বাকশাল বাস্তবতা...

SalimC's picture

আওয়ামী-বাকশাল সম্পর্কে আর্ন্তজাতিক মাধ্যমগুলোর বক্তব্য কেমন ছিল?

-আওয়ামী-বাকশাল সরকারের ব্যর্থতা সম্পর্কে আর্ন্তজাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর বক্তব্য কেমন ছিল?
-বিদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তাদের প্রকাশিত কয়েকটি নিবন্ধ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত নিউ স্টেটসম্যান পত্রিকায় ২৭শে সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ এ জনাথন ভিন্নাম্বলম্বী এক প্রতিবেদনে লেখেন, “এমন একদিন ছিল যখন শেখ মুজিব ঢাকার রাস্তায় বের হলে জনসাধারণ হাত তুলে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে মেতে উঠত।আর আজ যখন স্বীয় বাসভবন থেকে তিনি অফিসের দিকে যান তখন চর্তুদিকে থাকে পুলিশের কড়া পাহারা।পথচারীরা সজ্ঞানে তার যাতায়াত উপেক্ষা করে। জাতির পিতাও আর গাড়ির জানালা দিয়ে হাত আন্দোলিত করেন না। তার দৃষ্টি থাকে সামনের দিকে নিবদ্ধ। বাংলাদেশ আজ বিপজ্জনকভাবে অরাজকতার মুখোমুখি। লাখ লাখ লোক ক্ষুধার্ত। হাজার হাজার মানুষ আজ অনাহারে মরছে। মফস্বল এলাকার স্থানীয় কর্মচারীরা ভয় পাচ্ছে যে আগামী মাস খুব দুঃসময় হবে। ক্ষুধার্ত মানুষের ভীড়ে ঢাকায় দম বন্ধ হয়ে আসে। এখন আবার চলছে বন্যা উপদ্রুতদের ভীড়। আগত লোকজনরা এমন নোংরা অবস্থায় থাকে যার তুলনা দুনিয়ার কোথাও নাই। কোথাও বিনামূল্যে কিছু বিতরণ করা হলে শরনার্থীদের মধ্যে মারামারি লেগে যায়। বুদ্ধিজীবিরা বলেন, এই ক্ষুধার্ত জনতা ক্ষেপে গেলে তাদের রক্ষা নেই। বাংলাদেশ আজ দেউলিয়া। গত আঠারো মাসে চালের দাম ৪ গুন বেড়েছে। সরকারি কর্মচারীদের মাইনের সবটুকুই চলে যায় খাদ্যসামগ্রী কিনতে আর গরীবরা থাকে অনাহারে। কিন্তু যতই বিপদ ঘনিয়ে আসছে শেখ মুজিব ততই মনগড়া জগতে আশ্রয় নিচ্ছেন। ভাবছেন দেশের লোক এখনও তাকে ভালোবাসে। সমস্ত মুসিবতের জন্য পাকিস্তানই দায়ী আর বাইরের দুনিয়া তার সাহায্যে এখনো এগিয়ে আসবে এবং বাংলাদেশ উদ্ধার পাবে এ ধরণের ভাবনা তার নিছক দিবাস্বপ্ন। মুজিব সম্পর্কে বরাবরই সন্দেহ ছিল। নেতা হিসাবে আজো তার আকর্ষন রয়েছে। তিনি আবেগপ্রবণ বক্তা। তার অহংকার আছে, সাহস আছে। কিন্তু আজ দেশ যখন বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি দিনের অর্ধেক ভাগ আওয়ামী লীগের চাইঁদের সঙ্গে ঘরোয়া আলাপে কাটাচ্ছেন। যিনি বাংলাদেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহু ছোট-খাটো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন; তিনি আজ আত্মম্ভরিতার মধ্যে কয়েদী হয়ে চাটুকার ও পরগাছা পরিবেষ্টিত হয়ে আছেন। বাইরের দুনিয়া বাংলাদেশের র্দুনীতির কথা ফলাও করে বলে থাকে। সমাজের নীচুতলায় যারা আছে তারা হয়তো আজ খেতে পেয়েছে কিন্তু কাল কি খাবে জানে না। এমন দেশে দুর্নীতি অপরিহার্য। তবে এমন লোকও আছে যাদের দুর্নীতিবাজ হবার কোন অজুহাত নেই। সদ্য ফুলে ফেঁপে উঠা তরুণ বাঙ্গালীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের শরাবখানায় ভীড় জমায়। তারা বেশ ভালোই আছে। এরাই ছিল তথাকথিত ‘মুক্তিযোদ্ধা’। তাদের প্রাধান্য আজ অপরিসীম। রাজনৈতিক দালালী করে এবং ব্যবসায়ীদের পারমিট যোগাড় করে তারা আজ ধনাঢ্য জীবন যাপন করছে। সরকারি কর্মচারীদের ভয় দেখাচ্ছে। নেতাদের উপর প্রভাব বিস্তার করছে এবং প্রয়োজন হলে অস্ত্র প্রয়োগ করছে। এরাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের বাছাই করা পোষ্য। আওয়ামী লীগের উপর তলায় যারা আছেন তারা আরো জঘণ্য। যারা দেশ মুক্ত করেছেন সেই জনসাধারণের মেরুদন্ড ভেঙ্গে তারা আজ ফুলে ফেঁপে উঠেছে। অবশ্য তাদের অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ নিয়ে তারা আজ শুধু নিজেদের কথা ভেবেই শংকিত হয়ে উঠেছে। ভাবছে আগামীকাল তাদের কি হবে? শুনতে রূঢ় হলেও কিসিঞ্জার ঠিক কথাই বলেছেন, ‘বাংলাদেশ একটা তলাবিহীন ভিক্ষার ঝুলি।’ ত্রাসজনক পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে বিপর্যয়ের মোকাবেলা করা অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সমাজ বাংলাদেশের ‘পুতুল সরকার’ সম্পর্কে ধৈর্য্যহারা হয়ে পড়েছে। এই কঠোর সত্যের মুখোমুখি হয়ে রিলিফ কর্মী এবং কূটনৈতিক মিশন ও জাতিসংঘের অফিসাররা বাংলাদেশ সরকার ও সরকার দলীয় লোকজনদেরই দোষারোপ করছেন।”
লন্ডনের ডেইলি মেইল পত্রিকার ১৭ই সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জন পিনজার লেখেন, “পশ্চিম এশিয়ার এবং দুর্ভিক্ষের প্রাচীনতম বিচরণভূমি বাংলাদেশে মহা দুর্ভিক্ষের পূর্ণঃআর্বিভাব ঘটেছে। এত ব্যাপক দুর্ভিক্ষ সম্ভবতঃ অনেককাল দেখা যায়নি। মৃতের কোন নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। এক হিসাব মতে গত জুলাই মাসের বন্যায় সমস্ত ফসল এবং পরবর্তী মৌসুমে বীজ ধান বিনষ্ট হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে এবং পাশ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কয়েক লাখ লোক মারা গেছে। ঢাকার ‘সেফ দি চিলড্রেন ফান্ড’ এর কো-অর্ডিনেটর মিঃ মাইকেল প্রোসার বলেন, “আমাদের চরম আশংকাই ফলে গেছে। আমরা এমন একটা বিপর্যয়ের সূচনাতে আছি যা আমি এই উপমহাদেশে গত ৩১ বছর দেখিনি। বসন্তের আগে নতুন ফসল উঠবে না। বাইরের দুনিয়া থেকে যদি বাংলাদেশ প্রতি সপ্তাহে ১লাখ টন খাদ্যশস্য ও তদসঙ্গে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সাহায্য না পায় তবে আমার ভয় হচ্ছে বহু লোকের জীবন বিপন্ন হবে। বস্তুতঃ বাংলাদেশের একটি অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান হচ্ছে এই যে, দেশের সবগুলি হাসপাতাল মিলিয়ে শিশুদের জন্য সর্বমোট ৭৫টি বেড আছে। অর্থাৎ প্রতি ১০ লাখে একটি। মিরপুর শরনার্থী শিবিরের প্রকান্ড লৌহ কপাটের বাইরে বহু নারী ও শিশু ভীড় করে আছে। গেটের সামনে একজন সিপাই পুরনো ৩০৩ রাইফেল হাতে পাহারা দিচ্ছে। তার কাজ আশ্রয়প্রার্থীদের দূরে সরিয়ে রাখা। এসব শরনার্থীদের বেশিরভাগ লোকই এসেছে উত্তরের রংপুর, দিনাজপুর জেলা থেকে। এরা দু’দিন পায়ে হেটে না খেয়ে এসেছে। দেখে মনে হল দু’টো শিশু ছাড়া প্রায় সবগুলো শিশুই বসন্তে আক্রান্ত। এরা এতটাই দুর্বল যে গা থেকে মাছিও তাড়াতে পারে না। এদিকে রিলিফ ক্যাম্পেও তিল ধারণের জায়গা নেই। বরাবর যেমন হয়ে থাকে আমার ক্ষেত্রেও তাই হল। একজন বিদেশী সাংবাদিককে দেখে ক্যাম্পের গেট খুলে দেয়া হল। সুপারিনটেন্ডেন্ট আব্দুস সালাম আমাদের ভিতরে প্রবেশ করার জন্য ঈঙ্গিত দিলেন। আর ওমনি ওরা প্রাণপন ছুটল ভিতর পানে। এ কথা আমি আক্ষরিক অর্থেই বলছি। জনাব সালাম বললেন, ‘এখানে তিন হাজার শরনার্থী আছে। শুক্রবার থেকে ওদের খিচুড়ি দেয়া সম্ভব হবে না। শনিবারে হয়তো আমেরিকান কিছু বিস্কুট পাওয়া যেতে পারে।’ এ দেশে একটি শিশুকে একটু গুঁড়ো দুধ ও একমুঠো দানা দিয়ে বাচিঁয়ে রাখতে মাত্র ২৫ পেন্স খরচ হয়। একটি তিন বছরের শিশু এতো শুকনো যে, মনে হল যেন মায়ের পেটে থাকাকালীন অবস্থায় ফিরে গেছে। আমি তার হাতটা ধরলাম, মনে হল তার চামড়া মোমের মত আমার হাতে লেগে গেল। এই দুর্ভিক্ষের আর একটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান এই যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মত ৫০ লাখ মহিলা আজ নগ্ন দেহী। বাচাঁর তাগিদে বস্ত্র বিক্রি করে তারা চাল কিনে খেয়েছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে, আমার গাড়ি ইসলামিক মানবকল্যাণ সমিতি ‘আঞ্জুমান-এ-মফিদুল ইসলাম’ এর লরীর পেছনে পেছনে চলছে। এই সমিতি রোজ ঢাকার রাস্তা থেকে দুর্ভিক্ষের শেষ শিকারটিকে কুড়িয়ে তুলে নেয়। সমিতির ডাইরেক্টর ডঃ আবদুল ওয়াহিদ জানালেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে আমরা হয়তো কয়েকজন ভিখারীর মৃতদেহ কুড়িয়ে থাকি কিন্তু এখন মাসে অন্ততঃ ৬০০ লাশ কুড়াচ্ছি। সবই অনাহারজনিত মৃত্যু।’ লরীটা যখন গোরস্থানে গিয়ে পৌঁছলো ততক্ষণে সাতটি লাশ কুড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে চারটি শিশুর। সব কয়টাই বেওয়ারিশ। লাশগুলো সাদা কাপড়ে মুড়ে সংক্ষিপ্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর গোরস্থানের একপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে গত মাসে দুর্ভিক্ষে যারা মারা গেছে তাদের কবর খুঁড়েই দাফনের জায়গা করা হয়। এ ধরণের দৃশ্য আমি আর কখনো দেখিনি। প্রকৃতি আর মানুষ মিলে যদি কখনো ‘বেলসেন আর অশ’ উৎসবের অসংখ্য কবর নতুন করে রচনা করার চেষ্টা করে থাকে তাহলে তারা এই গোরস্থানে সফল হয়েছে। যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু কংকাল আর কংকাল। বোধ করি হাজার হাজার। প্রথমে লক্ষ্য করিনি। পরে বুঝতে পারলাম অধিকাংশই শিশুদের কংকাল।”
‘ভারতীয় আধিপত্যের কবলে বাংলাদেশ’ শিরোনামে লস এঞ্জেলস টাইমস এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ছিল নিম্নরূপ:-
“ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিপুল সহায়তায় স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির তিন বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের জনমত ভারতের প্রতি বিরূপ হয়ে গেছে। ভারত ও বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীরা এখনো বলে যে, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক খুবই আন্তরিক। কিন্তু বেসরকারি অধিকাংশ বাঙ্গালীর মনোভাবে তা প্রতিফলিত হয় না। কোন নিদির্ষ্ট অভিযোগের চেয়ে বহু বাঙ্গালীর অভিযোগ হল এশিয়া মহাদেশে ভারত প্রাধান্য লাভ করার চেষ্টা করেছে এবং শুধু আয়তনের বিশালত্ব দ্বারাই ভারত বাংলাদেশের ঘটনাবলীকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করতে সক্ষম। এই কিছুদিন আগে একজন মাঝারী শ্রেণীর বাংলাদেশী সরকারি কর্মচারী জনৈক বিদেশীকে কৌতুকের ছলে বলেছিলেন, ‘ভারত বলছে পৃথিবীর মধ্যে সেই হচ্ছে বৃহত্তম গণতন্ত্র। তাই যদি হয় তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম গণতন্ত্র।’ বেশ কিছু সংখ্যক বাংলাদেশী এখন এই ধারণা পোষণ করেন যে, ১৯৭১ সালের যে যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে তাতে ভারতের প্রধান স্বার্থ ছিল পাকিস্তানকে ভেঙ্গে এই উপমহাদেশে স্বীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা। হলিডে পত্রিকার সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান বললেন, ‘বাংলাদেশ মূলতঃ একদিকে ভারতীয় সম্প্রসারনবাদ ও অপরদিকে বাঙ্গালীদের ইচ্ছার ফল।’ ভারত সম্পর্কে বাঙ্গালীদের মোহ কেটে গেছে সেটা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আভ্যন্তরীন সমস্যারই প্রতিফলন। কিছু বাংলাদেশী মনে করছেন যে, বাংলাদেশের সৃষ্টির জন্য ভারত যেমন প্রধানতঃ দায়ী তেমনি বাংলাদেশের বর্তমান দুদর্শার জন্যও ভারত দায়ী। অত্যন্ত উত্তেজনামূলক যে কয়টি সমস্যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরাজমান তার মধ্যে একটি হচ্ছে ভারত সীমান্তের ১২মাইল অভ্যন্তরে গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা বাঁধ। ডিসেম্বর মাসে যখন এই বাঁধ চালু হবে তখন গঙ্গার পানি কোলকাতার পাশ দিয়ে বহমান হুগলী নদী দিয়ে প্রবাহিত হবে। গঙ্গার পানির এই ধারা পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হল কোলকাতা বন্দরকে তলানী মুক্ত করা। তলানীর জন্য কোলকাতা বন্দর প্রায় অনাব্য হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশীরা ভয় করছে যে এই পরিবর্তনের ফলে গঙ্গা নদীর নিম্নাংশ যা বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে সে অংশ গ্রীষ্মের মৌসুমে একদম শুকিয়ে যাবে। কিছু বাংলাদেশী এ অভিযোগও করে যে, ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে পাট ও চাল পাচাঁরে উৎসাহ যোগাচ্ছে। ভারতীয় সরকারি কর্মচারীরা স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশের পাট ও চাউল ভারতে পাঁচার হচ্ছে। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদেরই উৎসাহ রয়েছে সীমান্তের ওপারে কাচাঁমাল পাচাঁর করার; কেননা সরকারিভাবে বাংলাদেশ ও ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় হার এক হলেও কালোবাজারে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য বাংলাদেশী মুদ্রার দ্বিগুন। ফলে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা কাঁচামাল ভারতে পাচাঁর করে যে অর্থ উপার্জন করে সে টাকায় বাংলাদেশে যে সমস্ত জিনিষের অভাব তা ভারত থেকে কিনে এনে দ্বিগুন মুনাফায় বিক্রি করে। ভারতের একটা উদ্বেগের কারণ হচ্ছে চীনের সাথে বাংলাদেশের ভবিষ্যত সম্পর্ক। চীন হচ্ছে ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ভারত কখনো বাংলাদেশকে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে দেবে না। ভারত চায় বাংলাদেশ জোট নিরপেক্ষ থাকবে এবং এমন বৈদেশিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে না যা হবে ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী। অন্যান্য পর্যবেক্ষকরা আরো বলেন, ‘যদি বাংলাদেশের উপকূলে তেল পাওয়া যায় তবে ভারত সরাসরি বাংলাদেশের উপকূল দখল করবে।’ ব্যাঙ্গোক্তি করলেন একজন পদস্থ অফিসার, ‘বাংলাদেশের ভাগ্য বাংলাদেশের হাতে নাই’।”
লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলী টেলিগ্রাফ এর ১৯৭৫ সালের ২৭শে জানুয়ারী সংখ্যায় পিটার গিল ‘মুজিব একনায়কত্ব কায়েম করেছেন’ শিরোনামে লেখেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান তার দেশে পার্লামেন্টারী গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকু লাথি মেরে ফেলে দিয়েছেন। গত শনিবার ঢাকায় পার্লামেন্টের এক ঘন্টা স্থায়ী অধিবেশনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে শেখ মুজিবকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছে এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে ক্ষমতা অর্পন করেছে। অনেকটা নিঃসন্দেহে বলা চলে গণতন্ত্রের কবর দেয়া হয়েছে। বিরোধী দল দাবি করেছিল যে, এ ধরণের ব্যাপক শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের ব্যাপারে আলোচনার জন্য তিন দিন সময় দেয়া উচিত। জবাবে সরকার প্রস্তাব পাশ করল যে এ ব্যাপারে কোন বিতর্ক চলবে না। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয় মাস গৃহযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত কিন্তু গর্বিত স্বাধীন বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিব এমপিদের বলেছেন যে, পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের অবদান। কিন্তু বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র প্রণয়নে বৃটিশ বিশেষজ্ঞরাই সাহায্য করেছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীন আদালতকে ঔপনিবেশিক ও দ্রুত বিচার ব্যাহতকারী বলে অভিযুক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট খেয়ালখুশি মত বিচারক বরখাস্ত করতে পারবেন। নাগরিক অধিকার বিন্দুমাত্রও যদি প্রয়োগ করা হয় তা প্রয়োগ করবে নতুন পার্লামেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত স্পেশাল আদালত। এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে একটি জাতীয় দল প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন শাসনতন্ত্র মুজিবকে ক্ষমতা প্রদান করেছে। তার গঠিত দলই হবে দেশের একমাত্র বৈধ দল। যদি কোন এমপি যোগদান করতে নারাজ হন অথবা এর বিরুদ্ধে ভোট দেন, তবে তার সদস্যপদ নাকচ হয়ে যাবে।
এহেন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ঢাকায় সমালোচনা বোধগম্য কারণেই চাপা রয়েছে। কিন্তু ৩১৫ সদস্য বিশিষ্ট পার্লামেন্টের ৮জন বিরোধী দলীয় সদস্যের ৫জনই এর প্রতিবাদে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের ১১জন সদস্য ভোট দিতে আসেননি। তাদের মধ্যে ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশ গেরিলা বাহিনীর নায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী জেনারেল এম এ জি ওসমানী। শেখ মুজিব ১৯৮০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ স্বেচ্ছাচারিতার সঙ্গে শাসন করতে পারবেন। নতুন শাসনতন্ত্র ১৯৭৩ সালে নির্বাচিত জাতীয় পার্লামেন্টের মেয়াদও ১৯৮০ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পার্লামেন্ট বছরে মাত্র দু’বার অল্প সময়ের জন্য বসবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও কাউন্সিল অফ মিনিষ্টারস এর মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হবে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং মনসুর আলীকে যথাক্রমে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট।
বাংলাদেশের ঘনায়মান আর্থিক ও সামাজিক সংকটে বিদেশী পর্যবেক্ষকগণ সন্দেহ করছেন যে, দেশে একনায়কত্বের প্রয়োজন আছে কিংবা শেখ মুজিবের আরো ক্ষমতার প্রয়োজন আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে যে নিশ্চিত দুর্ভিক্ষ ও অরাজকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শেখ মুজিবের নতুন ম্যান্ডেট তাতে তেমন কোন তারতম্য ঘটাতে পারবে কিনা? এক মাস আগে শেখ মুজিব জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছেন। অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বামপন্থী গেরিলা নেতা সিরাজ সিকদারকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে যে, জরুরী আইন প্রয়োগে বিন্দুমাত্র সুশাসন (বর্তমানে সুশাসন বলতে কিছু নেই) পুনঃপ্রতিষ্ঠা আদৌ সম্ভব কিনা? নতুন প্রেসিডেন্টের যে আদৌও প্রশাসনিক দক্ষতা নেই তা গত বছরেই প্রমাণিত হয়েছে। তার ষ্টাইল হচ্ছে ডিকটেটরের স্টাইল। তিনি গুরুত্বহীন বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখান এবং গুটিকয়েক আমলার প্রমোশনে ও তাদের অভিমতকে যথেষ্ট প্রাধান্য দেন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি প্রায়ই ফেলে রাখেন।
একদলীয় শাসন সৃষ্টির ফলে র্দুনীতি দূর না হয়ে বরং বাড়তে থাকবে।

