সুদীপ ঘোষ: বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ‘বন্দিদশা’র অভিযোগ তুলে ভারত ছেড়েছেন। এবার চলে গেলো তার জš§ভূমি বাংলাদেশের নাগরিকত্বও। এখন থেকে বাংলাদেশে আসতে হলে তাকে ভিসার অপেক্ষায় থাকতে হবে। আনন্দবাজার পত্রিকা গতকাল তাদের এক রিপোর্টে একথা জানিয়েছে।
পত্রিকা জানায়, সুইডেনের নাগরিকত্ব নেয়ায় বাংলাদেশ সরকার তসলিমার নাগরিকত্ব খারিজ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সুইডেনের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি নেই। যখন তিনি সুইডিশ নাগরিকত্ব নিয়েছেন, তখনই তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব খারিজ হয়ে গেছে। তসলিমাকে নিয়ে বাংলাদেশ আর আদৌ চিন্তিত নয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকও নন। ফলে তাকে নিয়ে কিছু ভাবতে হলে শুধু ভারতকেই ভাবতে হবে। তসলিমাকে নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কিছুই বলার নেই। বর্তমানে তিনি ভারতের সমস্যাÑ ভারতই ঠিক করবে তাদের কী করণীয়।
তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশ সরকার বিদেশি হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তিনি বাংলাদেশে আসতে চাইলে তাকে একজন বিদেশির মতোই ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এর পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে তাকে ভিসা দেয়া যায় কি-না।
নিজের দেশেই ‘অপরিচিত’ লেখিকা এখন নিউইয়র্কে বোনের বাড়িতে। গিয়েছিলেন শহরে একটি অনুষ্ঠানে সেখানে সযতেœ এড়িয়ে গেছেন মানুষের উপস্থিতি আর সংবাদ মাধ্যমকেও। কবে আমেরিকায় গেলেন, কত দিন থাকছেন, কোথায় ফিরবেন, নাকি স্থায়ীভাবেই থেকে যাবেন আমেরিকায়- পর পর প্রশ্নবাণে এতোটুকু টলানো যায়নি ‘নির্বাসিতা’কে। তবে এসব প্রশ্নের উত্তরে তিনি নিজে জবাব না দিলেও তার ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছেন, তসলিমা যুক্তরাষ্ট্রেই স্থায়ীভাবে থেকে যেতে চান। সে ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড পেতে তার খুব একটা অসুবিধা হবে বলেও মনে করছেন না অনেকে।
তসলিমা এর আগেও অনেক বার যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। তখনো অনেকে ভেবেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রকেই তার স্থায়ী ঠিকানা করবেন লেখিকা। কিš' তা হয়নি। তবে নিউইয়র্ক যে তার একাকিত্ব অনেকটাই লাঘব করবে সে বিষয়ে নিশ্চিত অনেকেই। কারণ, সেখানে তার নিকটাÍীয় ছাড়া রয়েছেন শৈশব আর কৈশোরের অনেক বন্ধু। হয়তো তাদের মধ্যেই মুক্তি খুঁজে পাবেন ছিন্নমূল এই ‘বাংলাদেশি’।
