শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিব গণতন্ত্রকে হত্যা করে |
- শেখ মুজিব তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য গণতন্ত্রকে হত্যা করে জাতির উপর বাকশালী একনায়কত্ব চাপিয়ে দেয়।
-বাংলাদেশে কৃষক-শ্রমিক-আওয়ামী লীগের (বাকশাল) একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বীজ নিহিত ছিল ১৯৭২ সালের ৭ই মার্চ রক্ষীবাহিনী আদেশ জারি করার মধ্যে।
-জাতীয় রক্ষী বাহিনীকে বিনা ওয়ারেন্টে ধরপাকড় এবং তল্লাশীর ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল ঐ আদেশের মাধ্যমে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির মুখে ২৪শে ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে প্রেসিডেন্ট জাষ্টিস আবু সাইদ চৌধুরীকে বিদায় নিতে হয়।১৪ই জানুয়ারী ১৯৭৪ সংসদ অধিবেশন বসে।আব্দুল মালেক উকিলকে স্পীকার হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়।২৪শে জানুয়ারী ১৯৭৪ ‘হ্যা’ ভোটের মাধ্যমে জাতীয় রক্ষীবাহিনী আইন পাশ করা হয়।
১৩রা জানুয়ারী ১৯৭৫ সারাদেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়।একই দিন বিশেষ ক্ষমতা অর্ডিন্যান্স জারি করা হয় এবং সংবিধানের কতিপয় ধারা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।৬ই জানুয়ারী ’৭৫ এক ঘোষণায় বলা হয় যে, সরকারি কর্মচারীরা সমবায় সমিতি ছাড়া অন্য কোন সংগঠনের সদস্য হতে পারবে না।এছাড়া ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দেয়ালের সব পোষ্টার মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়।এরপর ২০শে জানুয়ারী বসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংগঠিত সেই কলঙ্কিত অধিবেশন। ২৫শে জানুয়ারী সংসদে কোন রকমের বির্তক ছাড়া গণতন্ত্রকে পুরোপুরি সমাহিত করে পাশ করানো হয় চতুর্থ সংশোধনী।মাত্র এক বেলার সেই অধিবেশনে স্পীকার ছিলেন জনাব আব্দুল মালেক উকিল।
চতুর্থ সংশোধনীতে বলা হয় যে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সব মন্ত্রী নিয়োগ করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা সংসদ সদস্য না হলে ভোট দিতে পারবেন না।প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী সংসদ সদস্য হবেন তেমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।মন্ত্রী পরিষদ রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন, তবে রাষ্ট্রপতি তা কার্যকর করলেন কি করলেন না সে সংক্রান্ত ব্যাপারে আদালতে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না। ঐ অধিবেশনে ‘জরুরী ক্ষমতা বিল’ কোন আলোচনা ছাড়াই আইনে পরিণত হয়ে যায়।২৫শে জানুয়ারী দুপুর ১:১৫ মিনিটে এক সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে জারিকৃত চতুর্থ সংশোধনীতে বলা হয়, “এই আইন প্রণয়নের পূর্বে যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থাকবেন না এবং রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হবেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করবেন।এই আইন প্রবর্তনের ফলে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকবেন এমনিভাবে যেন তিনি এই আইনের দ্বারা সংশোধিত সংবিধানের অধিনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে একজন রাষ্ট্রপতি ও একজন উপ-রাষ্ট্রপতি থাকবেন।রাষ্ট্রপতি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।কার্যকালের মেয়াদ পাঁচ বছর। প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকবে।তিনি প্রত্যক্ষভাবে অথবা তার অধিনস্থ কর্মচারীর মাধ্যমে যে ক্ষমতা নির্ধারণ করবেন উপ-রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করতে পারবেন।রাষ্ট্রপতিকে তার দায়িত্ব পালনে সাহায্য ও পরামর্শ দানের জন্য একটি মন্ত্রী পরিষদ থাকবে। রাষ্ট্রপতি তার বিবেচনায় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে কিংবা সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য এরূপ ব্যক্তিদের মধ্য হতে একজন প্রধানমন্ত্রী ও আবশ্যক মনে করলে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারবেন।প্রত্যেক মন্ত্রী সংসদে বক্তৃতা করতে এবং কার্যাবলীতে অংশ নিতে পারবেন তবে তিনি যদি সংসদ সদস্য না হন তাহলে ভোট দান করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীপরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করবেন অথবা তার নির্দেশে উপ-রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী ঐ সভায় সভাপতিত্ব করতে পারবেন মন্ত্রীগণ রাষ্ট্রপতির ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।সংশোধিত সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে দেশে শুধু একটি মাত্র রাজনৈতিক দল গঠন করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, যা জাতীয় দল নামে অভিহিত হবে।সংশোধনীতে কার্যভারকালে তার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাবে না এবং তার গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হতে পরোয়ানা জারি করা যাবে না।” জাতীয় দলের ঘোষণায় বলা হয়, “কোন ব্যক্তি জাতীয় দল ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দল গঠন কিংবা ভিন্ন ধারার কোন রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।”
ঐ সংশোধনীর পক্ষে ২৯৪ জন সাংসদ ভোট দেন,কেউ বিরোধিতা করেননি।সংসদের ২ঘন্টা ৫মিনিট স্থায়ী ঐ অধিবেশনে স্পীকার ছিলেন আব্দুল মালেক উকিল।বিলের বিরোধিতা করে তিনজন বিরোধী ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য ওয়াক আউট করেন।এরা হলেন জাসদের আবদুল্লাহ সরকার, আব্দুস সাত্তার ময়নুদ্দিন আহমেদ ও স্বতন্ত্র সাংসদ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা।আতাউর রহমান খান আগেই সংসদ অধিবেশন থেকে বেরিয়ে আসেন। বিলটি উত্থাপন করা হলে আওয়ামী লীগের দলীয় চীফ হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখার প্রেক্ষিতে কোন প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ না দেবার আহ্বান জানান।এই পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয় লীগের জনাব আতাউর রহমান খান বৈধতার প্রশ্ন উত্থাপন করে আলোচনার সুযোগ দানের জন্য স্পীকার জনাব মালেক উকিলকে অনুরোধ করেন।কিন্তু স্পীকার তা নাকচ করে দেন।পরে কন্ঠভোটে চীফ হুইপের প্রস্তাব গৃহিত হয়।তারপর আইনমন্ত্রী মনরঞ্জন ধর সংসদে ‘জরুরী ক্ষমতা বিল ১৯৭৫’ পেশ করেন। চীফ হুইপ এ ক্ষেত্রেও মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ বিধি প্রয়োগ না করার আবেদন জানালে বিষয়টি কন্ঠভোটে পাশ হয়।এখানে একটি বিষয় বিশেষ প্রানিধানযোগ্য।যদিও বিলটি সংসদে বিনা বাধায় পাশ হয়; তবে গণতন্ত্রের বিকল্প একনায়কত্বের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের মধ্যেও দ্বিমত পরিলক্ষিত হয়।
২৪শে ফেব্রুয়ারী ’৭৫ রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান এক আদেশবলে দেশে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক-আওয়ামী লীগ’ বা ‘বাকশাল’ গঠন করেন এবং নিজেকে দলীয় চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন।ঘোষণার ৩নং আদেশে বলা হয়, “রাষ্ট্রপতি অন্য কোন নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অবলুপ্ত আওয়ামী লীগের দলীয় সকল সদস্য, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী সবাই ‘বাংলাদেশ-কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের’ সদস্য বলে গন্য হবেন।”
