ওয়াদা পালন না করাই হল সেকুলারিজমের মূল মন্ত্র।

যা ওয়াদা করা হবে তা পালন না করা,যার কথা কখনও বলা হয়নি তা পালন করাই হল সেকুলারিজমের মূল মন্ত্র।
আওয়ামীলীগ সেকুলার আদর্শে বিশ্বাসী একটা দল, তারা উপরের মন্ত্র ও দীক্ষা থেকে অতীতেও কখনও ফিরে যায়নি ফলে বর্তমানেও ফিরে যাওয়ার কোন কারন নাই। দু একটি উদাহরন দেখুন:
১.শেখ মুজিব স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন, পরিশেষে তিনি আমাদের পরাধীন করার মতলব এঁটেছিলেন।
২. শেখ মুজিব পাকিস্থানীদের ভাতে-পানিতে মারার হুমকি দিয়েছিলেন, পরিশেষে তিনি পাকিস্থানীদের স্ব-সম্মানে বিদায় দিয়ে বাংলাদেশীদের ভাতে পানিতে মারেন।
৩. তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের নামে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন, পরিশেষে তাঁদের কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেননি।
৪. পুরো জীবনভর শেখ মুজিব স্বা-ধীকারের কথা বলেছেন, অথছ ইতিহাসে তিনি চরম অধিকার হরনকারী ছিলেন।
৫. পুরো জীবনভর গনতন্ত্রের জন্য লড়েছেন, জেল খেটেছেন, অথছ তিনি স্বৈরতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র এক সাথে জোড় করে চালু করেছেন।
৬. তিনি শুধু জনগনের প্রধানমন্ত্রী হবার জন্য পাকিস্থানীদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, অবশেষে প্রেসিডেন্ট হতে গিয়ে মরেছেন।
৭. শেখ হাসিনা জনগনের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবেন না, কান্নাকাটি করেছেন, জনসভায় মাফ চেয়েছেন। অতপর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে জনস্বার্থ বিরোধী সবই করেছেন। লজ্জায়, শরমে, ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে নিজেদের হাতে বানানো প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে বাধ্য হয়েছেন।
৮. ভারতের আবদারে তাদের সাথে গঙ্গার ৩০ বছরের পানি চুক্তি করে, ভারতকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ আর কোনদিন আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারবে না মামলা রুজু করতে। এমন কি বাংলাদেশ কাউকে এ ব্যাপারে মিমাংসার জন্যও ডাকতে পারবে না। ভারতের চরম অনৈতিক কাজকে শেখ হাসিনা সিল দিয়েছেন, এক ফোটা পানি তিনি আনতে ব্যর্থ হয়েছেন এই হতভাগ্য জাতির জন্য, অথছ সে জাতিকে তিনি অনুরোধ করেন একটু কাঁদার জন্য। কাঁদো বাঙ্গালী কাঁদো বলে। একই কায়দায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতীয় সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। দলীয় কর্মীদের দায়িত্ব দিয়েছেন হাঁসো তোমরা হাঁসো, আমাদের সাফল্যের কারনে। এর কোনটির ওয়াদা কিংবা এজেন্ডা শেখ হাসিনার ছিলনা।
৯. চলতি সরকারের বাহারী ও চটকদার প্রচুর নির্বাচনী ওয়াদা কখনও পুরা হবে বলে মনে হচ্ছেনা। মানুষ যাতে সে কথা মনেও করতে না পারে সেজন্য নতুন নুতন বিভন্ন বোমা নাটক শুরু করেছে। ওগুলো নিয়ে এত ব্যস্ত সবাই, ওয়াদা যে একদা করা হয়েছিল তাও মনে করার সময় নাই। অথছ আজও জাতি জানতে পারেনি, ১৯৯৮ সালে টুঙ্গিপারায় ৭৩ কেজি ওজনের বালতির মধ্যে কোন কোম্পানীর বালি ছিল?
১০. ঘরে ঘরে চাকুরী এখন ঘরে ঘরে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়াচ্ছে।দশ টাকায় চাউল তো দূরের কথা,দশ টাকায় নদীর বালিও পাওয়া যাচ্ছেনা।
১১. সন্ত্রাস মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকার এখন, ধর্ম মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় হয়ে গিয়েছে।
১২. ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রদের হাতে কি-বোর্ড, মাউসের বদলে এখন রাম দা, পিস্তল ব্যবহার হচ্ছে।
১৩. জনগনের জান মালের নিরাপত্তার গ্যারান্টির কথা এখন উদাও, এখন নিজেদের জান মালের নিরাপত্তারও নিশ্চয়তা নাই।
উপরে উল্লেখিত ওয়াদা গুলো একক ব্যক্তির ওয়াদার একটি ক্ষুদ্রাংশ মাত্র। সম্পদের হিসাবের সাথে সব এম, পি’দের চৌদ্দগোষ্টির হিসাবের ব্যাপার সংযুক্ত রয়েছে।সেটা আরো সমস্যা সংকূল, আর আওয়ামীরা হিসাব দিতে গেলে সরকারের কথা বাদ দিলাম। এম, পি, দের ছেলে, বউ, নাতি-নাতনিই আগেই কিরিচ নিয়ে উঠবে, ঘরের টাকা ভাগাভাগির জন্য। আর ব্যাপারটাকে চার বছর পিছনে নিয়ে যেতে পারলে তো কথাই নাই। এই সুযোগে টেন্ডার বানিজ্য, নদী বানিজ্য, জমি বানিজ্য, খুন বানিজ্য চালিয়ে টু পাইস কামিয়ে ফেলা যাবে। পরে নাহয় এই টাকাও সেই টাকার সাথে লাগিয়ে হিসাব জমা দিয়ে, চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে সাদা মনের মানূষ হয়ে যাবে।
সুতরাং আওয়ামীদের অতীত ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তাদের কৃত ওয়াদার সাথে প্রকৃত কর্মের মধ্যে কোন সাদৃশ্য নাই।ওই ওয়াদা ছিল সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের একটি মাধ্যম।আগামী নির্বাচনে নাহয় নতুন কোন কথা হাজির করবে, নতুন কোন ভন্ডামী।কারন অশিক্ষিত মূর্খ বাংলাদেশীদের কি আর সেই ক্ষমতা আছে, যা দিয়ে তারা আওয়ামীলীগের বিনাশ করবে? তাই ভাত ছিটলে কাকের অভাব হয়না এই থিউরী অনুসারে আওয়ামীলীগেরা ভাতের পয়সা জোগাড় করতে পারলেই হল,কাক তো পথে ঘাটেই আছে।সে ভাত তারা নির্বাচনের আগে ছিটবে।
হাসিনা মরলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত জাতির মাতা হবেন,কারন ওনার পিতা মরার পর জাতীর পিতা হয়ে গিয়েছেন,