ঈদ কেমন কাটল?

সবাই নাড়ীর টানে ঈদ কাটাতে প্রিয়জনের কাছে ছুটে গেছেন। সবার কথাতো বলা সম্ভব নয়। কয়েক জনের নাম এখানে উল্লেখ করলাম। যেমন ধরুন, Stranger ভাই একমাএ পুরাতন মেম্বার যিনি আমাকে "প্রিয়" ফোরামে আসার পর দু'একটা টেকনিক্যল টিপ্স দিয়েছেন। ওনাকে পুরা রমজানটা মিস করেছি। হয়তোবা শিঘ্রই দেশ থেকে ফিরে আসবেন। voter ভাইকে রমজান মাসে পুরাটা পেয়েছি। যখন একটা টান টান পরিস্থিতি ছিল এই ফোরামে, তখন ওনার সাথে হাসি ঠাট্টা করেছি। কেমন একটা হ্রদয়ের টান অনুভব করছি। উনি ঈদ পালন করতে লঞ্চযোগে ঢাকা থেকে গ্রমের বাড়ীতে চলে গেলেন। আশাকরি সহিসালামতে ঢাকা ফিরে আসবেন। জনাব ইয়াকুব সাহেব সেই কুয়াকাটার সুর্যাস্ত এবং সুর্যোদয়ের ছবি পোষ্ট করে দিলেন আমাদের জন্য। মনে হয়েছে উনি আমার অনুরোধে প্রাতুষে সুর্যোদয়ের ছবিগুলি তুলে পোষ্ট করে পরেরদিন কুয়াকাটা থেকে ময়মনসিংহ চলে আসলেন। আশাকরি ওনার ঈদটা এবার স্পেশাল হয়েছে। এদিকে জনাব farmer সাহেব সকাল পাঁচটায় ফোরামের সাথী হয়েছেন। তিনি মাঝে মাঝে আমাকে একতরফা রেফারী বানিয়েছেন -:) নিজেকে আনেক ধন্য মনে করেছি। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি কালোকে কাল বলতে এবং সাদাকে সাদা বলতে। আমি কিনতু তাকেও একবার খোঁচা দিতে ভুলি নাই। সেটা হল ওনাকে এবং villager-কে এক বানিয়ে ফেলেছি। তাই জানতে ইচ্ছা করেন ওনার ঈদ কেমন কাটল। এদিকে Betrayed ভাইকে ঠেলে ঠুলে তার আইডি-র সংগে তাকে দিয়ে নুতন একটা লোগো লাগাতে পেরেছি। এটা একটা সার্থকতা। ওনি অবশ্য স্বেচ্ছায় ওনার রমজান ও ঈদ সম্পকিত তথ্য দিয়েছেন। আশাকরি আরো বেশী যানাবেন এই লেখা পড়ার পরে। টরেন্টোতে বেড়াতে যাবার দাওয়াত সেই অনেক আগে পেয়েছি। ভুমিহীনজমিদার ভাইয়ের জন্য দুবার লুকিয়ে থেকেও রেহাই পেলাম না। নিরব থেকে সরব হতে হল। ভুমিহীনজমিদার ভাইয়ের ডাক শুনলে আমার মনে হয় যে কাউকে ঘুম থেকে উঠে ফোরামে লিখতে হবে। সত্যই খুব মজার মানুষ। ঈদগাহের ছবি পাঠিয়েছেন কিন্তূ আরো বেশী জানতে ইচ্ছা করে। Mr. JohnRaihan আপনি কুষ্টিয়ার ছবি পোষ্ট করেছেন, তাই ধন্যবাদ। নির্ভিক সাহেবকে অযোচিত বিব্রত করেছি উনার স্পেলিং নিয়ে। ভাই ক্ষমা করে দিয়েন। আর কখনো অযোচিত বিরক্ত করব না। সম্পাদক মহোদয়কে তো রাত নেই, দিন নেই এটা ওটা দিয়ে তার কাজের প্লেট সব সময় ভড়িয়ে রেখেছি। আপনাকে ধন্যবাদ এবং ঈদ-উত্তর শুভেচ্ছা। এই ফোরমের সবাইকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনাদের সবার আগামী হোক অতীত এবং বর্তমানের চেয়ে আনেক অনেক ভাল এবং সুখী।

