৭ নভেম্বর নিয়ে তৈরি মিথ ও মিথ্যার ফানুস :
কালের আয়নায় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
আজ ৭ নভেম্বর। ৩৪ বছর আগে এই দিনে ঢাকা শহরে যে ঘটনাটি ঘটেছিল অথবা ঘটানো হয়েছিল, তাকে নানা মহল নানা আখ্যা দিয়েছেন। কেউ বলেছেন, এটা বিপ্লব, সিপাহি-জনতার বিপ্লব। কেউ বলেছেন, এটা একটি প্রতিবিপ্লব। গণশত্রুদের অভ্যুত্থান। ব্যাখ্যারও আবার ব্যাখ্যা থাকে। যারা এটাকে বিপ্লব আখ্যা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৫ আগস্টের ঘাতকদের সমর্থক ও বেনিফিসিয়ারি গ্রুপ, তারা এটাকে তাদের দেশপ্রেমমূলক উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এবং তাদের লক্ষ্যে চূড়ান্তভাবে পেঁৗছানোর দিবস হিসেবে প্রচার চালিয়েছেন এবং চালাচ্ছেন। এদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং তৎকালে নবগঠিত একটি রাজনৈতিক দলের যেসব নেতাকর্মী ছিলেন, তারাও এটিকে গণমুক্তির এবং গণরাজ প্রতিষ্ঠার অভ্যুত্থান বলে ভাবেন। কিন্তু তাদের অনেকের মতে, যাদের তারা বিশ্বাস করে এই অভ্যুত্থানে সঙ্গে টেনেছিলেন, তাদের বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণায় সিপাহি-জনতার এই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং গণরাজের বদলে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট সামরিক শাসনের সূচনা হয়।
এই দুটি মতের বিপরীতে একটি শক্তিশালী মত আছে। এই মত যারা পোষণ করেন, তাদের ধারণা, ১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বরের জেল হত্যার ঘাতক এবং সমর্থকরাই ৭ নভেম্বরের এই দিবসটির মূলত জন্ম দিয়েছে। তাদের আসল মতলব যে ছিল বাংলাদেশের সদ্য অর্জিত স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়কদের হত্যা করে পাকিস্তানের সামরিক জান্তার সমর্থনে ও অনুকরণে ওই দেশের অনুসারী এবং অনুগত একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা, এই উদ্দেশ্যটি তখনকার সিপাহি-জনতার কাছে সম্পূর্ণ গোপন রেখে নিজেদের ক্ষমতা দখলে তাদের ব্যবহার করেছে এবং ক্ষমতা দখলের পর নির্মমভাবে তাদের দমন করেছে।
এই সিপাহি-জনতাকে (একাংশকে) গণসেনাবাহিনী এবং গণরাজ কায়েমের 'বিপ্লবের' লক্ষ্যে সংগঠিত করেছিলেন বীর এবং মুক্তিযুদ্ধে পঙ্গু কর্নেল (অব.) তাহের ও নবগঠিত জাতীয় সমাজতন্ত্রী দল (জাসদ)। দলটি তখন অবিভক্ত। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আনুগত্য থাকা সত্ত্বেও তাদের কার্যক্রম ছিল ইনফেনটাইল অ্যাডভেঞ্চার বা বালখিল্য অভিযান। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃস্থানীয় দলটি ক্ষমতায় স্থিত হয়ে বসার আগে এবং দেশটিতে সেক্যুলার ডেমোক্রেসির প্রকৃত প্রতিষ্ঠা লাভের আগেই জেনারেল জিয়াউর রহমানের মতো বিতর্কিত চরিত্রের ও মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান (রাষ্ট্র এবং সরকার দুটি ছাড়াই) ঘোষণা করার অতিউচ্চাকাঙ্ক্ষী এক সেনা কর্মকর্তাকে গণসেনাবাহিনী গঠন ও গণরাজ কায়েমের সহায়ক হবেন ভেবে দলে টানা এবং গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা ছিল কর্নেল তাহের ও জাসদের মহাভ্রান্তি।
বিপ্লবের নামে এই বালখিল্য ভ্রান্তির জন্য কর্নেল তাহের ও জাসদকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। কর্নেল তাহেরের মতো বীর এবং দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাকে জিয়াউর রহমান ক্যাঙ্গারু কোর্টের বিচারে ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে হত্যা করেন। জাসদের অসংখ্য নেতাকর্মী দেশদ্রোহিতা, সরকার উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করা ইত্যাদি নানা বানোয়াট মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে চরম নির্যাতনের শিকার হন এবং তাদের কয়েকজনকে প্রাণদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছিল। জাসদের যেসব নেতা কৃষ্ণকেশ নিয়ে জিয়াউর রহমানের বন্দিশিবিরে ঢুকেছিলেন, তাদের কেউ কেউ প্রাণদণ্ডের আদেশ মাথায় নিয়ে কিছুকাল কারাগারে কাটানোর পর চরম অসুস্থতা এবং শুভ্র কেশ নিয়ে জেলের বাইরে ফিরে এসেছিলেন।
আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একাধিক দলের ৭ নভেম্বর সম্পর্কিত ব্যাখ্যা অনেকটাই ভিন্ন। তারা মনে করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সেই স্বাধীনতার আদর্শবিরোধী যে অপশক্তি ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারাই ৩ নভেম্বরের জেল হত্যা ঘটিয়েছে এবং জাসদের শিশুসুলভ বিপ্লবের সুযোগ নিয়ে ও সেনাবাহিনীর জওয়ানদের একাংশকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের সুনিশ্চিত পতন রোধ এবং নিজেদের ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন।
৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানেরও শিকার হন বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল খালেদ মোশাররফ। অন্যদিকে সব চক্রান্তের পালের গোদা জেনারেল জিয়াউর রহমান এই তথাকথিত 'সিপাহি-জনতার বিপ্লবের' কাঁধে চড়ে কারামুক্ত হন এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী শিবিরকে নিয়ে ক্ষমতায় বসার পথ প্রশস্ত করেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের নানাভাবে পুরস্কৃত করেন। যারা প্রকৃত সিপাহি-জনতার বিপ্লব চেয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান তাদের চরম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড দ্বারা দমন করেন। কিন্তু তার চক্রান্তের সাফল্যের এই দিনটিকে 'সিপাহি-জনতার বিপ্লবের' মুখোশ পরিয়ে প্রতিবছর উদযাপন করার ব্যবস্থা করে যান।