WatchDog_bd's picture

অমর বানীঃ

"আমি যদি জানি যে, আমি কম জানি
চেষ্টা করি বেশী জানার" - কার্ল মার্কস্‌

আমজনতা's picture

আসুন ভেজাল ঔষধ প্রস্তুতকারীর প্রতি থু থু নিক্ষেপ করি

ভাই আপনাদের কারো কাছে ভেজাল ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানী রিড ফার্মার পরিচালক‌দের কারো ছবি বা নাম ঠিকানা থাকলে দয়া করে প্রকাশ করুন, যাতে সকলেই তাদের চিনতে পারে এবং থু থু নিক্ষেপ করতে পারে।

Nirvik2008's picture

Pl. Read -- The article is BNP lie

This is total crap of Jatiotabadi politics. More specifically a big "Sala". Zia was a communist. Worse human being. Looted the whole country. Killed BAKSAL. I hate this article. If BAKSAL was killed by Zia and everything happened under BAKSAL Bangladesh would have been a developed country like Japan. ha ha ha ha ...........

WatchDog_bd's picture

To Farmer from WD

Am I repeating the same comment? If so, sorry. Again, there was no country and there will be no country on the face of the earth known as communist country. Communism is the developed and final stage of socialism, which, according to V I Lenin, is possible only if rest of the world is on the verge of entering the world of socialism (how close we're from that!). Soviet Union didn't have the chance to cross the break even point of two isms and ended up being a failed socialist state. China, Vietnam, North Korea and Cuba are only the remaining countries with socialist identity and according to Marxist guideline, they even no way near to accomplish the 1st phase of a classless society. It's the method of distribution of goods and services which differentiates these two isms. Under socialist system, you get according to your input to the society, on the flip side, under communism, you get according to necessity of your life. The life standard will be determined by the proletarian dictatorship. These two are very different economic indicators which drastically changes the equation of a society. Significant visibility of a communist economy will be the absence of monitory system for exchange or trading. To suggest Mozambique, Somalia or Finland a communist country is just a piece of crap and not worthy to argue.

NB: During USSR (Union of the Soviet Socialist Republic) era there was no country named Russia, Russia was just a republic (like US state) within their 15 members union.

Cheers!

farmer's picture

Thanks WD

Nirvik2008, matin, raihanKhan & Betrayed,
WD wrote, "Under socialist system, you get according to your input to the society, on the flip side, under communism, you get according to necessity of your life." This one sentence definition can be elaborate into few volumes.
This definition clearly distinguishes socialism & communism, and thereby socialist & communist country.
Hope, now you know the enormous diff.

raihankhan's picture

Farmer: Thanks, TEACHER(!)!!

Thanks SENSEI!!!! for giving a lecture about communism.
But sorry SENSEI !I can't not pay you or other for teaching me definition about SOCIALISM AND COMMUNISM.
LOL!!!!

“ If I could be useful to another human being, even for a day, that would be a great thing. It would be greater than all the big thoughts I could have at the university. ” ~ Dr. Muhammad Yunus

Betrayed's picture

Farmer: Stop Bullshitting....!!!

Farmer:

Stop Bullshitting....!!! No one asked you what is the difference between socialism and communism. we gave you hundred proof that then USSR was a communist country, you are not happy. Now another brain washed gave you a definition of socialism and communism and started jumping....!!!

Why not you give me a list 10 formerly communist countries ....??? Then I can see USSR was a communist country or not. You and Watch_Dog thinks there are diff in HIV+ AIDS, I don't see any diff.

farmer's picture

Betrayed, never existed a communist country on this planet

The definition given by WD is deduced from the Das Capital & Lenin's 52 books.
Do'nt worry, forget this.

Betrayed's picture

Farmer: Did you filled up the USA visa form or not.........???

Yes, Watch_Dog himself spoiled in USSR and has successfully spoiled you and your gang.

So there was no communist country on planet, so no communist on the earth. did you fiill up the visa form before coming to America...........?? Then there was column untill 1992 that you have to declare, are you a communist or have you ever a memeber of communist party or not, I can't remember the exact phrase.

Why that line was included in visa form, if no communist country hence no communist was on the planet....??? let me know.

vumihinzamidar's picture

WD

মার্কস বাদের থিওরী অব সারপ্লাস ভেলুর সাথে ইসলামিক অর্থনীতির ( সম্পদের সুসমবন্টন ) অনেক মিল খুজে পাওয়া যায় । আমার কাছে মনে হয় রেল লাইনের মত সমন্তরাল ভাবে যাচ্ছে , গন্তব্য একটাই-মানুষের কল্যান ।

WatchDog_bd's picture

VHJ

মার্কসীয় ফিলোসফিতে একটা ল'আছে, যাকে বলা হয় Law of Rejection। প্রচলিত যে কোন ধ্যান ধারনা অথবা বিশ্বাষকে যদি মার্ক্সীয় তত্ত্বের সাথে integration'এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় সেখানে উল্লেখিত ল'এর ব্যবহার প্রযোজ্য। এর সারমর্ম হচ্ছে, নতুন একটা তত্ত্ব অথবা বিশ্বাষকে গ্রহন করার আগে সে তত্ত্বের খারাপ দিকগুলোকে আগে reject করতে হবে। বিভিন্ন ধর্মের উত্থানকে এই Law of Rejection'এর আলোকেই মূল্যায়ন করে থাকে মার্ক্সবাদ। এটাকে বলা হয় বস্তূবাদের evaluation। এ প্রসেস অনেকটা chain reaction'এর মত হতে হবে। আমার বিচারে মার্ক্সবাদও একটা ধর্ম, যার মূল বানী ছিল শ্রমের সাথে শ্রমজীবির সম্পর্ক। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির বিস্ময়কর উন্নতির সাথে উনবিংশ শতাব্দীর এ সম্পর্কে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, এবং স্বভাবতই উন্নত বিশ্বে সমাজতন্ত্র হারিয়ে ফেলে তার প্রয়োজনীয়তা। আমি নিশ্চিত সম্পদের সূসম বন্টনের ধ্যান ধারনা মার্কস্‌ এবং এংগেলস্‌ হাওয়া হতে ধরে আনেন্‌নি, তাদেরই প্রনীত Law of Rejection নিয়মে হয়ত ইসলাম ধর্ম হতেও কিছুটা নিয়ে থাকবেন।

Pogo's picture

Socialism and Sk. Mujib

In the first para, the author tried to present his understanding on socialism which can intiate some discussion. Those discussion will help the authors as well as readers to broaden the knowledge in the topic. However, the last two pragraphs, the author lost his credibility by introducing new thoughts which are biased and deserve criticisms. Yes, the socialism was in the menifesto. Sk. Mujib did something like having a law so that farmers or zamiders cannot have more than 25 bigha land. Under the table of law, he was able to build his palace in London, he was able make his bank account fat in overseas, he was able to put golden crown on his son's head when people were dying for food. His daughters are still enjoyng the house in London. There are some high level example. Under the banner of socialism, Sk. Mujib was able to make fortunes for his children and they are still enjoying it. So, before the author puts the whole nation in question, he needs provide all misdeeds of the father of AL who initiated his own socialism. Sk. acknowledged that he found a mine of thieves. The truth is he was a huge thieve mine by himself, and his supporters were digging it to get a little fortune. He wanted to be the president for life time. He wanted to create Mujib monarchy under the banner of socialism. People of BD did not like Mujib's socialism and he had to pay for it. The main draback of the author is that he did not mention any single misdeed done by Sk. Mujib. Rather, he abruptly went far off from the subject Sk. Mujib and his socialism. So, I would not recommend this to anyone to read it. Thanks for your time.

ধন্যবাদান্তে,
পোগো

Betrayed's picture

Pogo: "giri bazz kobutor" will fail to him.............