তবে এবার ঈদের প্রস্তুতি একটু বেশী ছিল। ঈদের প্রস্তুতি বলতে অতিরিক্ত দু'দিন ছুটি। শুক্রবার এবং সোমবার weekend-এর সাথে য়োগ হওয়াতে বেশ বড় একটা লম্বা weekend হয়ে গেল। এবার ঈদে হাতেগোনা কিছুদিন মসজিদে গিয়েছি ইফতারির জন্য। এখানকার ট্রডিশন অনুযায়ী রমজান মাসে ইফতারটা কম্যুনিটি মসজিদেই সেরে ফেলতাম। আমার গিন্নী হওয়ার পর সেটায় অনেকটা কমতি পরে গেল। শনিবার বিকেলেও ভাবছি ঘরে ইফতার করব। ভুমিহীন ভাইয়ের ঈদের ভিডিও সুভেচ্ছা দেখছিলাম। ওদিকে মি: ফারমার আমাকে একবার ডেকে আবার বলেছেন Don't worry. তড়িঘড়ি করে বহুল প্রচলিত "রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ." ভিডিওটা এবং একটা হান্কি ফান্কি আরো একটা ভিডিও লিন্ক দিয়ে ভোঁ দৌড়। মনে হল আজকে তো মসজিদে গেলে ভাল হয়। পথে ঈদের চাঁদটা যদি দেখতে পারি! অবশ্য US-তে আসার পর অনেকবার ঈদের চাদঁ দেখার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারি নাই। এবার আকাশ খুব পরিস্কার ছিল, তথাপি চাঁদের মুখ দেখতে পেলাম না। ISNA তো আনেক আগে বলে দিয়েছে রবিবার ঈদ হবে। শুক্রবার জুমুয়ার নামাজের পর আমাদের বলা হল ঈদ রবি অথবা সোমবার। শেষ রোজার দিন মানে শনিবার ইফতারি এবং নামাজের পর বলা হোল এক-ই কথা নট ডিসাইডেড ইয়েট। এশার নামাজেও এককথা। ওদিকে বন্ধু সবাই বলছে য়ে কাল তাদের ঈদ। আমাদের পুর্ব-পচ্শিম, উত্তর-দক্ষিন সবদিকেই পরেরদিন ঈদ। আর আমরা মাঝখানে থেকেও কোনদিকে য়েতে পারলাম না। শুধু আমরা বাকী। মনে মনে প্রচন্ড রাগ হচ্ছিল। শেষমেষ রাত সাড়ে দশটায় বলা হল য়ে রবিবার ঈদ হবে।