দেশের মানুষের চোখে এই ৭ নভেম্বরের আসল চেহারা আড়াল করে রাখার জন্য সামরিক ছাউনিতে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া পার্টি বিএনপি এখনও ঢাকঢোল পিটিয়ে এই দিনটি উদযাপন করে। যদিও বর্তমানে নানা ভাগে বিভক্ত জাসদ কর্তৃক পালিত ৭ নভেম্বর দিবসের সঙ্গে বিএনপির (বর্তমানে জামায়াতও যুক্ত) ৭ নভেম্বর পালনের স্লোগান, চরিত্র ও চেহারা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৭ নভেম্বরের আমল চেহারা ও উদ্দেশ্য ঢেকে রাখার জন্য প্রথমে জিয়াউর রহমান এবং পরে তার দল বিএনপি দেশের শক্তিশালী মিডিয়ার একাংশের সাহায্য ও সমর্থন আদায় করেন এবং এখনও করছেন।
এই সেদিনও ৭ নভেম্বর নিয়ে তৈরি করা মিথ ও মিথ্যাচারগুলো যখন দেশের মানুষের চোখে ধরা পড়ছে ক্রমশ, তখনও নিরপেক্ষতার দাবিদার ঢাকার একই প্রকাশনীর একটি বাংলা এবং একটি ইংরেজি দৈনিকে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরপর দুই বছর দুটি মূল সম্পাদকীয়তে (ষবধফ বফরঃড়ৎরধষ) জিয়াউর রহমানকে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সামরিক বাহিনীর ভেঙে পড়া চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনা, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রতিষ্ঠাদান ইত্যাদি নানা কাজের (যার একটিও সত্য এবং প্রমাণিত নয়) জন্য প্রশংসা করে জাতীয় হিরো বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি ৭ নভেম্বরের মিথ ও মিথ্যাচারগুলোকেও প্রতিষ্ঠাদানের চেষ্টা করা হয়েছে।
৭ নভেম্বরকে ঘিরে তৈরি করা এই মিথ ও মিথ্যাচারগুলোর কুয়াশা সরিয়ে ফেলা সম্ভব হলে দেখা যাবে, এই দিবসটি আসলে ১৫ আগস্টের এবং ৩ নভেম্বরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতার এবং একাত্তর ও পঁচাত্তরের ঘাতক চক্রের ষড়যন্ত্রেরই সাফল্য লাভের একটি দিন। এই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতার শিকার হয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জেলে বন্দি চার জাতীয় নেতাসহ আরও অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জেনারেল খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহের।
অন্যদিকে এই ষড়যন্ত্রের সাফল্যের বেনিফিসিয়ারি হয়েছেন জেনারেল জিয়াউর রহমানসহ আর্মির একটি কোটারি (যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য হলেও ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের আদর্শবিরোধী ক্ষমতা লোলুপ এবং পাকিস্তান-মনা) বিভ্রান্ত বামদের একাংশ ও একাত্তরের পরাজিত শক্তি। ঘটনার সোপান বেয়ে এদেরই সাহায্য ও সমর্থনে যুদ্ধাপরাধী এবং ঘাতক দল জামায়াতও বাংলাদেশে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসার কাজে সমর্থ হয়েছিল। দেশের পরবর্তী অনেক অঘটন ঘটার পেছনে ৭ নভেম্বরের ভূমিকা প্রশ্নাতীত। কিন্তু মিথ ও মিথ্যাচার দ্বারা আসল সত্যকে এতদিন পর্যন্ত ঢেকে রাখা হয়েছে।
জেল-হত্যাকাণ্ড এবং তাকে নিয়ে মিথ তৈরি ও মিথ্যা প্রচার বাংলাদেশে কোনো নতুন ঘটনা নয়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নিজ সেনাদলের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুর্শিদাবাদের কারাগারে বন্দি হয়ে মাত্র দশ দিন বাঁচতে পেরেছিলেন। তাকে ৩ জুলাই বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয়। ১৭৫৭ সালের ৩ জুলাই এবং ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেল-হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
কারাগারে নবাব সিরাজকে হত্যার পরও ঘাতক চক্র এই হত্যাকাণ্ডকে নিয়ে একটি মিথ ও মিথ্যা তৈরি করেছিল। তা হলো সিরাজের মায়ের পালিত-পুত্র মহম্মদী বেগ ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য সবার অগোচরে কারাকক্ষে ঢুকে বন্দি এবং নিরস্ত্র নবাবকে হত্যা করেছিল। এই মিথটি ইংরেজ ঐতিহাসিকরাও প্রচার করেছেন এবং দেড়শ' বছর পর্যন্ত বাজারে প্রচলিত ছিল।
সত্য কখনও নির্বাসনে থাকে না। দেড়শ' বছর পর একজন মাত্র সত্যান্বেষী অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়র গবেষণায় জানা গেল, সিরাজকে কেবল মহম্মদী বেগ হত্যা করেনি, মীর জাফরের পুত্র মিরনের আদেশে এক দল ঘাতক রাতের অন্ধকারে কারাগারে ঢুকে হতভাগ্য নবাবকে হত্যা করে। এই ঘাতক দলের নেতৃত্বে ছিল মহম্মদী বেগ। তাকে প্রচুর অর্থ দিয়ে বশীভূত করা হয়েছিল।
এই হত্যা চক্রান্তের কথা জানতেন মীর জাফর এবং ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নায়ক কর্নেল ক্লাইভও। তখন নবাব সৈন্য দলের অধিকাংশ প্রায় নিরস্ত্রীকৃত এবং কোম্পানির ইংরেজ সৈন্যরা মুর্শিদাবাদে টহল দিচ্ছে। মীর জাফর-ক্লাইভের যুক্ত সিদ্ধান্তেই এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ক্লাইভ অরাজি থাকলে কেবল মীর জাফরের ইচ্ছায় এবং তার ছেলের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারত না। মীর জাফর নবাব হলেও ছিলেন ক্লাইভের ক্রীড়নক। বাজারে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছিল 'ক্লাইভের গাধা'।
১৯৭৫ সালের নভেম্বরের গোড়ায় জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় না থাকলেও গৃহবন্দি থাকা অবস্থাতেই তিনি যে নেপথ্যে বসে কলকাঠি নাড়াতে সক্ষম হচ্ছিলেন তার প্রমাণ এখন বেরিয়ে আসছে। জেলে বন্দি চার জাতীয় নেতা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক এবং নির্বাচিত বৈধ প্রতিনিধি ও তাদের অবৈধভাবে অবৈধ সরকার জেলে আটক রেখেছে এবং যে কোনো সময় ১৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে তাদের হত্যা করা হতে পারে_ এ আশঙ্কা জানা থাকা সত্ত্বেও এই হত্যা নিবারণে পশ্চিমা কূটনীতিকরা, বিশেষভাবে মার্কিন দূতাবাস কোনোভাবেই সক্রিয় ছিল না।
এখন মার্কিন আর্কাইভস থেকেই এসব সত্য বেরিয়ে আসছে। জানা যাচ্ছে, আমেরিকায় তখনকার বিতর্কিত রাষ্ট্রদূত বোস্টার বাংলাদেশের তখনকার সব ঘটনার ওপরই নজর এবং নিয়ন্ত্রণ রাখছিলেন। ঘাতকদের সহায়তানির্ভর মোশতাক সরকার তখনও ক্ষমতায় নড়বড়ে। পশ্চিমা কূটনীতিকরা, বিশেষ করে আমেরিকা চাপ প্রয়োগ করলে তখনও এই হত্যাকাণ্ড নিবারণ করতে পারত। কিন্তু করেনি কেন?
