আউলা ঝাউলা বাউলা চিন্তা - WD

Mizid Mia
ধ্যান ধারণায় দুই মেরুর দুই বাসিন্দা। কিন্তূ পরিচয় একটাই, রাজনীতিবিদ। এই ক’দিন আগে একজন ঢাক-ঢোল পিটিয়ে হাই প্রোফাইল বিদায় নিলেন, গন্তব্যঃ জাতিসংঘের সদর দপ্তর, নিউ ইয়র্ক। অন্যজন নীরবে ছায়ার মত মিশে গেলেন অনেক যাত্রীর ভীড়ে। চিকিৎসার জন্যে বিদেশ যাত্রা, হয়ত মালেশিয়া অথবা সিংগাপুর!

কর্ম সমাধা শেষে দু’জনই ফিরে এলেন জননী জন্মভূমিতে। একজনের কপালে এটে দেয়া হল বিশ্ব জয়ের নমস্য তিলক, বরন করা হল ফুলেল শুভেচ্ছায়। থেমে গেল নগড় জীবন; গাড়ি-ঘোড়া, রিক্সা-সাইকেল, মৃত্যু পথযাত্রী রুগী নিয়ে এম্ব্যুলেন্স, স্কুলগামী শিশুদের ভ্যন...। ঘন্টাখানেকের জন্যে সব নিথর হয়ে গেল প্রত্যাগমনের শিহরনে। বাতাসে বইল স্বর্গীয় দ্যুতি, চারদিক প্রকম্পিত হল উল্লাসে। উনি ফিরে এসে হাত উঠালেন উর্ধ্বাকাশে, বললেন, হে আমার দেশবাসী, ভালবাসায় সিক্ত হতে আমি ফিরে এসেছি, সাথে এনেছি বিশ্ব জয়ের বায়বীয় মালা। আমরা দেখলাম, শিহরিত হলাম, এবং ধন্য হল আমাদের বেচে থাকা। আর অন্যজন? তিনিও ফিরে এলেন! তবে বিশ্ব নয়, নিজের স্বাস্থ্যকে জয় করে। হয়ত থমকে যায়নি নগর জীবন, প্রকম্পিত হয়নি মেগা শহরের আলো-বাতাস। তবু একদল মালা দিয়ে বরন করে নিল এই ’মনিষীর’ প্রত্যাবর্তনকে। উনি এলেন এবং আকাশে হাত উঠালেন, বললেন, হে আমার মুরিদগন আমি এসেছি। এয়ারপোর্ট দেখল, আমরাও দেখলাম এবং ধন্য হল আমাদের বেচে থাকা। কিন্তূ এখানেই যে সব শেষ নয়। কোথা হতে কি হয়ে গেল, একদল উর্দিপরা ভেজালের দল ভেজাল বাধিয়ে বসল স্বর্গীয় মুহুর্তে। নেতাকে কুস্তি লড়াইয়ে পরাজিত করে বসূমতির কোলে শোয়ানো হল, দু’হাতে পরিয়ে দেয়া হল গণতন্ত্রের জিঞ্জির। খুনের ষড়যন্ত্রে গ্রেফতার হয়ে নেতা রওয়ানা দিলেন নাজিমুদ্দিন রোড। রাস্তায় নিশ্চয় দু’একটা ভেজাল হয়েছিল, হয়ত কোথাও কোন এম্ব্যুলেন্স আটকে গিয়েছিল। তবে যা হওয়ার তা হল এয়ারপোর্টে। মুরিদ্‌দের চোখের জল আর নাকের জল একাকার হয়ে জন্ম নিল অগ্নি স্ফুলিংগের। বিস্ফোরন ঘটে গেল আগমন কাব্যে। এয়ারপোর্ট ভেংগে তচনচ, গাড়ি-ঘোড়া ভাংগল, উর্দিওয়ালাদের লাঠির আঘাতে মুরীদানের কাফেলা হল ক্ষত বিক্ষত। আমরা দেখলাম, দেখলাম এবং ধন্য হলাম গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের আজন্ম লালিত দায়বদ্বতা দেখে।

