প্রধানমন্ত্রী সুশাসন প্রতিষ্টা করুন,আমরা আছি আপনার নিরাপত্তার জন্যে

জাতীর পিতার পরিবার-সদস্যগনের নিরাপত্তা আইন ২০০৯ সংসদে করতালির মাধ্যমে পাশ,
মন্তব্য: ১৯৭৪ সালের করতালির মাধ্যমে বাকশাল পাশ, শেখ মুজিবের জীবনে এসেছিল চরম সর্বনাশ।
গত ১৩ই অক্টোবর সংসদে জাতীর পিতার পরিবার-সদস্যগনের নিরাপত্তা আইন ২০০৯ সংসদে করতালির মাধ্যমে পাশ হল্। সংসদে কোন বিরোধীতা ছিলনা, কোন আলোচনা ছিলনা, বিপক্ষে বলার কোন ব্যক্তিও ছিলনা। যতজন উপস্থিত ততভোট প্রাপ্তি। ঠিক একই ভাবে ১৯৭৪ সালে এভাবে কোন আলোচনা, সমালোচনা, বিশ্লেষন, বিরোধীতা ছাড়াই বাকশাল নামক নতুন রাজকীয় তন্ত্রের জন্ম হয়। সেদিন এত মজবুত করে এই আইন তথা সংবিধান পাশ হয়, তাতে কোন ফাঁক ছিলনা, ছিদ্র ছিলনা। একমাত্র আজরাঈল (আঃ) ছাড়া কারো আসা-যাওয়ার পথ পর্যন্ত রাখা ছিলনা। ফাইনালী কেউ আসতে পারেনি সে ছিদ্র মাড়িয়ে তবে আজরাঈল এসেছিল অবলীলায়। আজরাঈল একজনের জন্যে আসলে নাহয় চলত। তিনি এসেছিলেন মহা তান্ডব নিয়ে শেখ মুজিবের পরিবারের উপর। চরমভাবে একে একে সবাইকে মর্মান্তিক করুন পরিনতি ভোগ করতে হল। প্রসঙ্গত শেখ মুজিবের সাথে যাদের যাওয়ার কথা ছিলনা, তাদের সবাইকে যেতে হল, এমনকি ছোট্ট অবুজ শিশু শেখ রাসেলকে পর্যন্ত।
শেখ রাসেলের করুন মৃত্যুর জন্যে মূলত শেখ মুজিবের সংসদের পাশ করা কঠিন রাজকীয় বাকশাল আঈন বহুলাংশে দায়ী ছিল। একথায় আমাকে আওয়ামীরা গালাগালী করবে, জানি-তবুও সত্য তথ্য সবার জন্যে উম্মুক্ত হোক এটা আমি চাই। বাকশাল আঈনেই শেখ মুজিবের পরিবারীক ক্ষমতা নিরংকুশ করা ছিল। একছত্র ক্ষমতার মালীক থাকবে এই পরিবারের হাতে। শেখ মুজিবের পর শেখ কামাল, তারপর শেখ জামাল, অতঃপর শেখ রাসেল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে। আর হত্যাকারী গিয়েছিল শেখ মুজিবকে হত্যা করতে। যখন তাদের হাতে শেখ মুজিব নিহত হন সুতরাং কালকেই শেখ কামাল প্রেসিডেন্ট হবে কোন ভোটাভুটি ছাড়াই, তারা ভাবল মুছিবত তো শেষ হলনা। তাই শেখ কামালকে হত্যা করল, মুছিবত ঠিকই রইল, তাই শেখ জামালকে হত্যা করা হল। এত হত্যার পরও হত্যাকারীদের মুছিবত শেষ হয়নি, কারন আঈনানুসারে এখন দেশের প্রধান হবে শেখ রাসেল। এখানে শেখ রাসেলের বয়স কোন ব্যাপার হয়নি, সমস্যা হয়েছে ব্যক্তি শেখ রাসেল, কারন শেখ মুজিব, কামাল, জামালের অবর্তমানে শেখ রাসেল নৌকার মাঝি হবে, সুতরাং মুছিবত শেষ হয়নি হত্যাকারীদের জন্যে। ফলে খুনিদের জিঘাংসা শেখ রাসেল পর্যন্ত গিয়ে পড়ে। কারন তিনি জিবীত থাকলেতো শেখ মুজিব জীবিত থাকা একই কথা হয়ে যায়। যে আঈন করা হয়েছিল শেখ মুজিবের পরিবার রক্ষার্থে সেই খুনো আঈনের কারনে মুজিবকে নিবংশ হতে হল ইতিহাস থেকে। সরকার পরিবর্তনের নূনতম কোন ফাঁক ফোঁকর মুজিব সরকার বাকশাল আঈনে রাখেননি। ফলে মৃত্যূ ছাড়া খুনিদের জন্যে আর কোন দরজাই বিকল্প হিসেবে ছিলনা।