Pogo:

Whatever this topic writer starts to write it end ups in Tareq. I am surprised of seeing his Digbazzi from a so called neutral writer to Moin-masood lover to Awamileague and BAKSHAL.......!!!

Soo many Digbazzi that "giri bazz kobutor" will fail to him.

Nirvik2008's picture

Pogo: "giri bazz kobutor" will fail to him....important garbage

I agree 100%. Even if this neutral author start with any topic, he ends up with Tareq, Koko. He always says Tareq is a crap, political garbege etc. etc. However, he spends half of his time of writing on this two garbage. Must be very importent garbage. Half of his thinking is consumed with this two garbage, Tareq and Koko. Does it make sense ??????

vumihinzamidar's picture

প্রতিস্টা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা

বিএনপি ঘড়ানার সবাইকে বিএনপির প্রতিস্টাবার্ষিকী উপলক্ষে শূভেচ্ছা ।

WatchDog_bd's picture

একদলীয় বনাম বহুদলীয় - WatchDog

"বাকশাল সমাজতন্ত্র ছিলনা, বরং এ ছিল গনতন্ত্র কবর দিয়ে মুজিব রাজত্ব পাকাপোক্ত করার রাজনৈতিক হাতিয়ার", শুনতে বেজায় ভাল শোনায়। গনতন্ত্রের প্রতি এমন অপরিসীম শ্রদ্বাবোধ এবং কমিটমেন্ট কেবল বাংলাদেশেই হয়ত খুজে পাওয়া সম্ভব। কথিত বহুদলীয় গনতন্ত্রের অলংকার এক মাথা এক ভোটের ফলাফল আজকে আমাদের কি উপহার দিচ্ছে, নেত্রী তথা পারিবারিক রাজত্ব নয় কি? হ্যা, পার্থক্য একটা নিশ্চয় আছে, আর তা হল, রাজত্বের দাবীদার এখন রাজার বদলে রানী, এবং তখত তাউসের উত্তারাধীকার এক রানীর স্থলে দুই রানী এবং স্ব স্ব রাজপুত্রদ্বয়। অতীতের বাকশালকে যদি টাকশাল নামে অভিহিত করে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা হয় খুব কি অন্যায় কিছু হবে? আজকের বহুদলীয় রাজনীতির পদচারনা কি টাকশালকে ঘিরে নয়? নিউ ইয়র্ক সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মহা আয়োজনে পালন করা হচ্ছে তারেক জিয়া মুক্তি বার্ষিকী। গনতন্ত্রের পূজারীদের কাছে সবিনয় প্রশ্ন, এ কোন মহা মানবের পূজায় নেমেছেন আপনারা? শেখ মুজিব পূজার অন্তত বৈধ একটা ভিত্তি ছিল, যার শিকরের গভীরতা ছিল জনগনের সন্মান, শ্রদ্বায় এবং ভালবাসায়। আর এই তারেক জিয়া? ক্ষমতার আবর্জনায় যার উত্থান, রাজনীতির ভান্ডার যার চুরির মালামালে পরিপূর্ন তাকে নিয়ে বহুদলীয় গনতন্ত্রের বড়াই?

দশতলা সিড়ি ভাংগার শুরুটা যেমন হওয়া চাই একতলা হতে, তেমনি সূস্থ সবল বহুদলীয় গনতন্ত্রে উত্তরনের জন্যেও চাই কিছু পথচলা। দেশীয় রাজনীতি সামন্তযূগীয় দাসবৃত্তির স্তর না পেরিয়েই বহুদলীয় রাজনীতির খাতায় নাম লিখিয়েছিল, যার পরিনাম আজকের বাংলাদেশ মানেই নেত্রী এবং দলপূজার মহোৎসব।

উন্নতির যে মরা বাকে বাংলাদেশ আজ মুখ থুবড়ে পরে আছে তা হতে উদ্বার পেতে নষ্ট-পচা বহুদলীয় পাপাচার কতটা সহায়ক হবে সময়ই তা প্রমান করবে। আওয়ামীরা ক্ষমতায় এসে অল-আউট পাপাচারে লিপ্ত হয়ে দেশকে চুরি চ্যম্পিয়নশীপে বিশ্ব-চ্যাম্পিয়ন বানাবে এবং এর প্রতিবাদ/প্রতিদান হিসাবে ফিরিয়ে আনা হবে বিএনপি নামের আলী বাবা ৪০ চোরের দলকে ( and vice-versa), এটাই ত আমাদের বহুদলীয় গনতন্ত্র, তাই নয় কি? এমন একটা বাংলাদেশ নিয়ে যারা সন্তূষ্ট তাদের জন্যে আমার এ লেখা নয়, আমার এ লেখা তাদের জন্যে যারা দেশকে দেখতে চায় সত্যিকার দেশ হিসাবে যেখানে মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা নিশ্চয়তার পাশাপাশি থাকবে স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যুর নিশ্চয়তা। এ অর্জন বহুদলীয় গনতন্ত্র অথবা একদলীয় লৌহ শাষনেই আসুক তাতে আমার মত সাধারন মানুষের হারানোর কিছু নেই।

দ্রষ্টব্যঃ শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার ইচ্ছার নাম যদি হয় সমাজতন্ত্র, তা হলে সে ইচ্ছার সফল বাস্তবায়নের নাম হবে সাম্যবাদ তথা কম্যুনিজম। পৃথিবীতে আজ পর্য্যন্ত কোন কম্যুনিষ্ট রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়নি, শহীদ জিয়ার আসমানী স্বপ্ন বাস্তবায়নের মত কম্যুনিজমও আর কোনদিন বাস্তবায়ন হবে না।

পঁচাত্তরের হাঁতিয়ার's picture

শুধুই পেচাল

যদি সাহেব বলতে চান যে বহুদলীয় শাষন বাকশালের তুলনায় খুব একটা বেশী কাজে আসে নায় আমাদের জনগনের জন্য তাহলে আমি একমত। কিন্তু যদি বলতে চান বহুদলীয় শাষন বাকশালের চেয়ে খারাপ তাহলে মাই দ্বীমত পোষন করব। বাকশালের দূর্ভীক্ষের সৃতি আজও তাড়া করে বাংলার জনগনকে।

Hassan Imam khan's picture

বাকশাল আমল...।

বাকশাল আমল শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ২১ জানুয়ারী,যার স্থায়ীত্ব ছিল ছিল ঐ বছরের ১৫ ই আগষ্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল ১৯৭৪ সালের স্মরনাতীত কালের বন্যার পর। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে কোন দুর্ভিক্ষের অস্তিত্ব ছিলনা বরং ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ডবল ডিজিট তথা ১১%, যে হার এখন পর্যন্ত কখনো কোন আমলে অতিক্রম করতে ব্যার্থ হয়েছে।
ইউসুপ ভাইজান,
বাকশালের তথাকতিথ দুর্ভিক্ষ অস্তিত্বহীন, তাই অস্তিত্বহীন কোন কল্পিত বিষয়ের স্মৃতি অর্থহীন প্যাচাল নয় কি ?
হাসান ইমাম খান,
সুইজারল্যান্ড।

পঁচাত্তরের হাঁতিয়ার's picture

অবাক লাগে আওয়ামী চেলাদের নাচানাচি দেখে

আজ অবাক হয়ে যায় যখন দেখি আওয়ামী রাজাকাররা বাকশালের পক্ষে সাফাই গাইছে। ১৯৭৫ সালে বাকশাল তৈরি করা হয়। তার স্থায়ীত্ত্ব কিছু মাস হলেও পুরো মুজিব আমল ফেরাউনকেও হার মানায়। বাকশাল অনেক পরে গঠন করা হলেও এর আগের বছরগুলো এরই আদর্শ চর্চা করা হয়েছে। " এক দেশ, এক নেতা" স্লোগান দিয়ে যারা ৪০ হাজার মানুষ হত্যা করেছিল তাদের অন্তিম ইচ্ছার প্রতিফলন বাকশাল। দুর্ভিক্ষের দাগ ১৯৭৫ সালে মুছেনি। আর যে ১১% জি ডি পি এর কথা বলছেন তার তুলনা করা হয়ে থাকে এর আগের বছরের সাথে। শুন্যের ১১% কত হয়? আপনার কাছেই তা হিসাবের দ্বায়ীত্ব ছেড়ে দিলাম। সবই আজ আওয়মীদের কাছে কল্পনা। আজ তারা বলতে শূরু করেছে জ়িয়া যুদ্ধ করেন নি। কাল বলবে জিয়া বলে কেউ ছিল না। পরশূ বলবে আল্লাহের বলদে মুজিব পূজা শূরু কর।

GoodWishes's picture

You don't how GDP is computed, Yousuf144

"আর যে ১১% জি ডি পি এর কথা বলছেন তার তুলনা করা হয়ে থাকে এর আগের বছরের সাথে। শুন্যের ১১% কত হয়?"
You don't know how GDP is computed. A base-year is used for computing GDP. for early 70's, the base year was 1970, not the year of war.

But having said that, you should understand how tough it is to build up something on 0!!

Bangladesh was not separated like the way India and Pakistan did in 1947. The loss on that time was almost nothing compared to the brutal war Bangladesh had to endure. On top of some already existing infrastructure, building up something is relatively easy. But on top of nothing, building something is very tough, especially when geo-political environments were against a nascent country. How cruel and idiotic is this when 38 year old youth says that the amount of child I can give birth is far more than what a 2 /3 year old man (or baby?) can do? Is it a fair comparison? 38 year is the age of giving something, not 2 year old age.

Your "স্লোগান দিয়ে যারা ৪০ হাজার মানুষ হত্যা করেছিল" is also a blatant lie. I am a keen observer of different political slogans and speeches. During 1980’s (in Ershad’s regime), even your favorite leader Khaleda Zia use to quote "10 thousand killed and 30000 arrested during Mujib's regime". (pls. refer to Ittefaq, Dainik Bangla in 80's decade for those speeches. These number are also increasing like monitory inflation in BD!! And the so-called Islamic, nationalist media launches these types of lie spreading. Seeing that inflation, one can realize how truthful was the previous number as well. Soon we'll see it exceeding 1 lakh, hopefully.