চিরাচরিত প্রথা অনুয়ায়ী, ভোররাতে ঈদের নামাজের উদ্দেশ্য গোসল করে রেডি গেলাম সাড়ে আটটার নামাজ ধরতে। গিন্নীর রান্না করা সেমাই আর নাসতা খেয়ে বের হয়ে গেলাম। খুব কাছেই। নামাজ শেষে ঈদের কোলাকুলির পর বাড়ীতে ফেরা। পরক্ষনে ঘন্টা দু'এক ঘন্টা নিজ বাড়িতে মেহমানদারী করা ও আড্ডা দেয়া।।পরে দুপুর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত এই খাই দাই আর আড্ডা। শেষর আড্ডাটা অবশ্য আমাদের ই-মেলার মত কিছুটা কারন ওখানে strong অপোসজিশন পার্টি (আওয়ামীলীগ ঐ আড্ডার অপোসজিশন পার্টি) ছিল। একই আলাপ-খালেদার সংগে তারেক ও কোকোর সউদিতে সাক্ষাত, হাসিনার দেশ বিক্রি, সরকারে জয়ের ভুমিকা, প্রফেসর আনুকে লাঠিপেটা, ইত্যাদি। যেহতু ভেটেরানরা ছিলেন, আমার মত অনেকেই কোন চান্স পেলাম না। শুধু শ্রোতা হয়ে বসে রইলাম। এই জন্যই এই ফোরামে এসে ঝাল মিটাই :-) শেষের গ্যাদারিং-এ একজন নুতন ভদ্রলোককে দেখলাম এক কর্নারে বসে শুধু খাচ্ছে। এগিয়ে গেলাম পরিচিত হতে এবং সংগ দিতে। জিগ্গাসা করতেই পাল্টা প্রশ্ন আমি কি এ বছরে পাশের সিটির নববর্ষের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম কিনা। হ্যাঁ বলামাত্র গর্জন দিয়ে শোনালেন য়ে তিনি ঐ অনুষ্ঠানের হলরুম ভাড়া করেছেন বলে আমরা অনুষ্ঠান দেখতে পেরেছিলাম।আমি তো ভড়কে গেলাম। বললাম, ভাই আপনাদের সিটি তো বড় সবাইকে তো আর মনে রাখা যায় না। আবার জিগ্গাসা করলাম, "তা ভাই, কতদিন ধরে আছেন এই দেশে?" উনি বললেন, এক বছরের একটু বেশী। সংগে সংগে এও বললেন, তবে আমি আসার চার মাসের মাথায় গাড়ি কিনেছি, ছয় মাসের মাথায় চাকুবী পেয়েছি। বুঝলাম তাকে না চেনাটা যেন বড় অন্যায় হয়ে গেল। রাত তখন দশটা, গিন্নী এসে বেলে রিং দিল। সংগে সংগে অন্যান্য সবার সংগে বিদায় নিলামর, জুতামোজা পরলাম, এবং বাড়ীর দিকে ছুটলাম। এসে আবার "প্রিয়" নিয়ে বসলাম। ও হ্যাঁ আগেরদিন রাতে এবং দিনের মাঝখানে দেশে এবং কয়েক বন্ধুর সাথে ফোন করার কাজটা সেরে নিয়েছিলাম।

তবে বাড়ী থেকে বের হবার আগে মনে মনে আঁট বেধেছিলাম, এইবার আমি পিগ আউট করব না। সেটা মেইনটএইন করতে পেরেছি বলেছি বলে ভাল লেগেছে। এইত এভাবে আমার ঈদ কাটল। এখন আপনি বলুন কিভাবে আপনার ঈদের দিন কাটল। নিশ্চয় আমার চেয়ে ঢেড় ভাল। তাই না?