একই এয়ারপোর্টে অন্যরকম একটা দৃশ্যের কথা মনে না হয়েই যায়না; শেখ হাসিনা ফিরে এলেন চোখ, কান, জিহবা এবং কণ্ঠের চিকিৎসা শেষে। সেই একই ভেজালীর দল ভেজাল করল। এক দলীয় সরকারের জিঞ্জিরে ধরা খেল গণতন্ত্রের টাইম বম্ব। সময়টা ছিল আওলা ঝাউলাদের বাউলা সরকার, তত্ত্বাবধায়ক ভেজাল। হাসিনার নামে সেই একই অভিযোগ, গান পাউডার দিয়ে আদম নিধন। উনিও ফিরে এসে হাত তুললেন, এবার আর চারদিক প্রকম্পিত নয়, বরং নীরবে কোটি ভক্তের চোখের জলে রওয়ানা দিলেন মিন্টু রোডের মেহমান খানায়। আমরা দেখলাম, দেখলাম এবং ধন্য হলাম।

উনারা চিকিৎসার জন্যে বিদেশ যাবেন, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি দর্শনে পাড়ি দিবেন সাত সমুদ্র, সভা করতে নহবত সাজাবেন, সাজবে এয়ারপোর্ট, নাচবে রাজধানী এবং তা দেখে ধন্য হবে আমাদের বেচে থাকা। আসলে আমরা নিজেরাই বোধহয় নিজদের নমশুদ্র বানিয়ে এ মহামানবদের ব্রাম্মন বানাতে রসদ যোগাই। এই কি সেই আমানুল্লাহ আমান নয় যে ছাত্রাবস্থায়ই কামিয়ে নিয়েছিল শত কোটি টাকা? এই কি সেই শেখ হাসিনা নন যিনি চেকের মাধ্যমে চাঁদাবাজী করতে এতটুকু ভয় পান্‌নি? অনেকেই বলবেন এসব সাজানো কথা, বানানো গল্প অথবা আউলা ঝাউলাদের বাউলা ষড়যন্ত্র! হয়ত তাও ঠিক। কিন্তূ নির্মম সত্য হল, চুরি চামারীতে আমাদের দেশ পরপর ৪বার বিশ্ব চ্যম্পিয়নের খেতাব পেয়েছিল। কে করল এই পুকুর চুরি? কার উদরে হজম হল হাজার হাজার কোটি? আমার? আপনার? তাই যদি হত তাহলে আমি আপনি এই ব্লগে ব্লগিং করে সময় নষ্ট করতাম না, অসূখ বিসূখে তাবিজ কবজের আশ্রয় নিতাম না। যাদের কারনে আমরা আজ কলংকিত অধ্যায়ের মহানায়ক তাদের চিনতে কষ্ট হলে সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর 'লাল শালু' উপন্যাসটা পড়ে নিবেন। এরাই সেই মজিদ মিয়া যাদের কারনে বিশ্বে আমাদের পরিচিতি এক নাম্বার চোর হিসাবে। আর উর্ধ্বাকাশে তুলে ধরা ওদের বজ্রমুঠীই সেই শালূ, যা পূজি করে কামানো হয় কোটি অংকের নগদ নারায়ন অথবা কড়কড়ে ক'টা চেক।

shomudro's picture

এই সকল রাজকীয় চোর , ডাকাতদের

এই সকল রাজকীয় চোর , ডাকাতদের আগমনে যদি এয়ারপোর্টে যেয়ে সারা শহড়ের রাস্তায় জ্যাম বাধিয়ে দিতে পারেন নতুবা ঘরে বসে হাততালি দিতে পারেন তবে আপনি পাক্কা বাংলাদেশী।নতুবা রাজাকার নাহয় ইন্ডিয়ার দালাল।

ঘেন্না করি এমন দেশকে আর চরম দুঃখবোধ করি জ্যামে আটকে থাকা কোটি কোটি রাজাকার আর ইন্ডিয়ার দালালদের জন্য।

WatchDog_bd's picture

যাহা ৬ তাহাই ৯

বাংলাদেশে বিনা লাইসেন্সে দেশকে ভালবাসার কোন সূযোগ নেই। দেশকে ভালবাসা মানেই মুক্তিযুদ্বের চেতনাধারী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাষী নেত্রী আর সেনাছাউনির ভাগারে জন্ম নেয়া প্রাথমিক শিক্ষায় স্বশিক্ষিতা মা এবং তার দুই বাষ্টার্ড সন্তানকে পূজা করা। আমি এমন দেশকে ভালবাসবো না যে দেশে তারেক জিয়া আর ককোর মত নর্দমাকে নেতা মানা হয়, হাসিনা আর তার পরিবারিক চাদাবাজীকে মুক্তিযুদ্বের চেতনায় হালাল করাহয়। ভালবাসা এত সস্তা হওয়া উচিৎ নয়।

hridoy's picture

WatchDog ভাই, বাংলাদেশ কি আপনার আমার নয়?...........