Betrayed's picture

GoodWishes: how many thousand actually had killed........???

Goodwishes wrote:

"স্লোগান দিয়ে যারা ৪০ হাজার মানুষ হত্যা করেছিল" is also a blatant lie.............!!!

Please let me know how many thousand actually had killed............??

Pogo's picture

Questions/comments to vumihinzamider bhai.

Dear VHZ,
You write in Bengali and I have chosen you to ask you-how hard is to write character "F" in bengali? Another way, how would you write "football" in bangali?

Let me begin my second piece of comment/question with a story named Jackfruit and two Friends. You may know it, but here it goes. Jackfruit is our national fruit, but it not easy to eat. Once two friends found a small jackfruit. Both of them were very happy and they started taking the skin off. When they peeled off the skin, the clever friend said, "oh, my friend, your father died when you were young. It is so sad that you already lost your father, I feel so bad about it." "yes, it is very sad," eqipped the second friend who is not so clever. The clever friend asked, "dosto, tell me how father died." The second friend became very emotional and started telling all the details how his father died. When he finsihed talking he found that the jackfruit is gone. The clever freind ate all of it. On the other day, you asked a few specific folks for their opinions on the news invloving a fertilizer factory MD and a girl. I was in your list and I felt honor to respond your query. However, you never explained what your thoughts on that other than one question sign. Was it similar to the "Jackfruit and Two Friends" story? :-)

ধন্যবাদান্তে,
পোগো

vumihinzamidar's picture

Dear Pogo

মিডল এজ ক্রাইসিস সম্পর্কে শোনেছিলাম , কিন্তু সার কারখানার কথিত ভদ্রলোকের ঘটনাটা আমার কাছে খুব নোংরা মনে হয়েছে । না ভাই আমি এই নিঊজটাকে তেমন সীরিয়াস মনে করিনি । তারপরেও আমি এমনিতে জানতে চেয়েছিলাম । আমি কিচ্ছু মিন করিনি ভাই ।আপনী সময় নিয়ে ডিটেইলস বলেছেন এবং আপনাকে আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য তৈরী হচ্ছিলাম , কিন্তূ হঠাত করে আমাকে একটু বাইরে যেতে হয়েছিলো এবং পরে আমি ভুলে গেছি । আমি এর জন্য লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী ।
আমার আর একটা মারাত্বক ভূল হয়েছে । আপনার নামের বানানটা আমি ঠিক ভাবে করিনি এবং এই ভূলটা অনিচ্ছাকৃত । আমি ভাই আবারো আপনার কাছে মাফ চাইলাম ।

Pogo's picture

vumihinzamidar bhai..Thank you

Thanks for your reply. Regarding that news (fertilizer MD) it is okay now. I just wanted to make sure I did not miss anything. Thanks for clarifying it. Regarding, my name I did not mind at all. It is my alias any way. So, please do not make me feel bad by using the word "maf." I even did not notice that you used pago. Just now I saw it. So, I have been fine with it all along. By the way, you showed how to write corresponding letter of "F" in begali. I hope the individual who intentionally mocked someone's name read this and be careful in future. Thanks again.

ধন্যবাদান্তে,
পোগো

Betrayed's picture

Hassan: Put BAKSAHL in Switzerland ...........

Hassan wrote:

বাকশাল আমল শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ২১ জানুয়ারী,যার স্থায়ীত্ব ছিল ছিল ঐ বছরের ১৫ ই আগষ্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল ১৯৭৪ সালের স্মরনাতীত কালের বন্যার পর। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে কোন দুর্ভিক্ষের অস্তিত্ব ছিলনা বরং ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ডবল ডিজিট তথা ১১%, যে হার এখন পর্যন্ত কখনো কোন আমলে অতিক্রম করতে ব্যার্থ হয়েছে।..........

Wow Hassan, what a nice period was that, 11% growth.......!!! do you like to go back to 73,74,75.........??

Betrayed's picture

Farmer Vs Nirvik: Farmer is playing too much with "Budweiser"

Farmer:

All over the world, including the country you are living in, people knows Russia was a Communist country, now you are saying socialist country..............!!!

Man, you are playing too much with "Budweiser" and "Heiniken"........!!!

matin's picture

History of Communist states

History of Communist states

PR China, Cuba, Laos, North Korea, Vietnam

Formerly communist

Afghanistan,Albania,Angola
Benin,Bulgaria
Cambodia,Congo,Czechoslovakia
East Germany

Ethiopia,Mongolia,Mozambique,Poland,Romania,Somalia,South Yemen,Yugoslavia and
Soviet Union

http://en.wikipedia.org/wiki/Communist_state

the Soviet Union became the primary model for future communist nations during the Cold War; the government and the political organization of the country were defined by the only political party, the Communist Party of the Soviet Union.

কাজেই Soviet Union কমিউনিস্ট স্টেট হিসাবেই পরিচিত।

farmer's picture

matin: never existed a communist country on the Earth

matin, never existed a communist contry on our planet.
WD is not a professor; he received his education in Russia or former USSR, I heard in e-mela. May be, he can understand the diff. between communism & socialism.

Betrayed's picture

Farmer: Uh Brain washed by Russians..........!!!

Farmer:

we don't need to hear some crap from a person like Watch_Dog whos brain was washed by USSR. I have tons of freiends, they studied Engineering, medicine, did their Ph.D from USSR, and we consider them screwed up by Russian system. our Watch_Dog is one of them.

farmer's picture

Betrayed, you are in the same boat with Nirvik2008

Socialism & communism are different in a big way; The former USSR ( commonly known as Russia, but not same) was a socialist country. Talk to a political science professor.
May be WD can help you.

Betrayed's picture

Farmer : Need more Budweiser........??? uh, pot is better.....

All former communist countries:

Afghanistan (1978 - 1992)
Albania (1946 - 1991)
Angola (1975 - 1992)
Benin (1975 - 1990)
Bulgaria (1946 - 1990)
Congo (1970 - 1992)
Czechoslovakia (1948 - 1990)
Ethiopia (1987 - 1991)
Finland (1939 - 1940)
East Germany (1949 - 1990)
Greece (1947 - 1949)
Grenada (1979 - 1983)
Hungary (1919, 1949 - 1989)
Cambodia (1975 - 1993)
Mongolia (1924 - 1992)
Mozambique (1975 - 1990)
Poland (1945 - 1989)
Romania (1947 - 1989)
Somalia (1970 - 1991)
Soviet Union (1922 - 1991)
Tannu Tuva (1921 - 1944)
North Vietnam (1945 - 1976)
Yemen (1967 - 1990)
Yugoslavia (1943 - 1992)

http://en.wikipedia.org/wiki/Communist_state

Klanta Pothik's picture

Eto Cowdong your Head A

Russian educated..........Austrilan migrant............USA tey Hizratkari.......Tomar Head A eto buddi............monay monay........nizeykey arek AGChod bhavo naki?

How long you will keep changing your color? ...........Stop vomiting here.......

SalimC's picture

গণতন্ত্রকে হত্যা করে জাতির উপর বাকশালী একনায়কত্ব চাপিয়ে দেয়

WD সাহেব না জেনে না বুঝে অহেতুক বকিতেছেন|ইদানিং ই-মেলায় জাতীয়তাবাদীর সংখা বেড়ে যাওয়ায় মজা আসছিলনা।যাক WD সাহেব আসল ছেহারায় ফিরে আসায় বেশ খুশীই হলাম।নিরেপেক্ষতার মুখোসটা ত খষেই পড়িল।এতদিন বুঝতেই পাছিলামনা দাদাবাবু কোন কাননের ফুল?না বুঝে অচমকা ideology change করলেন নাকি?

বাকসাল নিয়ে সামাননো আলোকপাত করিব,পরে আরো বিস্তারিত।মুজিব নিজে কি জানতো কি তার ideology ? ৩০ বছর ডান রাজনিতি করার পর ১৯৭৫ এ অচমকা বাকশাল করে বাম রাজনিতিবিদ বনে গেলেন ! না বুঝে অচমকা ideology change করলে সেসব রাজনিতিবিদদের পরিনতি বোধহয় এমনি হয় ! লেখাপড়া কম থাকলে চামচারা নেতাকে সহজে ভুল পথে নিতে পারে মুজিব এর live example.