Hassan Imam khan's picture

স্মরনীয় ঈদ......।

দির্ঘদিনের প্রবাস জীবনে এমন ঘটা করে ঈদ উৎসব পালন এর আগে কখনো ঘটেছে বলে মনে পড়ে না। কাকতলীয় ভাবে ছুটির দিনে পড়ে গিয়েছিল বলেই হয়তো ঈদটাকে প্রকৃত ঈদের আমেজ নিয়েই উদযাপন করা হলো। বিশেষ এ ঈদের আনন্দ একসাথে পালনের জন্য জেনেভার বাংলাদেশ ক্লাবের সদস্যরা একটি মিলনায়তন ভাড়া করেছে। সেখানেই এক সাথে রান্নাবান্না,খেলাধুলা ও আনন্দ উল্লাশ করে ঈদ উদযাপন হবে। কথা হলো সকালের নামাজ সেরেই তাদের সাথে যোগ দিতে হবে। আগের দিন শনিবারে ছিল বিদ্যালয়ের শিশুদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতার উপর স্থানীয় রাজনৈতিক দল গ্রীন পার্টির এক বিশেষ সন্ধ্যা। সেখানে এশিয়া,আফ্রিকা,মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের মুসলিম শিশু থাকায় পরিবেশ ভাবনার সাথে সাথে উঠে এলো যার যার দেশের ঈদ উদযাপনের শিশুশুলভ কিছু অভিজ্ঞতার কথা। সেসব অভিজ্ঞতা ও ছেলেবেলায় নিজের কিছু ঈদ-স্মৃতি রোমন্থনের এক মধুর আমেজ নিয়েই ঘুমাতে গেলাম। প্রত্যাশিত সময়ের একঘন্টা পুর্বেই টেলিফোনের আওয়াজে কিছুটা বিরক্তি নিয়েই খুব ভোরে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। অসময়ে এধরনের কল গুলি সাধারনত লংডিস্ট্যান্স বা হটাৎ বিপদগ্রস্থ কোন মানুষের হয়ে থাকে বিধায় রিসিভ না করলেই নয়। কলটি ছিল সোহেল রানার। প্রায় আশি কিলোমিটার দূরের এক শহর থেকে তার বন্ধুদের নিয়ে আমার শহরে আসছে একসাথে ঈদের জামাতে সামীল হতে, বিরক্তির বদলে ভাল লাগার অনুভুতি ছড়িয়ে পড়লো সারাটা মন জুড়ে। জানালার ঝাপ উঠাতেই দেখি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৭০০ মিটার উপরে একটি পাহাড়ের বুকে আমার ঘরটি পরোপুরি মেঘের রাজ্যের দখলে। গোসল ও কফি শেষ করে মসজিদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। শহর কেন্দ্রের মসজদটি এখান থেকে আরো ২৫০ মিটার নিচে। হাতে প্রচুর সময়, তাই ট্রলি বাসের পথ ছেড়ে পাহাড়ী পথে মেঘের মধ্য দিয়ে হেটে চলার সিরসিরে আনন্দের অনুভুতিকে সাথে করে নামতে শুরু করলাম। দুপাশে আঙ্গুরের ক্ষেত, মাঝে সরু পায়ে চলা পাথরি পথ। পথের দুপাশে রসে ভরা পাকা আঙ্গুর আর বয়ে চলা ভেজা মেঘের সম্মীলিত সোদা মৌ গন্ধ। অনেকটা পাখির ন্যায় দুবাহু বাড়িয়ে নেমে আসছিলাম। যেভাবে ছেলেবেলায় মুক্তিযোদ্ধের সময় নড়াইলের মির্জাপুর গ্রামের নানাবাড়ীতে থাকাকালীন সময়ে প্রতি প্রত্যুশে