দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ১৫০ জনের

প্রায় দেড়শ’ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিতর্কিত ব্যক্তির দেশত্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা সবাই কোন না কোনভাবে বিতর্কিত এবং চারদলীয় জোট সরকারের বেনিফিশিয়ারি। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, মূলত গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের নামের তালিকা করা হয়েছে। নির্বাচনের পরপরই রাজনৈতিক হয়রানির আশংকায় দেশত্যাগের হিড়িক পড়বে বলে গোয়েন্দারা সরকারকে সতর্ক করেছেন। নির্বাচনের কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে ৪ শতাধিক ব্যক্তির দেশত্যাগের সম্ভাবনা সম্পর্কে তালিকা করা হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোটের মহাবিজয়ের পর তালিকাটি দ্রুত কাটছাঁট করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন মহাজোট সমর্থিত রাজনৈতিক নেতা ও বিতর্কিত দেড় শতাধিক ব্যক্তি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা নির্বাচনের দিন থেকে প্রতিটি ফ্লাইটের যাত্রী তালিকা সংগ্রহ করে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করছে বলে জানা গেছে। সব বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকাকে এ বিষয়ে সতর্ক থেকে নজরদারি কড়াকড়ি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভিন্ন পাসপোর্টে নাম বদলেও কেউ বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সূত্রও যুগান্তরকে এ ধরনের তালিকার কথা স্বীকার করেছে। তবে এ বিষয়ে অবলম্বন করা হচ্ছে কঠোর গোপনীয়তা। তালিকায় কারা আছেন, তাদের নাম প্রকাশ যাতে না হয় সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। বিমানবন্দর ছাড়াও দেশের সব সীমান্ত বন্দরের ইমিগ্রেশনকেও কড়া সতর্কতার সঙ্গে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর ও সীমান্ত বন্দরগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারিও কড়াকড়ি করা হয়েছে। এত কড়াকড়ি সত্ত্বেও তালিকাভুক্ত কেউ দেশত্যাগ করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, মঙ্গলবার রাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সতর্ক ব্যবস্থার কারণেই সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং অস্ত্র মামলা ও দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবর এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী লুৎফুর রহমান বাদলের দেশত্যাগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তারা মঙ্গলবার রাতে সিঙ্গাপুরগামী এসকিউ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যাওয়ার চেষ্টা করেন। অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বুধবার বিএনপি-জামায়াতের সাবেক ৭ এমপি ও নেতাসহ এক আমলা এবং পুলিশ কর্মকর্তার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য যাওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় এবং ইমিগ্রেশন ও গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে টিকেট রি-কনফার্ম সত্ত্বেও তারা বিমানবন্দরে যাননি। তাদের মধ্যে ২ জন সপরিবারে যুক্তরাজ্য যাওয়ার জন্য টিকিট করেছিলেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, মূলত ৫ ধরনের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের দেশত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেনÑ বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দায়ে মামলা হয়েছে, বিভিন্ন মেয়াদে ও দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্তরা, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে চারদলীয় জোটকে সহায়তা করা, বিতর্কিত সাবেক ও বর্তমান আমলা এবং পুলিশ কর্মকর্তা, চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমননীতি, নির্যাতন ও হয়রানির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এবং বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের তালিকাভুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিরা। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে উল্লেখ আছে। এজন্য জামায়াত-শিবির ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সদস্যরা রাজনৈতিক হয়রানি এবং বিচার এড়াতে দেশত্যাগ করতে পারেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন ও তদন্তাধীন রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে বিচারের পর বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডাদেশ রয়েছে। এছাড়া উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েও অনেকে সক্রিয় রয়েছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া দেশত্যাগে নিষিদ্ধ তালিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন- সাদেক হোসেন খোকা, লুৎফুজ্জামান বাবর, মির্জা আব্বাস, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চট্টগ্রামের জামায়াত নেতা শাজাহান চৌধুরী, ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু, মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, শহিদুল ইসলাম, মোসাদ্দেক আলী ফালু, আমান উল্লাহ আমান, এহসানুল হক মিলন, বরকত উল্লাহ বুলু, নাজিম উদ্দিন আলম, লুৎফর রহমান বাদল, একেএম মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শাহরিয়ার ইসলাম তুহিন, এমএএইচ সেলিম, ইলিয়াস আলী, জহির উদ্দিন স্বপন, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মির্জা খোকন, হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ, মজিবর রহমান সরোয়ার, মিজানুর রহমান মিনু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, মীর মোঃ নাছির উদ্দিন, সালাউদ্দিন আহমেদ, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি, তৈমুর আলম খন্দকার, এম নাসের রহমান, হাফিজ ইব্রাহিম, জিয়াউল হক জিয়া, আরিফুল হক চৌধুরী, নাদিম মোস্তফা, মনোয়ার হোসেন ডিপজল, ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী হেলাল, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ফজলুর রহমান পটল ও জাহেদ আলী চৌধুরী। এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনুরের নামও রয়েছে তালিকায়।

Comments

MajorDalim's picture

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

হাসিনা যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে চায় সবার আগে যেন হাসিনার বেয়াই পুতুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেনের বিচার হয় কেননা তার বিরুদ্ধে সকল ধরনের প্রমান এখন ও মৌজুদ আছে।আইন যেন সবার জন্য সমান হয়।