জেল হত্যা ১৯৭৫ : বিচারের অপেক্ষায়

খুনিরা আজও সাজা পায়নি
Bookmark and Share
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
আজ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর আগে জেলখানায় চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হলেও প্রকৃত খুনিরা আজও সাজা পায়নি।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় জাতীয় চার নেতা তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরদিন ৪ নভেম্বর তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন আবদুল আউয়াল বাদি হয়ে লালবাগ থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট এ মামলার রায় দেয়া হয়। রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস এক আসামির মৃত্যুদ- বহাল ও আট আসামির বিষয়ে কোন আদেশ দেয়নি আদালত। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। এখন লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য অপেক্ষা করছে সরকার পক্ষ।

এ ব্যাপারে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল সংবাদকে বলেন, আমরা লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিলের শুনানি শেষ হওয়ার পর আমরা লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য আদালতে আবেদন জানাব।

জেল হত্যা মামলার সরকার পক্ষের বিশেষ কেঁৗসুলি এডভোকেট আনিসুল হক গতকাল সংবাদকে বলেন, আদালত যেদিন লিভ টু আপিলের শুনানির দিন ধার্য করবেন সেদিনই আমরা শুনানির জন্য তৈরি হয়ে আছি। এটর্নি জেনারেল অফিস থেকে যে কোন সময় আদালতে লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য আবেদন করা হতে পারে।

আশা করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানি শেষ হওয়ার পর জেলহত্যা মামলার লিভ টু আপিলের শুনানি হতে পারে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার বিচার প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে সরকার পক্ষ এসব জেলহত্যা মামলার ব্যাপারে আর সময় ক্ষেপণ করতে চায় না।

জেলহত্যা মামলার ছয় আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর লিভ টু আপিলের (আপিল অনুমতি) আবেদন দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট সেকশনে সরকারের পক্ষ থেকে এডভোকেট মুসফিকুর রহমান এ আবেদন দায়ের করেন। হাইকোর্টের রায়ে খালাসপ্রাপ্ত ছয় আসামির মধ্যে চার আসামি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি। তারা হলেন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ। এই চার আসামি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। বাকি দুই পলাতক আসামি মারফত আলী ও আবুল হোসেন মৃধা। কারাগারে আটক আসামিদের জন্য চারটি এবং পলাতক দুই আসামির জন্য একটি মোট পাঁচটি আপিল দায়ের করা হয়। এ বিষয়ে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, জেলহত্যা মামলা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিলের শুনানি শেষ হওয়ার পর বিষয়টির শুনানি করতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট মামলার রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি মারফত আলী শাহ ও হাসেম মৃধা এবং যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর মো. বজলুল হুদা ও মেজর একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদকে বেকসুর খালাস দেন। তবে আদালত রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদ- বহাল রাখেন এবং যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত অন্য ৮ জনের সাজার বিষয়ে কোন আদেশ দেননি। ফলে ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদ- বহাল থাকে। মৃত্যুদ-প্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আতাউর রহমান খান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। আপিল না করায় নিম্ন আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ, লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল এসএইচএমবি নুর চৌধুরী, লে. কর্নেল এএম রাশেদ চৌধুরী, মেজর আহাম্মদ শারফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন কিসমত হোসেন ও ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেনের সাজার বিষয়ে কোন আদেশ দেননি হাইকোর্ট।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ভোর চারটার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় জাতীয় চার নেতা তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এরপর দিন তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন আবদুল আউয়াল বাদি হয়ে লালবাগ থানায় মামলা করেন। মামলার এজহারে মোসলেম উদ্দিনসহ কালো পোশাক পরিহিত ৪ জনের কথা উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন সময়ে ডিএসপি সাইফুদ্দিন আহাম্মদ, এএএসপি এজি মোস্তাক, এএসপি ফজলুল করিম এবং এএসপি খালেকুজ্জামানকে মামলার তদন্তভার দেয়া হলেও ১৯৯৬ সালের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত কোন অগ্রগতি হয়নি। ১৯৯৬ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নতুন করে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং ১৮ আগস্ট সিনিয়র এএসপি আবদুল কাহহার আকন্দ মামলার তদন্তভার নেন। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে এ মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০০০ সালের ১২ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মতিউর রহমান ৩ জনকে মৃত্যুদ- ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারদ- এবং ৫ জনকে বেকসুর খালাস দেন। তবে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি নেতা মৃত কেএম ওবায়দুর রহমান, বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম মঞ্জুর, জাতীয় পার্টি নেতা মৃত তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মেজর অব. খায়রুজ্জামানকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
রেটিং দিন :

জেল হত্যা ১৯৭৫ : বিচারের অপেক্ষায়
সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না
0%

গড় রেটিং:

রেটিং :
Bookmark and Share
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন
আমার প্রিয় কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের একটি গানের কিছু কলি এমন : পথ চলা পথিক পেছন ফিরে ফেলে আসা পথকে দেখলে তার মন ভেঙে যায়। অর্থাৎ পাড়ি দিয়ে আসা পথ সুখের ছিল এখন পথপরিক্রমা অত সুখের নয়। কাজেই এক ধরনের নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে এ মন ভেঙে যাওয়া অথবা এও হতে পারে, পাড়ি দিয়ে আসা পথে সঞ্চিত হয়েছে পথিকের দুঃখ-যাতনার স্মৃতি। অর্থাৎ গানের কলিগুলোর অর্থ দু'ধরনের হতে পারে।
স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা বিগত চার দশকে যে বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েছি পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখলে আমাদের মন ভেঙে যাওয়ার মতো অনেক স্মৃতি আছে, আছে রক্তপাত অনেক অভিজ্ঞতাও। এমন স্মৃতি আর অভিজ্ঞতা বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ ঘটায় নিয়ত। এমন স্মৃতি আর অভিজ্ঞতার তালিকা বেশ দীর্ঘ, যার শুরুতেই আছে ১৫ আগস্ট আর দ্বিতীয়টি ৩ নভেম্বর। দুটি তারিখই '৭৫-এর। '৭১ ছিল আমাদের সারা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে অবিশ্বাস্য অর্জনের বছর আর '৭৫ আমাদের অনেক কিছু হারিয়ে হতদরিদ্র হওয়ার বছর। অবশ্য যাদের কারণে আমাদের হতদরিদ্র হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা বৈরী পক্ষের জন্য বছরটি ছিল, ইংরেজি একটি লাগসই শব্দবন্ধ অনুসারে, 'অ্যানাস মিরাবিলিস', 'ওয়ান্ডারফুল ইয়ার'। কারণ এ বছর তাদের অর্জন ছিল অবিশ্বাস্য।
'৭৫-এর ৩ নভেম্বর একই সমান্তরালে ঘটেছিল দুটি ঘটনা : খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ সৈন্যদের ১৫ আগস্ট অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের চার নেতার জেল হত্যা। ঘটনা দুটি একই সমান্তরালে ঘটলেও কার্যকারণগত পটভূমি, কুশীলব ও উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। অবশ্য সময়ের ব্যবধানে পেছন ফিরে দেখে এমন একটি ধারণা করা অযৌক্তিক নয় যে, দ্বিতীয় ঘটনার কুশীলবদের একটি উদ্দেশ্য ছিল, ঘটনাটির দায়ভার প্রথম ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মতো আবহ তৈরি করা। কিন্তু এতদিনে যেসব তথ্য-প্রমাণ হাজির হয়েছে, যার ফলে এমন কৌশল ভেস্তে গেছে।
৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে যে পাল্টা অভ্যুত্থান হয়েছিল তা নিয়ে অন্তত তিনটি অভিমত প্রচলিত আছে। এক. ১৫ আগস্টের কুশীলব মেজর বাহিনীর কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা বা চেইন অব কমান্ড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। বঙ্গভবনে অবস্থান নিয়ে তারা একাধারে দেশ ও সেনাবাহিনী পরিচালনার মতো নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেছিল। অবশ্য সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, যা ১৫ আগস্ট থেকেই শুরু হয়েছিল বিপন্ন বিষয়ের ব্যাপারে। যা হোক, বলা হয়ে থাকে খালেদ মোশাররফের লক্ষ্য ছিল অবনতিশীল পরিস্থিতির রাশ টেনে ধরা এবং সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। উপরন্তু অভ্যুত্থানটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সপক্ষেও পরিচালিত হয়েছিল এমন ধারণা ছিল। দুই. বাকশাল ও ভারতপন্থিদের সপক্ষে ছিল এই অভ্যুত্থান। এমন অভিমত তৈরি হওয়ার কারণ ছিল অভ্যুত্থান হওয়ার পরপরই খালেদ মোশাররফের মা'র নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি অভিমুখে মিছিল যাওয়া। মিছিলটি যে কারণেই হোক না কেন, তা খালেদ মোশাররফের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তিন. সেনাপ্রধানের পদ করায়ত্ত করার লক্ষ্যে খালেদ মোশাররফের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে এ অভ্যুত্থান।
পেছন ফিরে তাকালে ঘটনাটি সম্পর্কে একটি তাত্তি্বক প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক হয়। ৩ নভেম্বরে কি সামরিক অভ্যুত্থান (পড়ঁঢ় ফ্থবঃধঃ) ছিল? বিস্তৃত ও গভীর কোনো আলোচনা এখানে সম্ভব নয়। একটি সহজ ব্যাখ্যা তৈরি করা যায়। সামরিক অভ্যুত্থান সামরিক বাহিনীর আকস্মিক ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ায় সরকার পরিবর্তন হওয়া বা রাজনীতির সামরিকীকরণ। উল্লেখ্য, সামরিক বাহিনী বলতে মুষ্টিমেয়, সামরিক কর্মকর্তা বা সৈনিককে বোঝায় না; বোঝায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামরিক বাহিনীকে। এমন একটি সংজ্ঞার্থের নিরিখে ৩ নভেম্বর কেন, ১৫ আগস্টও কোনো সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না। অবশ্য এটা ঠিক যে, ১৫ আগস্টের পর সরকার পরিবর্তন হয়েছিল। তবে যা হয়েছিল তা যে সামরিক বাহিনীতেই গ্রহণযোগ্য ছিল না তার প্রমাণ ৩ নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থান। কাজেই ১৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামরিক বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা প্রশ্নবিদ্ধ এবং যে কারণে 'ক্যু-তত্ত্ব'ও প্রযোজ্য নয়। কিন্তু তারপরও কিছু কথা থেকে যায়। কিছু উচ্ছৃঙ্খল সেনা সদস্যের কাজ ১৫ আগস্ট হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বিধি অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন? কোনো ব্যবস্থা যে নেওয়া হয়নি তা বাস্তব সত্য; কিন্তু যাদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল তারাও যে সেনাবাহিনীর বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছিল তাও তো অনস্বীকার্য। ঠিক এই ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ নভেম্বর যা ঘটেছিল সেটাও কোনো 'ক্যু' নয়।
সামগ্রিক বিচারে দুটি ঘটনাই ছিল সামরিক বাহিনীর ক্ষুদ্রাংশের কাজ এবং তাতে প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ছিল অনুপস্থিত। উপরন্তু প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী উভয় ক্ষেত্রেই এক বা একাধিক সামরিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অভিলাষ ও উদ্যোগ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিল।
৩ নভেম্বরের দ্বিতীয় ঘটনাটি ছিল জেল হত্যা। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম মুক্তি/স্বাধীনতা যুদ্ধের ফসল হিসেবে হানাদার শত্রুমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার সাফল্যে উজ্জ্বল ছিলেন এমন চার নেতার জেল হত্যা ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার ধারাবাহিকতার অংশ ছিল। তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানের মতো নেতাদের একমাত্র অপরাধ ছিল তারা একটি সফল মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে সম্ভব করেছিলেন।
জেলখানায় আবদ্ধ থাকা মানে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা। এমন অবস্থায় কয়েদি যে-ই হোক না কেন তার নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রথমত জেল কর্তৃপক্ষের এবং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের। হত্যার পর তৎকালীন জেল কর্তৃপক্ষের কোনো বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এমন কোনো তথ্য নেই_ প্রশ্ন এখানেও। আর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের শীর্ষে তখন খন্দকার মোশতাক (অবশ্য মেজরদের পুতুল); তার নির্দেশে সংঘটিত হয়েছিল হত্যাকাণ্ডটি। তার বিরুদ্ধেও কোনো তদন্ত বা বিচারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কী আশ্চর্য এ দেশ! এ দেশে খুনের বিচার হয় না, খুনির বিচার হয় না।
বরং খুনি তো পুরস্কৃত হয়েছে নানাভাবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর হলে এমন দুর্নাম কিছুটা ঘুচবে। কারণ তখন থাকবে জেল হত্যার বিচার ও বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচারের দায়, থাকবে যুদ্ধাপরাধী বিচারের দায়ও।
কিন্তু কেন এই জেল হত্যা? ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতায় যে জেল হত্যা তার উদ্দেশ্য যে ছিল দেশকে নেতৃত্বশূন্য করা তা সহজেই বোধগম্য। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরও এই চার নেতা থাকলে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। উপরন্তু জেল হত্যা মোশতাক-মেজর গংয়ের এক ধরনের 'প্রিএম্পটিভ অ্যাকশন' ছিল। কারণ খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান টিকে গেলে এই চার নেতা কার্যকরভাবে সক্রিয় হবেন এবং তাহলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার লক্ষ্যটি আর অর্জিত হবে না_ এমন একটি ভাবনা যে জেল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের ছিল তা ধারণা করা যায়। সামগ্রিক লক্ষ্যটি ছিল বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করা। '৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির চরিত্র বদল আর ঘটনাপ্রবাহে দক্ষিণপন্থি প্রবণতা (পাকিস্তানপন্থি?) প্রমাণ করে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা ও ৩ নভেম্বর তার নেতার জেল হত্যার কারণ ও লক্ষ্য কী ছিল। উপরন্তু এটিও উল্লেখ্য, '৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেছে ১৫ আগস্ট ঘটনার সুবিধাভোগীরা এবং যারা বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার হত্যাকারীদের নানাভাবে পুরস্কৃত করেছে।
৩ নভেম্বরের এই দুটি ঘটনার পাদটীকা হিসেবে উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানি খালেদ মোশাররফের ব্যক্তিগত ভূমিকা। মনে হয় গভীর কোনো ভাবনা ও পরিকল্পনা থেকে তিনি অভ্যুত্থান সংঘটনে উদ্যোগী হননি। ঘটনাপ্রবাহের আকস্মিকতায় একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তার কিছু করণীয় আছে এমন একটি মানসিক পরিস্থিতি সম্ভবত যুক্ত হয়েছিল ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে এবং গৃহীত হয়েছিল একটি উদ্যোগ, যা অতি দুর্বল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। তবে তার উদ্দেশ্য ছিল প্রধানত দুটি। এক. সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে উত্তাল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। দুই. সেনাপ্রধানের পদটি অর্জন করা এবং তা করতে গিয়েই তিনি যেন পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, যার মাশুল দিতে হয়েছিল প্রাণ দিয়ে। মনে হয় তিনি দ্বিতীয় লক্ষ্য নির্ধারণে এবং তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে গিয়ে মানবীয় সীমাবদ্ধতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
-সৈয়দ আনোয়ার হোসেন : ইতিহাসবিদ

জেল হত্যা ১৯৭৫ : বিচারের অপেক্ষায়
১৫ আগস্টেরই প্রলম্বন
0%

গড় রেটিং:

রেটিং :
Bookmark and Share
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
৩ নভেম্বরের জেল হত্যা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না। পনেরোই আগস্টের সফল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ধারাবাহিক পরিণতি। পনেরোই আগস্টের সন্ত্রাস সংঘটিত না হলে, বা বিফল হলে, ৩ নভেম্বরের অচিন্তনীয় বর্বরোচিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ঘটত না। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এজন্য বলছি যে, রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে (নির্দেশে?) সেনাসদস্যরা অস্ত্র হাতে কারাগারে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে বীরদর্পে বেরিয়ে এসেছিল।
চার নেতা শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাননি। আসামি হয়েও না। এমনকি অভিযুক্তও ছিলেন না। ছিলেন রাজনৈতিক বন্দি। রাষ্ট্রের হেফাজতে। তাদের জীবন ছিল সরকার তথা রাষ্ট্রের কাছে আমানত। রাজনৈতিক বন্দি একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার নিরাপত্তা রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারভিত্তিক দায়িত্ব। এমনকি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির নিরাপত্তাও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এ অবস্থায় চারজন জাতীয় নেতাকে কেন এবং কেমন করে হত্যা করা হলো?
৩ নভেম্বর বুঝতে হলে, পনেরোই আগস্ট বুঝতে হবে। দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড একই সুতোয় গাঁথা, একই ষড়যন্ত্রের ফল, একই লক্ষ্যে সংঘটিত। পনেরোই আগস্ট কি শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্যই সন্ত্রাস চালানো হয়েছিল? সোজাসাপ্টা জবাব হবে জোরালো 'না'। ষড়যন্ত্রের প্রথমপর্বে ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা। ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান পুনরুদ্ধার। প্রমাণ চান? হ্যাঁ, প্রমাণ রয়েছে। পনেরোই আগস্টের হত্যাযজ্ঞের পর পাকিস্তানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সর্বপ্রথম ওয়াশিংটনে যে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, এখন তা সর্বসাধারণ্যে প্রকাশিত। সে বার্তায় বাংলাদেশকে উলেল্গখ করা হয়েছে, 'ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ' হিসেবে। ওইদিন অপরাহ্নে পাকিস্তানের সরকারপ্রধান জুলফিকার আলি ভুট্টো মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে অনুরোধ করেছেন দেশটিকে নতুনভাবে স্বীকৃতি দিতে। এর অর্থ কি? সহজ অর্থ হলো, ওটাই ছিল পরিকল্পনা। কিন্তু হয়ে ওঠেনি। পরিকল্পনামাফিক ইসলামিক রিপাবলিক হলে, এটি হতো আরেকটি পাকিস্তান। তারপর চলে আসত কনফেডারেশনের কথা। মূল পরিকল্পনার এ অবয়বটি মনে রাখলে পরবর্তী সব ঘটনা-দুর্ঘটনার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা মিলবে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যাই যদি একমাত্র লক্ষ্য হতো, তাহলে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি হতেন। তিনি না হলে স্পিকার আবদুল মালেক উকিল রাষ্ট্রপতি হতেন। কোনোক্রমেই খোন্দকার মোশতাক হতেন না। চক্রান্ত যেহেতু পাকিস্তান পুনঃস্থাপন, সেজন্যই সংবিধান অনুযায়ী কাজ হয়নি। কাজ হয়েছে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা অনুযায়ী। মোশতাকও নীলনকশার মূল চরিত্র নন। তিনি ছিলেন মূল চরিত্রের ছায়া। ছায়া অপসারিত করে মঞ্চে যথাসময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন নীলনকশার মূল ব্যক্তি। জেনারেল জিয়াউর রহমান।
এ বিশেল্গষণই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ৩ নভেম্বর ছিল অবশ্যম্ভাবী। জেলখানায় হত্যা করা হয়েছিল চার নেতাকে। তারা হলেন তাজউদ্দীন, সৈয়দ নজরুল, মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামান। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে প্রবাসী সরকার এবং সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এ চারজনের যে কোনো একজন বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর দেশ পরিচালনায় উপযুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে তাজউদ্দীন ও সৈয়দ নজরুল মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছিলেন। তাদের বাঁচিয়ে রেখে 'পাকিস্তান' পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই তাদের প্রথম ভারতীয় এজেন্ট বলে অভিহিত করে এবং ব্যক্তিগত বদনাম রটিয়ে ভাবমূর্তি নষ্ট করার পদক্ষেপ নিল পঁচাত্তরের নায়করা। কিন্তু তাতেও তুষ্টি মিলল না। আস্থা পেল না। তাই সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় আদিম বর্বরতার মধ্য দিয়ে তাদের খুন করা হলো। এ হত্যাকাণ্ডে দখলদার প্রেসিডেন্টের সংশ্লিষ্টতা এখন প্রকাশ হয়ে পড়েছে। তবে শুধু তার মতো একজন দুর্বল ব্যক্তির সিদ্ধান্ত এটি হতে পারে না। মোশতাক তখন বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের মুখোশমাত্র। মুখোশ খুলে ফেলামাত্র আসল মুখ বের হয়ে এসেছিল। স্পষ্টভাবেই ধারণা করা যায়, যেসব সেনাকর্তারা পনেরোই আগস্ট হত্যাকাণ্ডে ক্রীড়নকের ভূমিকায় ছিল, তারাই ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের হোতা।
মার্শাল ল'র লৌহকপাট ভেদ করে তখন পরিষ্কার কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। লৌহকপাট ভেঙে গেল। আন্দোলন হলো। ধীরে ধীরে কারা অন্তরালের কিছু সংবাদ বেরুতে লাগল। প্রকাশিত তথ্যমতে, প্রথমে কারা কর্তৃপক্ষ আততায়ীদের জেলখানায় ঢুকতে দিতে সম্মত হয়নি। কিন্তু দেশের স্বঘোষিত দখলদার রাষ্ট্রপতি টেলিফোনে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলেন, 'ওরা যা করতে চায়, করতে দাও'। কার ঘাড়ে ক'টা মাথা আছে। কারারক্ষীরা অজানা আতঙ্কে শিউরে উঠলেন। হন্তারা দস্যুর মতো হনহন করে কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করল। চার নেতাকে এক কক্ষে জড়ো করল তারা। তারপর পৈশাচিক আনন্দে গুলি করে মেরে ফেলল সবাইকে। হত্যাকারীরা সদর্পে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় কার্যে ফিরে এলো। ক্ষমতাসীনরা কেউ প্রশ্ন করল না। তাহলে কোন শক্তিশালী সেনানায়কের আশ্রয়ে তারা অবস্থান নিয়েছিল?
এখন প্রশ্ন আসে, পাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যই যদি আগস্ট ও নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকে, তাহলে পাকিস্তান হলো না কেন? এত বড় হত্যাকাণ্ড সামাল দিতে গিয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অত বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারেনি। মনে রাখা প্রয়োজন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল আপামর জনসাধারণ। যুদ্ধজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছিল। পাকিস্তানভুক্তি জনগণ ও ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোমুখি দাঁড় করাত। তাৎক্ষণিকভাবে সে সাহস তারা করেনি। তাছাড়া দেশটির চতুর্দিকেই ভারত, যে দেশটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির সহযোদ্ধা। ফলে ষড়যন্ত্রকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করল। পাকিস্তানপন্থিদের এদেশে পুনর্বাসন করা হলো। বিদেশি বন্ধুদের অর্থে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে দেওয়া হলো 'সংগ্রামের' পুঁজি গড়ে তোলার জন্য। ধর্মের দোহাই দিয়ে গ্রাম-গঞ্জে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হলো। রাজনীতিতে হোন্ডা-গুণ্ডা, ভুয়া ভোট, ভোটচুরি, ভোটাঙ্ক পাল্টে দেওয়া_ প্রভৃতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে 'ষড়যন্ত্রের গণতন্ত্র' প্রতিষ্ঠা করা হলো। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে 'নির্বাচনে' প্রকৃত বিজয়ী কখনও বিজয়ী ঘোষিত হবেন না। বহুদলীয় গণতন্ত্রের লেবাসে এ 'সরকারদলীয়' একদলীয় গণতন্ত্র কায়েম করা হলো। ধীরে ধীরে সব প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে একত্র করে চারদলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। পাকিস্তান পুনঃস্থাপনের (যে কোনো আঙ্গিকে) প্রচেষ্টায় চারদল প্রথমপর্বে (ক) হিন্দু নিধন, নির্যাতন ও বিতাড়ন, (খ) আওয়ামী নেতাকর্মী নির্যাতন, হত্যা ও (গ) প্রগতিশীল চিন্তা-ভাবনার মানুষদের হত্যা-নির্যাতনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করল।
ধারণা করা হয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আঁতে ঘা লেগেছিল পাকিস্তানের আর অহমিকায় আঘাত লেগেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। পাকিস্তানের ভুট্টো যুক্তরাষ্ট্রের কিসিঞ্জারের কূটনৈতিক সহায়তায় দুঃসাহসী এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়েছিলেন। এর প্রমাণ মেলে লন্ডনে। লন্ডনে গঠিত হয়েছিল 'পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি'। ভুট্টো নিয়মিত টাকা পাঠাতেন ওই কমিটির সদস্যদের। জামায়াত-মুসলিম লীগ সমন্বয়ে কমিটি পরিচালিত হতো। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ওইসব ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হয়ে নীলনকশা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছিলেন। এই নীলনকশার পরিকল্পিত নৃশংসতা ধীরে ধীরে সংঘটিত হতে থাকে। কৌশলগত কারণে রাজনৈতিক দলকে ঘাতক দল থেকে পৃথক রাখা হয়েছিল। পাকিস্তানপন্থি রাজনীতিকরা বকধার্মিকের মতো 'ক্লিন' থাকলেন। ঘাতকরা লক্ষ্য অর্জনে একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে চলল। বকধার্মিকরা কোনোটাই ধরলেন না। আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে তাদের অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা দিতে লাগলেন। শোনা যায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আইএসআই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে। তাদের অনুপ্রবেশ ঘটে বাংলাদেশের ইন্টেলিজেন্স তথা রাষ্ট্রযন্ত্রের স্ট্র্যাটেজিক অবস্থানগুলোতে।
স্বাধীনতা-উত্তর পাক ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিক রূপায়নে বাংলাদেশি পাকপন্থিদের নৃশংসতার ধারাবাহিক ঘটনা ছিল ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর। এটিই প্রথমপর্ব। ১৫ আগস্ট আর ৩ নভেম্বর মিলেই নেতৃত্বশূন্যতা সৃষ্টি সম্পন্ন হয়েছিল। দ্বিতীয়পর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ব্যাপক মুক্তিযোদ্ধা সেনাদের হত্যা এবং অপসারণের মাধ্যমে ক্লিনিং অপারেশন চলল। জেনারেল থেকে সৈনিক সব পদেই। এভাবে অস্ত্র দখল সম্পন্ন হলে, রাজনীতি দখল, প্রশাসন দখল, সম্পত্তি দখল, ব্যবসা-বাণিজ্য দখল, শিক্ষাঙ্গন দখল, ইত্যাকার দখল প্রক্রিয়া চলল। 'ফেইল্ড স্টেট' বানানোর প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পেঁৗছেছিল। ধাক্কা খেল ২৮ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে জনগণের অচিন্তনীয় এক ভোট বিপল্গবের মাধ্যমে। সংগঠিত ষড়যন্ত্রকারীরা বসে থাকবে মনে করার কারণ নেই। ভোট বিপল্গবকে সংহত করতে হলে, প্রশাসন, সেনা, বিচার, ব্যবসা, শিক্ষা, সব অঙ্গন থেকে দীর্ঘকাল থেকে পুনর্বাসিত সহিংস পাকপন্থিদের নিষ্ক্রিয় ও নির্জীব করে ফেলতে হবে। না পারলে, ৩ নভেম্বরের ধারাবাহিকতায় তারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়াস অব্যাহত রাখবে। তাই ৩ নভেম্বরকে অতীত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।
-খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ : ব্যাংকার ও কলামিস্ট

জেলহত্যা : ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়
Bookmark and Share
মোহাম্মদ শাহজাহান
৩ নভেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিন ভোরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় চার জাতীয় নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এ নেতারা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশের দুই যুগের মুক্তি সংগ্রামে চার নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু মুজিব এবং বাংলার হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে এই চার জাতীয় নেতাও বারবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, বছরের পর বছর তারা কারাবরণ করেছেন। চার নেতার বিশেষ অবদান হলো ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে তারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ঢাকা জেলে নিহত এই চার মহান জাতীয় নেতা হচ্ছেন স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রী এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামান।

জেলহত্যার ৭৯ দিন আগে '৭৫-এর ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ওইদিন আরও হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভগি্নপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এবং জাতির জনকের ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্ব্বা সহধর্মিণীকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অন্যায়, অবৈধ এবং অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক আহমদ। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু এবং জেলে চারনেতা হত্যা কোন সাধারণ ঘটনা নয়। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের বাংলাদেশী দোসরদের সহযোগিতায় ইতিহাসের এই কলঙ্কিত হত্যাকা- ঘটায়।