হয়ত বলবেন, শেখ রাসেলকে কিভাবে রাষ্ট্রপতি করা হতো? সেতো শিশু ছিল। বলি বাংলাদেশে সব সম্ভব, সেটাও সম্ভব হতো। এই ঘটনা বাংলাদেশে আগেও একবার ঘটেছিল যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। রাজা বল্লাল সেনের রাজধানী ছিল বিক্রমপুর। পৌঢ় বয়সে সন্তান হলে তাঁর নাম রাখা হয় লক্ষন সেন, বল্লাল তাঁকে উত্তরাধীকারী ঘোষনা করেন। বল্লাল সেন চরম ইসলাম বিদ্ধেষী ছিলেন এবং নতুন মুসলমানদের উপর অহরহ অত্যাচার করত। তাঁর অত্যাচার রহিত কল্পে সেখানে আরব থেকে আগমন ঘটে বাবা আদম নামের একজন আল্লাহর আউলিয়ার। বল্লাল বাবা আদমের অস্থিত্বে আরো ক্ষেপে গেলেন, যা পরে যুদ্ধে রুপ নেয়। বল্লাল রাজপ্রসাধ থেকে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হবার প্রাক্ষালে, প্রাসাদের চারিদিকে পরিখা খনন করেন এবং সবাইকে বলেন আমার সাথে নেওয়া পোশা কবুতর যদি এখানে চলে আসে তাহলে তোমরা বুঝবে আমি পরাজিত ও নিহত হয়েছি। তাহলে তোমরা সবাই আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্বাহুতি দিবে। যুদ্ধে অনেক কৌতুহল উদ্দীপক ঘটনা ঘটে। যাক, পরিশেষে এই যুদ্ধে বাবা আদম শহীদ হন। বাবা আদমের তরবারী খানা বল্লাল সেন নিয়ে যান নদীর ধারে, পরিষ্কারের আশায়। তবে নিজের অজান্তে কবুতর খাঁচা ছেড়ে আকাশে উড়াল দেয়। বল্লাল দৌড়ায় আর দৌড়ায় কিন্তু সে প্রাসাদে পৌঁছার আগেই কবুতর পৌঁছে যায়। ফলে প্রাসাদের সকলে আত্বাহুতি দেয় তবে শিশু লক্ষন সেনকে জীবিত রাখে। বল্লাল যখন প্রাসাদে পৌছল তখন সব শেষ। অবশেষে তিনিও আত্বহত্যা করলেন। জিবীত শিশু লক্ষন সেনের বয়স সম্ভবত দেড় মাস অথবা দেড় বছর হবে, তাকে প্রজারা সবাই রাজা হিসেবে মান্য করত, সম্মান জানাত। তবে দেশ চালাত মন্ত্রী-সান্ত্রীরা। যারা দেশ চালাত তারা লক্ষন সেনের নামে অত্যাচার করত। অত্যাচারের মাত্রায় হিন্দুদের পর্যন্ত দেশছাড়া করার উপায়। অবশেষে লক্ষন সেন বয়সপ্রাপ্ত হল, তিনি সুশাসনের নামে অত্যাচারের মাত্রা আরো তীব্র করল। অবশেষে ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি, দিল্লী সুলতানের নির্দেশে মাত্র ১৭ জন সৈন্য নিয়ে রাজধানী আক্রমন করেন। লক্ষন সেন দুপুরে খানা খেতে বসেছিলেন, খানা ফেলেই তিনি সুরঙ্গের ভিতর দিয়ে নৌকা যোগে নদীয়া পালিয়ে যান। শাসক হয়ে জনগনের উপর অত্যাচার করলে নিরাপত্তা বাহীনি, সেনাবাহীনি কোন কাজে আসেনা। যেভাবে কাজে আসেনি লক্ষন সেনের সেভাবে কাজে আসেনি শেখ মুজিবের একইভাবে কোন কাজে আসবেনা হাসিনার ও তার বংশের জন্যে। অন্যায়-অত্যাচার শাসকের মনকে ভীত-বিহবল করে তুলে, ফলে জনগনেরও কোন সহযোগীতা তারা পায়না। তাই লক্ষন সেনের দেশে ১৭ জনের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত নিরাপত্তা সৈন্য নাহয় ছিলনা। তবে প্রাসাদের এবং শহরের কিছু মানুষ কি ছিলনা যারা তার জন্যে বিপদের দিনে লড়বে? আসলেই থাকেনা যদি সরকার নিজে যদি হয় শোষন-নির্যাতন কারী। পাঠক জানি এতক্ষনে আপনাদের ধৈর্যচ্যুতি হয়েছে আমার কাহীনি শোনাতে। এই উপমাটি দেবার জন্যে এত লম্বা ইতিহাস লিখা, আমি ইতিহাসবিধ নই, তবুও ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া সোজা বলেই লিখলাম।
