বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি শুক্রবারের দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় চোখ রাখলেই যে কমন শিরোনামগুলো তরকারিতে তেল ভাসার মত পত্রিকা পাঠকের চোখের সামনে ভেসে উঠে সেগুলো হচ্ছে 'ভোজ্য তেলের তেলেসমাতি বেড়েই চলছে'; 'প্রতি লিটারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ৪/৫টাকা'; ' লাগামহীন ভোজ্য তেল আর গ্যাস সংকটে গৃহিনীরা দিশেহারা'ইত্যাদি ইত্যাদি।অন্য সরকারগুলোর আমলে তেলের উর্দ্ধগতির মাঝেও মাঝে মাঝে ২/৩টাকা কমলেও ডিজিটাল আমলে প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে কিন্তু কোন সপ্তাহেই কমেনি।তাই প্রতি সপ্তাহের বাজার ধর নিয়ে সংবাদপত্র আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদের কমন দু'টি শব্দ ভোজ্যতেল। সংবাদপত্র আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গত কয়েক মাসে ভোজ্যতেল নিয়ে যত শিরোনাম হয়েছে অন্য কোন পন্য নিয়ে এত শিরোনাম হয়েছে কিনা এই অধমের জানা নেই।পাঠককূলের কারও জানা থাকলে আওয়াজ দিয়েন।প্রমিজ করছি আগামি সপ্তাহের ভিমরুলে আপনার আওয়াজিত পন্যটি নিয়েই ফিচার লিখব।
ভোজ্য তেলের তেলেসমাতিতে ডিজিটাল দেশ সেবকদের হর্তাকর্তা থেকে শুরু করে এলিট সমাজ,সুশীল (?)বুদ্ধিজীবিদের চর্বিযুক্ত মাখনের মত নরম শরীর যাপিত জীবনে দৌড়ের উপর না থাকলেও আমার মত আমজনতারা ঠিকই দৌড়ের উপর আছে।চরম গরমে পান করা পানি ঘাম দিয়ে বিসর্জন দিয়ে মাস শেষে ভাইয়া কয়েক লিটার তেল ভাবীর হাতে তুলে দিয়ে মিনমিন করে বলে ,'তরকারিতে তেল একটু কম দিও '। ভাইয়ার কথায় সায় দিয়ে কিচেনে গিয়ে ভাবী কাজের বুয়ার হাতে তেল ধরিয়ে দিয়ে ভাইয়ার মতই নরম সুরে বলবে,'তরকারিতে তেল একটু কম দিয়ে ভাল করে রান্না করিও'। কাজের বুয়াও ভাবীর কথায় সায় দেয় ঠিকই কিন্তু মাসের মধ্যে ২৫দিনই দুপুর আর রাতে তেল ভাসা অর্ধেক সিদ্ধ অর্ধেক কাঁচা রান্না করা তরকারি কাজের বুয়া নিজেও গিলছে আমাদেরও গিলাচ্ছে।এত কষ্টের টাকা দিয়ে আনা তেল অর্ধেক সিদ্ধ অর্ধেক কাঁচা তরকারির সাথে না মিশে তরকারির উপর ভাসে কেন এমন প্রশ্ন করায় বুয়া রেগে গিয়ে ভাইয়াকে সেদিন বলল'ভাইজান,এত কষ্ট করি রান্ধি কোনহানে একটু তেল মাইরা কথা কইবেন তা না হত্যেকদিন (প্রত্যেকদিন) খালি এক কথা তরকারি সিদ্ধ হয় না ক্যান?তরকারীর উপর তেল ভাসে ক্যান?অর্ধেক রান্নার সময় গ্যাস না থাকলে আমি কি করুম?সিদ্ধ আর তেল না ভাসা তরকারি কি আমার শরীরে আগুন লাগায়া সে আগুনে রাইন্ধা খাওয়ামু? '
ভোজ্য তেলের তেলেসমাতির সাথে যুদ্ধ করে আমজনতা কিচেনে তেল আনতে পারলেও ডিজিটাল সরকার আর গ্যাস প্রতিষ্টানের হর্তাকর্তাদের তেল মেরে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের নিশ্চিয়তা পাওয়ার তেলেসমাতি জানেনা আমজনতা। হর্তকর্তারা কথার তেলেসমাতিতে মন্ত্রী/এমপিদের তেল মারতে ব্যস্ত আর আর মন্ত্রী/এমপিরা তেল মারতে ব্যস্ত তাদের ডিজিটাল নেত্রীকে।
তেল মারায় ব্যস্ত থেকেও যদি আমজনতার কথা একটু হলেও ভাবত তাহলে সিলেটে প্রতিদিন ১০লাখ টাকার গ্যাস পুড়ে বাতাসে মিলিয়ে যেতনা।চরম গ্যাস সংকটের এই সময়ে মাত্র ছোট্র একটি সিদ্ধান্তের অভাবে সিলেট গ্যাস ফিল্ডে প্রতিদিন ১০লাখ টাকার গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।গ্যাসের বাজারের সাথে মিল রেখে ৮৫০টাকা থেকে দাম কমিয়ে ৭৫০টাকা নির্ধারন না করতে পারার সরকারী ব্যর্থতার কারনেই ১লা জুন ২০০৯ পর্যন্ত প্রায় ১২কোটি টাকার গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। গ্যাসের অভাবে আমজনতার তেলে ভাসা অর্ধেক সিদ্ধ অর্ধেক কাঁচা তেলে ভাসা তরকারি খাচ্ছে আর ডিজিটাল সেবকরা সবকিছুতেই বিরোধীদল আর জঙ্গি খুজে ডিজিটাল নেত্রী আর তাদের বিদেশী দাদাদের তেল মেরে খুশি রাখতে ব্যস্ত। ডিজিটাল দেশ পাওয়ার স্বপ্নে মাতাল হয়ে ভোট দেওয়ার অপরাধে ইদানিং কাউকে মন থেকে প্রশংসা করলেই শুনতে হচ্ছে ,আমি নাকি ডিজিটাল সেবকদের কাছ থেকে তেল মারা ভালই শিখেছি।