এর জবাব হয়তো এই যে, ১৭৫৭ সালে ক্লাইভ যেমন সিরাজ হত্যা নিবারণ করতে চাননি, ১৯৭৫ সালে বোস্টারও হয়তো চাননি জেলে বাংলাদেশের চার জাতীয় নেতাকে হত্যার চক্রান্ত ব্যর্থ হোক। মুজিব-হত্যায় এবং তার ঘাতকদের পরবর্তীকালে আশ্রয়দানের ব্যাপারে হেনরি কিসিঞ্জার এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট যেভাবে সাহায্য জুগিয়েছে, তাতে পরবর্তী হত্যাকাণ্ড (৩ নভেম্বর) এবং ৭ নভেম্বরের তথাকথিত 'সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে' মার্কিন ভূমিকা কী ছিল, তা গবেষণা করার ব্যাপার নয়।
পঁচাত্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বোস্টার সম্প্রতি মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি মার্কিন সাংবাদিক এবং 'আনফিনিশড রেভলিউশন' গ্রন্থের লেখক লিঙ্কৎসুজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ১৫ আগস্টের ঘটনায় তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার ও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে গেছেন। তিনি বলেছেন, সব ঘটনাই ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের আগাম জানা ছিল। তবে তিনি এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন না। তিনি এ ব্যাপারে জড়িত ছিল এমন কোনো কোনো সহকর্মীর নামোল্লেখ করেছেন। বোস্টারের জবানি থেকেই অনুমান করা যায়, পরবর্তী ৩ নভেম্বরের জেল হত্যা এবং ৭ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা একেবারে অনবহিত ছিলেন না।
বাংলাদেশে ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড এবং ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, তার পেছনে শুধু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নয়, দেশের বাম রাজনীতির একটা বিভ্রান্ত এবং সুবিধাবাদী অংশও যে কোলাবরেটর সেজেছিল তার তথ্য-প্রমাণও এখন বেরিয়ে আসছে। সাংবাদিক বন্ধু অজয় দাশগুপ্ত (বর্তমানে দৈনিক সমকালের সঙ্গে যুক্ত) কিছুকাল আগে '৩২ নম্বরে শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং একটি প্রতিবাদী হরতাল' শীর্ষক একটি নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর ওই বছরই ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত একক ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের উদ্যোগে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সব সরকারি বাধা উপেক্ষা করে মিছিল ও সমাবেশ করার বিবরণ দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রমজান ও দুর্গাপূজার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় দেড় মাস বন্ধ ছিল। ১৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ২০ অক্টোবর প্রথম ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিল বের হয় এবং নিষিদ্ধ করে দেওয়া জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান উচ্চারিত হয়। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার বিক্ষোভ মিছিলের পর সমাবেশ করার চেষ্টা হলে সেই ছাত্র সমাবেশের ওপর তৎকালীন ভাসানী ন্যাপ নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার সমর্থক ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রদল হামলা চালায়। এই হামলার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কিছুদিন অস্থিরতা বিরাজ করে। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই (রেসকোর্স ও শাহবাগের বেতার ভবন) ট্যাঙ্ক ও মেশিনগান নিয়ে তখনও মহড়া দিচ্ছিল।
অজয় দাশগুপ্ত তার লেখায় আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। জেলে চার জাতীয় নেতাকে বর্বরোচিত পন্থায় হত্যার খবর জানাজানি হয়ে গেলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছাত্র ও যুবকরা ৫ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় ৬ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং হরতাল শেষে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে বঙ্গবন্ধু, তার সহকর্মী ও পরিবারের যেসব সদস্য নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই হত্যার বিচার দাবি করে। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবি করে কোনো জনসমাবেশে গৃহীত প্রথম প্রস্তাব।
তাজ্জবের কথা এই যে, আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা ছাড়া আওয়ামী লীগ হায়ার্কির প্রবীণ নেতারা বা মোশতাকের মন্ত্রিসভায় গিয়ে যারা যোগ দিয়েছিলেন, তারা কেউ এই প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেননি। এমনকি চার জাতীয় নেতার গায়েবানা জানাজাতেও তারা উপস্থিত হননি। পরবর্তীকালে যারা দাবি করেছেন, গানপয়েন্টে তাদের মন্ত্রিত্বের শপথ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল, তারা ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের পরও কেন ৫ নভেম্বরের প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেওয়ার সাহস দেখাননি, তার কোনো ব্যাখ্যা তাদের কাছ থেকে জানা যায়নি। ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানেও সেনাবাহিনী বা জনগণের বিপুল অংশ যোগ দেয়নি। জেনারেল খালেদ মোশাররফ চক্রান্তকারীদের আপস প্রস্তাবের ফাঁদে পা দিয়ে দু'জন সঙ্গী নিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিহত হন।
এই হত্যাকাণ্ড এবং বিচ্ছিন্ন সেনা অভ্যুত্থানের পরও একে প্রতিরোধ করার কোনো ইচ্ছা, সাহস ও ঐক্য আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রবীণ নেতারা দেখাননি। ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একমাত্র কাদের সিদ্দিকী সাহস করে প্রতিরোধের অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তার বর্তমান ভূমিকা যাই হোক, তার পঁচাত্তরের ভূমিকা একাত্তরের ভূমিকার মতোই। কিন্তু তিনিও আওয়ামী লীগের তখনকার নেতৃত্ব থেকে কোনো সাহায্য ও সমর্থন লাভ করেননি।
আমার একটি ধারণা, আকস্মিকভাবে ১৫ আগস্ট যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে তা নিবারণ করা না গেলেও আওয়ামী লীগের মতো বিশাল গণপ্রতিষ্ঠান (পরে বাকশাল) যদি সাহসী ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারত, তাহলে ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড এবং ৭ নভেম্বরের তথাকথিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান ঠেকানো সম্ভব হতো। ষড়যন্ত্র সফল হওয়াতেই ৩ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বরের ঘটনা দুটি নিয়ে নানা মিথ ও মিথ্যাচার পল্লবিত হয়েছে এবং এখনও তা টিকে আছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত দেশের ঐক্যবদ্ধ গণদাবিকে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে বর্তমান সরকার সাহস ও সংকল্পবদ্ধতা দেখালে এসব মিথ এবং মিথ্যাচারের ফানুস সহজেই ফেটে যাবে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই ফানুস ইতিমধ্যেই ফাটতে শুরু করেছে।