সর্বশেষে শেখ মুজিব তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য গণতন্ত্রকে হত্যা করে জাতির উপর বাকশালী একনায়কত্ব চাপিয়ে দেয়।বাংলাদেশে কৃষক-শ্রমিক-আওয়ামী লীগের (বাকশাল) একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বীজ নিহিত ছিল ১৯৭২ সালের ৭ই মার্চ রক্ষীবাহিনী আদেশ জারি করার মধ্যে।

জাতীয় রক্ষী বাহিনীকে বিনা ওয়ারেন্টে ধরপাকড় এবং তল্লাশীর ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল ঐ আদেশের মাধ্যমে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির মুখে ২৪শে ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে প্রেসিডেন্ট জাষ্টিস আবু সাইদ চৌধুরীকে বিদায় নিতে হয়। ১৪ই জানুয়ারী ১৯৭৪ সংসদ অধিবেশন বসে। আব্দুল মালেক উকিলকে স্পীকার হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। ২৪শে জানুয়ারী ১৯৭৪ ‘হ্যা’ ভোটের মাধ্যমে জাতীয় রক্ষীবাহিনী আইন পাশ করা হয়।

১৩রা জানুয়ারী ১৯৭৫ সারাদেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়। একই দিন বিশেষ ক্ষমতা অর্ডিন্যান্স জারি করা হয় এবং সংবিধানের কতিপয় ধারা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ৬ই জানুয়ারী ’৭৫ এক ঘোষণায় বলা হয় যে, সরকারি কর্মচারীরা সমবায় সমিতি ছাড়া অন্য কোন সংগঠনের সদস্য হতে পারবে না। এছাড়া ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দেয়ালের সব পোষ্টার মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর ২০শে জানুয়ারী বসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংগঠিত সেই কলঙ্কিত অধিবেশন। ২৫শে জানুয়ারী সংসদে কোন রকমের বির্তক ছাড়া গণতন্ত্রকে পুরোপুরি সমাহিত করে পাশ করানো হয় চতুর্থ সংশোধনী। মাত্র এক বেলার সেই অধিবেশনে স্পীকার ছিলেন জনাব আব্দুল মালেক উকিল।

চতুর্থ সংশোধনীতে বলা হয় যে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সব মন্ত্রী নিয়োগ করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা সংসদ সদস্য না হলে ভোট দিতে পারবেন না। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী সংসদ সদস্য হবেন তেমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। মন্ত্রী পরিষদ রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন, তবে রাষ্ট্রপতি তা কার্যকর করলেন কি করলেন না সে সংক্রান্ত ব্যাপারে আদালতে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না। ঐ অধিবেশনে ‘জরুরী ক্ষমতা বিল’ কোন আলোচনা ছাড়াই আইনে পরিণত হয়ে যায়। ২৫শে জানুয়ারী দুপুর ১:১৫ মিনিটে এক সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে জারিকৃত চতুর্থ সংশোধনীতে বলা হয়, “এই আইন প্রণয়নের পূর্বে যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থাকবেন না এবং রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে। শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হবেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করবেন। এই আইন প্রবর্তনের ফলে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকবেন এমনিভাবে যেন তিনি এই আইনের দ্বারা সংশোধিত সংবিধানের অধিনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে একজন রাষ্ট্রপতি ও একজন উপ-রাষ্ট্রপতি থাকবেন। রাষ্ট্রপতি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। কার্যকালের মেয়াদ পাঁচ বছর। প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকবে। তিনি প্রত্যক্ষভাবে অথবা তার অধিনস্থ কর্মচারীর মাধ্যমে যে ক্ষমতা নির্ধারণ করবেন উপ-রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতিকে তার দায়িত্ব পালনে সাহায্য ও পরামর্শ দানের জন্য একটি মন্ত্রী পরিষদ থাকবে। রাষ্ট্রপতি তার বিবেচনায় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে কিংবা সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য এরূপ ব্যক্তিদের মধ্য হতে একজন প্রধানমন্ত্রী ও আবশ্যক মনে করলে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারবেন। প্রত্যেক মন্ত্রী সংসদে বক্তৃতা করতে এবং কার্যাবলীতে অংশ নিতে পারবেন তবে তিনি যদি সংসদ সদস্য না হন তাহলে ভোট দান করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীপরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করবেন অথবা তার নির্দেশে উপ-রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী ঐ সভায় সভাপতিত্ব করতে পারবেন। মন্ত্রীগণ রাষ্ট্রপতির ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। সংশোধিত সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে দেশে শুধু একটি মাত্র রাজনৈতিক দল গঠন করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, যা জাতীয় দল নামে অভিহিত হবে। সংশোধনীতে কার্যভারকালে তার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাবে না এবং তার গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হতে পরোয়ানা জারি করা যাবে না।” জাতীয় দলের ঘোষণায় বলা হয়, “কোন ব্যক্তি জাতীয় দল ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দল গঠন কিংবা ভিন্ন ধারার কোন রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।”

ঐ সংশোধনীর পক্ষে ২৯৪ জন সাংসদ ভোট দেন। কেউ বিরোধিতা করেননি। সংসদের ২ঘন্টা ৫মিনিট স্থায়ী ঐ অধিবেশনে স্পীকার ছিলেন আব্দুল মালেক উকিল। বিলের বিরোধিতা করে তিনজন বিরোধী ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য ওয়াক আউট করেন। এরা হলেন জাসদের আবদুল্লাহ সরকার, আব্দুস সাত্তার ময়নুদ্দিন আহমেদ ও স্বতন্ত্র সাংসদ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। আতাউর রহমান খান আগেই সংসদ অধিবেশন থেকে বেরিয়ে আসেন। বিলটি উত্থাপন করা হলে আওয়ামী লীগের দলীয় চীফ হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখার প্রেক্ষিতে কোন প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ না দেবার আহ্বান জানান। এই পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয় লীগের জনাব আতাউর রহমান খান বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করে আলোচনার সুযোগ দানের জন্য স্পীকার জনাব মালেক উকিলকে অনুরোধ করেন। কিন্তু স্পীকার তা নাকচ করে দেন। পরে কন্ঠভোটে চীফ হুইপের প্রস্তাব গৃহিত হয়। তারপর আইনমন্ত্রী মনরঞ্জন ধর সংসদে ‘জরুরী ক্ষমতা বিল ১৯৭৫’ পেশ করেন। চীফ হুইপ এ ক্ষেত্রেও মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ বিধি প্রয়োগ না করার আবেদন জানালে বিষয়টি কন্ঠভোটে পাশ হয়। এখানে একটি বিষয় বিশেষ প্রানিধানযোগ্য। যদিও বিলটি সংসদে বিনা বাধায় পাশ হয়; তবে গণতন্ত্রের বিকল্প একনায়কত্বের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের মধ্যেও দ্বিমত পরিলক্ষিত হয়।

২৪শে ফেব্রুয়ারী ’৭৫ রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান এক আদেশবলে দেশে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক-আওয়ামী লীগ’ বা ‘বাকশাল’ গঠন করেন এবং নিজেকে দলীয় চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। ঘোষণার ৩নং আদেশে বলা হয়, “রাষ্ট্রপতি অন্য কোন নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অবলুপ্ত আওয়ামী লীগের দলীয় সকল সদস্য, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী সবাই ‘বাংলাদেশ-কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের’ সদস্য বলে গন্য হবেন।”

এ আদেশ অমান্য করে বাকশালে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বঙ্গবীর জনাব ওসমানী ও ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন তাদের সাংসদ পদে ইস্তফা দেন।

শঙ্খচিল's picture

বেশ ইন্টারেস্টিং দুটো রাজনৈতিক কেরেক্টারঃ

সেলিম সি সাহেবের পোস্ট থেকে উদ্ধৃত "বিলটি উত্থাপন করা হলে আওয়ামী লীগের দলীয় চীফ হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখার প্রেক্ষিতে কোন প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ না দেবার আহ্বান জানান। এই পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয় লীগের জনাব আতাউর রহমান খান বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করে আলোচনার সুযোগ দানের জন্য স্পীকার জনাব মালেক উকিলকে অনুরোধ করেন। কিন্তু স্পীকার তা নাকচ করে দেন। পরে কন্ঠভোটে চীফ হুইপের প্রস্তাব গৃহিত হয়।

TIGER71's picture

বাকশাল-একটি রাজনৈতিক দর্শন

বাকশাল একটি রাজনৈতিক দলের একটি রাজনৈতিক দর্শন। যে কোন রাজনৈতিক দলের মূখ্য সিদ্ধান্ত গ্রহনে সমসাময়িক সময়ের এবং অভ্যন্তরিন নানান বিষয়কে সামনে রেখে গ্রহন করা হয়। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই সব সিদ্ধান্ত কখনো প্রশংসিত হয় আবার নিন্দনিয়ও হয়। বাকশাল এমনি একটি সিদ্ধান্ত। ভাল খারাপ নিয়ে কথা হতেই পারে।

কিন্তু সেই আলোচনায় অহেতুক এবং মিথ্যার মিশেল করে কোন বক্তব্য বাঞ্ছনিয় নয়।

৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে চার মূল নীতির একটি ধরেই নির্বাচন করে। একই সাথে বাহাত্তরের পরে পশ্চিমা দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ গুলোর বিরোধিতা বাংলাদেশেকে বাধ্য করেছিল সমাজতান্তিক সমাজ ব্যবস্থায় ঝুকে পড়তে। তার উপর স্বাধীনতা যুদ্ধে সমাজতান্তিক দেশ গুলোর সাহায্য-সহযোগিতা এবং সেই সময়ে সমাজতন্তের প্রতি অনুন্নত দেশ গুলোর আকর্সন এড়ানো বাংলাদেশের পক্ষেে সম্ভব ছিল না। তদুপরি পাকিস্তান কর্তৃক ছেড়ে যাওয়া প্রছুর অস্ত্র এবং ট্রেনিং প্রাপ্ত রাজাকারদের বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজ-কারবার সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য ছিল একটি বিরাট সমস্যা। বাকশাল আলোচনায় এইসব কথা আসতে হবে।

বাহাত্তরের পরে বিভিন্ন দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েই কথা হতে পারে। শুধু বাকশাল কেন, জিয়ার তথাকথিত বহুদলীয় গনতন্ত্রের নামে ৭৮ সালে যখন বাংলাদেশের ্রাজনৈতিক দলগুলোকে বাধ্য করা হলো সাথে ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন সংযুক্ত করার, সেই কথা কেন আলোছিত হবে না? এই সিদ্ধান্তের ফসল কি আমরা আজ পাচ্ছি না? রাজনৈতিক দূষনের এটাই কি মূল কারন নয়? কেন আজ ছাত্র, শ্রমিক আর কৃষকরা রাজনীতিতে এত সম্পৃক্ত? দেশের জনগন কি সেদিন ছাত্র, শ্রমিক আর কৃষককে রাজনৈতিক দলের সাথে যোগ দিতে বাধ্য করতে জিয়াওর রহমানকে ক্ষমতা দিয়েছিল?