ছোট মামার সাথে ধানক্ষেতের আইল ধরে ছুটে চলতাম খালপাড়ে রাখা পাখি ও মাছ ধরার ফাদ দেখার জন্য। প্রায় আধাআধি নামার পর হটাৎ করেই মেঘের স্তর শেষ গেল। চোখের সামনেই সূর্য মামা নিশাতল লেকের মাথার উপর হাসছে। সে এক অদ্ভুত দৃশ্য। বেল্লা ( আমার প্রিয় কুকুর) জীবিত থাকাকালীন এ পথে তার নেতৃত্বে প্রতি সকালেই এমন উড়ে উড়ে নেমেছি, কিন্তু এমন সুন্দর দৃশ্য কখনো চোখে পড়েনি। শেষ হয়ে যাওয়া মেঘের স্তরের সাথে সুর্য রশ্মির এক অপুর্ব সম্মীলনে মনে হচ্ছে যেন মাথার উপরে থোকা থোকা আগুনের খেলা। প্রতি মুহর্তেই দৃশ্যপট পালটে যাচ্ছে। দৃশ্যটা ধরে রাখতে পকেটে হাত দিতেই দেখি মোবাইল সেট ফেলে রেখে এসেছি। কিছুটা খারাপ লাগলেও মনে হলো এ ধরনের মধুর দৃশ্য বাস্তব ছবির চাইতে মনের মনি কোঠাতে স্বপ্ন হয়ে থাকাই শ্রেয়। কতক্ষন দাঁড়িয়ে এ দৃশ্যে হারিয়েছিলাম তা মনে নেই। পা চালিয়ে গন্তব্যে পৌছে দেখি মসজিদ লোকে লোকারন্য। তিল ধরানোর জায়গা নেই। কয়েক জন এসেছেন দু/তিন মসজিদ ঘুরে। সবখানেই একই অবস্থা। অজুঘরের পাশের সংকীর্ন প্যাসেজে দাঁড়িয়ে নামাজে অংশ নিলাম। খুৎবা ও মোনাজাত শেষে কোলাকুলী, সেই যেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ অনুভুতি। বন্ধু জুয়েল-পত্নি সেই সাজ সকালেই পোলাও,কোর্মা, ফিন্নী,সেমাই রেধে বসে আছেন। সেখানের ভুরী ভোজন সেরেই জেনেভার উদ্দেশ্যে ট্রেনে চেপে বসলাম। প্রায় শতাধীক পরিবার জেনেভার বাংলাদেশ ক্লাবের ঈদের এই যৌথ উদযাপনে শরীক হয়। সকল গৃহীনি নিজ নিজ পছন্দের এক একটি পদ বানিয়ে এনেছেন। এ ছাড়াও ক্লাবের পক্ষ থেকে রান্না হয়েছিল বিরীয়ানি,লাচ্ছি সহ মুল কতিপয় পদ। শিশুদের খেলাধুলা ও কলকাকলীতে মুখরিত ছিল সারাটা সময়। শেষ ট্রেনে চেপে যখন নিজ শহরে পৌছুলাম তখন ঘড়ির কাটা পরবর্তী দিন তথা বাংলাদেশে ঈদ উদযাপনের দিনটিকে ছুয়েছে। বাসায় ফিরে ঈদের প্রথম প্রহরে মা,ভাই-বোনদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে টেলিফোনে প্রায় ঘন্টাকাল চেষ্টা করেও বিফল হলাম। এরপর প্রায় ২১ ঘন্টার দীর্ঘ এই স্মরনীয় ঈদ উদযাপন শেষে রাত প্রায় সাড়ে তিনটায় বিছানায় যাই।
এ দিন কোন ছবি তুলি নাই। সকালের ঐ নয়নভিরাম দৃশ্যের ছবি তুলতে না পেরে সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম,আজ আর কোন ছবি নয়। আজকের চলমান এ সব মধুর দৃশ্য ক্যামেরার মেমরির বদলে স্মৃতির মনি কোঠাতেই জমা থাক।
হাসান ইমাম খান,
সুইজারল্যান্ড।

