আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার পর সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয় নিয়ে প্রাথমিক চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন মহাজোটের শীর্ষনেত্রী শেখ হাসিনা। মহাজোটের ব্যানারে নির্বাচন করলেও দলীয়ভাবে দুই তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় আওয়ামী লীগ এককভাবেই সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা পেয়েছে। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন তার একটি রূপরেখা দাড় করানোর চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা। গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকার খসড়া চূড়ান্ত করছেন। সূত্রমতে, মন্ত্রিসভার কলেবর খুব বড় হবে না। মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা হতে পারে ৩৫জন। নীতিগত অবস্থানে অনড় থেকেই মহাজোটের শরীক দলগুলোর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে একটি ঐক্যমত্যের সরকার গঠনের চিন্তাভাবনা করছেন শেখ হাসিনা। সূত্রমতে, গতকাল সকাল থেকেই সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকা নিয়ে নানাভাবে বিশ্লেষণ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। মনিন্ত্রসভা গঠনের পাশাপাশি আগামী ১০০ দিনের কর্মসূচী নির্ধারণ করা হচ্ছে যার প্রধান কাজ হবে দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রনে বিশেষ পদক্ষেপ।
সূত্রমতে, নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে এবার মন্ত্রিসভা সাজানোর চিন্তাভাবনা করছেন শেখ হাসিনা। নির্বাচনে বিজয়ী দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মন্ত্রিসভায় রাখার প্রশ্নে শেখ হাসিনার মনোভাব ইতিবাচক বলে জানা গেছে। দল থেকে বিজয়ী অপেক্ষাকৃত তরুণদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ মন্ত্রীত্ব পচ্ছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের আভাসমতে, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন তারা হলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুল জলিল, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, ওবায়দুল কাদের, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবের হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ আবুল হোসেন, কর্নেল (অব) ফারুক খান, এডভোকেট সাহারা খাতুন, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, আসাদুজ্জামান নূর, মেজর ( অব) রফিকুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অব) সুবিদ আলী ভুঁইয়া, যুবলীগ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, বীর বাহদুর, ড. হাসান মাহমুদ, দীপাঙ্কর তালুকদার, পাবনার শামসুল ইসলাম টুকু। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন অথবা নুরুল ইসলাম বিএসসি স্থান পেতে পারেন সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায়। দিনাজপুর থেকে ইকবালুর রহীম এবং খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এছাড়াও মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি থেকে মন্ত্রী হতে পারেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জি এম কাদের, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হতে পারেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচ টি ইমাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।