শঙ্খচিল's picture

১৯৭১-১৯৭৫ সালের আওয়ামি বিরোধি রাজনীতির দর্শন

বাকশাল শব্দটি মুজবের আওয়ামি লীগের উদ্ভাবন হলেও কন্সেপ্টি তার নয়। এর মধ্যেই পোস্ট হয়েছে, ১৯৭৫ এর আগে পরে একি কায়দায় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেশ কয়েকটি দেশের শাসনকালের কথা, যার মধ্যে চীন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন দুটো পরাশক্তি ছিল।
১৯৭১-১৯৭৫ সাল নাগাদ, মুজিব সরকারের, রাজনৈতিক বিরোধিকারি দলের মধ্যে প্রকাশ্যে ছিল জাসদ এবং আন্ডার গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বিপ্লব রত ছিল প্রথমত সর্বহারা পার্টি, পরে জাসদের গনবাহিনি। জাসদ প্রথম থেকেই "বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের" শ্লোগানে, মুজিবের আওয়ামি লীগকে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দল নয় বলে বিরোধিতা করে। সমাজতান্ত্রিক ধারায়, গনতন্ত্রের কেন্দ্রিকিকরন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসি এই দু পক্ষের (জাসদ-সর্বাহারা) বিপ্লবিরা মুজিব বিরোধিতার নামে বুর্জুয়া বহুদলয় গন্তন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছিলেন না। (সেদিন আজকের "বহুদলীয়রা" কথায় ছিলেন তা গবেষনার বিষয় বটে।)
জাসদের আদি নেতারা প্রথমে মুজিবের নেতৃত্বে একটা জাতীয় সরকার গঠনের আহবান জানায়। যেটি মুলত প্রোলেতিরায়েত ডিক্টেরশিপ বা সোজা ভাষায়, একদললীয় শাসনে নিজেদের একটা ভাগ-বাটোয়ারা কন্সেপ্ট। মুজিব রাজী না হয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে অটল থাকে(কারন সংসদে তার ২৯৪ এম্পি)। জাসদ মুজিব আর আওয়ামি লীগের মোহ ত্যাগ করে, "সর্বহারার একনায়কতন্ত্র" কায়েমে সংগ্রামরত হয়। প্রতিপক্ষ "মুজিবের পেটি-বুর্জুয়া" কিন্তু "সমাজতান্ত্রের লেবাস" ধারি দলের বিরুদ্ধে। সিরাজ শিকদারের মাও ধারায় "শ্রেনী শত্রু খতমের" বিপ্লবের লক্ষ্য বা ফলাফল কি হয় কোম্বোডিয়ার পলপট শাসনামলকে এবং দিনে রাত্রে সিরাজ শিকদারের, জবাই করে জোতদার হত্যার মাতমকে থেকেই ধারনা করা যেতে পারে।(নোটঃ আমি সিরাজ শিকদারেকে বিনা বিচারে ক্রস-ফায়ার করার দায় থেকে মুজিবকে মুক্তি দেই না)। মোদ্দা কথা বাকশালের প্রেক্ষিতে, ১৯৭১-১৯৭৫ এ, যারা বিরোধ রাজনীতি করছিলেন, তারা আরো কঠিন "একদলীয় সমাজতান্ত্রিক শাসনের" "প্রকৃত যোদ্ধা" হিসাবেই সংগ্রাম রত ছিলেন। তারা কেউ, আজকের পুজিবাদি বুর্জুয়া গনত্নত্রের পুজারি ছিলেন না। এর থেকেই প্রমান হয়, সেদিন তৃতীয় বিশ্বের বিপ্লবের জ্বরে, আমাদের দেশেও "সমাজতন্ত্রাতিক বাংলাদেশের জন্যই" মোটামোটি সবার লক্ষ্য স্থির ছিল। কি ভাবে আসবে, কে আনবে, কে নেতৃত্ব দেবে, সেটা নিয়েই মারামারি হানাহানি। (যেমন এক কোরান, এক রসুল আর এক আল্লাহর দেয়া আসমানি পথ নিয়েও বিবাদি হাজার ইসলামি দল। নাস্তানাবুদ বস্তুবাদিদের বিরোধ ত আরো বেশি হবেই)। সেদিন, আজকের বহুদলীয়রা কিন্ত্য মুজিবের বিরুদ্ধে টু-শব্দ করেন নাই (শাহ মোয়াজ্জেম বা মালেক উকিল এর আগের পোস্টটি দ্রষটব্য), অনেকাংশে, তার ছায়াতলে আসা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করতেই ব্যস্ত ছিল। সেদিন, তাকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করছে সমাজতন্ত্রিরাই। একেই বলে লাল পতাকা দিয়ে লালা পতাকা ঠেকানোর স্ট্রেটেজি। (চলবে)

matin's picture

বাকশাল- কোন রাজনৈতিক দর্শনের নাম নয়

বাকশাল-এর উদ্দেশ্য ছিলো দেশে মুজিবের রাজতন্ত্র চালানো। ফলে ১৫ আগস্টে বাকশালের কবর হয়েছে।

মুজিব গনতন্ত্রকে হত্যা করে যে বাকশাল গঠন করেছিলেন তা এখন মৃত। লাল কাপড় জড়িয়ে মাজার পুজা করা ছাড়া আর কোন গতি নেই, মুজিবের বংশধরদের। মুজিব বংশধরদের একনায়কত্ব যারা মেনে নিয়েছে সেই সব ফ্যাসিস্টারাই হলো আজকের আওয়ামী লীগ, সমাজের দুর্গন্ধ আর মিথ্যার উৎস।

বাকশাল নিযে যেসব ওয়াচডগেরা কান্না কাটি করছে এদের বয়স ৫০ অতিক্রম করে গিয়েছে। বিশ্বের তরুন অংশটি এখন বহু দলীয় আদর্শের গনতন্ত্রে বিশ্বাসী, একদলীয় বাকশাল বিশ্বে এখন অচল।

farmer's picture

matin: talked to Mujib, he is starting BKSAL again

Yesterday, I met Mujib; he is planning to reintroduce BKSAL again. He is not happy what Hasina doing.
Mujib thinks only BKSAL can solve our national problems like over population, unemployment, begging habit, dishonesty, illitericy, housing, innovation in tech.
He mentioned that those who will oppose BKSAL, for them he will introduce BAMBOO-SAL.
You would like to join?

matin's picture

farmer এর বাম্বুতন্ত্র

ফারমার,
ডাব পাকলে নারিকেল হয়
আর
আওয়ামী পাকলে বাকশাল হয়।

বাকশাল ঘৃন্য দুষিত আবর্জনা। উহা ডাস্টবিন আর ফারমারের বাসায় শোভা পায়।

cool down farmar. আপনার নেত্রী হাসিনা বহুবার মুজিবের সোনার বাংলার স্বপ্নের কথা উচ্চারন করেছে, কিন্তু আবারো বাকশাল গঠন করবো এমন কথা উচ্চারন করার মত সাহস হাসিনার নেই। কারন বাকশাল হলো বর্জ্য তরল পদার্থ। যা আপনারা এখনও পান করতে চান।

farmer's picture

matin: Sheikh died, BKSAL died, why making noise?

matin: Sheik died, BKSAL died, why spending so much time on that?
See, Nirvik2008 does not understand diff. between socialist country & communist country; but contineously writing about those things & BKSAl.
Sheikh died, Zia died; they did not leave anything to follow; why to spend so much time arguing on them?
I saw you drank liquid BKSAL & lost your mind, I do not want it.

hridoy's picture

সেলিমছিঃ ছিঃ ভাই, এইতো বেশ বুঝেছেন.............

"লেখাপড়া কম থাকলে চামচারা নেতাকে সহজে ভুল পথে নিতে পারে মুজিব এর live example."'==== এইতো বেশ বুঝেছেন। এবার আরেকটু হেঁটে খালেদা আর তার পুত্রধনদের দেউড়ি পর্যন্ত চলে আসুন। তা'হলেই বুঝতে পারবেন লেখাপড়ার গুণ, আর কেন বাংলাদেশ আজ এই অবস্হায়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছিনতাইকারী আপনাদের প্রেসিডেন্ট জিয়াও ছিলেন HSC পাস মাত্র। এই পরিবারটাই এরকম হি হি মার্কা শিক্ষিত পরিবার। SSC পরীক্ষায় আপনার নেত্রী ১০ বিষয়ের মধ্যে মাত্র ৩টিতে টানিয়া টুনিয়া পাস। তারেক মিয়া কোনভাবে SSC আর HSC পাস। আর কুকু মিয়া ফেল করায় বিদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজির স্হাপন করিয়াছে। আর আমাদের দেশের একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পাকি আই এস আই এর সহায়তায় এদের হাতেই ন্যাস্ত করিয়াছে দেশের শাসনভার, যাতে নিজেরা আচ্ছামত লুটেপুচে খেতে পারে। পরিনামে আজ এ পরিবারটি নিজেরাও অধোঃগতিতে, আর দেশটাকেও নিয়েছে এরকম অধোঃগতিতে................
একমাত্র খালেদা আর তারেকরাই পারে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যুহ রচনা করে ভোট কারচুপি করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে। যদি বিদ্যাবুদ্বির জোর থাকত তা'হলে চৌর্যবৃত্তির এমন দুবুর্দ্বি মাথায় ঢুকত না।