কিন্তু কেন এই বর্বর হত্যাকা-? কারণ একটাই। পৃথিবীর প্রভাবশালী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন, সৌদি আরব কোনভাবেই পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশের সৃষ্টি মেনে নিতে পারেনি। এই রাষ্ট্রগুলো '৭১ সালে প্রত্যক্ষভাবে সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন সরকারের কর্তাব্যক্তিদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অকুতোভয় মুজিব ৭ মার্চেই স্বাধীনতার ডাক দিয়ে দেন। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কামান-বন্দুকের মুখে দশ লক্ষাধিক লোকের সমাবেশে মুজিব দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন_ 'এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' গেরিলা যুদ্ধের জন্য বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব আরও বলেন, 'আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিও। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।'

'৭১-এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে পূর্বপ্রস্তুতি অনুযায়ী স্বদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। ওই রাতেই পাকিস্তান যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর। শুধু ২৫ মার্চ রাতেই ঢাকা শহরে হাজার হাজার নিরস্ত্র ছাত্রজনতাকে হত্যা করে সশস্ত্র পাকিস্তানি জানোয়াররা। প্রতিরোধ যুদ্ধে লিপ্ত হলো বাঙালি জাতি। সারা বাংলায় প্রতিরোধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। এটাও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য যে, বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন নেতার নেতৃত্বে কোন জাতি এমনভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে কি-না সন্দেহ। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করলে বাংলার মানুষ গর্জে ওঠে। তারা সেদিন মুজিবের নির্দেশের অপেক্ষা করেনি। রাস্তায় নেমে বাংলার মানুষ সেস্নাগান দেয়_ 'স্বাধীন করো স্বাধীন করো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।' 'ভুট্টোর মুখে লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।' কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, জেনারেল ইয়াহিয়ার অধিবেশন স্থগিতের সেই ঘোষণা পাকিস্তানের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করেও স্বাধীনতা ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। মুজিবের অবর্তমানে মোশতাক চক্রের ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও তাজউদ্দীন-নজরুলরা সফল নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় অর্জন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর তার চার সহকর্মী জীবিত থাকলে হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য সফল হতো না। আর এজন্যই জেলখানায় নিরাপদ কক্ষে ঠা-া মাথায় চারনেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর এবং ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা একই সূত্রে গাঁথা। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, তারাই ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্টের হত্যাকা- ঘটিয়েছে। চক্রান্তকারীদের মূল লক্ষ্য হলো, 'স্বাধীন বাংলাদেশকে যেহেতু আর পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত করা যাবে না, তাই বাংলাদেশকে পাকিস্তানের আদলে 'মিনি পাকিস্তানে' পরিণত করা।' মোশতাক, জিয়া, এরশাদ, খালেদা-নিজামী চক্র দুই দশকের বেশি সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে লাখ লাখ জীবনের বিনিময়ে অর্জিত প্রিয় মাতৃভূমিকে 'মিনি পাকিস্তান' বানানোর ষড়যন্ত্রেই লিপ্ত ছিল। আর এ জন্যই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের মূল টার্গেট হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। যে জন্য বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় নেতাদের হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তবুদ্ধি, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য একটার পর একটা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।

লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, একাত্তরের যে আমেরিকা, সৌদি আরব, পাকিস্তান, কিসিঞ্জার, ভুট্টো, মোশতাক গং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, '৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যায় ওই চক্রই সক্রিয় ছিল। অবমুক্ত মার্কিন দলিলে বঙ্গবন্ধু হত্যা-ষড়যন্ত্রে কিসিঞ্জার, ভুট্টো, মোশতাক, জিয়া, মাহবুবুল আলম চাষী_ কে কি করেছেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে সুচতুর জিয়া একাত্তরে নিজেকে আড়াল করতে সক্ষম হলেও পঁচাত্তরে তা করতে সক্ষম হননি। বঙ্গবন্ধু হত্যার ৯ দিনের মাথায় ১৫ আগস্ট হত্যা-ষড়যন্ত্রে অবদান রাখার পুরস্কার স্বরূপ জিয়া-এরশাদ পদোন্নতি পেয়ে সেনাপ্রধান ও উপ-প্রধান হন। জাতির জনক হত্যায় সবচেয়ে লাভবান ব্যক্তি হচ্ছেন জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদ। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধু হত্যার চক্রান্ত করার সময়ই জিয়া-এরশাদকে উত্তরাধিকারী ঠিক করে রাখে। ধীরে ধীরে প্রকাশ হচ্ছে, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার বীরোত্তম খেতাবধারী জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ছদ্মবেশী মুক্তিযোদ্ধা। যে জন্য তিনি একাত্তরের ৯ মাসে কোনদিন সীমান্ত অতিক্রম করেননি। সেক্টর কমান্ডারদের প্রায় সবাই জীবনবাজি রেখে সম্মুখ সমরে অংশ নিলেও জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধ করার একটি ঘটনাও এ পর্যন্ত জানা যায়নি। বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মুক্তিযোদ্ধা উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ জাতীয় সংসদে একবার তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, 'একাত্তরে প্রধান সেনাপতি ওসমানী_ জিয়াউর রহমানকে তিনবার গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেলেন।' মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসপি প্রণীত 'মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সরকার' গ্রন্থে এই তথ্য উল্লেখ রয়েছে। (সূত্র : মাহবুব করিম সম্পাদিত 'তাজউদ্দীন আহমদ_ নেতা ও মানুষ', পৃ. ৮৯)।

একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, প্রবাসী লেখিকা মীনা ফারাহ তার 'হিটলার থেকে জিয়া' গ্রন্থে ১৭৮টি কারণ উল্লেখ করে লিখেছেন_ 'জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।' মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের মদদে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেল হত্যার বিচার শুধু বন্ধ রাখেননি, আত্মস্বীকৃত খুনিদের উচ্চ রাষ্ট্রীয় পদে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। এরশাদ ও বেগম জিয়া একইভাবে খুনিচক্রকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে পূর্বসূরি জিয়ার পদাঙ্কই অনুসরণ করে গেছেন। মর্মান্তিক ষড়যন্ত্রের ২১ বছর পর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেলহত্যার বিচার শুরু করেন। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে খালেদা-তারেক-মওদুদ চক্র বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কাজ সম্পন্ন হতে দেননি। সম্প্রতি মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতির জনক হত্যার বিচার কাজ আবার শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যায় আপিল শুনানিকালে আদালত তৎকালীন সেনাপ্রধান জে. সফিউল্লাহকে 'কাপুরুষ' ও 'মিথ্যাবাদী' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালতের মন্তব্যের জবাব বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত জে. সফিউল্লাহ নিশ্চয়ই দেবেন। তবে পর্যবেক্ষক মহলের মতে, 'মেজর জিয়া ও অন্য আরও অনেকের মতো সফিউল্লাহ বঙ্গবন্ধু হত্যা-ষড়যন্ত্রে জড়িত যেমন ছিলেন না, হত্যার পর লাভবানও হননি।' উচ্চ আদালত জাতির জনক হত্যা ষড়যন্ত্রে জড়িত জিয়াউর রহমান সম্পর্কেও যথাযথ মন্তব্য করবেন বলে দেশের মানুষের প্রত্যাশা।

জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর বিচারে জেলহত্যা মামলায় ৩ জনকে ফাঁসি এবং ১২ জনকে খালাস দেয়া হয়। দ-িত আসামিদের মধ্যে ওই সময় ৩ জন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আটক এবং ১২ জন পলাতক অবস্থায় ছিল। জোট সরকার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দকে প্রথমে বদলি করে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়। মামলার রায়ে দোষ চাপানো হয় তদন্তকারী কর্মকর্তার ওপর। আওয়ামী লীগ আমলে মামলা পরিচালনার জন্য নিযুক্ত আইনজীবীরা জোট সরকারের উলঙ্গ হস্তক্ষেপের কারণে একযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। জাতীয় চারনেতার পরিবার ওই রায়কে প্রত্যাখ্যান করেন। ওই রায় সম্পর্কে দৈনিক সংবাদ সম্পাদকীয়তে লিখে : 'এটা তো বিতর্কাতিত সত্য যে, কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা আকস্মিক মনের খেয়ালে জেলখানায় প্রবেশ করে জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করেছে_ ব্যাপারটা এমন ঘটেনি। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকারীদের নির্দেশ ছাড়া হত্যাকারীরা জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করার জন্য যেমন যেত না, তেমনি জেলের অভ্যন্তরে তাদের ঢোকাও সম্ভব হতো না। সুতরাং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র যে ছিল সে বিষয়ে তো সন্দেহ নেই। তাছাড়া ষড়যন্ত্র না থাকলে মৃত্যুদ- এবং যাবজ্জীবন কারাদ-ের মতো সাজাইবা হলো কিভাবে? কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের সাজা হলো না, তারা রয়ে গেল ধরাছোঁয়ার বাইরে।' (সংবাদ, ২২.১০.২০০৪)

প্রথম রায়ের ৪ বছর পর ২০০৮-এর ২৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদ-ে দ-িত ৩ জনের মধ্যে রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদ- বহাল রেখে অপর দুই মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মো. আবুল হাসেম মৃধা এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে আট জনকে মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আটক এই চারজন আপিল করার পর তারা রায়ে খালাস পেয়ে গেলেন। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত পলাতক অন্য ৮ জনের ব্যাপারে রায়ে আদালত কিছুই বলেননি।