লন্ডন, ৬ নভেম্বর, শুক্রবার, ২০০৯
ডিএফআইয়ের মাধ্যমে জিয়ার শুভেচ্ছা
Repeat Post>>>>>
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের দুপুর। প্রথম প্রহরে জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। তখনো সেনানিবাসে ‘সিপাই সিপাই ভাই ভাই অফিসারদের রক্ত চাই’ ধরনের ‘বিপ্লবী’ স্লোগান মিলিয়ে যায়নি। খালেদ মোশাররফ নিহত। পরিস্থিতি টালমাটাল। জিয়া এদিন সকালে ধারণ করা বেতার ভাষণে নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দেন। ওই দিন বিকেলেই অবশ্য তিনি উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদমর্যাদা আপাতত মেনে নেন। এ রকম একটি সময়ে বাংলাদেশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল একটি বিদেশি মিশনে পৌঁছায়। এই প্রতিনিধিদলের প্রধান ছিলেন তত্কালীন এয়ার কমোডর (পরে এয়ার ভাইস মার্শাল) আমিনুল ইসলাম। তিনি তখন ডিএফআইয়ের পরিচালক।
১৯৭৫ সালে বর্তমান সামরিক প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের নাম ছিল ডিএফআই বা ডিরেক্টরেট অব ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এই সংস্থার পরিচালক পদে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার রউফ। তবে তাঁর বদলির আদেশও বহাল ছিল। ১৫ আগস্টের কাছাকাছি সময়ে ব্রিগেডিয়ার জামিলের ওই পদে যোগদান চূড়ান্ত ছিল। জামিল ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বরের অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে গিয়ে নিহত হন। ১৫ আগস্টের পরপরই খন্দকার মোশতাক সরকার ওই পদে এয়ার কমোডর আমিনুল ইসলামকে বসান।
এখানে লক্ষণীয়, তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলে অপর দুজন ছিলেন কর্নেল উল্লাহ ও মেজর মোহসিন। কর্নেল উল্লাহ ছিলেন সংস্থার প্রধান প্রশাসক। পদমর্যাদায় ইসলাম ও উল্লাহর চেয়ে নিচে থাকলেও মেজর মোহসিনই ছিলেন প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র। তিনি ছিলেন ডিএফআইয়ের বৈদেশিক মিশনগুলোর লিয়াজোঁ কর্মকর্তা। ধারণা করা চলে তিনি সেখানে কার্যত জিয়াউর রহমানের মুখপাত্র হিসেবেই যান।
মার্কিন দলিলগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর থেকে কোনো প্রকারের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই মার্কিন দূতাবাসের ওপর সর্বাত্মক নির্ভরশীলতা খুঁজতে উদ্যোগী হন। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে তিনি একমুহূর্ত নষ্ট করতে চাননি। তাই ৭ নভেম্বরেই তিনি প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মাধ্যমে চীন ও পাকিস্তানের মন জয় করতে দৃশ্যত নানামুখী ব্যবস্থা নেন।
ভারত ঠেকাও: মার্কিন দলিল অন্তত ত্রিমুখী উপায়ে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ চেষ্টার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। প্রথমত, বোস্টারের সঙ্গে সামরিক গোয়েন্দা প্রতিনিধিদলের সাক্ষাত্। দ্বিতীয়ত জিয়াউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ নভেম্বরেই ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব নজরুল ইসলামকে (পররাষ্ট্রসচিব ফখরুদ্দিন আহমেদ সম্ভবত ছুটিতে ছিলেন) দিয়ে মার্কিন দূতাবাসের উপপ্রধান আরভিং জি. চেসলকে ডেকে নেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, কূটনীতিক বোস্টারকে ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা কূটনৈতিক চ্যানেলে নয়, সামরিক গোয়েন্দাদের দিয়ে পৌঁছে দেওয়াটাকেই জিয়া সঠিক মনে করেছিলেন। পেশাদার কূটনীতিক নজরুল ইসলাম দুটি বার্তা পৌঁছান। প্রথমত, বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থন চায়। এটা পেলে ভারতীয় যেকোনো প্রচেষ্টা নস্যাত্ হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের উদ্বেগ যেন মার্কিন প্রশাসন চীন ও পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দেয়। আর পাকিস্তানকে জানিয়ে দেয় যে, তারা যেন বাংলাদেশের পক্ষে মুসলিম দেশগুলোরও সমর্থন আদায় করে। এ সময় নজরুল ইসলাম আরও মন্তব্য করেছিলেন, ‘পাকিস্তানবিরোধী ও ধর্মনিরপেক্ষ যে চেতনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শেষ হয়েছিল, আজ জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বস্তরের মধ্যে তার পুরোপুরি উল্টো চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাঁরা জিয়াউর রহমান ও মোশতাক আহমদ উভয়ের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের মনোভাব স্পষ্টতই পাকিস্তানপন্থী, ইসলামপন্থী, মার্কিনপন্থী ও পাশ্চাত্যপন্থী। এ অবস্থায় সরকার ভারতীয় প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় নাশকতার আশঙ্কা করছে। তবে তিনি এও বলেন, ভারতের জনপ্রিয়তা নেই বলে নাশকতার ভয় ততটা নেই।’
জিয়াউর রহমান ভারতীয় জুজু কিংবা কোনো ধারণাগত ভারতীয় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও পাকিস্তান এবং মুসলিম বিশ্বের কিছু দেশ অর্থাত্ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী আন্তর্জাতিক শক্তির কাছ থেকে সুবিধা আদায়ে দৃশ্যত সচেষ্ট ছিলেন। ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও তিনি ভারত ভীতিকে কাজে লাগান বলে অনেকে মনে করেন।
জেনারেল জিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে তোয়াজ করতে আরও এক লোককে কাজে লাগান। তিনি খুনি চক্রের বিশেষ আস্থাভাজন মাহবুবুল আলম চাষী। চাষী ৭ নভেম্বর সকালে সেনানিবাসে জিয়া, ওসমানী, তাহের প্রমুখের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। তখন তিনি রাষ্ট্রপতির মুখ্য সচিব। চাষীর সঙ্গে ৭ নভেম্বরেই বোস্টারের সাক্ষাত্ বা কথাবার্তা হতে পারে। যার ইঙ্গিত কিসিঞ্জারের কাছে পাঠানো বোস্টারের ৮ নভেম্বরের এক তারবার্তায় রয়েছে।
কিসিঞ্জারের মধ্যস্থতা: লক্ষণীয় যে, ৭ নভেম্বর বোস্টার ও আরভিং চেসলের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান যে বার্তা পৌঁছান, তা কিন্তু জাদুমন্ত্রের মতো কাজ দেয়। হেনরি কিসিঞ্জার পরদিন ৮ নভেম্বর পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্যাক্সবির মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভুট্টো (দেখুন, কিসিঞ্জার ও ভুট্টোর পছন্দ জিয়া, প্রথম আলো, ৪ নভেম্বর ২০০৯) ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চ্যাবনের কাছে বাংলাদেশ সরকার প্রশ্নে দুটি চিঠি দেন। এই চিঠি অবশ্য দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে বরফ গলাতে সাহায্য করেছিল। হেনরি কিসিঞ্জার এ সময় অনেকটা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি চ্যাবনকে লেখেন, আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ খেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিরর্থক। আর বাংলাদেশকে তিনি জানিয়ে দেন, ভারতের সঙ্গে প্রীতিকর সম্পর্ক বজায় রাখাই তার জন্য সঠিক হবে। কিসিঞ্জারের এই দৃষ্টিভঙ্গি দৃশ্যত ভারতের মনঃপূত হয়। ৮ নভেম্বর দুপুরে দিল্লির মার্কিন দূতাবাসের উপপ্রধান (স্যাক্সবি অসুস্থ ছিলেন) কিসিঞ্জারের ওই চিঠি পররাষ্ট্রসচিবের কাছে হস্তান্তর করেন। উভয়ের কথোপকথন ওয়াশিংটনকে জানান স্যাক্সবি ওই দিনই। ‘ভারতের পররাষ্ট্রসচিব কেওয়াল সিং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তার যথেষ্ট প্রশংসা করেছেন। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সম্পর্কে আমরা বাংলাদেশের নতুন নেতাদের যা বলেছি, তা খুবই সহায়ক হওয়া উচিত। মি. সিং বাংলাদেশের বিষয়ে বৈদেশিক সংশ্লিষ্টতা প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করেন এবং একমত হন যে, বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটাতে সক্ষম থাকবে। ভারত মনে করে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে এবং জেনারেল জিয়া একজন বাস্তববাদী মানুষ। তাঁর নির্দিষ্ট কোনো শক্ত আদর্শিক অবস্থান নেই। ভারত সরকার সেখানে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিষয়ে উদ্বেগ অনুভব করে। কারণ, সে ধরনের ঘটনা ভারতের হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে গুরুতর সংকট তৈরি করতে পারে। ৮ নভেম্বর কেওয়াল সিং আরও বলেন, ‘সেখানকার পরিস্থিতি গতকালের মতোই গঠনমূলক ও ভালোর দিকেই যাচ্ছে। ভারতের স্বার্থের হানি ঘটার মতো সমস্যা সৃষ্টির কারণ দেখা যায় না। কিন্তু নতুন সরকার যদি তীব্রভাবে সাম্প্রদায়িক রূপ নেয় কিংবা প্রচণ্ডভাবে ভারতবিরোধী হয়ে ওঠে, তা হলেই কেবল ‘ভারত সরকার তার সহযোগিতার মনোভাবে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।’ এই বার্তা থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ নিয়ে চ্যাবনের সঙ্গে কিসিঞ্জারের মধ্যে ওয়াশিংটনেও মতবিনিময় হয়েছিল। স্যাক্সবি লিখেছেন, ‘কেওয়াল সিং স্মরণ করেন, ওয়াশিংটনে তিনি চ্যাবনকে যেমনটা বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের কেবল উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। ক্ষমতার ভারসাম্যের অর্থহীন খেলা তার এড়ানো উচিত। আপনাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সেই কথাই এবারের চিঠিতে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এদিন এ কথাও বলেন, তাঁর এ কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই যে, জিয়াউর রহমান ভারতের ওই দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সচেতন নন।’
এদিকে ৮ নভেম্বর ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত বোস্টার তাঁর উল্লিখিত তারবার্তায় কিসিঞ্জারকে যা কিছু অবহিত করেন, তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন সরকারের মনোভাব জানতে অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছিল। বোস্টার লিখেছেন, ‘আমি ৮ নভেম্বর সকাল নয়টা ৩৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতির মুখ্য সচিব চাষীকে টেলিফোন করি। তিনি দ্রুততার স্বার্থে টেলিফোনেই বার্তাটি আমার কাছ থেকে জেনে নেন। আমি জানতে চাইলাম, পরিস্থিতি কি শান্ত? তিনি বললেন, আমরা যখন গতকাল কথা বলেছি তার চেয়ে অনেক ভালো। চাষী বলেন, উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়া থেকে নতুন দিল্লির বিরত থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাতে বাংলাদেশের জনগণ বিরক্ত বোধ করে। তারা যা-ই বলুক, এখানে তার প্রভাব পড়বেই। বাংলাদেশ সরকার সে কারণেই গতকাল একটি বিবৃতি দিয়েছে যে, বাংলাদেশে যা-ই ঘটুক না কেন, তাতে বিদেশি নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তার কোনো সমস্যা হবে না। এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে কারণ, দিল্লি ও কলকাতার বেতার ভারতীয় মুখপাত্রের বরাতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।’
বিকল টেলিফোন সেট সচল: ৯ নভেম্বরে বোস্টার পৃথক এক তারবার্তায় মার্কিন সরকারের মূল্যায়ন সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এতে বোস্টার লেখেন যে, “চাষী আমাদের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হয়েছেন। সে কারণে সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভারতীয়দের পুনরায় আশ্বস্ত করেছেন। বোস্টারের বর্ণনায়, আমি আজ একটা ৪৫ মিনিটে তাঁকে ফোন করি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে তাঁর সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন এভাবে। ‘আপনাদের নেওয়া উদ্যোগ আমরা সমর্থন করি। অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়ার যে প্রয়োজনীয়তা আপনারা গতকাল উল্লেখ করেছেন, আমরা তার সঙ্গে একমত। কার্যকরভাবে আমরা সংখ্যালঘু হিন্দু ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নিয়েছি। এসব পদক্ষেপের বিষয়ে আমরা এখানে ভারতীয় হাইকমিশন ও দিল্লিতে আমাদের হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। জেনারেল জিয়াউর রহমান অস্থায়ীভাবে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েই তাঁর একজন প্রতিনিধিকে ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে পাঠান। এর লক্ষ্য ছিল তাঁকে আশ্বস্ত করা যে, ঘটনাবলি একান্তভাবেই অভ্যন্তরীণ। আমাদের মহান প্রতিবেশীর সঙ্গে উদ্ভূত ঘটনাবলির প্রভাব কোনোভাবেই পড়বে না’।” এখানে দুটি দিক কৌতুকপ্রদ। জিয়া ৭ নভেম্বরে ভারতীয় হাইকমিশনার সমর সেনের কাছেও দূত পাঠিয়েছিলেন। তিনি দূতের মাধ্যমে ভারতকে ‘মহান প্রতিবেশী’ বলে বর্ণনা এবং এমনকি সৌহার্দ্য দেখাতে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের কিছু বিকল ফোনসেট সচল করে দেন। টেলিফোন সেট ঠিক করে দেওয়ার মতো প্রসঙ্গও বোস্টারকে গুরুত্বের সঙ্গে জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির মুখ্য সচিব চাষী। আর মার্কিন কূটনীতিকেরা ওই সময়ে বাংলাদেশে ভারতের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের কোনো নির্দিষ্ট রূপ কখনো খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেননি। যদিও জনগণের মধ্যে ওই রকম ধারণা ছিল। ৮ নভেম্বরে চাষী বোস্টারকে জানান, সমর সেন আজ দুপুরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্ করছেন। তিনি তাঁকে বলবেন যে হালুয়াঘাট সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। হয়তো তা স্থানীয় বিষয়, কিন্তু তবুও তিনি তা সেনের নজরে আনবেন।
উল্লেখ্য, মাহবুবুল আলম চাষী এদিন প্রশ্নের জবাবে বোস্টারকে নিশ্চিত করেন যে, ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলিতে ‘রাজনীতি ছাড়াও একান্তভাবে ব্যক্তিগত রেষারেষি ও পুরোনো শত্রুতার শোধ নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।’ সিপাহি বিদ্রোহের ঘটনায় নেতৃত্ব দানকারী সাবেক বিপ্লবী গণবাহিনীর সহ-অধিনায়ক হাসানুল হক ইনু ওই সময়ে সেনানিবাসে ১৩ অফিসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিপাহিদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে দাবি করেন। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালেদ মোশাররফ, হুদা ও হায়দারকে হত্যায় সংশ্লিষ্ট এক বা একাধিক কর্মকর্তা সম্ভবত আজও বেঁচে আছেন। আমি ওই সব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানাই।’
