হাওয়া ভবনে ডেকে বাবরকে ধমকেছিলেন তারেক

হাওয়া ভবনে ডেকে বাবরকে ধমকেছিলেন তারেক
24.79%

গড় রেটিং:

রেটিং :

সমকাল প্রতিবেদক
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পর তদন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সঠিক পথেই চলছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ঘটনার দু'দিন পর। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হাওয়া ভবনের কর্ণধার তারেক রহমান তাকে ডেকে বেশি বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। তাই বাবর সঠিক তদন্তের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। লুৎফুজ্জামান বাবরের দাবি তিনি নন, হাওয়া ভবন থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তদন্তের ব্যাপারে কোনো অসামঞ্জস্য হয়ে থাকলে সে ব্যাপারে হাওয়া ভবনের প্রভাবশালীরা এবং তদন্ত কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।
বাবর আরও দাবি করেছেন, হাওয়া ভবন থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করায় কার্যত তিনি ছিলেন অসহায়। তার পক্ষে কিছু করার সুযোগ ছিল না।
এদিকে ২১ আগস্ট হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে চট্টগ্রামে আটক ১০ ট্রাক অস্ত্র থেকে খোয়া যাওয়া গ্রেনেড। সিআইডির রিমান্ডে থাকা ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান মাওলানা আবদুস সালাম গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন। সালামের দাবি, এ গ্রেনেড সম্পর্কে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু সব জানতেন। সালাম গোয়েন্দাদের আরও বলেছেন, চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ার পর গণনার সময় কিছু অস্ত্র ও গ্রেনেড সরিয়ে ফেলা হয়। ওই গ্রেনেড পরে পেঁৗছে যায় আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই ও জঙ্গি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিনের কাছে। তিনি গ্রেনেডগুলো জঙ্গি আবদুল মজিদের মাধ্যমে ঘটনার দিন দুপুরে হামলাকারীদের হাতে পেঁৗছে দেন। গ্রেনেডগুলো কখন কীভাবে, কার কাছ থেকে গেছে সে ব্যাপারে আবদুল মজিদই ভালো বলতে পারবেন। তবে গোয়েন্দারা বলেছেন, 'সালাম বললেই বিশ্বাস করা যাবে না। তার দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
গতকাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জঙ্গি আবদুল মজিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তবে সিআইডি ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। আদালতে পাঠানো পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাওলানা আবদুস সালাম জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল মজিদের নাম বলেছেন। সালামের দাবি আবদুল মজিদ ওই গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে গ্রেনেড সরবরাহকারীও। তাই তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গ্রেনেড হামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে। মজিদ গত ৬ জানুয়ারি উত্তরা এলাকায় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। আদালতে এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সৈয়দ রেজাউর রহমান, মোখলেসুর রহমান বাদল, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ আইনজীবী।
জিজ্ঞাসাবাদকারী একটি সূত্র জানায়, আবদুল মজিদ মূলত জামা'আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও তার গুরু মাওলানা তাজউদ্দিন। মজিদ আগে হরকাতুল জিহাদ করলেও তাজউদ্দিনের নির্দেশে শায়খ রহমানের সঙ্গে জেএমবিতে যোগ দেয়। সূত্র মতে, জঙ্গিরা একেকজন একেক দল করলেও তাদের মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্য একই। তারা বিভিন্ন সংগঠনের হয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করে। মুফতি হান্নানও এসব বিষয়ে অবহিত বলে সালামের দাবি।
এদিকে বিএনপি নেতা ও ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আর বাধা নেই। গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট আরিফকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদেশ দেন। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের ওই আদেশ ২ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এম মোজাম্মেল হোসেন গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত আরিফকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অধিকতর তদন্তের জন্য আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Nirvik2008's picture

Another trial for the 1975 former army officers

There should be another trial of the 1975 army officers. This time the trial is for doing half finished work. These army officers failed to completely wipe out the Sk. Family. Bangladeshi people will continue to live in hell as long as the surviving members of the Sk. family live. By leaving this world Sk. Mujib himself became the beneficiary of escaping his own sin.

sabbirali's picture

বাবরের বক্তব্যের সত্যতা

বাবরের বক্তব্য সত্য হলেও এর দায় থেকে বাবর রেহাই পায় না। যদি তার কাজ করার পরিবেশ না থাকত তবে সে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারত। কিন্ত্ত সে পদত্যাগ করেনি। তারেক রহমান যদি ধমক দিয়ে থাকে তবে তার দায় বর্তায় 'বঙ্গমাতা' খালেদার উপর। এজন্য খালেদাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কারন দেশের একজন মন্ত্রীকে ধমকাবার স্পর্ধা কারো হতে পারে না যদি সে প্রধানমন্ত্রীর আসকারা না পায়। কিভাবে তারেকের মত ছেলে একজন মন্ত্রীকে হাওয়া ভবনে তলবের সাহস পায়? শুধু এই ঘটনা থেকেই প্রমানিত হয় খালেদা দেশকে কোথায় নিয়ে গেছে। অবশ্য বাবরের বসুন্ধরা হত্যা মামলটিআও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।