শ্রদ্ধেয় আব্বা, আম্মা, প্রিয় লুৎফা, ভাইজান ও আমার ভাইবোনেরা-
গতকাল বিকালে ট্রাইব্যুনালের রায় দেয়া হল। আমার মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। ভাইজান (তাহেরের বড় ভাই আবু ইউসুফ খান- লেখক) ও মেজর জলিলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড, সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত। আনোয়ার, ইনু, রব ও মেজর জিয়াউদ্দিনের দশ বৎসর সশ্রম কারাদন্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা। (প্রকৃতপক্ষে জিয়ার বারো বৎসরের কারাদন্ড হয়েছিল) সালেহা, রবিউলের ৫ বৎসর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা। (সালেহা-যশোরের প্রাক্তন জাসদ নেত্রী, রবিউল-সালেহার স্বামী, তৎকালীন যশোর জেলার জাসদ নেতা।) অন্যান্যদের বিভিন্ন মেয়াদী কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। ডঃ আখলাক, সাংবাদিক মাহমুদ ও মান্নাসহ তেরো জনকে এ মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়েছে। (সাংবাদিক মাহমুদ- কে বি.এম. মাহমুদ অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক 'ওয়েভ' পত্রিকার সম্পাদক। মান্না.সাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি) সর্বশেষে ট্রাইব্যুনাল আমার মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করে বেত্রাহত কুকুরের মত তাড়াহুড়া করে বিচার কক্ষ পরিত্যাগ করলো।
হঠাৎ সাংবাদিক মাহমুদ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। আমি তাঁকে সান্ত্বনা দিতে চাইলে তিনি বললেন- 'আমার কান্না এ জন্য যে একজন বাঙালি কর্নেল তাহেরের মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা করতে পারলো!' বোন সালেহা হঠাৎ টয়লেট রুমে গিয়ে কাঁদতে শুরু করলো। সালেহাকে ডেকে এনে যখন বললাম- ' তোমার কাছ থেকে দুর্বলতা কখনোই আশা করি নি।' সালেহা বললো- 'আমি কাঁদি নাই আমি হাসছি।' হাসি-কান্নায় এই বোনটি আমার অপূর্ব। জেলখানায় এই বিচারকক্ষে এসে প্রথম তার সঙ্গে আমার দেখা। এই বোনটিকে আমার ভীষণ ভাল লাগে।
সমস্ত সাথীদের শুধু একটাই বক্তব্য ঃ কেন আমাদেরকেও মৃত্যুদন্ড দেয়া হলো না। মেজর জিয়াউদ্দিন বসে আমার উদ্দেশ্যে একটি কবিতা লিখলো। জেলখানার এই ক্ষুদ্র কক্ষে হঠাৎ আওয়াজ উঠল, 'তাহের ভাই-লাল সালাম।' সমস্ত জেলখানা প্রকম্পিত হয়ে উঠলো। জেলখানার উঁচু দেওয়াল এই ধ্বনিকে কি আটকে রাখতে পারবে? এর প্রতিধ্বনি কী পৌঁছবে না আমার দেশের মানুষের মনের কোঠায়।