ডিএফআই মিশন: ‘জিয়ার কাছ থেকে বার্তা’ শীর্ষক তারবার্তায় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিস ইউজিন বোস্টার ৭ নভেম্বর লিখেছেন, “তখন দুপুর ১২টা ৪৫। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগের উল্লিখিত তিনজন। তাঁরা বোস্টারকে জানালেন, ‘জেনারেল জিয়া আপনাকে তাঁর ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা পৌঁছাতে বলেছেন। এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চয়তা দিচ্ছেন যে, আমেরিকার সঙ্গে অতীতে বাংলাদেশের যে ভালো সম্পর্ক ছিল, তাতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। উপরন্তু ওই সম্পর্কে আরও উন্নতি ঘটানো হবে। তিন সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র হিসেবে মেজর মোহসিন (তিনি জিয়াউর রহমানের আমলে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার হিসেবে অবসর নেন) বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অধিকতর সহযোগিতা এবং সাহায্য আশা করে। জেনারেল জিয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে এটা জানাতেও নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি (জিয়া) দু-এক দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে পারেন’।”
বোস্টার লিখেছেন, রাষ্ট্রদূত জবাবে তাদের বলেন, তিনি জেনারেল জিয়ার তরফে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোতে খুশি হয়েছেন। এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে জিয়ার আশাবাদ শুনতে তিনি উদ্গ্রীব থাকবেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে জেনারেল জিয়ার ওই প্রীতিকর মনোভাব তাঁর সরকারকে জানিয়ে দেবেন। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা কোনো অবস্থান নিইনি। তবে যতদূর সম্ভব আমরা সহায়তা দিতেই সচেষ্ট থাকব। আমাদের অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের রেকর্ড থেকেই তা স্পষ্ট।’
এ পর্যায়ে বোস্টার জিয়াকে ‘পুরোনা বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। বোস্টারের ভাষায়, তিনি জেনারেল জিয়ার সঙ্গে সমঝোতার জন্য অপেক্ষা করবেন, যিনি তাঁর এক পুরোনো বন্ধু (হু ওয়াজ এ ওল্ড ফ্রেন্ড)।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বোস্টারের প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, ‘সোমবার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের পর থেকে জেনারেল জিয়াকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছিল।’
বোস্টার লিখেছেন, জিয়ার প্রতিনিধিদলটি ৭ নভেম্বর তাঁকে বলেছে, রাত একটার দিকে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তা ছিল ব্যাপক। কিন্তু হতাহতের সংখ্যা কম। সংখ্যাটি হয়তো তিন বা তার চেয়ে কম হবে।
খালেদ মোশাররফ কোথায় কেমন আছেন জানতে চাইলে তাঁরা বোস্টারকে জানান, ‘তিনি তাঁদের কাস্টডিতেই ছিলেন।’ কিন্তু তাঁর বিষয়ে প্রতিনিধিদলের কেউই স্পষ্ট করেননি। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর দায়িত্বে জেনারেল জিয়া রয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তাঁরা খুব স্পষ্ট উত্তর দেন। বলেন, তিনিই এখন চার্জে আছেন অর্থাত্ সরকার চালাচ্ছেন।
অনেকে মনে করেন, বোস্টারের বিবরণ সত্য হলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিক লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের ঘটনা সম্ভবত বাংলাদেশের ইতিহাসে জেনারেল জিয়ার হাতেই প্রথম ঘটে। এবং সে তারিখটি ছিল ৭ নভেম্বর।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com
http://prothom-alo.com/detail/date/2009-11-08/news/18001
৭ নভেম্বর সারা দেশে অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা ঘটেছিল.....
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পট পরিবর্তনে রাষ্ট্র রাহুমুক্ত হয়েছে ভেবে যারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন তারাও প্রমাদ গুনলেন। নাগরিকদের মনে এই মর্মে আবার শঙ্কার সৃষ্টি হলো যে, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আবারো বিপন্ন হয়ে পড়ছে। ৩ নভেম্বরের ক্ষমতা দখলকারীরা স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ায় অসন্তুষ্ট ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এর ফলে নতুন অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে সঞ্চারিত ক্ষোভ বিদ্যুৎ গতিতে সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পরিব্যাপ্ত হয়। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষ� ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, মজুর এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা কোনো নেতৃত্ব ছাড়াই প্রতিবাদ-প্রতিরোধে একযোগে নেমে আসে রাজপথে। ঘটায় সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সারা দেশে যে কী অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা ঘটেছিল, সেটা প্রত্যক্ষদর্শীরা ছাড়া কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশের শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে ঘর থেকে পথে নেমে এসেছিল কোটি মানুষ। উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত সব মানুষ। তারা রাজপথে নেমে আসা ট্যাঙ্কের গলায় পরিয়ে দেয় ফুলের মালা। দু�বাহু বাড়িয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে বুকে বুক মিলায়। সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে নগর-বন্দর প্রদক্ষিণ করে জানিয়ে দেয়� দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ একাট্টা।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার এই ঐতিহাসিক বিপ্লবকে আওয়ামী লীগ কখনো ভালো চোখে দেখেনি। আসলে জনতাকে তাদের বরাবরই বড় ভয়। সে কারণে তারা সব সময়ই ষড়যন্ত্রের পথ খোঁজে। জনতাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে যেমন করেছে। (Source: ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, Nayadigonto,Nov.06, 2009)
HI
BECAUSE RETARDED PPL LIKE U ALWAYS WANT TO SUCK THE ASS OF THE ARMY
fuck off
নভেম্বরের ঘটনায় জিয়ার কোন ভুমিকা পরিলক্ষিত হয় নি
আওয়ামীলিগ নিজেদের স্বার্থে বাকসাল করেছিল,লক্ষ লক্ষ মানুষের রিজিক তারা একা ভোগ করেছিল,শেখ মজিব রক্ষি বাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হ্ত্যা করেছিল,এখন আবার সেই জাহেলিয়া যুগে ফিরেছে,বিরোধী দলগুলো যদি একি পথ আনুসরন করে তাহলে আওয়ামীলিগ মানবে কি?
