সরকার ভারতের তাঁবেদারী করছে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে কথা বলছে না

-ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে মিছিলপূর্ব সমাবেশ,
-সরকার ভারতের তাঁবেদারী করছে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে কথা বলছে না -চরমোনাই পীর
ভারতীয় আগ্রাসন ও টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধের দাবিতে গতকাল সোমবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে ভারতীয় দুতাবাস অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়
ইসলামী আন্দোলনের আমীর চরমোনাইর পীর মাওলানা রেজাউল করিম দেশবাসীকে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে দিতে পারি না। সরকার ভারতের তাঁবেদারী করছে কিন্তু এ দেশবাসী ভারতের তাঁবেদার নয়। ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করছে। সর্বত্র আগ্রাসন কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এসবের একমাত্র লক্ষ্য বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানানো। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এ দেশের জনগণ ভোট দিয়ে আপনাদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করেছে দেশবাসীর স্বার্থ দেখার জন্য কিন্তু তা না করে সরকার ভারতের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে কিছু বলছেনা। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ নিয়ে প্রতিবাদ করছেনা। কারণ এ সরকার ভারতের তাঁবেদার সরকার। তিনি গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধের দাবিতে ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি মুক্তাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে জিরো পয়েন্ট,পল্টন মোড়, বিজয়নগর, কাকরাইল, শান্তিনগর হয়ে মালিবাগ মোড়ে এসে পুলিশী ব্যারিকেডের মধ্যে পড়ে। পুলিশ পূর্ব থেকেই কোনও প্রকার অঘটন এড়াতে কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার আয়োজন করে। মালিবাগ সিআইডি অফিসের সামনে রাস্তার দু'পাশে কাঁটাতারের ব্যারিকেড রচনা করে পুলিশ। এ সময় জল কামান, আর্মাড পার্সোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি), প্রিজন ভ্যান মোতায়েন ছিল।
বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুর রশিদ পীর সাহেব, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মুসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী, মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল ইসলাম, আবু সাঈদ সিদ্দিকী, অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, অধ্যাপক সৈয়দ বেলাল হোসেন ও মাওলানা আতাউর রহমান আরিফি।
চরমোনাইর পীর রেজাউল করিম বলেন, পাশের বন্ধু রাষ্ট্রের কার্যক্রম দেখলে মনে হয় তারা বন্ধুরূপী আগ্রাসী। জনগণ এসব ব্যাপারে কথা বললেও সরকার টু শব্দও করছেনা। তার কারণ সরকারের মধ্যেই ৫ জন উপদেষ্টা আছেন যারা ভারতীয় নাগরিক। তাদের কারণেই আজ সরকার ভারত তোষণ নীতিতে অটল। তিনি বলেন, একদিকে টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশকে মরুকরণ করার ষড়যন্ত্র করছে অন্যদিকে অন্যান্য দেশীয় শক্তিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের উপর লেলিয়ে দিয়েছে ভারত। এটাই বন্ধু রাষ্ট্রের চরিত্র। এ চরিত্র কোনদিনও পাল্টাবে না। বিগত ৩৮ বছরেও পাল্টায়নি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৩৮ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশকে ভারত কখনই বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়নি। অথচ আমরা তার উল্টো। আওয়ামী লীগ দমে দমে বন্ধুর হাতকে শক্তিশালী করছে তোষামোদী চরিত্রের বলে।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর আবদুর রশিদ পীর সাহেব মিছিলে পুলিশের বাধা প্রসঙ্গে বলেন, আজকের এ সমাবেশ শেষে যে বিক্ষোভ মিছিল হলো তাতে সরকার বাধা দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা এ দেশের সরকার নয়, ইসলামের সরকার নয়। তারা ভারতের সরকার। এ দেশবিরোধী সরকার। আজ এটা প্রমাণিত। তা না হলে তারা ভারতীয় দূতাবাসে ঘেরাও করতে যাওয়া মিছিলে বাধা দিত না।
মাওলানা সৈয়দ মুসাদ্দেক বিল্লাহ বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড করছে। এ দেশের তৌহিদী জনতা কোন প্রকার ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড করতে দেবে না। ঘরে ঘরে ছবি টানানো ইসলাম সমর্থন করে না।
হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমেদ বলেন, সরকার এ দেশকে ধর্মহীন করতে চায়। ক্ষমতার অপব্যবহার করছে সরকার। তৌহিদী জনতাই সরকারের পতন ঘটাবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতি, গোলামীর নীতি, তোষণ নীতির কারণে ছোট একটা দেশ মিয়ানমার বন্দুকের নল দেখানোর সাহস পাচ্ছে। এটা তাদের দুঃসাহস। তারা আজ এ দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত চায় মিয়ানমারকে দিয়ে যুদ্ধ লাগিয়ে সাহায্যের নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তারপর দখল করা। সমুদ্রের সম্পদ ভাগ বাটোয়ারা করা। তারা বলেন, এ সরকার যদি টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে বাধা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদেরকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে এ সরকারের পতনে জনতা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শামিল হবে।