উচ্চ আদালতে রায় সম্পর্কে মন্তব্য করলে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে। তারপরও এটুকু বলতেই হবে_ শুধু মোসলেম একাই জেলে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করেনি। গত সাড়ে তিন দশকে জেলহত্যা নিয়ে অসংখ্য লেখালেখি হয়েছে। এসব লেখালেখি এবং সাক্ষ্য প্রমাণ থেকে জানা যায়, অবৈধ রাষ্ট্রপতি মোশতাক ও ঘাতক রশিদের নির্দেশে চার কুলাঙ্গার জেলে গিয়ে চারনেতাকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করেছে। জেলগেটের খাতায় এবং লালবাগ থানায় প্রদত্ত এজাহারে চার খুনির নাম এখনো লিপিবদ্ধ থাকার কথা।

এই অবস্থায় মোশতাক রশিদ, ঘাতক চারজনসহ আর কারা জেলহত্যা ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল, তাদের মুখোশও জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে। মৃত মোশতাক, জিয়া, মাহবুব আলম চাষী, জীবিত এরশাদ, খালেদা, মওদুদসহ যারা হত্যা ষড়যন্ত্রে জড়িত, যারা জেলহত্যার বিচার বন্ধ রেখে খুনিদের উচ্চপদে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে, যারা বিচার স্থগিত রেখেছে, তা জানার অধিকার জনগণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের রয়েছে। হত্যা-ষড়যন্ত্রে জড়িতদের মধ্যে যারা মারা গেছেন, তাদের শাস্তি দেয়া না গেলেও তাদের সংশ্লিষ্ট থাকা না থাকার বিষয়টি ইতিহাসের প্রয়োজনে দেশবাসীর জানা থাকা উচিত। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সঙ্গে পত্রপত্রিকা ভিন্নমত পোষণ করেছে এবং চারনেতার স্বজনরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বাস্তবতাবর্জিত হাইকোর্টের রায়ের ব্যাপারে রাষ্ট্রের উচিত আপিল করা। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা হত্যাকা-ের ষড়যন্ত্রকারী ও ঘাতকদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত জাতি কিছুতেই কলঙ্কমুক্ত হবে না।

১ নভেম্বর ২০০৯

লেখক : সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা সম্পাদক

১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, ২১ আগস্টের হত্যাযজ্ঞ একই সূত্রে গাঁথা
Bookmark and Share
মোনায়েম সরকার
১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসে আমি ছিলাম কলকাতায়। আগস্ট ট্রাজেডির পর অনেকটা ক্ষোভ-দুঃখ-অভিমান করেই প্রতিশোধ, প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা ত্যাগ করি ১৪ অক্টোবর '৭৫ তারিখে। ৩ নভেম্বর ভোর বেলা পার্ক সার্কাসে আমার আশ্রয়দাতার বাসায় একটি ফোন এলো। বাংলাদেশের পরম সুহৃদ, মুক্তিযুদ্ধের একজন আন্তরিক সহায়তাকারী মিসেস গান্ধীর পরামর্শদাতা অধ্যাপক শান্তিময় রায় আমাকে আর্দ্র কণ্ঠে জানালেন_ 'খবর পেয়েছি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪ জন থেকে ১৬ জন বন্দিকে হত্যা করা হয়েছে, কারা নিহত হয়েছেন বলে তুমি আশঙ্কা করছো?

এমন মর্মবিদারী আশঙ্কার কথা আগে থেকে ভাবাও ছিল কল্পনার অতীত। তবু কেমন করে জানি আমার মুখ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল কয়েকটি শব্দগুচ্ছ, 'কারা আর হবে? বঙ্গবন্ধুর অনুসারী সহকর্মী ও সহযোদ্ধাবৃন্দ।' তারা কারা, বলে শান্তিদা বললেন, আমি এখনই আসছি তোমার কাছে।

আমি ব্যাকুল ও হতাশ হয়ে ভাবতে লাগলাম। এমন সময় আমার চোখ পড়ল পাশের বুকশেলফের দিকে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়ে প্রবাসী জীবনে এই বাসাতেই আমার আশ্রয় জুটেছিল। এই শেলফে তখন আমি অনেক কাগজপত্র রাখতাম। শেলফে একটি বুলেটিন ঝুলে আছে দেখতে পেলাম। টেনে নিয়ে দেখলাম, তাতে মুদ্রিত আছে মুজিবনগরের অস্থায়ী সরকারের সদস্যদের ছবি। এক প্রান্তে বঙ্গবন্ধু, শেষ প্রান্তে খন্দকার মোশতাক, মধ্যে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, কামারুজ্জামান, এম মনসুর আলী। ঘণ্টাখানেক পর অধ্যাপক রায় সে বাসায় পেঁৗছলেন, প্রশ্ন করলেন চিন্তা করে কিছু পেলে? প্রশ্নের উত্তর আমি একটু আমতা আমতা করে বললাম, কে কোন জেলে বন্দি আছেন তাতো ঠিক বলতে পারছি না। তবে ৪ জন হলেন_ ডান হাতে বঙ্গবন্ধুর ছবি আর বাঁ হাতে খন্দকারের ছবি ঢেকে বুলেটিনটি অধ্যাপক রায়ের দিকে তুলে ধরলাম এবং বিচলিত কণ্ঠে বললাম, এই চারজন।

আমার কথা শুনে শান্তিদা বিমর্ষ ও বিচলিত হয়ে পড়লেন। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে শান্তিদা মুক্তিযুদ্ধকালে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন বিভিন্ন কর্মকা-ের মাধ্যমে। তিনি বললেন, যদি এরাই নিহত হয়ে থাকেন তাহলে বাংলাদেশ যে নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ল, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী সকলেই যে নিহত হয়ে গেলেন, কি হবে এখন বাংলাদেশের? উনি আমার কথায় অস্থির হয়ে পুনরায় বাসায় চলে গেলেন। বাসায় ফিরে শান্তিদা পুনরায় ফোন করে জানালেন_ রাজধানী দিলি্ল থেকে খবর এসেছে বলেই চিৎকার করে বলতে লাগলেন চৎড়ঢ়যবঃরপ, চৎড়ঢ়যবঃরপ, মোনায়েম তুমি ঠিকই বলেছ, ঐ চারজনকেই হত্যা করা হয়েছে। শুনে মনটা বিষণ্ন্ন হয়ে গেল।

পরদিন আমাদের আশঙ্কাই সত্যি হয়ে দেখা দিল। প্রবাসে বসেই শুনলাম জাতীয় চার বীর নেতার জেলখানায় নিহত হওয়ার খবর। বিশ্বের কোথাও এভাবে সরকারি হেফাজতখানায় কাউকে বিনা বিচারে নৃশংসভাবে হত্যা করার ইতিহাস আছে কিনা জানি না। স্বাধীনতার বীর সেনানীরা স্বাধীন দেশে এভাবে নিহত হতে পারেন ভাবতেও আমার কষ্ট হচ্ছিল সেদিন প্রবাসে বসে। তখনও অবশ্য আমার জানতে অনেক কিছু বাকি ছিল। সুদীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পর ইতিহাসের পুরনো পৃষ্ঠাগুলো উন্মোচিত হতে চলেছে। সে পৃষ্ঠাগুলো চাপ চাপ রক্তের অক্ষরে বড় করুণ বেদনাঘন। আমরা সেই নিষ্ঠুর প্রতিবিপ্লবের জীবন্ত সাক্ষী। অতি সমপ্রতি জেল হত্যাকা-ের অনেক অজানা তথ্য দেশবাসী জানতে পেরেছেন। রাতের অন্ধকারে নিজেদের বিদায় অত্যাসন্ন জেনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন থেকে খন্দকার মোশতাক, ফারুক-রশিদ চক্র পরিকল্পিতভাবে ঘটায় এই হত্যাকা-। কি বীভৎস আর হৃদয়বিদারক এসব বিবরণী। কেন এই নারকীয় হত্যাকা-? প্রশ্নটির সহজ উত্তর হতে পারে, এরা কেউ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মীরজাফরী করেননি, বাংলার আধুনিক মীরজাফর খন্দকার মোশতাক গোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি হননি, খন্দকারের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হননি। আপাতদৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকেও এভাবে দেখা যায় যে, বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে মোশতাক প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যেই সংঘটিত হয়েছিল পনেরোই আগস্টের মর্মন্তুদ ঘটনা। কিন্তু ব্যাপারটার মূল কি এখানেই, না কি অন্য কোন খানে, আরও গভীর কোন ষড়যন্ত্রে? ঘটনার মূল যেখানেই হোক, ব্যাপারটি যে বাংলাদেশকে নেতৃত্বহীন করে ফেলেছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। বাংলাদেশকে নেতৃত্বহীন করতে কারা চাইতে পারে? কার স্বার্থ হাসিল হতে পারে এই ধরনের হীন রক্তপাতে?

উত্তরটির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে পঁচাত্তরের এসব রক্তাক্ত অধ্যায়ের ফল অনুসন্ধানে। শেখ হাসিনার বিগত ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদ বাদ দিলে বিগত প্রায় তিন যুগ ধরে কারা ক্ষমতার মসনদে আসীন ছিলেন? তারা কি নীতিমালা অনুসরণ করেছিলেন? এসব নীতিমালা কাদের স্বার্থে নিবেদিত হয়েছিল?