দুঃখ জনক হলেত্ত সত্তি আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় সংকী্নৱতা,হিংসা,হানা হানি,ধংসাত্তক রাজনীতি পরিহার করতে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ অনেক লম্বা সময় তারা পাড়ি দিয়েছে।আজ ক্ষমতা পেয়ে তারা যে ভাবে প্রকাশে্য অপ্রকাশ্শে বি.এন.পি তথা বিরোধীদল নির্মূল অভিযানে মদদ দিছ্ছে তা অত্যনত লজ্জাজনক।এই সূদীর্ঘ সময়ে বি.এন.পি ইছ্ছে করলে এদেশ থেকে আওয়ামী লীগ এর নাম নিশানা মুছে ফেলতে পারত,পারত এই জন্যে যে ১৯৭১ পরবর্তী আওয়ামী ইতিহাস ভয়াবহ ইতিহাস।ক্ষুধার তাড়নায় মানুষ-কুকুরের লড়াই,লাখ লাখ লোকের অনাহার মৃত্তূ,অন্যদিকে একনায়ক তন্তের খড়গ,,মানবতা বর্জিত হত্যা-কান্ড,মুজিব এর স্বদম্ভ বিখ্যাত উক্তি,নিজের ব্যার্থ প্রশাসন,কম্বলের জন্য ক্ষেদোক্তি|"সাত কোটি কম্বলের মধ্যে আমার কম্বল গেল কই।"'সবাই পায় সোনার খনি, আমি পাইসি চোরের খনি'!সেই চোরের দলই আবারও ফিরেছে ক্ষমতায় মইন উদ্দিনের সাথে আতাত করে! আমরা ৭২ থেকে ৭৫ দেখেছি, আর দেখেছি তার ভয়াবহতা।যারা দেখেনি তারা ভাবতেও পারবেনা বাকসাল কি জিনিস।তবে মনে হয় তেনারা আবার আসছেন।আসছেন সেই লাল ঘোড়ারা, আসছেন সেই রখখি বাহিনী।তার পথ পরিসকার করার জন্যই কি বি,ডি,আর কে শেষ করা হোল? মুজিব আমলে যা হচ্ছিল তা থেকে সেই দিন জনগন মুক্তি পেয়েছিল আবার নতুন করে!
আওয়ামী লিগাররা পাগলা কুকুরের মত হয়ে গেছে,রাস্তায় মানুষ পেলেই কামড়ায়,আর দুই আওয়ামি লিগার হলে তো পাগলা কুকুরের কামড়া কামড়ি বন্ধ করতে পুলিশ আসতে হয়।আওয়ামীলিগের অপর নাম সন্ত্রাসীদের''প্রজনন'' ক্ষেত্র?
আগাচৌ গাধার বাচ্চা,আমার ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন এমন একটা ভুলের মহাসমুদ্রে যেখান থেকে কাউকে উদ্ধার করা যায় না, আবার সারা জীবন সাঁতার কাটলেও এই সমুদ্র থেকে তীরে ওঠা যায় না।এইসব কি লেখস ? ছাগলের বাচ্চা ছাগল। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অনিবার্য ছিল।আওয়ামী ফেরাউনের বাহীনি যেভাবে ৪০ হাজার জাসদ কর্মী হত্যা করেছে আর যেভাবে দেশের কোটি মানুষকে দূভিক্ষে না খায়িয়ে মেরেছে তার জন্য ১৯৭৫ শাস্তি হিসাবে কিছুই না।সব আওয়ামীদের ফেরাউনের ভাগ্য বরন করা উচিত ছিল।জিয়ার সম্পর্কে কোণ অভিযোগ না পেয়ে তাকে সামরিক বাহীনির হত্যা কান্ডের জন্য দ্বায়ী করা হয়।বাস্তবতা এই যে যারা ততকালীন সেনাবাহীনির শৃক্ষলা ভেঙ্গে বিদ্রোহ করেছিল তাদের ফাসি দেওয়া হয়েছে।আরও বলতে চাই ১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বরের ঘটনায় জিয়ার কোন ভুমিকা পরিলক্ষিত হয় নি।উনাকে বন্দি রাখা হত না যদি উনি ১৫ আগষ্টের মত ৭ নভেম্বরের ঘটনায় সম্মতি দিতেন। জিয়া সুন্দরভাবে রেখে গেছেন এক আদর্শ যা ভারতের দাদাবাবুদের ওটার প্রতি যাদের টান আছে তাদের জন্য হূমকি।জিয়ার বিএনপি হলো আধুনিক বাংলাদেশের প্রগতি ও গনতন্ত্রের প্রতীক।
salimC: during 7th Nov Zia was not alive
monkey, Zia did not have a role? Oh, he was not alive at that time; Col Taher hanged him before that.
BAL-র 'Paid per article' লেখক আগাচৌ
BAL-র 'Paid per article' লেখক কট্রর ভারতের দালাল (যে নাকি জোট সরকারের সময় নিউইয়র্কে হিন্দু-বৌদ্ব-খ্রীষ্টান সমিতির সভায় ভারতকে বাংলাদেশ আক্রমন করার আহবান জানিয়েছিল) দুরবীণ দিয়ে বাংলাদেশের সবকিছু দেখা লেখক আগাচৌ-র লেখার বস্তুনিষ্ঠতা শুধু সাধারন জনগন কেন স্বয়ং BAL-র লোকজনও বিশ্বাস করে না।
জিয়ার তুলনা কেবল তিনি নিজেই
যারা জিয়া খুনির আসনে বসানোর জন্য লাফালাফি শুরু করেছেন তাদের কাছে প্রশ্ন কার আমলে বেশি রাজনৈতিক হত্যা হয়েছিল। দিন-রাত আওয়ামীরা জিয়ার ইমেজ নিয়ে আতংকিত। আওয়ামীদের জন্য জিয়া নামটা এক দুঃস্বপ্ন। জিয়ার জন্য আওয়ামীরা আজ শান্তি করে ঘুমাতে পারে না। মেজর জিয়া কেবলই তাকে হত্যা এবং ক্ষমতা দখল করার পরিকল্পনাকারিদের বিচার করেছেন। কিন্তু মুজিব উরফে ফেরাউন ৪০,০০০ বাংলার মানুষকে হত্যা করেছেন কেবল মাত্র ভিন্ন ধারা রাজনিতীতে বিশ্বাস করার জন্য। তাই আওয়ামীদের ভাংগা রেকর্ডে আজ আর কাজ হবে না।
HELOW
EO KISU CHINTA KORA BAD DIYA NIJER MAYER VODA NIYA VAB.. TOR MAYERE SOBAI CHUDE BERAY
fuck off
Those who dont understand Zia they dont understand Bangladeshi
Shek Musib was not the head of a completely independent Bangladesh that’s why he had to form Rokhkhi Bahini instead of building our own army. In his government the influence of his family members were profound instead of truly devoted and honest party members. Everywhere corruption got an established rule. That’s why and his failure in all sectors, his popularity came down near to Zero. He made our country a bottomless busket. So to stay in power he killed lot of opposition members. Even though, he was not sure about his reelection as prime minister. Finally, he formed BAKSAL.
In this situation, his party members killed him and his family members. This situation could have been avoided if Shek Musib had maintained this words that he gave to the nation before independent and election.
In this volatile situation Khaled Mossaraf declared military rule in 3rd November 1975 and arrestted Zia. But his leadership was not accepted. Zia was popular in army as well as in general people. So they rescued him and gave him the responsibility to save the nation from that situation and Zia did that job successfully. Zia’s success and his popularity made zealous to some narrow leaders.