আমরা কেন এত সহজে দেশের উপর থেকে স্বত্ব ত্যাগ করছি? এটা কি পতিত দুর্বৃত্তদের সুযোগ দেয়া নয়? জমিতে ফসল ফলে। ভালটার পাশাপাশি কিছুটা পচা বা খারাপ অংশও থাকে। এই পচা অংশটির জন্য কি ভালটা ত্যাগ করব? অথবা রাগ করে জমি ছেড়ে দিব?
দেশের মাটি তো আমাদেরকে তারেক-কুকুদের দশায় ফেলেনি। আমরা কেন পতিত দুর্বত্তদের কারনে দেশের মায়া ত্যাগ করব?

সবাই ভাল থাকুন,
সুস্হ থাকুন,
সুন্দর থাকুন-
-হৃদয়

vumihinzamidar's picture

hridoy

একজন ভূমিহীন মানুষকে আপনার কি বোর্ডের সাহায্যে বিত্তশালী বানিয়ে সরকারী ট্যাক্স ম্যান এবং
সন্ত্রাসীদের টার্গেট বানাতে চান কেন ভাই ? আমি ভাই সীরাতুল মুস্তাকিম অর্থাত সহজ সরল একজন মানুষ । এই নীরিহ ভূমিহীনের জন্য বরাদ্দকৃত বাকি দিনগুলি একটু শান্তিতে থাকতে দেন
ভাইজান ।

Joshua's picture

ওয়াচডগ ভাইকে বলছি

আপনার মতের সাথে কেন যেন একমত হতে পারলাম না।আরে ভাই শুধু কুকু আর তারেককেই তো বাংলাদেশ জন্ম দেয় নি,দিয়েছে আপনার আমার মত কোটি কোটি সন্তানকে।তার দুই চার পাঁচ দশটি সন্তান খারাপ হয়ে যাওয়া মানে কিন্তু সেই দেশ খারাপ হয়ে যাওয়া নহে।কুকু তারেক যত খারাপ তার চেয়ে শত কোটি গুন ভাল সন্তান ও কিন্তু বাংলাদেশ জন্ম দিয়েছে।এত তাড়াতাড়ি হতাশা গ্রস্ত হয়ে পড়লে তো চলবে না।কুকু তারেকের মত জ্বলন্ত কুলাংগারের জন্য আপনি বাংলাদেশকে ভালবাসতে পারবেন না-এ কেমন কথা বললেন আপনি?কেমন দেশ প্রেমিক আপনি ভাই?'যাহা ৬ তাহাই ৯ এই কথা যেমন সত্যি তেমনি যাহা ৯ তাহাই ৬ নহে' এই কথা ও সত্যি।ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।

Joshua

vumihinzamidar's picture

সমুদ্র ভাই

আপনার মন্তব্যের দ্বিতীয় প্যারার প্রথম লাইনটা বোঝলাম না । " ঘেন্না করি এমন দেশকে......"
দেশের কি দোষ ভাইজান ? দোষ আমাদের যারা এইসব চোরদের নির্বাচিত করি এবং এই সব চোরদেরকে পুজা করি ।

Joshua's picture

সমুদ্র এবং ভুমিহীন ভাই

আপনাদেরকেই বলছি।সমুদ্র সাহেব হয়তো উনার 'ঘেন্না করি এমন দেশকে' দ্বারা আমাদের অসৎ রাজনিতি এবং কদাকার রাজনিতিবিদকেই বুঝাতে চাচ্ছেন।সমুদ্র সাহেব অন্যায় এবং অসৎ রাজনিতীর বিপক্ষে সব সময় জোড়ালো কন্ঠে প্রতিবাদ করেন যা শুনতে বা পড়তে ভাল লাগে।অনুরোধ থাকবে শব্দ চয়নে একটু সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য।ভুমুহীন ভাইকে ধন্যবাদ এই ভুলটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য।ভাল থাকুন।

Joshua