Pogo's picture

যারা প্লট পান নাই, যাদের ঈদের আনণ্দ ম্লান করেছে ঔ লটারী

রাজউক নাকি জমানতের টাকা ফেরত দেয়া শুরু করেছে। যারা প্লট পান নাই, তারা নিচের লিংক থেকে আপনি ফরম ডাউননলোড করে পুরন করে জমা দিন। http://www.rajukdhaka.gov.bd/purbachal/Foreign%20Refund.pdf
ফরমের শর্ত পুরনে একটা কঠিন জিনিস হইল য়ে নোটারী পাবলিক ছবি সত্যায়িত করতে চায় না। আর ছবি সত্যায়িত আমদের অনেকের জন্য দুতাবাসে যাওয়া সম্ভব নয়। রাজউকের লোকজন মনে করে সব দেশ বাংলাদেশের মত। য়েন ঢ়াকায় আসা ডালভাত, আর প্লটের জন্য দরখাস্ত করা বা টাকা ফেরত নেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো কাজ নাই। এই কথাটা কে রাজউক-কে বোঝাবে?

ধন্যবাদান্তে,
পোগো

vumihinzamidar's picture

Pogo

খুব খুশি হয়েছি যে আপনী আমাকে খোঁজ করেছেন । বাংলাদেশ সময় গত বুধবার ভোর রাতে আমার একমাত্র চাচা (৭৩ ) মারা গেছেন । এই চাচার আংগুল ধরে ধরে আমি হাটতে শিখেছি , চাচার কাধে উঠেই আমি বড় হয়েছি । গ্রামের বাড়ী গেলে আমি ছিলাম চাচার সংগী । ছায়ার মত চাচার পেছনে পেছনে ঘুড়তাম । চাচা জাল দিয়ে মাছ ধরতেন আর ডুলাটা আমি রাখতাম । গরুর ঘাস খাওয়ানো থেকে শুরু করে গাইয়ের দুধ সংগ্রহ সব কিছুতেই আমি চাচার সহকারী ছিলাম । ক্ষেতের কাজ তদারকি করতে যাওয়ার সময় চাচা আমাকে নিয়ে যেতেন । ক্ষেতের সরু আইল দিয়ে হাটার সময় পড়ে যেতাম এবং কাদা মাখা শরীরে বাড়ী ফিরলে দাদী চাচাকে ভীষন বকাঝকা করতো । ৭/৮ বতসর বয়সের আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখতাম চাচা এতো কিছু ক্যামন করে সামাল দেন । আমিও বড় হতে লাগলাম এবং চাচার সাথে দুরত্বটাও বাড়তে লাগলো । গত ১৫/১৬ বছর যাবত আবার আগের মত লুংগি পরে কোমড়ে গামছা পেচিয়ে চাচার সাথে ক্ষেতের ফসল দেখতে যেতাম । আমি আবারো ক্ষেতে যাবো কিন্তু এবার আমাকে একে যেতে হবে । সুস্থ সবল চাচা আমার আব্বার মৃত্যর ছত্রিশ বছর পরে মারা গেলেন ।

shornolota's picture

May Allah accept him

Vumihinzamindar,

We share your sadness.

May Allah accept him in haven.

raihankhan's picture

জমিদার ভাই: চাচার মৃত্যুতে আপনার কষ্টের .....

জমিদার ভাই,
চাচার মৃত্যুতে আপনার কষ্টের অনুভুতি পুরোপুরি আমাদের পক্ষে অনুভব করা সম্ভব নয়। কারণ, যার যায়/হারায় সেই বুঝে হারানোর বেদনা। তারপরেও কিছুটা হলেও বুঝতে পারি আপনার কষ্ট-বেদনা। মহান প্রভু আপনার বেদনাকে কাটিয়ে উঠার শক্তি দান করুন এবং সেই সাথে আপনার চাচার আত্মা শান্তি লাভ করুক এই কামনাই করছি...

the one eleven's picture

ভূমিহীনের ভূমি এবং --

ভুমিহীন ভাইকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।আসলে সকল মৃত্যুই বেদনাদায়ক।আমি আপনার চাচার মৃত্যুতে গভীর শোক জানাচ্ছি।ঐদিন আপনার সাথে কথা হওয়ার পর আমার খুব খারাপ লাগছিল।আমার বাবা মারা গিয়েছেন ২০ বছর আগে,চাচা তার ও আগে।মা মারা গিয়েছেন ৩০ বছর আগে।এত বছর পরে ও মনে হয় আমার বাবা মা এই বুঝি আমাকে ডাক দিবেন,কোন ছোটখাট দোষের জন্য এখনই বকে দিবেন।কিন্তু এসবই মনের কল্পনা।আমরা হয়তো কোনদিনই এইসব মুরুব্বিদেরকে কাছে পাব না কিন্তু উনারাই আমাদের জীবনের পাথেয় হয়ে আছেন।আলোকবর্তিকার মত দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।এই কারনেই আমরা তাদের নিকট ঋনী।আমাদের পরে আমাদের পরের জেনারেশন ও এইভাবেই আমাদেরকে স্মরন করবেন।আমি চাচার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