এই সেই গ্যাস যার জন্য হরতাল ঢেকেছে আর সেই হরতালের যৌক্তিকতা নিয়ে ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্ন উঠাচ্ছে আমাদের বিবেক !!!! হায় সেলুকাস কি বিচিএ এই দেশ কি বিচিত্র আমাদের এই বিবেক !!!!!!!!
আমারদেশ পত্রিকা থেকে নেওয়া
Bibek Babur Katha bolcen............
oh! acca oi bibek babu to ekhaon gumiey acey..............o jagroto hobey if/incase BNP comes again in the power..........
10 takar CHAL............5 takar Kacha Morich...........Bina poiser Sar...........Ekjon korey chakri proti poribar dakhey......osob to part of AL vondami.
Afsos amjanata ekhono gumaitechey........nakey Farakkar pani dia........Oil to ekhon expensive tai dadader pani-e ekhon vorosa.
ট্রানজিট প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনমনে বিস্ময় ও আতঙ্ক
-ভারতের সাথে সম্পর্কের মধুচন্দ্রিমা বনাম জাতীয় স্বার্থ
-ট্রানজিট প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনমনে বিস্ময় ও আতঙ্ক
-ভারত সফরের আগেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত?
: ভারতের সাথে নবপর্যায়ে বর্তমান সরকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘বিশেষ মাত্রা ও উচ্চতায়' নিয়ে যাবার লক্ষ্যে যে প্যাকেজ ডিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, তার পরিধি ও প্রকৃতি সম্পর্কে দেশবাসী পুরোপুরি অবহিত নন। সরকার এই প্যাকেজ ডিলের মধ্যে ভারতকে কোন্ কোন্ ইস্যুতে, কিভাবে, কতটা ছাড় দিতে যাচ্ছে তা নিয়েও রহস্যের বাতাবরণ তৈরি করে রাখা হয়েছে। ভারতের সাথে সম্পর্কের নববিন্যাস ও ভারতকে ট্রানজিট-করিডোর-সমুদ্রবন্দর-এশিয়ান হাইওয়ের সংযোগ-সুবিধা দেবার পর বাংলাদেশের নিজস্ব ভূখন্ডের ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণির চারদিনের ভারত সফর শেষ করে দেশে ফিরে না আসতেই জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ভারতকে তাদের নিজস্ব রুটম্যাপ অনুযায়ী এশিয়ান হাইওয়ের সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করার বিতর্কিত ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে কার্যত তার আসন্ন ভারত সফরের প্রয়োজনীয়তাকে অর্থহীন করে তুলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লীতে চারদিনের কর্মব্যস্ত সফরের মাধ্যমে দু'দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক প্যাকেজ চুক্তি এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ভারতের দাবি মিটিয়ে দেবার ব্যাপারে তাদের সরকারি পর্যায়ের আগ্রহের চেয়েও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী আরও বেশি আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেছেন।
ভারতের নীতিনির্ধারকরাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি বক্তব্যে নিশ্চয়ই বিস্মিত না হয়ে পারেননি। কেননা, মাত্র দু'দিন আগে, নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বলেছেন, ‘হাসিনা অস্বস্তিতে পড়েন, এটা ভারত চায় না।' কিন্তু বিতর্কিত এশিয়ান হাইওয়ের সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করার সূত্রে ভারতকে প্রকারান্তরে করিডোর দেবার আগাম ঘোষণা দিয়ে প্রধামন্ত্রী গোটা জাতিকে যেমন আতঙ্কিত করেছেন, তেমনি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার ওপরও বড়ধরনের ঝুঁকি নিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এশিয়ান হাইওয়ে এবং ভারতের অন্যান্য দাবি নিয়ে রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে যে সন্দেহ ও দ্বিধাগ্রস্ততা এবং যৌক্তিক আপত্তি রয়েছে, তা নিরসনের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেননি। উপরন্তু এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সভা, কার্যনির্বাহী কমিটি বা সংসদীয় কমিটিতেও কোন আলোচনা করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। অথচ একটি গণতান্ত্রিক দলীয় সরকার যখন কোন মৌলিক জাতীয় ইস্যু বা দ্বিপাক্ষিক স্পর্শকাতর ইস্যুতে বড়ধরনের কোন সিদ্ধান্ত নেয়, তার আগে দলের সাংগঠনিক ফোরাম এবং সংসদীয় কমিটিতেও চুলচেরা বিশ্লেষণ ও আলোচনা করে নেয়। