(এই লেখাটি আমার ব্লগ ডট কম এ শুরু করেছিলাম । শেষ করতে পারিনি বিভিন্ন ব্যাস্ততার জন্য । আশা করি এখানে শেষ পর্যন্ত লিখে যেতে পারব ।)
এই লেখাটি আসলে সিরিজ শুরুর প্রস্তুতি মূলক ভাষ্য । সাকা পশুটিকে নিয়ে লিখবার পর কানে ধরেছিলাম যে সিরিজ জাতীয় লেখায় আমি আর নাই । এই ধরনের লেখা লিখতে গেলে যে পরিমাণ সময় ও ধৈর্য্য দরকার, তার সবগুলোরই বেশ অভাব আমার । “তারপরেও সুখে থাকতে ভূতে কিলায়” জাতীয় সমস্যা আমার মধ্যে বরাবরই অন্যায় ভাবে বিচরণ করে । সুতরাং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে চাইলেও পাজির পা ঝাড়া মনটা সুখে থাকতে দেয় না । বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া এত তথ্য দেখে ভাবলাম লিখে ফেলি । আমার দেশের মালিকদের কথা না বললে বড় পাপ হয়ে যায় ।
এ লেখার সূত্রপাত আজকের নয় । অনেক দিন থেকেই । আমরা যারা বাংলাদেশে জন্মেছি , সত্যিকার অর্থে এবং প্রকারান্তরে আমরা একরকম মেনেই নিয়েছি যে আমাদের বেঁচে থাকাটাই আর তার জন্য ক্রমাগত যুদ্ধ করে যাওয়াটাই মূলত আমাদের হাড় জিড় জিড়ে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । আমরা আমাদের শরীর, শরীরের ভেতর পানি, রক্ত আর ঘাম দিয়ে দিনের পর দিন শ্রম দিয়ে যাব এবং আমাদের রাজা-রাণী ও তাদের সন্তানগন সে শ্রমের টাকায় বিলাস করে মত্ত হবেন এটাই আমাদের কাছে স্বাভাবিক । আমরা জনগণ আসলে কোনো কঠিন প্রশ্ন করে কাউকে একদম চমকে দিতে চাই না । কাউকে ভড়কে দিতেও আমরা রাজী নই । সুতরাং এই কথা বলাটাই শ্রেয় যে, রাজা রাণী’র ব্যাপারে খোঁজ নেয়াটা আমাদের কর্ম নয় । আমরা ২৮শে সেপ্টেম্বর এলে অত্যন্ত তেল তেলে ভাষায় শুভ জন্মদিন বলে রাণী “দেশনেত্রীর” জন্য একটা হাঁক ছাড়ব কিংবা ১৫-আগস্ট এলে রাণী “আপোষহীন”এর জন্য কেক কাটব । এ-ই করেই গড় ৫০ বছর আয়ুর জীবনকাল আমাদের নির্দ্বিধায় ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকবে এবং একদিন আমাদের জীবনাবসান হবে ।এরপর তো বাকি জীবন আজিমপুরেই শুয়ে কাটবে যদি না পিন্টু কিংবা হাজি সেলিম সাহেব আমার শুয়ে থাকার স্থান পুনরায় খোঁড়া খুঁড়ি না করেন ।
সে যাক, মূল কথায় আসি । একজন বাংলাদেশী কনডম পাবলিক হবার কারনে আমি যেহেতু মেনেই নিয়েছি এ দেশে কেবল রাজা-রাণী আর তার সন্তান সন্ততিরাই ভূমি,বায়ু ও অগ্নিকুন্ডের মূল মালিক সেহেতু তাদের সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানেরও কিছু প্রকাশ হওয়া উচিত । এ সন্তানদের তালিকায় অনেকেই আছেন । তারা সকলেই পরম শ্রদ্ধেয় । সবার কথা বলার ইচ্ছা থাকলেও এ মূহুর্তে মূল দুই পালের গোদা তথা দেশের দুই মূল মালিকের কথাই বলতে ইচ্ছে করছে । আমাদের এই দুই অপ্রতিরোধ্য হচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয় আর দ্বিতীয়জন হচ্ছেন তারেক রহমান । তাদের মূল পরিচয় হচ্ছে প্রথম জন দেশ নেত্রী, দেশরত্ন,ড.শেখ হাসিনা ওয়াজেদের বড় পূত্র এবং দ্বিতীয়জন হলেন আপোষহীন নেত্রী,লাস্যময়ী , অতুলনীয়া বেগম খালেদা জিয়ার বড় পূত্র । এই দুই শ্রীমানই আমাদের ভবিষ্যত রাজা ।ফলাফল স্বরুপ আমাদের কুর্নিশও গিয়ে ঠেকে উনাদের চরণ তলে ।
দেশের প্রথম মালিক সজীব ওয়াজেদ জয় সাহেবকে দিয়েই শুরু করা যাক । ১৯৭১ সালে জন্ম নেয়া আমাদের এই বরপূত্র জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন তার রাজ্য বাংলাদেশের বাইরে । নাহ্ , অন্য রাজ্য দখল করতে নয় কিংবা অন্য কোন রাজনৈতিক মিশনেও নয় । প্রাথমিক শিক্ষা আহরণের জন্য জয় ভারতে যান । ( যেখানে শিখ ধর্মালম্বী এক মেয়ের সাথে তার প্রেম হয় ও পরবর্তীতে এঙ্গেঞ্জমেন্ট । এই বিষয়ে সামনের পর্ব গুলোতে বলা হবে ),পরবর্তীতে আমেরিকার টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক এবং আমেরিকার বিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করেন লোক প্রসাশনে ।