এবার আসি জাতীর পিতার পরিবার নিয়ে। পরিবার বলতে কর্তার বউকে বুঝায়। অবিবাহিত, ছোট্ট, নাবালেক সন্তান যারা কর্তার আয়ের উপর নির্ভর করা ছাড়া গত্যন্তর থাকেনা তাদের ধরা হয় পোষ্য হিসেবে। সক্ষম, বিবাহিত অন্তত ১৮ বছরের বেশী হয়েছে এমন সন্তান কর্তার বংশ হিসেবে পরিচিত পায়। আমাদের দেশে কর্তা মারা গেলে তার পরিবার তথা স্ত্রী পেনশন পেয়ে থাকে সেই হিসেবের ভিত্তিতে। বুড়ো সন্তান যদি পরিবারের সংজ্ঞায় পড়ত তাহলে মা মারা যাবার পরও তারা পেনশন সুবিধা পেতেন, বাস্তবে তা হয়না। আবার ক্ষেত্র বিশেষে পোষ্যরা চাকুরী পায় কর্তার প্রতিষ্ঠানে, আগে থেকেই চাকুরী আছে এমন কোন সন্তান নয়, কর্তাকে পোষ্য দাবী করা লাগে। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুকালে পরিবার হিসেবে ছিলেন ওনার স্ত্রী, পোষ্য হিসেবে ছিলেন শেখ রাসেল। দূভার্গ্য বশত তাঁরা নিজ দোষে নয়, কপাল দোষে অকালে মৃ্ত্যুবরন করেন। শেখ কামাল, শেখ জামাল বিবাহিত ছিলেন তাঁদের আলাদা পরিবার ছিল, তারা শেখ মুজিবের সন্তান ছিলেন। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা যথাক্রমে ড. ওয়াজেদ মিয়া ও সফিক সিদ্দীকির পরিবার হিসেবে সংসার জীবন করছিলেন। এখনও শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তাদের পরিবারের অর্ন্তভূক্ত। ড. ওয়াজেদের মৃত্যু পরবর্তী পেনশন ও ব্যাংকের টাকা তোলা জন্যে শেখ হাসিনাকে ড. ওয়াজেদের পরিবার হিসেবে দাবী করতে ও প্রমান করতে হয়েছে। সুতরাং শেখ মুজিবের কোন পরিবার দুনিয়ায় বেঁচে নাই। তাঁর বংশে দুই মেয়ে বেঁচে আছেন মাত্র। শেখ মুজিব হাসিনা-রেহানার স্বামী নন, তিনি পিতা। তারপরও দাবী করলে সেটা চরম লজ্জাস্কর ও বিশ্রী ইতরামী ছাড়া আর কিছু নয়। আর জয়, পুতুল, ববি, রুপন্তি, জয়ন্তি ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিদের রক্ত ও বীর্য থেকে সৃষ্টি। তাদের শরীরে শেখ মুজিবের রক্তের গ্রুফ মিল থাকলেও বীর্য কিন্তু শেখ মুজিবের নয়। সুতরাং তারা না হতে পারেন পরিবার, না বংশ, না গোষ্টি কিছুই না। শেখ হাসিনা হলেন হাসিনা ওয়াজেদ, রেহানা হলেন রেহানা সিদ্দীকি। তাদের সন্তানেরা হলেন শেখ মুজিবের নাতী-নাতনী।