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি দলীয় সভানেত্রী এবং সংসদেরও নেতা হিসেবে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, তা করেননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের প্রশ্ন, ভারতের সাথে বিতর্কিত ইস্যুগুলোতে ঢালাও ছাড় দেবার প্রশ্নে দলীয় ফোরাম বা সংসদে খোলামেলা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন কিনা, এ নিয়ে পর্যবেক্ষক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। দলীয় ফোরাম এবং জাতীয় সংসদে পুরো বিষয়টি উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী সব দলের সংসদ সদস্যদের উন্মুক্ত ও বিশদ আলোচনায় স্বচ্ছতার সাথেও সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন বলে তারা মনে করেন। বিরোধীদলকে আস্থায় না নেবার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতের সাথে সরকার নানা বিতর্কিত ইস্যুতে যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তা দিয়ে খোদ আওয়ামী লীগ-মহাজোটের সংসদ সদস্যদের মধ্যেই নানা প্রশ্ন ও রিজার্ভেশন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব ইস্যুতে বিরোধীদলের বিরোধিতা বাদ দিলেও তৃণমূল পর্যায় থেকে দেশপ্রেমিকদের মাঝে যে আতঙ্ক ও প্রতিবাদের নীরব গুঞ্জন শুরু হয়েছে, সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা তাও উপেক্ষা করতে পারছেন না। এ কারণে তারা প্রধানমন্ত্রীর মতো এসব বিষয়ে জনমত সংগঠনেও উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। সরকার দলীয় এমপি ও নেতাকর্মীদের মাঝেও ইনফরমেশন গ্যাপ থেকে কনফিডেন্স গ্যাপ তৈরি হয়েছে বলে ওয়াকিফহাল সূত্রে জানা গেছে। এদিকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীরাও সরকারের ভারত তোষণ নীতিতে উদ্বিগ্ন। অন্ধ দলবাজির বাইরে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের বুদ্ধিবৃত্তিক সমর্থকরাও ভারতের প্রতি সরকারের ভূমিকায় শঙ্কিত।
এদিকে আওয়ামী ঘরানার রাজনীতিক বুদ্ধিজীবীরা জাতীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ইস্যুতে দেশবাসীকে আশ্বাস্ত করার মতো উপযুক্ত যুক্তি-তথ্য-বিশ্লেষণ না পেয়ে তাদের নেতৃত্বে স্বাধীনতা আসার ইতিহাস অাঁকড়ে ধরে বলতে চাইছেন, যারা স্বাধীনতা এনেছে, তারা কীভাবে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে পারে? এর অন্য অর্থও হতে পারে। সার্বভৌমত্বের যে সার্বজনীন রাষ্ট্রনৈতিক সংজ্ঞা স্বীকৃত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার ভারতের ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটানোকে স্বাভাবিক বিষয় মনে করেন বলে মনে হচ্ছে। বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখন্ডগত নিরাপত্তা প্রশ্নে দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি অবস্থানের যে ব্যাপক অবক্ষয় ঘটেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর সংসদে প্রদত্ত বক্তব্যেই প্রতিফলিত হয়েছে। এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রানজিটের বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যারা ভেতরে ভেতরে দেশ বিক্রি করতে চায় এবং যারা স্বাধীনতাবিরোধী তারাই এ ধরনের শঙ্কায় ভোগে।' তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আমরা রক্ষা করতে জানি।' এশিয়ান হাইওয়ের পক্ষে যুক্তি টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এশিয়ান হাইওয়ে হলে এ দেশের জনগণের কর্মসংস্থান বাড়বে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে।' প্রধানমন্ত্রী তার অধঃস্তনদের মতোই জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূখন্ডগত সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বিবেচনায় রাখেননি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে জনগণ আরও অর্থপূর্ণ, প্রাসঙ্গিক ও যৌক্তিক বক্তব্য আশা করেন। এশিয়ান হাইওয়ের পক্ষে তিনি যে স্থূল ও বহুল উচ্চারিত যুক্তি দিয়েছেন, তা দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও তার তল্পিবাহী ভাড়াটে বিশেষজ্ঞ বুদ্ধিজীবীরা দিয়ে আসছেন। এসকাপের ওপর প্রভাব বিস্তার করে ভারত এশিয়ান হাইওয়ের রুটপ্ল্যান এমনভাবে নির্ধারণ করেছে, যা ঘুরিয়ে পেচিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে তাদের বহুল কাঙ্ক্ষিত করিডোরের বিকল্প হিসেবেই ব্যবহৃত হবে। এশিয়ান হাইওয়ের নামে দু'দিক থেকে বাংলাদেশে ঢুকে আবার ভারতকে সংযুক্ত করার এই রুটপ্ল্যান করিডোর প্রস্তাবের চেয়েও ভয়ঙ্কর ও আত্মঘাতী বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন। দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী এশিয়ান হাইওয়ের সুদূরপ্রসারী ব্যবহারিক পরিণতি অনুধাবন করতে চাননি। তবে প্রধানমন্ত্রী তার ভারত সফরের আগেই করিডোর এশিয়ান হাইওয়ের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছেন, তাতে করে তিনি নিজেই তার আসন্ন ভারত সফরকে একটা তাৎপর্যহীন আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত করেছেন। সরকার আনুষ্ঠানিক প্যাকেজ চুক্তির ক্ষেত্রে দরকষাকষির সুযোগও হাতছাড়া করলেন।
এশিয়ান হাইওয়ের পক্ষে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী অনুঘটক ও প্রচারণার দায়িত্ব গ্রহণ করে বলেছেন: ‘‘প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হতে না পারলে বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এটি হবে একটি আন্তর্জাতিক রুট। এ রুট হলে ভারতকে ট্রানজিট দেয়া হবে, ভারত সব নিয়ে যাবে, এটা ঠিক নয়। এশিয়ান হাইওয়েতে বাংলাদেশের অংশ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তাছাড়া আমাদের দেশপ্রেম এত ঠুনকো নয় যে, জুজুর ভয়ে আমরা দরজা বন্ধ করে রাখবো। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আমরা রক্ষা করতে জানি।’’ এশিয়ান হাইওয়ে করিডোরের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যৌক্তিক ও প্রাসঙ্গিকও নয়। স্বাধীনতা যদি সংকটে পড়ে, তবে তা কোন একটি দল বা মহল একা অতিক্রম করতে পারে না। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সকল মহলের সম্মিলিত প্রতিরোধ দরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী যেখানে তাদের দলীয় বৃত্তের বাইরের সকল মহলকে স্বাধীনতার প্রতিপক্ষ বানিয়ে নিজেরাই স্বাধীনতা রক্ষার দাবিদার হিসেবে পুরো মাঠ দখল করে রাখতে চাইছেন, তাতে স্বাধীনতার প্রকৃত রক্ষকদেরও তারা অস্বীকার করার নীতি গ্রহণ করেছেন বলে মনে হচ্ছে।
বিরোধী দলহীন সংসদে সরকার দলীয় একজন সদস্যের (সিলেট-৩) তারকা চিহ্নিত মূল প্রশ্ন এবং অপর দুই সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। যদিও ট্রানজিট-করিডোর এশিয়ান হাইওয়েসহ বেশ কতকগুলো বিরোধী দলীয় মুলতবি প্রস্তাব স্পীকার ঢালাওভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। এসব মুলতবি প্রস্তাব স্পীকার আলোচনার জন্য গ্রহণ করলে বিরোধী দল সংসদে যাবার নৈতিক দায় অনুভব করতো। কিন্তু স্পীকার বিরোধী দলকে সংসদে যোগ দিতে আহবান জানালেও বিরোধী দলের আনীত সবগুলো মুলতবি প্রস্তাব নাকচ করে বিরোধীদলের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। আবার একই