রায় শুনে আমাদের আইনজীবীরা হতবাক হয়ে গেলেন। তারা এসে আমাকে বললেন যদিও এই ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না তবুও তারা সুপ্রীম কোর্টে রীট করবেন। কারণ বেআইনীভাবে এই আদালত তার কাজ চালিয়েছে ও রায় দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেণ্টের কাছে আবেদন করবেন বলে বললেন। আমি তাদেরকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলাম প্রেসিডেণ্টের কাছে আবেদন করা চলবে না। এই প্রেসিডেণ্টকে আমি প্রেসিডেণ্টের আসনে বসিয়েছি, এই বিশ্বাসঘাতকদের কাছে আমি প্রাণভিক্ষা চাইতে পারিনা।
সবাই আমার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শুনতে চাইলো। এর মধ্যে জেল কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে সরিয়ে নেয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠলো। বললাম, আমি যখন একা থাকি তখন ভয়, লোভ-লালসা আমাকে চারদিক থেকে এসে আক্রমণ করে। আমি যখন আপনাদের মাঝে থাকি তখন সমস্ত ভয়, লোভ-লালসা দূরে চলে যায়। আমি সাহসী হই, বিপ্লবের সাথী রূপে নিজেকে দেখতে পাই। সমস্ত বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করার এক অপরাজেয় শক্তি আমার মধ্যে কাজ করে। তাই আমাদের একাকিত্বকে বিসর্জন দিয়ে আমরা সবার মাঝে প্রকাশিত হতে চাই। সে জন্যই আমাদের সংগ্রাম।
সবাই একে একে বিদায় নিয়ে যাচ্ছে। অশ্রুসজল চোখ। বেশ কিছু দিন সবাই একত্রে কাটিয়েছি। আবার কবে দেখা হবে। সালেহা আমার সঙ্গে যাবে। ভাইজান ও আনোয়ারকে চিত্তচাঞ্চল্য স্পর্শ করতে পারেনি। কিন্তু তাদেরকে তো আমি জানি। আমাকে সাহস জোগাবার জন্য তাদের অভিনয়; বেলালের চোখ ছলছল করছে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে চায়। জলিল, রব, জিয়া আমাকে দৃঢ় আলিঙ্গনে আবদ্ধ করলো। এই আলিঙ্গন অবিচ্ছেদ্য। এমনিভাবে দৃঢ় আলিঙ্গনে আমরা গোটা জাতির সঙ্গে আবদ্ধ। কেউ তা ভাঙ্গতে পারবে না।
সবাই চলে গেলো। আমি আর সালেহা বের হয়ে এলাম। সালেহা চলে যাচ্ছে সেলের দিকে। বিভিন্ন সেলে আবদ্ধ কয়েদি ও রাজবন্দীরা অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে বন্ধ সেলের দরজা জানালা দিয়ে। মতিন সাহেব, টিপু বিশ্বাস ও অন্যান্যরা দেখালো আমাকে বিজয় চিহ্ন। এই বিচার বিপ্লবীদেরকে তাদের অগোচনে ঐক্যবদ্ধ করলো।
ফাঁসীর আসামীদের নির্ধারিত জায়গা ৮ নম্বর সেলে আমাকে নিয়ে আসা হলো। পাশের তিনটি সেলে আরো তিনজন ফাঁসীর আসামী। ছোট্ট সেলটি ভালোই, বেশ পরিস্কার। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যখন জীবনের দিকে তাকাই তাতে লজ্জার তো কিছুই নেই। আমার জীবনের নানা ঘটনা আমাকে আমার জাতির ও জনগণের সাথে দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। এর চাইতে বড় সুখ, বড় আনন্দ আর কী হতে পারে?