একটি কথা দিয়ে শেষ করছি--চাচার সাথে আপনি খেতের ফসল দেখতে যেতেন-এটা আপনার কলমেরই কথা--তারপরে ও কি আমরা বশ্বাস করব যে আপনি ভূমিহীন?(মজা করলাম)
ভাল থাকুন।

JackobRaihan's picture

To vumihinzaminder (JR)

Very sad to know that.
Tar attar magfirat kamona korchi. Apni dhire-dhire monobedona katiye uthun, aai parthona korchi. Apnar likha theke bujha jai je apnar chacha ekjon valo manush chilen. Shobar ai rokom chacha hoy na!

JACKOB RAIHAN

farmer's picture

VHZ

We share your sadness.

bangladesh21's picture

ভুমিহীন ভাই

এরকম একজন চাচা পাওয়া খুবেই ভাগ্যবান।আর তাকে হারানো খুবেই কষ্টকর।আপনার চাচার আত্মার শান্তি এবং জান্নাত কামনা করছি।

Hassan Imam khan's picture

ভুমিহীন ভাইজান কে...।

আপনার চাচার মৃত্যু সংবাদে ব্যাথিত হলাম। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি ও তার জান্নাত কামনা করি। ভাল থাকুন।
হাসান ইমাম খান,
সুইজারল্যান্ড।

Pogo's picture

vumihinzamidar ভাই

আপনি নিশ্চয় চাচার নয়নমনি ছিলেন। চাচার অনাকাক্ষিত মৃত্যুসংবাদ খুবই পীড়াদায়ক। আমি ওনার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। আরো দোয়া করছি য়েন আপনি এবং ওনার পরিবারের সবাই য়েন তাড়াতাড়ি এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেন। এই খবরটা দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি নিজের যত্ন নিয়েন।

ধন্যবাদান্তে,
পোগো

Pogo's picture

ভুমিহীনজমিদার ভাইকে কেউ দেখেছেন?

গত দু'দিন ধরে ভুমিহীনজমিদার ভাইকে মিস করিতেছি। কেউ দেখেছেন নাকি?

ধন্যবাদান্তে,
পোগো

Pogo's picture

How was your Eid?

Hope this year yours was better that past years.

ধন্যবাদান্তে,
পোগো

Betrayed's picture

Pogo:এখন আর কোন কিছুতেই খুব বেশী খুশি বা দু:খ পাই না|

Pogo:

ঈদ রোববারে হবে ভেবে কোন বাড়তি ছুটি নেই নাই| গিন্নী'র শরীর ভাল নেই, তাই শুধু ২ পদ রেধেছেন| আমার বিল্ডি; এ ২ জনের বাসায় দাওয়াত খাওয়া ও খাওয়ার শেষে রেষ্ট নিয়েই দিন কাবার| রাতে মায়ের সাথে দেশে কথা বললাম, লাইন পাব না জানতাম, তবে বউ ফোন হাতে ধরিয়ে বললো মা'র সাথে কথা বলো| ছোট ভাই ভেনিসে তার সাথে কথা হলো, ডেনমার্কে আরেক ছোট ভাইকে ফোনে পেলাম না, সে নাকী কাজে গেছে :(:(

ঈদ আমি খুব একটা এনজয় করি না, কেন করি না জানি না| জীবনের অনেক ঘাত প্রতিঘাতে এখন আর কোন কিছুতেই খুব বেশী খুশি বা দু:খ পাই না|

