দৈনিক মানবজমিন: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্লট বরাদ্দের লটারি উদ্বোধন একদিন পেছালো। ১৫ই সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে উদ্বোধনের নতুন সময় ঠিক করা হয়েছে ১৬ই সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা। প্রথম দিনে বিচারপতি, মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী, সাহিত্যিক/ ক্রীড়াবিদ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ক্যাটাগরিতে লটারি অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের পর কয়েকটি ধাপে বাকি ৮টি ক্যাটাগরির লটারি অনুষ্ঠিত হবে।
আগামীকাল বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে লটারি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রচার করবে রাজউক। লটারি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট আবদুল মান্নান খান এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। এছাড়া সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহবুব উর রহমান। উদ্বোধনী লটারিতে অতিথিদের বক্তব্য ছাড়াও লটারি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও নিয়ম সম্পর্কে বুয়েট প্রতিনিধি বক্তব্য রাখবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় লটারি ড্র অনুষ্ঠান শুরু হবে। ইতিমধ্যে এ অনুষ্ঠানের জন্য রাজউকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আ. ই. ম. গোলাম কিবরিয়া দাওয়াতপত্র ছাপতে দিয়েছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী দিনে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিপরীতে করা চার ক্যাটাগরির তালিকা নিয়ে লটারি হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কয়েকটি ক্যাটাগরির লটারি অনুষ্ঠিত হবে। তবে সরকারি চাকরিজীবী, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার চাকরিজীবী ও সশস্ত্র বাহিনী ক্যাটাগরিতে কোন লটারি হবে না। এর মধ্যে দুই ক্যাটাগরিতে বয়স ও বেতন স্কেল অনুযায়ী প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে। আরেক ক্যাটাগরিতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তালিকা অনুযায়ী প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে।
ওদিকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের আবাসিক প্লট বরাদ্দের নীতিমালা অনুমোদন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী। অনুমোদন হওয়া নীতিমালায় সরকারি চাকরিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক ও ক্রীড়াবিদ, সশস্ত্র বাহিনী, মুক্তিযোদ্ধা ও মন্ত্রীর নিজস্ব কোটা বাড়ানো হয়েছে। তবে কমানো হয়েছে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী, বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি এবং সাংবাদিক ক্যাটাগরির কোটা। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন করা নীতিমালায় রাজউকের অনুমোদিত নীতিমালার অনেকটা কাটছাঁট করা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নীতিমালায় সরকারি চাকরিজীবী ক্যাটাগরিতে প্লটের কোটা শতকরা ৩৬ থেকে বাড়িয়ে ৪০, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার চাকরিজীবী ক্যাটাগরিতে ১৭ থেকে কমিয়ে ১৫, সশস্ত্র বাহিনী ক্যাটাগরিতে এক থেকে বাড়িয়ে আড়াই, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরিতে দুই, সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে দুই থেকে কমিয়ে দেড়, শিল্পী-সাহিত্যিক ও ক্রীড়াবিদ ক্যাটাগরিতে দশমিক ৫০ থেকে বাড়িয়ে এক, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি ক্যাটাগরিতে ১৮ থেকে কমিয়ে ১০ দশমিক ৫০, বেসরকারি চাকরিজীবী ক্যাটাগরিতে ১৪ থেকে কমিয়ে ১২, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ক্যাটাগরিতে ১০ ও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে রাজউকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের (প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়সহ) আড়াই ও অবশিষ্ট হিসেবে তিন ভাগ প্লট রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবী ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার চাকরিজীবীদের বয়স, বেতন স্কেল ও যৌথ নামের আবেদন অনুযায়ী ১০০ নম্বরের বিধান রাখা হয়েছে। চাকরি জীবনের ৫৭ বছর ও এলপিআরের এক বছরের জন্য ৫৮ নম্বর রাখা হয়েছে। ছয় মাসের বেশি বয়স পূর্ণ বয়স হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বেতন স্কেলের জন্য ৩৫ ও যৌথ আবেদনের জন্য ৭ নম্বর রাখা হয়েছে।