Here are some reasons of Zia's popularity:
1. He made Bangladesh completely independent by building our army strong and dissolved all other forces like Rokhkhi Bahini.
2. He was completely honest person, even he did not have his own house even he was the president of Bangladesh that was exception.
3. His family had no influence in his government.
4. He was the withdrawer of military rule that was declared by Khaled Mossaraf.
5. He established multiparty democracy, that’s why BAL was able to restart that (BAL) was dissolved by Shek Musib.
6. Price of necessary items came to the reach of general people.
7. Suppression and killing of opposition members stopped.
8. Honesty and good governances were reestablishing.
9. "Bismillah" was added to our constitution
10. Bangladesh had become a valuable member of Islamic world
11. Overall he made a hope to general people (student, farmer, labor etc.) that “yes we can, money is not the main problem, and if there is a will there is a way”
So, I invite narrow peoples, who are zealous to the success of Zia, stop misleading innocent people and learn the truth and reality of Zia.
Once, a French diplomat says about Bangladeshies that majorities of Bangladeshies are first Muslim then Bangali.
Zia understood the need of Bangladeshies. So those who do not understand Zia they do not understand Bangladeshies.
OI
AMAR HEDA BUZHOS TUI
fuck off
৭ই নভেম্বর
৭ই নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য এক প্রেন্তিক সময়। মুজিব উরফে ফেরাউনের শোষনে অতিষ্ঠ জনগন ৭ই নভেম্বর এক বিজয় লাভ করে। সিপাহী জনতা বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলার বীর তাহেরের মাধ্যমে মেজর জিয়া ক্ষমতায় আসিন হন। মেজর জিয়া এমন এক নেতৃত্তের উদাহরন বাংলাদেশের রাজনীতিকে দিয়ে গেছেন তা আজও অপ্রতিদন্দি। মেজর জিয়া বাংলাদেশকে দিয়ে গেছেন এক নতুন স্বপ্ন এবং এক আদর্শ যা আজকের কোথাও পাওয়া যায় না। ছিড়া গেঞ্জি এবং ভাংগা সুটকেসের কথা অগণিত বার শুনেছি। তথাকথিত রাজনৈতিক দল বিএনপি জিয়ার আদর্শ বিক্রি করে ভোট বানিজ্য করলেও তারা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসি নয়। জিয়ার আদর্শ এবং ইমেজ আওয়ামীলীগের জন্য এক হুমকি তাই আওয়ামী মনারা জিয়ার বিভিন্ন কার্যকলাপের সমালচনা করে থাকেন। অন্য সব মানুষের মত মেজর জিয়া সমালচনার উর্ধে নন। কিন্তু আমি মনে করি উনিই এ পর্যন্ত একমাত্র সৎ এবং সাহসী রাষ্ট্রনায়ক যিনি বাংলাদেশকে স্থানিয় আধিপত্যবাদ থেকে রক্ষা করেছেন। এক কথা মেজর জিয়ার তুলনা কেবলই উনি নিজেই।
yousuf144 ভাইঃ
আপনি লিখেছেন""সিপাহী জনতা বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলার বীর তাহেরের মাধ্যমে মেজর জিয়া ক্ষমতায় আসিন হন।""
আসলেই তাই। মীরজাফর এবং তাদের বংশধররা ষড়যন্ত্র এবং কুচক্রীদের এভাবেই ক্ষমতায় আসীন হয়। ইতিহাসের কুখ্যাত মীরজাফরও ষড়যন্ত্র এবং ইংরেজদের দ্বারা এভাবেই ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল। ২১৮ বছর পর তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী আরেক কুখ্যাত খুণী জিয়াও হত্যা, খুন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একইভাবে অন্যের সহায়তায় ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল। ২৩ শে জুন, ১৫ই আগষ্ট আর ৭ই এর মোহনা এক জায়গায়। ষড়যন্ত্রের কৌশল একই। শুধু মূখগুলির পরিবর্তন হয়েছে। ২৩ শে জুনের খুণী ও ষড়যন্ত্রকারীরা রেহাই পাই নাই। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে তাদের পরিনতি বরন করতে হয়েছে। হায়রে তাহের! আহারে জিয়া! কোথা সে দম্ভ ফারুক, কোথায় জংলী ডালিম (কোথায় আমাদের নেড়ী ডালিম?) আহারে খুনী রশিদ (মেহনাজ রশিদের ভাষ্য অনুসারে বর্তমানে বিদেশে মানবেতর জীবন যাপন করছে)? কোথা সে হুদা, পাশা আর কত নরপশুদের দল?
yousuf144 ভাই, আপনি কি জানেন, এই ফোরামের নেড়ী ডালিম কোথায়? ওরে বলেন এই ফোরামে ফিরতে। ওর কোন ভয় নাই। ওতো নেড়ী। এই নেড়ীকে কেউ ছুতে যাবে না।
সবাই ভাল থাকুন,
সুস্হ থাকুন,
সুন্দর থাকুন-
-হৃদয়
HI
GO HOME CUNT N FUCK UR MOM WITH A CONDOM TYPED 'ZIA' IN IT
fuck off
yousuf144: Zia was like you, he followed you.
If Zia you would be alive, he would praise you the same way you praised him.
*** Zia had no ideology; he had the principle of a soldier, to win you must kill, to protect you must kill, to occupy you must kill.
7th Nov, day of feast on brothers meat & back to Pak rule
In Pak army, every officer deamt to become the president. Pak trained BR officers followed their old friends & feasted on brothers meat on the 7th of Nov, 1975.
Who Gained from 7th November?
For few days around 7th November 1971 during Uni holidays I lived in Dhaka Cantonment in my BUET mates house. His Dad a retired Army officer used to live in a rented house opposite to Adamjee Cantonment College.
We witnessed a little bit what happened in Dhaka Cantonment. All Army families got panicked. They were mostly confined in their houses. The daily ration of milk were snacthed away or were not served at all There was little dicipline as army chain of command was in disaaray.Follwing Bangabandhu murder in August 15th the same group of killers carried out Jail killings. From 3rd November conflicting group of ambitious army officers started in fighting. So called Sepoy -Janata Revolution ( prematured hyperaction) led to killings of several innocent army officers , many leading freedom fighters. We remember sepoys were searching and killing army officers indiscriminantly. How can killing of innocent army officers be treated as sepoy - janata revolution? Which janatas excepting conspirators were involved?
So caled " Major ( Retreat) "exploited the opportunity .
Subsequently anti liberation force , noted Razakars got opportunity to re-establish themselves in state power - national politics. So November 7 , 1971 is one of the arkest day of Bangladesh history for which all ambitious Army Officers - whoever they might be a were responsible.August 15th and November 7 put Bangladesh decades bacwards in nation building. Bangladesh became happy hunting ground of terrorists -killers.We mus ask our conscious and try to know the response who gained from 7/11? All killings must be investigated? All killers need to be punished.
Till all kilers are punished politics of killing or grabbing state power with guns will continue. Democarcy will remian in custody.
Kh.A. Saleque
People gained
People gained from 7th november.