এ আদেশ অমান্য করে বাকশালে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বঙ্গবীর জনাব ওসমানী ও ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন তাদের সাংসদ পদে ইস্তফা দেন।
-বস্তুতঃ শেখ মুজিব তার নিজের ও পরিবারের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী একটা ভিত্তি দেয়ার লক্ষ্যেই বাকশালী স্বৈরাচার কায়েম করেছিলেন।এভাবেই যুগযুগ ধরে স্বৈরাচারী শাসকরা আর্বিভুত হয়।এরা একই নিয়মে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে।জামার্নীর হিটলারের উত্থান ঘটেছিল এভাবেই।নাৎসী পার্টি তাকে মহামানব আখ্যায়িত করেছিল।বাকশালীরাও শ্লোগান তুলেছিল, “এক নেতা, এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।” ফলশ্রুতিতে মুজিব পরিণত হয়েছিলেন, একজন স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়কে।ইটালীতে মুসোলিনির আবির্ভাবও ঘটেছিল একই প্রক্রিয়ায়।
আওয়ামী লীগ ও বাকশাল সরকার তাদের শাসনামলে এ দেশের জনগণকে গণতন্ত্রের নামে দিয়েছিল স্বৈরাচার; সমাজতন্ত্রের নামে শুরু করেছিল সামাজিক অনাচার; বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের নামে জাতিকে করেছিল বিভক্ত; আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে যুগিয়েছিল ধর্মহীনতার ইন্ধন। স্বৈরাচারী মুজিব সরকার সুপ্রীম কোর্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল! ১৫ই আগষ্টের বৈপ্লবিক পরিবর্তন যদি না হত তাহলে গণতন্ত্রের বধ্যভুমিতে আজকের শতাধিক রাজনৈতিক দলকে একদলীয় বাকশালের ধ্বজা বহন করেই বেড়াতে হত। এমনকি আওয়ামী লীগ নামক কোন দলেরও পুর্ণজন্ম হত না। আওয়ামী-বাকশালীদের অনাসৃষ্টির জন্য বিধ্বস্ত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ঘানি দেশবাসীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য টানতে হত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র, গোলাবারুদ, স্বর্ণ, মূল্যবান ধাতু, যানবাহন, মিল-কারখানার মেশিনপত্র, কাঁচামাল ভারতের হাতে তুলে দিয়ে আওয়ামী লীগ সমগ্র জাতিকে প্রতিপক্ষ করে স্বাধীনতার সোল এজেন্ট সেজে বসেছিল। এসবের প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় দেশমাতৃকার অন্যতম সেরা সন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জলিলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল; প্রাণ হারাতে হয়েছিল বিপ্লবী সিরাজ সিকদার ও হাজারো মুক্তিযোদ্ধাকে। লাঞ্ছণার শিকারে পরিণত হতে হয় অনেক দেশপ্রেমিককে। দীর্ঘমেয়াদী অসম চুক্তির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বন্ধক রেখেছিল আওয়ামী লীগই। লালবাহিনী, নীলবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, রক্ষীবাহিনীসহ ইত্যাকার নানা রকমের বাহিনী গঠনের দ্বারা দুঃসহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে বিনা বিচারে ত্রিশ হাজার থেকে চল্লিশ হাজার রাজনৈতিক কর্মীর প্রাণ সংহার করার কালো ইতিহাস আওয়ামী-বাকশালীদের দ্বারাই সৃষ্টি হয়েছিল। বন্দী অবস্থায় রাজনৈতিক নেতা জনাব সিরাজ সিকদারকে নির্মমভাবে পাশবিক অত্যাচার করে হত্যা করার পর শেখ মুজিব স্বয়ং সংসদ অধিবেশনে ক্ষমতার দম্ভে বলেছিলেন, “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার?”