তাহলে জাতীর সাথে কেন এই প্রতারনা? এই রাষ্ট্রীয় প্রতারনার সুযোগ নিতে গেলে হয়ত শেখ মুজিবকে দুনিয়ায় এসে হাসিনা-রেহানাকে বিয়ে করতে হবে। নতুবা বিধিমালার শিরোনাম পরিবর্তন করতে হবে। কোন সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি বা গোষ্টি যদি শিরোনাম নিয়ে আদালতে মামলা করে দেয়, তাহলে বেইজ্জতির আর শেষ থাকবেনা। মামলা নিশ্চিত হাসিনার বিপক্ষে যাবে, যদিনা বিচারক ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি না হন। যারা সংসদে বসে তালিয়া পার্টির ধরনে তালিয়া মেরে আইন পাশ করে নিল। তারা কেউ একথাটি শেখ হাসিনাকে ধারনা দেননি, কিংবা তাদের আকলের সীমাবদ্ধতা ছিল অথবা তারা রাষ্ট্রিয় হালুয়ার সুযোগ-সুবিধা বরবাদ করতে চাননি। নেত্রী খুশি, দিলাম লাথি। নেত্রী খুশি, নিলাম থাপ্পর। নেত্রী খুশি, ধরলাম পাছা। এ ধরনের নেতা নেত্রী নিয়ে শেখ হাসিনা যদি সরকার চালান, অচিরেই লক্ষন সেনের পরিনতি ভোগ করতে হয়ত বেশী দিন দূরে নাই। শৃগাল যদি জানত বাজার থেকে মুরগী কিনে খেতে কি পরিশ্রম করতে হয়, তাহলে সে গৃহস্থের মুরগীর প্রতি নজর দিতনা। তাই জনাব প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার অথর্ব ও কান্ডজ্ঞানহীন শৃগালদের গালগুলো নিয়ন্ত্রন করুন। নতুবা আপনার পালিত শৃগালদের গাল বা মুখমন্ডল আর শৃ-গাল না থেকে শ্রী-গাল হবে।আপনার পরিনতি হবে আপনার পিতার চাইতে ভয়াবহ ও করুন। জনগনের প্রতি ভালবাসা স্থাপন করুন, আর প্রতিশোধ নেবেন না, সবাইকে মরতে হয়, সে হিসেবে আপনার পিতাকেও মরতে হয়েছে। তাছাড়া আপনি হত্যাকারীদের কাছেও পেয়ে গেছেন বিচারের জন্যে। আরো গোস্বা বাড়িয়ে, এই অসহায় জাতিকে শাস্তি দিবেন না। তাদের নিয়ে ভাবুন, তাদের নিরাপত্তা দিন তাহলে তারাই আপনাকে আপনার বংশধরকে নিরাপত্ত দিবে। কারন অপরকে মাফ করলেই আল্লাহ আপনাকে মাফ করবেন।আপনি অপরের নিরাপত্তা দিলে আল্লাহ আপনাকেও নিরাপত্তা দিবেন। আপনার কুলাঙ্গার ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সামলান। মৌমাছি ছোট্ট তাদের ব্রাশ ফায়ারে মারা যায়না, তবে তাদের আক্রমন সুসংগঠিত সেনাবাহীনিকেও পর্যদুস্ত করে দিতে পারে। হয়ত একদিন বাংলার মানুষেরা মৌমাচি সূলভ আচরন করবে। বাংলার অসংখ্য জনতা ফুঁসে উঠছে, গ্রামে গ্রামে হাহাকার, অভাব, পানি নাই, বিদ্যুত নাই, গ্যাস নাই, কাজ নাই সর্বোপরি আপনার সোনার সন্তানদের দয়ায় নিরাপত্তাও নাই।১৯৭৪ সালে আপনার পিতার আমলে গ্রামের চাইতে শহরের অবস্থা কিছুটা ভাল ও নিরাপদ ছিল, আপনার আমলে শহর-গ্রাম দূরে থাক, মসজিদেও নিরাপত্তা নাই। আপনার কর্মীরা কি করছে খবর নিন, গন আক্রোশ আপনাকেই প্রতিহত করতে হবে। নতু্বা সেদিন আপনার নিছিদ্র নিরাপত্তা কোন কাজে আসবেনা। আপনার চাচী ইন্দিরা গান্ধী নিছিদ্র নিরাপত্তায় থেকেকেন তবে গুলি এসেছে মাত্র ২ হাত দুর থেকে, ম্যাগজিনের একটি গুলিও মাটিতে পড়েনি, সবই কলিজায় বিঁধেছে।আপনি সুশাসন প্রতিষ্টা করুন, আমরা লাখ লাখ বাংলাদেশী আছি আপনার নিরাপত্তার জন্যে, সেদিন প্রয়োজনে আপনার নিরাপত্তার জন্যে আমরাই জীবন দিব।