ইস্যুতে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও সম্পূরক প্রশ্ন করার অনুমতি দিয়ে স্ববিরোধী ভূমিকা নিয়েছেন। তবে এশিয়ান হাইওয়ের মতো একটি বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে সংসদে দায়সারা আলোচনা ও প্রধানমন্ত্রীর একতরফা চূড়ান্ত বক্তব্য প্রদান সরকারের পূর্ব সিদ্ধান্তের বৈধতার আনুষ্ঠানিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও স্বচ্ছতা থাকলে, সংসদ নেতা হিসেবে তিনি নিজেই এসব স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত ইস্যুতে বিরোধী দলকে উন্মুক্ত আলোচনার আহবান জানাতে পারতেন। অথবা বিরোধী দলের আলোচনা-আপত্তি-প্রতিবাদ শোনার মতো মানসিকতাও প্রধানমন্ত্রীর আছে বলে মনে হচ্ছে না। এশিয়ান হাইওয়ে করিডোর ট্রানজিট ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী যেসব যুক্তি দিয়েছেন এবং এর বিরোধিতাকারীদের ‘তলে তলে দেশবিক্রিকারী' এবং ‘স্বাধীনতা বিরোধী' হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে ভারতের হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীও এশিয়ান হইওয়ে, করিডোর, সমুদ্র বন্দর ইস্যুর বিরোধিতাকারীদের ‘ভারত বিরোধী' এবং ‘স্বাধীনতা বিরোধী' হিসেবে চিহ্নিত করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী যেন কতকটা সেই সুরেই কথা বলেছেন।
এশিয়ান হাইওয়ের ব্যাপারে সবার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত রয়েছে। এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হবার ব্যাপারে বিগত জোট সরকারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল। তবে সেক্ষেত্রে, তদানীন্তন সরকার এশিয়ান হাইওয়ের নামে ভারত যাতে বাংলাদেশকে দিয়ে তার পুরনো করিডোর প্রস্তাব গিলাতে না পারে এবং ভারত ছাড়াও যাতে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের সাথে তার যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেয়ার কারণে এসকাপ-কে নিয়ে ভারত কূটচালে তাদের পরিকল্পনাই বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে। জাতীয় নিরাপত্তা সংরক্ষণ ভূখন্ডের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বহাল রাখা, বাংলাদেশকে ভারতের বৃত্তের ভেতর থেকে বের করে পূর্বমুখী পশ্চিমমুখী যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হবার লক্ষ্যকেই জোট সরকার প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। তদানীন্তন সরকারের এই দেশপ্রেমিক অবস্থানকে অপব্যাখ্যা করে বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হচ্ছে। এসকাপ-ভারত অাঁতাতের মাধ্যমে প্রচার করা হয় যে, বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই এশিয়ান হাইওয়ে হচ্ছে। তবে এটা ছিল, বাংলাদেশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। কার্যত এশিয়ান হাইওয়ের মাধ্যমে ভারত যে সুবিধা চায়, তাতে বাংলাদেশকে এই নেটওয়ার্কের বাইরে রেখে এশিয়ান হাইওয়ে হবে ভারতের জন্য নিষ্ফল। কয়েক বছর সময় পেয়েও বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে এশিয়ান হাইওয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়নি এবং বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় পরিবর্তন আসা পর্যন্ত এসকাপ অপেক্ষা করেছে। শেষ পর্যন্ত ভারতের পক্ষে এসকাপ বিগত সরকারের কাছ থেকে যে অনুমোদন নিতে পারেনি, ভারতবান্ধব বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেটাই দিতে যাচ্ছে। সুতরাং বিষয়টি এশিয়ান হাইওয়ে চাওয়া, না-চাওয়া নয়, এর রুট-প্লান নিয়েই বাংলাদেশের আপত্তি রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান হাইওয়েতে প্রস্তাবিত তিনটি রুট রয়েছে। এগুলো হচ্ছে, বেনাপোল-যশোর-ঢাকা, কাঁচপুর-সিলেট-তামাবিল (এএইচ-১১), বাংলাবান্ধা,হাটিকুমরুল-ঢাকা-কাঁচপুর-সিলেট-তামাবিল (এএইচ-২) এবং