গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ৫ম অতিরিক্ত দায়রা জজ মোঃ আবু মোহসীন সাবেক সংসদ সদস্য জি এম সিরাজের ধানমন্ডি থানায় দায়েরকৃত মামলায় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। মামলার অপর আসামি এডভোকেট সিগমা হুদার বিরুদ্ধে কোন সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ক্ষমতায় থাকাকালীন জিএম সিরাজের নিকট তার ‘খবরের অন্তরাল’ পত্রিকার জন্য ২টি গাড়ি চাঁদা হিসাবে দাবি করেন। মামলার এজাহারকারী জিএম সিরাজ ৮০০ সিসি মারুতি গাড়ির মূল্য ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকার মধ্যে ২ লাখ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে উত্তরা মোটর্সে পরিশোধ করে সিগমা হুদার নামে গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন করে দেন। আদালত চার্জশিটে উল্লেখিত ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে ৩৮৫ ধারায় ৭ বছর এবং ৩৮৬ ধারায় ৫ বছর সর্বমোট ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরো ৬ মাসের জেল দেন।
এদিকে, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (বিআরটিসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে পৃথক দুটি ঘুষের মামলায় ৭ বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক খোন্দকার কামাল উজ্জামান এ রায় দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফা গত বছরের ১৪ আগস্ট ঘুষ নেয়ার অভিযোগে তৈমুরের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় চারটি মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার এর দুটি’র রায় হলো। মামলার এজাহারে বলা হয়, তৈমুর আলম বিআরটিসির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় বাস কেনার জন্য প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতির স্থানীয় এজেন্ট মেসার্স এসআর ট্রাক্টরস ২০০৪ সালে টাটার ৭৩টি বাস তৈরি করে। কিন্তু তৈমুর গাড়িগুলো বুঝে না নিয়ে এসআর ট্রাক্টরস-এর মালিক শামসুল হুদার কাছে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দিলে তার প্রতিষ্ঠানকে ’কালো তালিকাভুক্ত’ করারও হুমকি দেয়া হয়। শামসুল হুদা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন সময়ে জনতা ব্যাংকের ১২টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে তৈমুর আলমকে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেন। এ মামলার রায়ে তৈমুরকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপর মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তৈমুর আলম খন্দকার ২০০৬ সালে সিএনজি স্টেশনের জমি বরাদ্দের জন্য খিলক্ষেতের ‘নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এ মামলাতেও তৈমুরকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত।
যৌথবাহিনীর সদস্যরা গত বছরের ১৮ এপ্রিল তৈমুরকে গ্রেফতার করে। তার আটকের দিন থেকে এ সাজা কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