চলবে
দুই পাল্লায় সমান ওজন
এই লেখার যতটুকুই পড়েছি তাতে বুঝলাম বিষোদগার মুলক এই লেখায় অতি সাধারন তৃতীয় ধারামাএিক একটা সুর বড় স্পষ্ট।এ যেন ১/১১ এর বস্তাবন্দি আাত্নার জীবন্ত প্রেতাত্নার নাঁকি কান্নায় শুধু অভিযোগ আর অভিযোগ।আমি এই লেখকের সাথে কিছুটা এক মত যে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার সন্তানেরা অনেক প্রিভিলেজড এবং এও মনে এই অবস্হা তাদের ভুলে বা ভুমিকাতে হয়নি।যাই হোক কেন প্রিভিলেজড সেই বিশ্লেষন পড়ে করব।তারআগে লেখকের দুই পাল্লায় সমান ওজন করার অসম বাহুল্য নিয়ে বলি।
তারেক জিয়া ভাল মেধার ছাএ ছিল কিংবা পড়াশোনায় তেমন মন ছিল ,জাতি সে রকম কখোনো কিছু শোনেনি অথবা কির্তীকর্মও কিছু দেখেনি ।সেটা তার দোষও না।স্বরুপকাঠি বানারিপাড়ার সাবেক সংসদ সদস্য, রেড ক্রিসেন্টের সাবেক বিতর্কিত পরিচালক শহিদুল হক জামালের সাথে ছোটবেলায় তার অনেক দোস্তমিতালি ছিল।(যদিও জামাল,তারেকের চেয়ে বয়সে অনেক বড়)শহিদুল হক জামাল না হয়ে এই সখ্যতা যদি রেসিডেন্টসিয়াল মডেল কলেজের সব চেয়ে ভালো ছেলেটির সাথে হতো, সুদুরঅর্থে জাতির জীবনে ১/১১ আসতো না।বন্ধু নির্বাচনে তার মনষ্তাত্তিক ঝোক কোন দিকে তার নমুনা, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন।
সজিব ওয়াজেদ জয় ভাল মেধার ছাএ কিনা আমার তেমন জানা নেই, তবে সে শিক্ষিত হতে চায়, তার এই প্রয়াসকে সধুবাধ জানাই।সারাপৃথিবী ব্যাপীই এটা প্রমানিত যে প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতার কোন সম্পর্ক নেই।কিন্তু আমার কাছে সব সময়ই মনে হয়েছে, এই তও্ব আসলে উন্নত বিশ্বে খাটে।বরং উন্নয়নশীল বা তৃতীয় বিশ্ব শিক্ষিত নেতৃত্বেই বেশী উপকৃত হয়েছে সব সময়।।উদাহরন হলো জওহর লাল নেহরু কিংবা মহাথির মুহাম্মদ।যাই হোক প্রসঙ্গে ফিরি।শিঙ্কা যে ভবিষ্যত রাজনিতীতে তারেককে তার প্রতিদ্বণ্দির সাথে একটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে সেটা বুঝেছেন বলেই হয়ত শুনতে পাচ্ছি তিনি লন্ডনে আবার কিছু পড়াশুনা করবেন।আমার ব্যক্তিগত মত তিনি যেন business admin বা busimess management জাতীয় কিছু পড়েন।কারন ব্যবসা তিনি বোঝেন ভাল!
পৃথিবীর সব বাবা মা ই চায় তার সন্তানকে সাধ্যমত ভালো কোথাও পড়াতে।গত বছর জুন মাসের মাঝামাঝি সজীব ওয়াজেদ জয় বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসনের উপর গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী অর্জন করেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জন এফ কেনেডী স্কুল অব গভর্নমেন্ট থেকে জয় শেষ করেন তার গ্রাজুয়েশন।সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে এ বিষয়ে বাংলা পত্রিকার সাথে জয় বলেন, আমার মা’র স্বপ্ন ছিল হার্ভার্ড থেকে আমি গ্রাজুয়েশন করি। তাঁর এই স্বপ্ন পূরনে সফল হতে পেরে ধন্য মনে করছি।" কোনো মায়ের এই বিশুদ্ব প্রত্যাশায় কি এমন পাপ তা আমার বোধগম্য নয়।
৭৫ এর নৃশংস হত্যাকন্ডের পর দেশ মাতৃকার মাটি শেখ হাসিনার জন্য কতখানি নিরাপদ ছিল? যাদের শেখ রাসেলকে হত্যার সময় নিজের সন্তানের মুখ মনে পড়েনি,তারা তো যখন তখন শেখ হাসিনা সহ পুরো পরিবারকে হত্যা করতে পারতো।কাজেই বিদেশই ঠিকনা হলো ওয়াজেদ পরিবারের।।৮৫ তে শেখ হাসিনা যখন দেশে ফেরেন জয় তখন ১৪ বছরের লকলকে কিশোর।ওই বয়সে ছেলেরা এইটে পড়ে।অর্থাৎ চাওয়া না চাওয়ায় আর যায় আসেনি কিছু।বিদেশেই প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পড়তে বাধ্য হয়েছেন তিনি।