ইত্তেফাক রিপোর্ট: সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার কারণে গত কয়েক বছরে ধনী দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান আশ্চর্যজনকভাবে বেড়ে গেছে। ‘বিশ্ব ডিসেন্ট ওয়ার্ক দিবস’ পালন উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মত প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমের ওপর সকল প্রকার বিধি নিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন এবং শ্রম অধিকার রক্ষায় কার্যরত ৭টি সংগঠন-বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (বিএফটিইউসি), জাতীয় শ্রমিক লীগ (জেএসএল), বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন (বিএসএসএফ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাউন্সিল (বিএনসি) অব টেক্সটাইল গার্মেন্টস এ্যান্ড লেদার ওয়ার্কার্স, হোমনেট-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেইফটি, হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (ওশি) এবং বাংলাদেশ লেবার ওয়েল-ফেয়ার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ)এই প্রথম বার বাংলাদেশে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা পাঠ করেন বিএফটিইউসি’র মামুনুর রশিদ চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান আকন্দ, নুরুল ইসলাম, এ আর চৌধুরী রিপন জেড এম কামরুল আনাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় বলা হয়, এ বছর শ্রমিক সংগঠনসমূহ ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার সহায়তাকারী সংগঠনসমূহ তিনটি মূল বিষয়কে সামনে রেখে ‘বিশ্ব ডিসেন্ট ওয়ার্ক দিবস-৭ অক্টোবর’ পালন করছে। এ তিনটি মূল বিষয় হচ্ছে কর্মস্থলে অধিকার, সংহতি, দরিদ্রতা ও বৈষম্যের অবসান।
লিখিত বক্তৃতায় আরো বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সাধারণ শ্রমিকগণ আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক মারাত্মক ক্রান্তিকাল পার করছে।
বিভিন্ন শিল্পখাতে যেমন: গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, খাদ্য ও পানীয়, মেটাল, জাহাজ ভাঙ্গা, নির্মাণ ইত্যাদিতে ‘লিভিং ওয়েজ’/জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় মজুরী না থাকায় লক্ষ লক্ষ শ্রমিক এবং তাদের পরিবার অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং বাধ্য হচ্ছে অশোভন জীবন-যাপন করতে। দিন দিন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ শ্রমিক তাদের ক্রয় ক্ষমতা হারাচ্ছে, হারাচ্ছে জীবন-যাপনের সাধারণ মান এবং প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ক্যালরী পূরণ করতে না পারায় পুষ্টিহীনতায় ভুগছে-এর সমাধান করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা, সম্পদের সঠিক বন্টন এবং সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সরকারের ব্যর্থতার কারণে গত কয়েকবছরে ধনী ও দারিদ্র্যের মধ্যে পার্থক্য আশ্চর্যজনকভাবে বেড়েছে।
এরই মধ্যে রাষ্ট্রে দীর্ঘ জরুরী অবস্থা চলাকালীন সময়ে শ্রমিকের প্রতিনিধিত্বকারী ট্রেড ইউনিয়নসমূহের দৈনন্দিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে যারফলে ট্রেড ইউনিয়ন বস্তুত অকার্যকর হয়ে আছে। আমারা আশা করেছিলাম যে বর্তমান সরকার ট্রেড ইউনিয়নের ওপর থেকে সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন এবং সংগঠন করার ও যৌথ দরকষাকষিতে শ্রমিকের অংশগ্রহণের অধিকার ফিরিয়ে দিবেন-এ পর্যন্ত আমরা তার কোন লক্ষণ দেখতে পাইনি।