জাতির আশা-আকাংখাকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সে ব্যবস্থা টিতে থাকেতে পারে না। জনসমর্থন ছাড়া কোন ব্যবস্থাই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। জাতীয় বেঈমান ও বিশ্বাসঘাতকরা যখন জাতির কাঁধে একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাতন্ত্রের বোঝা চাপিয়ে দেয়, জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেয়, ব্যক্তি ও গোষ্ঠি স্বার্থ হাসিলের জন্য মীরজাফর বা রাজাকার-আলবদরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তখন তাদের অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ, নির্যাতন থেকে জাতিকে বাঁচানোর জন্য তাদের দুঃশাসন উৎখাত করার জন্য দেশপ্রেমিকদের বিপ্লবের পথ অবলম্বন করতে হয়েছে যুগে যুগে। একই যুক্তিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বিপ্লব সংগঠিত করেছিল বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর দেশপ্রেমিক অংশ। সেই বিপ্লব ছিল একটি সফল অভ্যুত্থান। দেশ ও জাতি মুক্তি পেয়েছিল দাসত্বের নাগপাশ ও স্বৈরশাসনের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে। বাকশাল সরকারের উৎখাত ও মোশতাক সরকারের প্রতি জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থন এ কথাই প্রমাণ করেছিল জনগণের আশা-আকাংখার সাথে বাকশালের কোন সম্পর্ক ছিল না। একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রতি জনসমর্থনও ছিল না। ১৫ই আগষ্টের বিপ্লব স্বতঃস্ফুর্ত জনসমর্থন পেয়ে একটি জনপ্রিয় অভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ এর বৈপ্লবিক সফল অভ্যুত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। অম্লান হয়ে থাকবে নিজ মহিমায়। সেদিন আগষ্ট বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের মাটি থেকে স্বৈরশাসনের একনায়কত্ব ও একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটেছিল এবং উম্মোচিত হয়েছিল বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার দ্বার। আগষ্ট বিপ্লব বাকশালী কালো অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে রাজনীতিতে গতিশীলতার সৃষ্টি করে সূচনা করে এক নতুন দিগন্তের।
১৫ই আগষ্ট বৈপ্লবিক অভুত্থান ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর যে জাতীয়তাবাদী চেতনা ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির উন্মেষ ঘটেছিল জাতীয় জীবনের প্রতিক্ষেত্রে তারই ধারা আজও দুর্বার গতিতে বয়ে চলেছে। নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম ও জাতীয় মুক্তির প্রতীক ১৫ই আগষ্টের সফল বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান ও তার চেতনা সর্বকালে সর্বযুগে এদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক ও সচেতন নাগরিক ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে প্রেরণা যোগাবে নব্য সৃষ্ট মীরজাফর ও জাতীয় বেঈমানদের উৎখাত করতে। জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করার জ্বলন্ত নিদর্শন ১৫ই আগষ্টের মহান বিপ্লব।
কি হয়েছিলো ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্য্যন্ত ওই সময়ে?
কি হয়েছিলো ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্য্যন্ত ওই সময়ে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ওয়াশিংটনকে ভারতে মহাত্মা গান্ধিকে পাকিস্তানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে জাতির পিতা হিসেবে মানা হয়।ওই সকল দেশে ওই নেতাদের ব্যাপারে জনসাধারনের মাঝে কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া নেই, থাকলেও খুব কম সংখ্যকই থাকতে পারে। কিন্ত বাংলাদেশে সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম শেখ মুজিবর রহমানকে জাতির পিতা বানানোর ব্যাপারে দ্বিমত পোষন কারীর সংখ্যা নিঃসন্দেহে ৫০ পার্সেন্টের বেশী হবে।
কিন্তু কেনো সাধারণ জনগণের মাঝে এত বড় মাপের একজন নেতার ব্যাপারে এত অনীহা, এত সম্মান দেখানোর কৃপণতা।তা জানতে হলে আমাদেরকে ফিরে যেতে হয় ১৯৭২ সনের ১০ই জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগষ্ট পর্য্যন্ত তাঁর ৩ বছর ৭ মাস ৫ দিনের শাষন কালে। সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন কারি একজন নেতা যখন ক্ষমতা হাতে পেলেন কিভাবে নিজ হাতে হত্যা করলেন ওই নবপ্রসূত গণতন্ত্রকে এবং তার সাথে একটি উন্নয়নোন্মুখ জাতিকে।একটি মানুষের স্বকৃত নিষ্টুর কর্মের কারনে কিভাবে হতভাগ্য ইতিহাসের খড়্গ নেমে আসে চিরন্তন নিয়মে।