এই সময়ে এদেশে ক্ষমতার মসনদে আসীন ছিল রাজনৈতিক ঐতিহ্যহীন সামরিক আমলাতান্ত্রিক গোষ্ঠীর একটি অংশবিশেষ। এরা নীতিগতভাবে বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে চেয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপরীত স্রোতধারায়। স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানপন্থি সামপ্রদায়িক মৌলবাদী শক্তি শুধু পুনর্বাসিতই নয়, ক্ষমতারও অংশীদার হয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামের গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল ধারা থেকে সরিয়ে বাংলাদেশকে স্থাপন করা হয়েছিল পাকিস্তানি ধারায়।

উল্লেখিত প্রেক্ষাপটে কি এ কথা বলা যায় না যে, পঁচাত্তরের রক্তপাত ঘটানো হয়েছিল দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেয়ার প্রয়োজনে। একাত্তরে খন্দকার মোশতাকের ভূমিকার কথা কারও অজানা নয়। অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ময়ুর-পুচ্ছধারী এই দাঁড়কাক পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছিল এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গিয়ে ঐ সব বক্তব্য দেয়ার ষড়যন্ত্রও এঁটেছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তার জাতিসংঘ সফর বন্ধ করে তখন এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছিলেন। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্যই বলতে হবে যে, পরবর্তীকালেও ষড়যন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখে বাংলার এই মীরজাফর। তারপরও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে মন্ত্রীর পদটি তার অব্যাহত থেকেছিল। যার সুবাদে সে আঘাত হানার সুযোগ পেয়েছিল বঙ্গবন্ধু ও তার অনুসারীদের ওপর।

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুসহ বাংলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ধ্বংস করে এদেশে পাকিস্তানি সামপ্রদায়িক রাজনৈতিক ধারা কায়েম রাখতে। বাংলার মানুষের দৃঢ় সংগ্রামী ঐক্যের সামনে সেদিন তাদের ইচ্ছে পূরণ হতে পারেনি, বরং মাথা নত করতে হয়েছিল। সম্ভবত সে শোধ তারা নিয়েছিল ১৯৭৫ সালে প্রথমে বঙ্গবন্ধু ও পরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয় এদেশে।

স্বাধীন বাংলাদেশের সাড়ে তিন বছরের দেশপ্রেমিক শাসনের বিপরীতে এই পাকিস্তানপন্থি শাসনকে কিভাবে মূল্যায়ন করা যায়? উত্তর অবশ্য তেমন কঠিন নয়। সিরাজউদ্দৌলা বাংলার মসনদে আর কয়দিন আসীন ছিলেন। মীর জাফরদের বিচরণই তো ছিল দশকের পর দশক। স্বাধীন বাংলাদেশই বা তা থেকে ব্যতিক্রম হয় কিভাবে? আমাদের সৌভাগ্যই বলতে হবে। বিশ শতক শেষ হওয়ার আগেই স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি আবার দেশের শাসন ক্ষমতায় ফিরে এসেছিল গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মাধ্যমে মাত্র পাঁচ বছরের জন্য।

বঙ্গবন্ধু-পরবর্তী সরকারগুলো (শেখ হাসিনার বিগত সরকার বাদে) মুখে গণতন্ত্র-আইনের শাসন প্রভৃতি বলে গেলেও কার্যত তারা ব্যস্ত থেকেছে নিজেদের ক্ষমতার ভিত পোক্ত করার কাজে। তারা একথা ভাল করেই জানত যে তাদের ক্ষমতার উৎসে আছে পঁচাত্তরের বিয়োগান্তক ঘটনাবলিতে। ঐসব ঘটনার জের যদি জিইয়ে রাখা না যায়, তাহলে তারা আর ক্ষমতায় থাকে না। সে কারণেই তারা পঁচাত্তরের প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে সচেতনভাবে শুধু বিরতই থাকেনি, তার পথ রুদ্ধ করতেই প্রয়াসী হয়েছিল। এর ফল হিসেবেই হত্যাকারীদের কপালে জুটেছিল পুরস্কার, হত্যাকা-ের বিচার দূরে থাক, প্রণীত হয়েছিল ইতিহাসের জঘন্যতম সব কালাকানুন। এত বছর ধরে যে আবর্জনার পাহাড় জমেছে প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের সর্বস্তরে তার অপসারণ এবং গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে খুনিগোষ্ঠীর বিচারও প্রত্যাশা করে বাংলাদেশের জনগণ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদের সরকার জেল হত্যার বিচার শেষ করে যেতে পারেননি। পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জেল হত্যা মামলার নামে প্রহসনের বিচার অনুষ্ঠান করে সব অভিযুক্তকে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে ইতিহাসের আর এক জঘন্য নজির সৃষ্টি করে গেছে। এর প্রতিকার বর্তমান সরকারকেই করতে হবে, জেল হত্যার পুনঃ তদন্ত ও পুনঃ বিচারের মাধ্যমে।

বর্তমান ক্ষমতাসীনদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, '৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা হত্যা ছিল দেশকে বিশেষভাবে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ঘাতকরা এই লক্ষ্যে অসফল হয়েছিল তা বলা যাবে না। একটি প্রজন্মকে তারা খতম করতে সক্ষম হয়েছিল। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলাটিও ছিল এ রকমই আরেকটি পরিকল্পিত হামলা। লক্ষ্য ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণ নেতৃত্বকে পুনরায় ধ্বংস করা। ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর এবং ২১ আগস্টের হামলার ষড়যন্ত্রকারীরা এক ও অভিন্ন। আজ বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচারের রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পেঁঁৗছেছে। এ অবস্থায় শত্রুরা মরিয়া, তারা মরণ কামড় দেবে এটাই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করে ঘটনার সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়াই হবে বর্তমান সরকারের প্রধান কাজ। এজন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সদা সতর্ক থেকে ধৈর্য, কৌশল ও দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের রায় কার্যকর করা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে পারলেই জঙ্গিবাদসহ সব সন্ত্রাসের উৎসমুখ বন্ধ করার পথে অগ্রসর হওয়া যাবে এবং দেশে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও প্রগতির রাজনীতি পুনর্বহাল করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দেশ থেকে সব ষড়যন্ত্র ও অপশক্তির রাজনীতির মূল উৎপাটন ও হত্যার বিচারের মধ্য দিয়েই কিন্তু সবকিছু শেষ হয়ে যাবে না। বঙ্গবন্ধু আর জাতীয় নেতাদের হত্যার মধ্য দিয়ে যে ধারাকে হত্যা করতে চেয়েছিল খুনিগোষ্ঠী সেই স্বাধীনতা, গণতন্ত্র আর প্রগতির ধারাকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা আজ সময়ের দাবি। নিহত নেতাদের স্মৃতি যথাযথভাবে ধরে রাখার কাজটিও এই পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ বলে বিবেচনা করতে হবে সংশিষ্ট সবাইকে।

বাংলাদেশের অনেক সেনাপতির নামে মিলনায়তন, উদ্যান কিংবা বিমানবন্দরের নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু যাদের কথায় সেনাপতিরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই মহায়নক আর নায়করা অনুপস্থিত থাকবেন কেন দৃশ্যপট থেকে? ইতিহাসে যার যথাস্থান তাকে না দিলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, ইতিহাসের এসব সাধারণ শিক্ষা বিস্মৃত হওয়া কি উচিত? বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার পর যারা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে ক্ষমতা দখল করে ইতিহাস বিকৃত করেছিল, সেই চক্রান্তকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের নাম বিভিন্ন স্থাপনা, বিমান বন্দর, মিলনায়তন ও উদ্যান থেকে মুছে ফেলতে হবে।

গণতান্ত্রিক পরিবেশে পঁচাত্তরের জেল-হত্যা দিবসের কথা স্মরণ করতে গিয়ে আমরা আজ দাবি জানাব, ইতিহাসের চাহিদা পূরণ করার জন্য। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, মনসুর আলী ও কামারুজ্জামানরা নির্ভীক চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন বলে একাত্তরে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম জনগণের অংশগ্রহণে ব্যাপক ভিত্তিক গতিবেগ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। স্বাধীনতা-উত্তরকালেও তারা দেশ গড়ার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন অকুতোভয়ে। তাদের এই মহান অবদানকে যথাযথভাবে স্বীকার না করলে, তাদের স্মৃতিকে ধরে না রাখলে যে আমরা আমাদের সঙ্গেই প্রতারণা করব। সঙ্গত কারণেই আজ এই বাংলার একজন নাগরিক হিসেবে গণতান্ত্রিক সরকারকে আর বাংলার সব সচেতন মানুষকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। নিহত এই জাতীয় বীরদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করার পাশাপাশি আসুন সবাই মিলে তাদের স্মৃতি রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি। স্বাধীনতার ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থেই এটা করা আবশ্যক।

৩১ অক্টোবর ২০০৯

sabbirali's picture

আব্দুল্লহ সাহেব

ভুলবেন কেন ৭৫ র পরেইতো ৮১। ৭৫ মনে থাকলে ৮১ অবশ্যই মনে থাকার কথা। যা জানুন তাই লিখুন না । আমি যতটুকু জানি তাই লিখলাম।

sabbirali's picture

আব্দুল্লাহ সাহেবকে

আপনি বাংলদেশের এত ইতিহাস জানেন আর সেনা আইনের বিচারটি সম্পর্কে অবগত নয়? ৩ নভেম্বর আসলেই শুধু বিচারর কথা মনে হয়। এরপর আর কোন শোনা যায় না। The four leadrsd' keens are now in the power. please let them do it. অপেক্ষা করব পাঁচ বছরে বিচারের ব্যাপারে তারা কি করে? দয়া করে আপনি প্রতিমাসে এই হত্যাকান্ডের বিচারের কার্যক্রমের ফলোআপ সম্পর্কে আমাদেরকে এই ফোরামে অবগত করুন।

Abdulla's picture

sabbirali

সরি জনাব। একদম ভুইলা গেছি। জনাব যদি একটু বিচারের আদ্মপান্ত জানাইতেন, তাহইলে বড়ই কৃতার্থ হইতাম।

yousuf144's picture

পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠবে আরেকবার

পঁচাত্তরে আওয়ামী লীগ নামক ক্যান্সারকে শেষ করা যায় নি। অনেক আওয়ামী নেতারা তাদের মাতৃভূমী ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। এবার সময় এসেছে এ ক্যান্সারকে দেশ থেকে সমূলে উপরে ফেলার। আওয়ামী লীগ তাদের মাতৃভূমী ভারতের জন্য দেশের প্রতিরক্ষা ধ্বংস করে দিচ্ছে। ভারতীয় দাদাদের খুশি করার জন্য তারা এশিয়ান হাইওয়ের নামে ট্রানজিট দিয়ে দিচ্ছে। বিদেশীদের মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আশা আওয়ামী লীগ সাগর লুটের ধুম লাগিয়েছে। বিদেশীদের হাতে মূল্যবান গ্যাস সম্পদ তুলে দিচ্ছে। তাই পঁচাত্তরের বাকি কাজ এবার সেরে নিতে হবে। আওয়ামী লীগকে বাংলার মাটি থেকে উপরে ফেলতে হবে।

বনের রাজা's picture

রাজাকার yousuf144, একটা কথা শুন, তোমার ভাল লাগিবে!!!!!!!!!!!!!!