নীতু, যীশু ও মিশুর কথা- সবার কথা মনে পড়ে। তাদের জন্য অর্থ-সম্পদ কিছুই আমি রেখে যাইনি। কিন্তু আমার গোটা জাতি রয়েছে তাদের জন্য। আমরা দেখেছি শত সহস্র উলঙ্গ মায়া-মমতা-ভালোবাসা বঞ্চিত শিশু। তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় আমরা গড়তে চেয়েছি।
বাঙালি জাতির উদ্ভাসিত নতুন সূর্য ওঠার আর কত দেরী! না, আর দেরী নেই, সূর্য উঠল বলে।
এদেশ সৃষ্টির জন্য আমি রক্ত দিয়েছি। আর সেই সূর্যের জন্য আমি প্রাণ দেব যা আমার জনগণকে আলোকিত করবে, উজ্জীবিত করবে- এর চাইতে বড় পুরস্কার আমার জন্য আর কী হতে পারে। আমাকে কেউ হত্যা করতে পারে না। আমি আমার সমগ্র জাতির মধ্যে প্রকাশিত। আমাকে হত্যা করতে হলে সমগ্র জাতিকে হত্যা করতে হবে। কোন শক্তি তা করতে পারে? কেউ পারবে না।
আজকের পত্রিকা এলো। আমার মৃত্যুদন্ড ও অন্যান্যদের মেয়াদী কারাদন্ডের খবর ছাপা হয়েছে প্রথম পাতায়। মামলার যা বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। রাজসাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রকাশ পেয়েছে আমার নেতত্বেই ৭ নভেম্বর সিপাহি বিপ্লব ঘটে। আমার নির্দেশেই জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়, আমার প্রস্তাবেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়। সমগ্র মামলায় কাদেরিয়া বাহিনীর কোন উল্লেখই ছিল না। এডভোকেট আতাউর রহমান খান (রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান, বর্তমানে মৃত), জুলমত আলী (বর্তমানে বিএনপি নেতা ও রাষ্ট্রদূত) ও অন্যান্য যাঁরা উপস্িথত ছিলেন তাঁরা যেন এই মিথ্যা প্রচারের প্রতিবাদ করেন ও সমগ্র মামলাটির সত্য বিবরণ প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক ও চক্রান্তকারী জিয়া ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমাকে জনগণের সামনে হেয় করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। দায়িত্ব পালনে তাঁরা ব্যর্থ হলে ইতিহাস তাদেরকেও ক্ষমা করবে না।
তোমরা আমার অনেক শ্রদ্ধা, ভালবাসা, আদর নিও। বিচার ঘরে বসে জিয়া অনেক অনেক কবিতা লিখেছে, তারই একটির অংশ-
জণ্মেছি, সারা দেশটাকে কাঁপিয়ে তুলতে
কাঁপিয়ে দিলাম।
জণ্মেছি, তোদের শোষাণের হাত দুটো ভাঙ্গব বলে
ভেঙ্গে দিলাম।
জণ্মেছি, মৃত্যুকে পরাজিত করব বলে
করেই গেলাম।
জণ্ম আর মৃত্যুর দুটি বিশাল পাথর
রেখে গেলাম।
পাথরের নীচে শোষক আর শাসকের কবর দিলাম।
পৃথিবী-অবশেষে এবারের মত বিদায় নিলাম।
তোমাদের তাহের
ঢাকা সেণ্ট্রাল জেল
১৮ জুলাই ১৯৭৬ সাল
Third world killing spree, call it revolution, whatever...
Almost all the countries of 3rd. world went thru these kinds of military killings for power grab.
Summary of the story from the winner side is, "A group of patriotic army officers killed/removed the current tyrants and freed the nation".
The story from the defeated side, "The patric force fought to free the nation, but failed due to conspiricy and interference of the imperialist powers.
Ya, call it revolution, vampires!
অপরিনত এক বিপ্লবীকে তার আত্নত্যাগের জন্য লালসালাম...।
অপরিনত এই বিল্পবীকে (কর্নেল তাহের) তার অপরিনত বিপ্লবের ধুপকাষ্টে আত্নত্যাগের জন্য লাল সালাম,কারন তার বিপ্লব অপরিনত হলেও বিপ্লবের প্রতি তার প্রতিশ্রুতী ছিল ভিষন রকমের পরিনত,যা তার রেখে যাওয়া পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বিশেষ ভাবে শিক্ষানীয়।
" জন্মেছি,মৃত্যুকে পরাজিত করবো বলে "।
আবারো লাল সালাম, কমরেড।
হাসান ইমাম খান,
সুইজারল্যান্ড।
সেনাবাহীনির শৃক্ষলা ভেঙ্গে বিদ্রোহ করেছিল তাদের ফাসি দেওয়া হয়েছে
এই অবিস্মরনীয় দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে। তখন থেকেই দেশবাসী শ্রদ্ধার সাথে এই দিনটি উদযাপন করে আসছেন। শুধুমাত্র শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী-বাকশালীরা দিনটিকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে অস্বীকার করে আসছেন বোধগম্য কারণে।এমনটি করলে তাদের অতীত ঐতিহাসিক ব্যর্থতাকে মেনে নিতে হয়।তেমন ঔদার্য্য দেখানো শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা কখনোই সম্ভব নয়।৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় একটা বিরল ঘটনা। এমন ঘটনা জাতীয় ইতিহাসে ঘটে বিশেষ কোনো ক্রান্তিলগ্নে বিশেষ এক পটভূমিকায়। আজ অব্দি ৭ই নভেম্বর নিয়ে নানা ধরণের বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রচারণা করা হলেও কি ছিল এর পটভূমি?