ঈদে ফোরাম বন্ধু hridoy এর কাছ থেকে ফুলের তোড়া পেলাম, মনটা ভাল হয়ে গেল, দেখলাম আপনি ও ভূমি ভাই হাসি-তামাশা করছেন ফুল দেয়া নিয়ে| ফুল দেয়াটা ছিল আলীগ কেমনে বিএনপিকে ফুলের তোড়া দেয়......?? দেয় রে ভাই দেয়, ছোট একটা দেশ ভাল করে খুজলে দেখা যাবে সবাই আমরা আত্নীয় হই, বন্ধু হই, নয়তো পড়শী হই| নতুন খবর সা.কা.চৌধুরী ৮০/৯০ জন নিয়ে মেয়র মহি উদ্দীনের বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়ে ছিলেন, সুতরা; hridoy ভাইয়ের সাথে আমার বন্ধুত্বটা হয় এই ফোরামেই গভীর রাতে| hridoy ভাই ও BD08 ভাই লাগলেন ঝগড়া, এডিটর ভাই একটু কঠোর হলেন hridoy ভাইয়ের উপড়|hridoy ভাই ফোরাম ছেড়ে চলে যেতে চাইলেন বাধ সাধলাম আমি| সেই থেকে বন্ধুত্ব|

আমার নীতি একজনের মায়ের ৭ টা সন্তান থাকলে তারা ৭ রকম হয়, কারো মত, পথ কারো সাথেই মিলে না, তার পরও ৭ ভাইয়ের সবাই মাকে ভালবাসে| ঠিক তেমনি মতের মিল না থেকেও ভাই হওয়া যায়, মা সমতুল্য দেশ কে ভালবাসা যায়|
ভালবাসা যে কি ভয়ানক শক্তিশালী ভাল না বাসলে বুজা যায় না| "ভোটার" এর সাথে আমি লাগতে লাগতে একে বারে নিচু পর্যায়ে চলে গিয়েছিলাম, তার পরই হয়ে গেল ভালবাসাবাসি, এখন তাকে খুব মিস করি| রায়হানের চরম বিরোধিতা করার পরও কোন কটু বাক্য সে রায়হানের উপস্হিতিতে করে না, ভাই বলে সন্বোধন করে|
আপানার সাথে কি ভাবে ভাব হলো কে জানে, জানারই বা দরকার কি....?? ভাইয়ের চেয়েও বন্ধু বড় প্রয়োজনীয় প্রবাসে এটা খুব ফিল করি|

** আমার প্রোফাইল পিকচারটা হলো সবুজ ধানের ক্ষেত ও গ্রাম, যা আমার খুব প্রিয়**

Pogo's picture

Betrayed ভাই, ধন্যবাদ আপনাকে

আপনার মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আশাকরি ভাবী খুব তাড়াতাড়ী সুস্থ হবেন।
আপনার এবং হৃদয় ভাইয়ের গভীরা রাতের প্রেম! আশাকরি আপনাদের প্রেমটা য়েন দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে ভাবীদ্বয় এই প্রেম সর্ম্পকে ওয়াকিবহাল তো? খেয়াল রাখিবেন আবার য়েন ..একটু মসকরা করলাম, মনে কিছু নিয়েন না।
হ্যাঁ, ভোটারের সাথে আপনাদের হৃদ্রতার সময় আমিও ছিলাম আশেপাশে। ওখান থেকেই আমি ভোটারের সাথে নিয়মিত কথাবার্তা বলি। আশাকরি শি্ঘ্রই গ্রাম থেকে ফিরে আসবেন। এসে মজার মজার ঘটনা বলবেন।
একটা জিনিস বুঝতে পেরেছি, সেটা হল আপনি এখন আর আমার সব লেখা পড়েন না। আমি ০৯/১৯/০৯ তাং লিখেছিলাম, "আপনার প্রফাইলের নুতন লোগোটা - ভর দুপুরে ঘন সবুজ তাজা ঘাস ও গাছ, এবং শরতের মেঘমালা মিলিয়ে প্রকৃতির লীলাভুমি হওয়াতে আমার দারুন ভাল লেগেছে - যেটা আপনার তারুন্যে ভরপুর মনের প্রতিচছবি। আপনাকে সাদর অভিবাঁধন এবং ধন্যবাদ।" দেখলেন? আমার বর্ননা আপনারটার সাথে মিলে গেল। :)

ধন্যবাদান্তে,
পোগো