৭৫ এর হাতিয়ার আর গর্জিবেনা। তুমি তুমার ৭১ এর হাতিয়ারটা তুমার পুটকির ভিতর ঢুকাইয়া পাকিস্হানে গিয়া রাস্তায় রাসাতায় নাছ। শালা শুয়োরের বাচ্চা রাজাকার। শালা ফকিরের বাচ্চা ফকির এখানে লেখা মারাও।

yousuf144's picture

বনের বিল্লি মেউ মেউ বাদ দিয়ে শুন

বনের বিল্লি মেউ মেউ বাদ দিয়ে শুন। তোরা হলি মুজিব ইন্দিরা অবৈধ সংযমের ফসল। মুজিব্বা ভাবছিল সে রাজা বনে গেছে। কিন্তু মেজরা ডালিম তার পুটকিতে কি ধুকিয়েছিল তা তো সবাই জানে। তাই অহংকারের কিছু নায়। আওয়ামী রাজাকারদের এবার পুটকিতে কি ঢুকবে তা সবারই জানা আছে।

voter's picture

শিবির ক্যাডার ল্যাংরা ইউসুফ ১৪৪

আসো তোমার হাতিয়ার নিয়া বাংলাদেশে আসো । হাতিয়ার তোমার
হোগার মধ্যে হান্দাইয়া দিমু । পাকিস্থানী বেজন্মা এই শালারাই
নুজিব এবং জিয়ারে চক্রান্ত কইরা মারছে । দেশটারে আবার পাকিস্থান
বানানোর চক্রান্ত করতাছে ।আওয়ামী লীগ
এই জন্যই এই হালাগো পেছনের ফুডা দিয়া লজ্ঞি হান্দায় ।

Pogo's picture

voter

ন্যাভাই, এত হাংগামা আর খামারের কি দরকার? একবার হউর বাড়ী গিয়া বেড়াইয়া আন। হালা হালি থাকলে তো কতাই নাই। হেগো আদর যত্নে মনডা ভালো অইবে। আন্হার রাইত প্রায় সাড়ে এগার। আন্হে এহন ঘুমাইতে যাওয়ার আয়োজন করেন। ভাবী খেইপ্পা গ্যালে আবার সোমেস্যা আচে। আইজ বেয়ানে মুই কিন্তু সব পড়ছি। কাল রাইতে আমার জন্যে আপনার সহাভুতির জন্য অনেক ধন্যবাদ।

Others, above is part of our code languages :-) So, please don't try to understand it!!

ধন্যবাদান্তে,
পোগো

voter's picture

পোগো ভাই

হঊর বাড়ি নাই । নিজেগো বাড়িই হউর দাড়ি । চাচতো বইন বিয়া করছি । ভালো বাসার বিয়া ।
হাংগামাআর খামার কারে কয় । আমার হউর মিয়ার তেজ বেশী আছেলো । হালা হালী আছে
কিন্তু দুলাবাই ডাকেনা । আসলেও বউ খেইপ্পা গেছে । গুমাইতে যাই ।

yousuf144's picture

xxx না পরার জন্য অনুরোধ কেবলই ভোটার এর জন্যে

খানকির পোলা। ভারতীয় বেশ্যা মাগীর পোলা। মুজিব এবং ইন্দিরার অবৈধ সংযমের ফসল তুই ভোটার। তোর মত হারাম জাদার অন্তরে শূধু " আমরা হব ইন্ডিয়ান বাংলা হবে হিন্দুস্থান"। তুই হলি আওয়ামী ক্যান্সার। নর্দমার কীট। তোদের বাংলাদেশ থেকে হোগায় বাশ দিয়ে বের করে দিতে হবে। তোদের মত সমকামী দাদা চুষা আওয়ামী হাড়ামীদের জন্য বাংলাদেশের আজ এ অবস্থা। আওরামী নিধনে নামতে হবে তোকে দিয়ে শুরু করে।

the one eleven's picture

এইতো গ্যাংলিডারের ভাষা

কথায় বলে না টিট ফর টেট।আমাদের গ্যাংলিডার সাহেব তাই করেছেন।আহা কি ভাষা!না না না এইটা কোন নোংরা ভাষা নহে।একজন গ্যাংলিডার ইচ্ছা করলে সব ভাষায়ই কথা বলতে পারেন কেন না উনি যে গ্যাংলিডার।গ্যাংলিডার সাহেব চালিয়ে যান আর কলকিতে মাঝে মাঝে একটু দম নিয়েন,ব্রেনের কলকব্জাগুলি একটু খুলতে সাহায্য করবে।

yousuf144's picture

আওয়ামী বৈর্জ ভোটার প্রমুখের জবাব দিতেই হবে

আমাদের সম্পাদক সাহেবের উচিৎ যারা অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তাদের আই পি ব্লক করে দেওয়া। কিন্তু সম্পাদক সাহেব আজ কাল অনেক ব্যস্ততায় সময় কাটাচ্ছেন। তাই আওয়ামীদের মোকাবেল করতেই হবে। তাই আওয়ামীদের টুটি চেপে ধরতে দিব না। বাকশালকে একবার মাটির নিচে পুঁতা হয়েছে। আবারও পুঁতা হবে। প্যান প্যানা মিন মিনা বিএনপিকে দিয়ে কিছুই হবে না। বিকল্প শক্তির দিয়ে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে হবে।

বনের রাজা's picture

উইসুফ রাজাকার আরো একটা কথা কই তুমারে!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

এই রাজাকারের বাচ্চা তুই এখান থেকে যাবি না ঘাড় ধরিয়া বাহির করিব। এডিটর সাহেব বহিস্কার করিলে সেইটি হইবি তুই। তুই সব সময় খারাপ ভাষা ব্যবহার করিস।

yousuf144's picture

বিল্লি

তুই কিছুই করতে পারবি না। তোর মত ভারতীয় দাদা চুষাদের দেশবাসি বহিস্কার করবে।

altaf_hossain's picture

আর ডুবায়েননা

আপনে ভাই বিএনপি লইয়া দয়া করে কিছু বলবেননা। প্যান প্যানা মিন মিনা বিএনপি না, আপনার মত জাতিয়তাবাদী নামধারী কাপুরুষেরাই বিএনপিকে ডুবাইছেন।
***************
টেকনাফ হতে তেতুলিয়া
সবাই বলে তারেক জিয়া

তারেক তুমি এগিয়ে চল
আমরা আছি তোমার সাথে

তারেক ভাইয়ের কিছু হলে
জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে

Haji Md Matin's picture

আলতাফ ভাই

নেতা নেত্রীর পুজা না করে আল্লাহ'র পুজায় মগ্ন হন।মানুষের পুজায় আল্লাহ্‌ বেজার হন।আপনাকে দেখে মনে হয় আপনি খুবই অস্থির কিছিমের লোক।আল্লাহ্‌ আপনার মঙ্গল করুক।দিলের মধ্যে তার ইশক্‌ পয়দা করেন।

আল্লাহু আকবার
আল্লাহু আকবার

হাজি মতিন

altaf_hossain's picture

হাজি সাব

হাজি মতিনের চামড়া
তুলে নেব আমরা

একটা দুইটা হাজি মতিন ধর
সকাল বিকাল নাস্তা কর

villager's picture

This .NET shit brings in peoples' mother

This fucked up .NET teacher brings in peoples' mother in the forum. God made this piece of crap without a mother, or no mother agreed to to hold this rotten shit inside the womb?