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অনিবার্য ছিল।আওয়ামী ফেরাউনের বাহীনি যেভাবে ৪০ হাজার জাসদ কর্মী হত্যা করেছে আর যেভাবে দেশের কোটি মানুষকে দূভিক্ষে না খায়িয়ে মেরেছে তার জন্য ১৯৭৫ শাস্তি হিসাবে কিছুই না।সব আওয়ামীদের ফেরাউনের ভাগ্য বরন করা উচিত ছিল।জিয়ার সম্পর্কে কোণ অভিযোগ না পেয়ে তাকে সামরিক বাহীনির হত্যা কান্ডের জন্য দ্বায়ী করা হয়।বাস্তবতা এই যে যারা ততকালীন সেনাবাহীনির শৃক্ষলা ভেঙ্গে বিদ্রোহ করেছিল তাদের ফাসি দেওয়া হয়েছে।আরও বলতে চাই ১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বরের ঘটনায় জিয়ার কোন ভুমিকা পরিলক্ষিত হয় নি।উনাকে বন্দি রাখা হত না যদি উনি ১৫ আগষ্টের মত ৭ নভেম্বরের ঘটনায় সম্মতি দিতেন। জিয়া সুন্দরভাবে রেখে গেছেন এক আদর্শ যা ভারতের দাদাবাবুদের ওটার প্রতি যাদের টান আছে তাদের জন্য হূমকি।জিয়ার বিএনপি হলো আধুনিক বাংলাদেশের প্রগতি ও গনতন্ত্রের প্রতীক।
১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনী ও জনসাধারণ যেমনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সফল বিপ্লব সংঘটিত করেছিল তেমনি ভবিস্যতেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজন হলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে সকলকে সজাগ ও সচেষ্ট থাকতে হবে।
৭ই নভেম্বরের শপথ
৭ই নভেম্বরের শপথ হউক জাতিয়তাবাদের নতুন শার্দুল তারেক জিয়ার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। আসুন বজ্র কন্ঠে আওয়াজ তুলিঃ
তারেক ভাইয়ের আলো
ঘরে ঘরে জ্বালো
আসছে তারেক দিচ্ছে ডাক
বাংলাদেশী জাগরে জাগ
টেকনাফ হতে তেতুলিয়া
সবাই বলে তারেক জিয়া
গোলামের পুত
নেংরা বেঈমান তাহেরের চিঠি এই আসরে ছাপানোর উদ্দেশ্য কি জিয়াকে খাটো করা? আপনার মত বাকশালী গোলামের পুতেরা দেশকে ভারতের কাছে বিক্রী করে লাভবান হচ্ছে আর শতাব্দীর মহান জাতিয়তাবাদী নেতা শহীদ জিয়াকে বিভিন্ন কায়দায় অপদস্থ করছে। সময় আসছে এবং আপনাদের পালানোর পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ যুগের তরুন নেতা তারেক রহমান যেদিন ক্ষমতায় যাবে আপনাদের ঝেটিয়ে বিদায় করবে বাংলাদেশ হতে। তৈরী থকবেন যেন।
প্রিয় আলতাফ ভাই, আপনার তারেক
প্রিয় আলতাফ ভাই,
আপনার তারেক কেমন করে আসবে? তার যে মাজা ভেঈে গেছে। আর সত্য কি কখনও নির্বাসিত থাকে। সে তো ফিরে আসবেই।This is the era of information technology...