কি হয়েছিলো ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্য্যন্ত ওই সময়ে:
১. তিনি ১৯৭৫ সালের ২৫ শে জানুয়ারি ১ টি মাত্র দল বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) রেখে বাকী সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন।
২. তিনি ৪ টি মাত্র পত্রিকা রেখে বাকী সব জাতীয় পত্রিকা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন।
৩. তিনি Dhaka University এর Monogram থেকে পবিত্র কোরানের আয়াত ربي زدني علما মুছে দিয়েছিলেন।
৪. তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে মুসলিম শব্দটি মুছে দিয়েছিলেন। আর কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে ইসলাম শব্দটি মুছে দিয়েছিলেন।
৫. তাঁর আমলে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ এর কারনে দেশে ২ লাখ লোক না খেয়ে মারা গিয়েছিল। আর তার দুই ছেলে কামাল আর জামাল এর বিয়েতে কোটি টাকা খরছ করা হয়েছিল। সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে সে বিয়ের অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়েছিলো।
৬. তিনি ১৯৭৫ সনে সিরাজ শিকদার কে হত্যা করে সংসদে এসে হুংকার ছুড়েছিলেন কোথায় আজ সিরাজ শিকদার।
৭. তিনি বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কে অকার্য্যকর রেখে Parallel force হিসেবে রক্ষী বাহিনী এবং মুজিব বাহিনী নামক দু’টি বাহিনী তৈরী করেছিলেন।
৮. তিনি ১৯৭৫ সনে দেশে গণতন্ত্রের সকল অস্তিস্ত্বকে গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেকে আজীবন রাষ্ট্রপতি ঘোষনা করেছিলেন।
জানিনা ওই সব কাজসমূহ কতটুকু গণতান্ত্রিক আর মানবাধিকারের স্বপক্ষে ছিলো।বিবেচনা করতে পারি আমি আপনি আর আমাদের মুক্তভাবে চিন্তাশীল সঙ্গিসকলে।বর্তমান সরকার ও যদি রাজ্য দখল করার মতো সবকিছুর নাম দখল করার হীন চেষ্টা পরিহার না করে, তা হলে ইতিহাসের শ্বাশত নিয়মে ওই দিনগুলো ফিরে ফিরে আসতে থাকবে বার বার।আমি জানি না একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি এই লেখা লিখার স্বাধীনতা রাখি কিনা।তবুও লিখলাম, সবাই বাক স্বাধীনতা আর লেখার স্বাধীনতা ধারন করে বলে।
আবারো ব্যর্থ ...বেচারা ধর্মনিরপেক্ষবাদী দিপু মনি
দীপু মনি আবারো ব্যর্থ হলেন
সৌদি-হাসিনার বৈঠক ব্যর্থ আকামার সমাধান করতে পারেনি, অথচ দেশবাসীকে মিথ্যা বলেছিলো দিপু মনি
এবার ব্যর্থ হলো হিলারী-দীপু মনি বৈঠক
সংবাদ সম্মেলনে দীপু মনি জানান, বঙ্গবন্ধুর যে সব খুনী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বলে বলা হচ্ছে, তাদের হস্তান্তরের জন্য তিনি হিলারিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়েও হিলারি তেমন কোনও আশ্বাস দেননি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং য্ক্তুরাষ্ট্র সরকারের মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কো-অপারেশন (এমসিসি) ফান্ড থেকে সহায়তা চাওয়া হয়। তবে দুটির একটিতেও সুনির্দিষ্ট কোনও আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
কয়েকজন পর্যবেক্ষকের মতে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বৈঠকে তেমন কোনও ফলাফল নেই। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন একটিই, তা হলো হিলারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=110255&hb=top
নোবেল বিজয়ী ড ইউনুসকে হাসিনা রক্ত চুষা সুদখোর মহাজন বলেছিলেন, এখন দেখা যাচ্ছে ইউনুস সাহেব একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছ।
আওয়ামী পররাষ্ট্র নীতি সৌদি আরবের পর এবার আমেরিকায় ফেল মারলো।
...সৌদি আরব হাসিনার সন্মানে কোন নৈশ ভোজের আয়োজন করেছিলো না ...তবে হিলারী ইফতার পার্টি (মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় উপাদান) দিয়েছিলো দিপু মনির সন্মানে ...বেচারা ধর্মনিরপেক্ষবাদী দিপু মনি
Save Bangladesh: No more farakka
Please do not cross the limits of decency
I am very disappointed at the sort of language being used here. While she is our PM (deservedly or otherwise) we should give her at least the minimum respect due to the highest executive office in our country. While it may gratify you to vent your anger at her, it also diminishes the dignity of the office she holds. I do not believe that is good for our country.
Take care of yourself.