ঢাকা-কাঁচপুর-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ-মিয়ানমার-সীমান্ত (এএইচ-৪১) রুট। এই তিনটির মধ্যে বাংলাদেশের পছন্দের হচ্ছে শেষেরটি। কিন্তু ভারতের আপত্তি থাকায় এসকাপ ঐ রুটটি বাস্তবায়ন করতে রাজি নয়। প্রথম দুটি রুট ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে আবার ভারতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। অন্য রুটটি চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরকে এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত করবে। এর মধ্যে এএইচ-১ রুটটি ভারতের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ট্রানজিট বা করিডোর। বর্তমান সরকার ভারতের এই করিডোর প্রস্তাবটিই এশিয়ান হাইওয়ের নামে বাস্তবায়নে সায় দিয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারকে সংযুক্ত করে বাংলাদেশের পূর্বমুখী সংযোগ রুট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অনীহা দেখিয়ে বলেছেন, এটা মিয়ানমার বাস্তবায়ন করবে কিনা, সেটা তাদের ওপর নির্ভর করবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর অবশ্যই জানা আছে, মিয়ানমারের ওপর ভারত চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে তাদের রুট-প্লান গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে মিয়ানমারের সাথে দেনদরবার না করে প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের ইচ্ছার ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়ে ভারতের পরিকল্পনাই কার্যত মেনে নিয়েছেন। মিয়ানমারকে রাজি করাতে গণচীনের আনুকূল্য ও সমর্থন আদায়েও বাংলাদেশ চেষ্টা করতে পারে। মিয়ানমারকে রাজি করাতে সরকার কোন উদ্যোগ না নিয়েই ভারতের স্বার্থে অন্ধ হয়ে যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে আরও নাজুক করে দেবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকারের অনুমোদিত এশিয়ান হাইওয়ের বর্তমান রুট হবে আত্মঘাতী ও জনস্বার্থ বিরোধী।
Word "digital" is used for "computerized", what a dumb!
The dumb learnt just one word from her IT scientist(?) son, "digital"; unfortunately, she is using it in wrong way and her IT scientist son is not trying to correct it.
Actually, the word should be "computerized" or "automated", the way at least she is using it.
This week, the admission system has been computerized in Shahjalal univ, but in media it came as "Digital Admission system has been introduced in Shahjalal"; not only she is idiot, the whole media is composed of idiots.
People with BS, MS in IT(CIS, CE, MIS etc.) are called IT professionals, not IT scientists.
farmer..yes.
Yes, good catch. BS degree is not considered as part of higher education, and a person with BS degree working in IT sector is called an IT professional. It is funny that the top bosses of the university came to Dhaka for this occasion and a PM had to inaugurate the automated process. Looks like the PM of BD has plenty of time to do this kind of stuff.
ধন্যবাদান্তে,
পোগো
হায় আমার ডিজিটাল বাংলাদেশ
সত্যি দুঃখজনক। একটি Online application system নিয়ে এত বাহাদুরি। আমার ৩০ মিনিটও লাগবে না এবং ১৫০ ডলার লাগবে একটা বানিয়ে ফেলতে। এটা আজ না আমি ৭-৮ বছর আগে শিখেছি। বার্ষিক ব্যবস্থাপনা খরছ হবে হয়ত ১০ ডলার। এ নিয়ে এত লাফালাফি কেন? এটা আমাদের লজ্জা যে আগে করা হয় নি। তবে একটি দিক আছে। বাংলাদেশের সবার হাতে কম্পুউটার নেই। ৭-৮ বছর আগে ছিল না। কিন্তু আমার মনে আছে যে তখন সাইবার ক্যাফে কালচার আমাদের দেশ ছেয়ে গিয়েছিল। আমি মনে করি টেন্ডার হতে শুরু করে সকল ফর্ম করতে Online এ available করা উচিৎ।