সবাই ভাল থাকুন,
সুস্হ থাকুন,
সুন্দর থাকুন-
-হৃদয়

WatchDog_bd's picture

যাহা ৬ তাহাই ৯! - WatchDog

বাংলায় একটা কথা আছে, কানা গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভাল। তথাকথিত বহুদলীয় গনতন্ত্র বাংলাদেশের জন্যে কতটা সূফল বয়ে এনেছে তার র্নিলজ্জ প্রমান আজকের অসূস্থ রাজনীতি। এমন রাজনীতির ঘরে ঘরে জন্ম নিচ্ছে চোর, বাটপার আর টাউটের দল। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নামেই রয়েছে ১৪টা চাদাবাজীর মামলা, আর ভুবন খ্যাত আপোষহীনার শরীরে প্রবাহিত আপোষহীন রক্তে সাতার কেটে বেড়ে উঠেছে তারেক ককোর মত নর্দমার আবর্জনা। সূস্থ রাজনীতির কোন সংজ্ঞায়ই বাংলাদেশের গনতন্ত্রকে বহুদলীয় গনতন্ত্র বলা যায় না, এ হচ্ছে পরিবারতন্ত্রের স্বৈরশাষন, যা বাংলাদেশের মালিকানা রাজতন্ত্রের মত রাজার পর রাজপুত্র, রাজপুত্রের পর উত্তরাধীকার সূত্রে দাবিদার আরও এক রাজপুত্র অথবা রাজপুত্রানীর হাতে ন্যস্ত হওয়ার চীরস্থায়ী বন্দোবস্ত। রাজতন্ত্রের সাথে একটাই পার্থক্য, আর তা হচ্ছে সিংহাসনের দাবীদার রাজা, রানী আর রাজপুত্রের সংখ্যা এখানে একাধিক। কিছুদিন আগে সমাপ্ত হওয়া আওয়ামী লীগের তথাকথিত কাউন্সিল প্রমান করেছে গনতান্ত্রিক চর্চা হতে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো কত শত মাইল দূরে। নেত্রীর মোসাহেবীর নগ্ন প্রদর্শনীর অপর নাম যদি দলীয় কাউন্সিল হয়, এমন কাউন্সিল গনতন্ত্রের নামে ঠাট্টা তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। যারাই জরুরী আমলে নেত্রীর নেত্রীত্ব নিয়ে সামান্যতম প্রশ্ন তুলেছিল তাদের রাজনৈতিক জানাজা পড়ানো হয়েছে কাউন্সিলের মাধ্যমে। ধিক এমন গনতন্ত্রে! জাতিয়তাবাদী ধান্ধাবাজীর পতাকা তলে জমা হওয়া রাজনৈতিক লুটেরাদের অন্য দল বিএনপির অবস্থা আরও তথৈবচ। এ দলের পরতে পরতে র্দুনীতির পচনশীল গন্ধ যার ধারক বাহক হতে ইতিমধ্যে তৈরী হয়ে গেছে 'মহান' এক রাজপূত্র, তারেক জিয়া। আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই এই রাজপুত্র যেদিন রাজার আসন হতে বিদায় নেবে তার সিংহাসনের দাবী নিয়ে এগিয়ে আসবে নতুন এক রাজকন্যা, জামাইমা জিয়া। এর নাম বহুদলীয় গনতন্ত্র? থু থু ফেলি এমন গনতন্ত্রে!

অনেকেই ১৫ই আগষ্টের নৃশংসতম হত্যাকান্ডকে বলশেভিক বিপ্লবের সাথে তুলনা করে জৈবিক আনন্দ নেয়ার চেষ্টা করছেন। জ্ঞানের এমন ভান্ডার নিয়ে যারা রাজনৈতিক তর্ক করতে চান তাদের অনুরোধ করব এ লাইনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। সেনাছাউনির লোভি কুকুরদের রক্ত পিপাসার নাম বিপ্লব হতে পারে না, এ নিছকই লোভ লালসা বাস্তবায়নে একদল নরপিচাশের ভয়াবহ নির্মমতা। জেনারেল জিয়া, জেনারেল শফিউল্লাহ, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ, কর্নেল তাহের, শাফায়েত জামিল, এই চক্ত্রের সবাই সম্মিলিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত বন্যা বইয়ে দেয় ৩২নং রাস্তায়, যা পরবর্তীতে রুপ নেয় হালুয়ার বখড়া নিয়ে নিজদের ভেতর কামড়া কামড়িতে। এর নাম বিপ্লব? তাও আবার বলশেভিক বিপ্লব! ধিক এমন জ্ঞানে!

আওয়ামী লীগের বাকশাল বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে যেত তা বিচার করার সূযোগ আসেনি, এর আগেই এ ধারনার কবর হয়ে যায়। বাকশালের মত একদলীয় শাষন ঐ সময়টায় পৃথিবীতে নতুন কোন আবিস্কার ছিলনা, সমাজতান্ত্রিক জোটই তার ছিল তার জ্বলন্ত প্রমান। মধ্যপ্রাচ্যের রাজা বাদশাদের রাজত্ব কি বাকশাল রাজত্ব হতে খুব বেশী দূরের রাজত্ব ছিল? বাংলাদেশ কোন কালেই বহুদলীয় গনতন্ত্রের জন্যে তৈরী ছিলনা, এর জন্ম লগ্ন হতেই ব্যক্তিতন্ত্রের হাতে গনতন্ত্রের সমাধী হয়েছে। আজও সে ধারা অব্যাহত রয়েছে।

এক কাপ চা আর একটা আকিজ বিড়ি দিয়ে যতদিন ভোটের রাজনীতি ক্রয় করা যাবে ততদিন বহুদলীয় রাজনীতির আসল অর্থ হবে ভাওতাবাজী, যা এক অর্থে বাকশালের চেয়েও নিকৃষ্ট। বাংলাদেশে এমন এক ভাওতাবাজীকেই লালন পালন করছে রাজনৈতিক দলগুলো, যার সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করছে প্রচার মাধ্যম, বুদ্বিজীবি নামের পরজীবি দল, ছাত্র, শিক্ষক সহ কথিত আমজনতা।

প্রশ্ন হচ্ছে, আজকের বাংলাদেশ চরিত্রহীনতার যে উচ্চতায় অবস্থান করছে বাকশাল কায়েম কি সে উচ্চতা হতেও অধিক উচ্চতায় নিয়ে যেত? হয়ত নিয়ে যেত, কিন্তূ এমন শাষন ব্যবস্থা সমাজে জিয়া-এরশাদ-খালেদা-হাসিনা মত কসাই-চরিত্রহীন-চাদাবাজ রাজনীতিবিদ এবং তারেক,ককো, মামুনদের মত রাষ্ট্রীয় লুটেরাদের জন্ম দিত কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে!

উপরের লেখাটার মূল উদ্দেশ্য বাকশালতন্ত্রের স্তূতি গাওয়া ছিলনা, বরং এ ছিল তৎকালিন বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার সাথে বাকশালী ব্যবস্থার একটা বাস্তব তুলনা।

বাকশালের বাস্তবতা

বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র এবং বাকশাল এক না। সমাজতন্ত্র হল এক রাজনৈতিক দর্শন। অন্যদিকে বাকশাল হল এক মুজিবতন্ত্র যার মাধ্যমে মুজিব সাহেব রাজা হতে চেয়েছিলেন এ দেশের। সমাজতন্ত্র শীতল যুদ্ধের সম্য় মুখ থুবরে পরেছে। যদিও প্রাশ্চাত্ত্যের দেশগুলো পুজিবাদ পূজিবাদ করে চিল্লা চিল্লি করে তারা আসল সম্পুর্ন পুজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা অনুসরন করে না। তারা বাস্তবতার ভিত্তিতে সমাজ ব্যবস্তাকে পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করে। এটাই আমাদের দেশে কাম্য। কোণ একটি সমাজ ব্যবস্তা নয়। আমাদের বস্তবতার ভিত্তিতে এক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্টা করা উচিত।

Nirvik2008's picture

SelimC, Please don't be rough on WatchDog_bd

WatchDog_bd spend most of his young age in communist Russia. Where he enjoyed everything a young man could have. Then he moved to USA. Unfortunately, he still can not forget the golden days(?) of communist Russia. He has witnessed a tremendous progress Russia made during one party communist rule. He wants to convey the message that Bangladesh is unfortunate enough to loose the golden opportunity as Russia due to premature demise of BAKSAL. He meant to say BAKSAL was never given the opportunity to turn Bangladesg into USA or Canadam,, Opps !! I meant to say Russia or Cuba. SelimC, please don't misunderstand WatchDog_bd. He is speaking from his heart now.

raihankhan's picture

Nirvik2008 ভাই, রাশিয়া আবার কি দোষ করলো?

রাশিয়াতে পড়াশুনা করলেই যে 'মগজ ধোলাই' হয় না,তা কি ভাই আমার posting গুলো দেখলে বুঝা যায় না? USSR-এর "Golden days" সহ অনেক days এর প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষ স্বাক্ষী এ বান্দা পৃথিবীর বহু দেশে long term এবং short term থেকেছে কিন্তু কোথাও আমাকে 'বাংলাদেশী জাতী্যতাবাদ' থেকে মুক্ত করতে পারে নি।
সবকথার শেষ কথা, ভৌগলিক পরিবেশ কখনো মানুষের শৈশবে প্রাপ্ত আচার-আচারন,মনস্তাত্তিক ধ্যন-ধারনার মুল চেতনাকে বদলাতে পারে না বিবর্তনে কিছুটা পরিবর্তিত হয় শুধু......

“ If I could be useful to another human being, even for a day, that would be a great thing. It would be greater than all the big thoughts I could have at the university. ” ~ Dr. Muhammad Yunus

farmer's picture

raihanKhan: Question

raihanKhan, looks like, you had been in Russia or in former USSR; was the USSR a communist country?

raihankhan's picture

Farmer: Answer

Why u people lost your valuable time for a small wellknown question. Those who doesn't know the answer or pretending pl. refer them Wikipedia.
You don't have to ask me SPECIALY. Here is the link of your SPECIAL question:
http://en.wikipedia.org/wiki/Soviet_Union

“ If I could be useful to another human being, even for a day, that would be a great thing. It would be greater than all the big thoughts I could have at the university. ” ~ Dr. Muhammad Yunus

farmer's picture

raihanKhan: A link is not answer

Thousands of books were written on the Soviet Union, I can find the answer; I am asking you to anser the question, because you was there. So, the USSR was a communist country? Thanks