voter's picture

ল্যাংরা ইউসুফ

আমরা জানি বিডি০৮ তোমার দোমিস্টিক পার্টনার । তোমরা দুজনেই দুওজনেরটা
চোষ । এই সব তোমাদের ডমেস্টিক বিষয় ,
শোন ব্যাটা রাজাকার তোর মত কয়েক হাজার ইউসুফ এই ভোটারের লুংগিতে নস্ট
হইছে । তুই আমাকে কি শিকাবী ? তোর মত অনেক ইউসুফকে আমি মহাম্মদপুর
জেনেভা ক্যাম্প থেকে টাইনা হ্যাচরাইয়া রাস্থায় নামাইছি । শালা ইতরের বাচ্চা
ইতর । খুনের মামলার আসামী হুলিয়া মাথায় নিয়া পালাইয়া বেড়াইতেছো ।
শালার বেজন্মা কোথাকার । এখনও পাকিস্থানের তজবিহ টিপো ।
কথায় কথায় পা চালাও । তোর ঠ্যাং ভাইংগা তোর সোগার মধ্যে হান্দাইয়া দিমু
শালার পো শালা ।

yousuf144's picture

xxx না পরার জন্য অনুরোধ কেবলই ভোটার এর জন্যে

ভোটাররা হলেন আওয়ামী ত্রাসের উদাহরন। সবার টুটু চেপে ধরে আবার বাকশালী কায়দায় বাংলাদেশে মুজিবের রাম রাজত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ভোটারের মত আওয়ামী ত্রাসদের পঁচাত্তরে শেষ করে দেওয়া উচিত ছিল। এবার খুবি শীঘ্রই আওয়ামী ত্রাস শেষ হবে। মাটির সাপ হাত নিচে তাদের পুতে দেওয়া হবে। বাংলার ঘরে ঘরে মেজর ডালিমের মত শত শত সূর্য সেনারা আপেক্ষায় আছে।

voter's picture

ল্যাংরা ইউসুফ ১৪৪

১৯৭৫ আর ২০০৯ মাঝখানে লম্বা সময় । তোমার বাবা সুর্য সন্তানরা আজ দেশ ছাড়া । বাকী গুলা কন্ডেম সেলে । তোমার বাবারা দুই দুইবার ক্ষমতায় থাইকাও তাগো রিহ্যাব করতে পারে নাই ।
দেশে গিয়া তোমার বাবা সুর্য সন্তানগো কথা কও । মুখ খোলছো আর বাজাইরা কেনু এড্ডাও মাডিতে
পরবেনানে । বোজজো মনু । তোমার বাবারা হয় জেলে নয় দেশ ছাড়া । তুমি শালাও দেশ ছাড়া ।
দেশে তোমার যেই বাবারা আছে আযম নিজামি মুজাহেদী তারা নিজেরাই দৌড়ের উপর আছে ।
আর আমি ভোটারের দিকে তাকা , ভালো কইরা দেখ আমি দেশে আছি বহাল তবিয়তে আছি ।
হাসিনা বহাল তবিয়তে আছে এবং দেশের প্রধান মন্ত্রী । যা তুই তোর কোন বাপেরে আনবি
ল্ইয়া আয় ।শালা ডুলার নাতি খাড়ি । ফের যদি দেখছি তুই কারো পেছনে লাথি মারার কথা কইছস
তাহলে তোর টেংগি বাইঙ্গয়া তো পেশনের দরজা দিয়া ডুকাইয়া দিমু ।

Haji Md Matin's picture

ইউসুফ ভাইয়ের হেদায়েত

ইউসুফ সাহেবের অধঃপতন দেখে আফসোস লাগছে।বড়ই আফসোস!তাকে আমি কতদিন যাবৎ ই-মেলায় দেখছি!এত নীচু ধরনের কথা বলতে দেখিনি।সবই আল্লাহ্‌ পাকের ইচ্ছা।আমার মত একজন নগন্য আর জঘন্য ইতরকে আল্লাহ্‌ পাক হেদায়াত দান করেছেন (শুকরিয়া তার দরবারে) আর ইউসুফ সাহেবকে হেদায়তের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।তার কুদরতের খেলা বুঝার সাধ্যি কার আছে?
নাউজুবিল্লাহ্‌!কি সব কথা বের হচ্ছে ইউসুফ সাহেবের মুখ থেকে!আল্লাহ্‌ রাহমানুর রাহিম তুমি সকলকে তোমার নির্দেশিত পথে চলার শক্তি দান কর।আমিন।
আল্লাহ আকবার
আল্লাহু আকবার।

হাজি মতিন

Pogo's picture

Mr. Matin: ভন্ডামী বাদ দিয়ে সোজা সাপ্টা পথে আসুন।

ভন্ডামী বাদ দিয়ে সোজা সাপ্টা পথে আসুন। নামের আগে একখান হাজি টাইটেল বসাইয়া রাখছেন ঢাল হিসাবে। আবার পরের পিছনে লাগছেন।

ধন্যবাদান্তে,
পোগো

Haji Md Matin's picture

না ভাই পগো

না ভাই আপনি বোধ হয় আমাকে একটু ভুল বুঝেছেন।আমি কারোর পিছনে লাগিনি,লাগার প্রশ্নই নেই।আমি শুধু ইউসুফ সাহেবের না খাস্তা কথার জন্য আল্লাহ্‌'র রহমাত কামনা করেছি।এই দুনিয়া আসল দুনিয়া না রে ভাই।আমাদের সবাইকে ঐ দুনিয়ায় যেতে হবে আর তার আগে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে।আমি ভাই হাজি টাইটেল বাহাদুরি করে বসাইনি।আমাকে যেন আপনারা চিনতে ভুল না করেন সেইজন্য আমার আইডিটি বদল করেছি মাত্র।আমার ভিতর কোন ভন্ডামি নেই।আমি যা করি এবং বলি সহজভাবে বলা এবং করার চেষ্টা করি।আপনার কথা আমার কাজে লাগবে।চেষ্টা করব আরো ভাল কিভাবে হওয়া যায়।আল্লহ'র তৈরী মানুষ মাত্রই ভুল আছে।আমি হাজি হয়েছি বলেই কি সব ভুলের উর্ধ্বে?কখন ও আমি তা মনে করি না।
আল্লাহু আকবার
আল্লাহু আকবার।

হাজি মতিন

boobytrap's picture

ভোটার ভাই ।

আপনার লেখার মাঝে বাস্তবতা এবং সত্য আছে , আমার কাছে মনে হয় আপনার দেশ প্রেমের কোন খুত নেই। এটা বাংলাদশের রাজনীতির বাস্তবতা ,শেখ সাহেব আর জ়িয়া কে আলাদা ভাবে বেচতে পারলে কিছু লোকের ভাগ্য ভাল হবে কিন্তু মেজরিটির ভাগ্যকাশে মেঘাচ্ছন্নই থেকে যাবে। ভাল থাকুন ।

Pogo's picture

শান্তি চাই। শান্তি চাই।


শান্তি চাই। শান্তি চাই।

ধন্যবাদান্তে,
পোগো

shomudro's picture

সেলিম সি নামধারী এক জামাতি

সেলিম সি নামধারী এক জামাতি মওলানার পর আরেক আওয়ামি মওলানা হাজির হয়েছে রেলগাড়ীর ন্যায় লম্বা প্রতিবেদন নিয়ে। ফোরামের বাকী মেম্বারদের কথা বাদ দিলাম, এই দুই মওলানাও কি আদৌ তাদের কাট পেস্ট করা এইসব লম্বা ফিরিস্তি পড়েন?

sabbirali's picture

আব্দুল্লাহ সাহেবকে

আর কতদিন মামলা আর বিচারের প্রহসন চলবে। জন্মের পর থেকেই শুধু জাতির পিতার বিচার, চার নেতার বিচার আর যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের নামে প্রহসন দেখে আসছি। আ'লীগ ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরতো একটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়ে মীমাংসা করতে পারতো। কিন্ত্ত জাতি সেটা দেখতে পেল না। জিয়া হত্যাকান্ডের বিচারতো বিএনপি সরকার বা তৎকালীন সরকার নিস্পত্তি করতে পেরেছিল। তাহলে আ'লীগ কেন পারল না সেই প্রশ্নের জবাব কি দিবেন? আ'লীগের কাছে এইবার জাতির প্রত্যাশা খুব বেশী ছিল। আ'লীগও তাদের ইশতেহারে জাতিকে দিন বদল, ডিজিটাল বাংলাদেশ আর ভিশন ২০২১ এর স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্ত্ত এখন ভাবসাবে মনে হচ্ছে যেই লাউ সেই কদু। সরকার মনে হয় এই ইস্যুগুলি নিয়েই পাঁচ বছর কাটিয়ে দিবে। সারা রাষ্ট্রের মন্ত্রী, সাংসদরা যদি এইসব ইস্যু নিয়ে সবসময় তৎপর হয় তবে আর দেশ চলে কিভাবে? এমনিই সরকারের সামনে রয়েছে বিডিআর হত্যাকান্ডের বিচার, টিপাইমুখ ইস্যু। এইসব ইস্যুকে অগ্রাধিকার না দিয়ে যত পুরানো জঞ্জালকে সামনে আনা হচ্ছে যেগুলোর মীমাংসা গত ৩৫ বছরেও হয়নি। তারপর আবার তাপসের উপর বোমা হামলার ইস্যুকে বড় করে দেখতে গিয়ে অভিযোগের আঙ্গুল খালেদা জিয়া, জামাত, জঙ্গি, মুজিব হত্যাকান্ডে অভিযুক্তদের পরিজনদের দিকে দেয়া হয়েছে। সরকারের মন্ত্রীবর্গ থেকে শুরু করে সাংসদরা সংসদে দাড়িয়ে একেক সময় একেক জনকে এই হামলার জন্য দোষারোপ করছে। এইসব কি বিশ্বাসযোগ্য? বাংলাদেশের ব্যর্থ গোয়েন্দা সংস্হাগুলি শেষ পর্যন্ত এই হামলায় কাকে অভিযুক্ত করে তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। সম্প্রতি একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠনকে জঙ্গী হিসাবে উল্লেখ করে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে যদিও সেই সংগঠনটির বিরুদ্ধে কোন জঙ্গী তৎপরতার প্রমান পাওয়া যায়নি। এইভাবে যদি কোন সগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয় তবেতো বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবার কথা। কারন ২০০৬ সালের ৩০ অক্টোবর আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো পল্টন ময়দানে যেভাবে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় লিপ্ত হয়েছিল সেই তৎপরতা কি জঙ্গী কার্যক্রম হিসাবে বিবেচিত নয়?

Abdulla's picture

sabbirali

"জিয়া হত্যাকান্ডের বিচারতো বিএনপি সরকার বা তৎকালীন সরকার নিস্পত্তি করতে পেরেছিল।" -তাই!! তা কিভাবে নিস্পত্তি করেছে একটু জেনে কৃতার্থ হই!!!!!!!!