, অবৈধ ব্যালট যত্রতত্র পাওয়া, ভোটার থেকে কাস্ট বেশি হওয়া, ডিজিএফআই এর নির্বাচনের দিনের রহস্যময় ভূমিকা, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকা,এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।মহা মহাচোর নেত্রী ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বেই অবৈধ সরকারকে বৈধতা দেবার ঘোষণা দিয়েছিলেন।চোখ বন্ধ করে ফখরুদ্দীন ও মইনের বিচারের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকলেন।প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি অধীনতামূলক মিত্রতাসুলভ মনোবৃত্তি যার প্রমাণ টিপাইমুখ ড্যাম নিয়ে দেশের এক্সপার্টদের মতামতকে অগ্রাহ্য এবং সেই সাথে পিনাকের ঔদ্ধত্য আচরণকে মুখবুজে সহ্য করা। বিডিআর হত্যাকান্ডের সাথে ভারতের সম্পর্ক থাকাকে আওয়ামী লীগ কোনভাবেই আমলে নেয়নি।অথচ পৃথিবীর এমন কোন সভ্য জাতি নেই যারা সীমান্ত রক্ষীদের যাদের কারণে সীমান্ত পাহারা দিতে হয় তাদের সাহায্যে গড়ে তুলতে চায়।
-গত নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে চতুর আওয়ামীলীগ গরু চোরের মতই অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ।তারা দিন বদলের শ্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে ।ক্ষমতায় আসার পর এবার আগের মত তাদের তোড় জোড় নেই ।কিন্তু শালা দুলাভাইয়ের খেলার মত অপকর্ম চলছে তীব্র গতিতে ।প্রথমেই তারা অত্যন্ত নির্লজ্জ ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সফলতার সাথে দলীয় করণ করেছে ।এ সরকারের নয় মাসে যত পরিমাণ অফিসার ওএসডি হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে তা আর কখনো হয় নি।আওয়ামীলীগের হাতে মসজিদগুলোও দলীয়করণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।বায়তুল মোকার্রমের বর্তমান খতিব আওয়ামীলীগের তাবেদার মোল্লা।তিনি আটরশির তথাকথিত পীরের খলিফা।কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ইমামকে অপ্রত্যাশিতভাবে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামীপন্থি বিতর্কিত মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদকে ইমাম করা হয়।
-একদিকে হাসিনার মাথায় দাদাদের আশীর্বাদ অপরদিকে বামদের হাতে বন্দী হাসিনা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা যদি ভারত এবং বাম রাজনৈতিক মতাদর্শের দ্বারা পরিচালিত হয় সেক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের করার কিংবা বলার কিছুই নেই। তবে সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকে যে বাস্তবতা মানুষ মেনে নিয়েছে তা হলো শিয়াল কখনও মুরগির বন্ধু হতে পারে না। দেশ এবং জনগণের স্বার্থে কথা আমাদের বলতেই হবে। জনতার এ লড়াই চলবেই, এ লড়াইয়ে জিততেই হবে।
Thanks SalimC
Could you please eat your shit back, it is filling up the whole e-mela.
AL already withdraw ARMY from
AL already withdraw ARMY from hill tract. which was one of the reason behind KHALEDA ZIA speech.
ARE you suppot this type of anti country activities by AL? if answer is yes, please leave the country and go another country. because your voice as like a NEW RAZAKAR. bangladeshi people never accepted RAZAKER, in future it will be continued.
So, be aware................