বিএনপিতে আত্মশুদ্ধি ও ঘর গোছানোর তাগিদ

ইত্তেফাক: নির্বাচনে ফলাফল বিপর্যয়ের পর তা নিয়ে চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। দলের গুলশানের কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব অভিযোগ আসছে তা বিশ্লেষণের জন্য মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম কাজ করছে। এই সেলে দলের ভরাডুবির কারণ সম্পর্কে নানা বক্তব্য-মতামত এবং এখন দলের করণীয় কি তা জানাচ্ছেন মাঠ নেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাঠ নেতারা এই বিপর্যয়ের কারণগুলো সামনে রেখে দলের আত্মশুদ্ধি এবং দলকে সারাদেশে নতুনভাবে সুসংগঠিত করার তাগিদ রাখছেন। তারা পরাজয়ের জন্য দায়ী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি তুলেছেন। বিএনপির সহ-সভাপতি ও এবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এমকে আনোয়ার ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, কাউকে দায়ী না করে আগে আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমালোচনা করতে হবে। বিচার বিশ্লেষণ করে বের করতে হবে পরাজয়ের কারণ। দলকে নতুনভাবে গোছাতে হবে। এদিকে যাদের কারণে দলের ভরাডুবি হয়েছে তাদের গুলশানের কার্যালয় থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা কারার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন কর্মীরা। খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, দ্রুত পরাজয়ের কারণ বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তারপরই তিনি দলকে ঢেলে সাজানোর ব্যাপারে কাজ শুরু করতে চান। চেয়ারপার্সনের বিশ্বস্ত উপদেষ্টা বলে পরিচিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আসম হান্নান শাহকে গতকাল ডেকে নিয়ে করণীয় সম্পর্কে আলাপ করেছেন বেগম জিয়া। তিনি মঙ্গলবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যারা ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন তাদের চরমভাবে কটাক্ষ এবং ভর্ৎসনা করেন। বৈঠক সূত্র জানায়, বেগম জিয়া চেয়েছিলেন ফেব্রুয়ারী-মার্চে নির্বাচনে যেতে। তবে জামায়াত এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যদের চাপে তিনি ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। বেগম জিয়া নির্বাচন সম্পর্কে তার কাছে আসা নানা অভিযোগ সম্পর্কে আলোচনা করেন।

অপরদিকে দলের পরাজিতরা এখনি হার্ডলাইনে যাবার পক্ষে মতামত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য শপথ বর্জনের চাপ রেখে অগ্রসর হতে চান তারা। এই বৈঠকে কারো কারো অভিমত শপথ না নিয়ে, সংসদে যোগ না দিয়ে এখনই আন্দোলন শুরু করার পক্ষে। কেউ মনে করেন, দল হিসেবে বিএনপি একেবারেই অসংগঠিত। দল গুছিয়ে তারপর আন্দোলনে যাওয়া উচিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র নেতা বলেন, স্থায়ী কমিটির যে ক’জন সদস্য নির্বাচন করেছেন তাদের সবাই নির্বাচনে হেরেছেন, একমাত্র চেয়ারপার্সন ছাড়া। দু’জন শুধু নির্বাচন করেননি। এমপি না হলে সংসদ বর্জনে চাপ দেবেন- এটা তো পুরনো রাজনৈতিক ‘কালচার’। এ ব্যাপারে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম. শামসুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে। এসব বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, হার্ডলাইন বা সফটলাইন বুঝি না। অভিযোগের সত্যতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শপথ না নেয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।

এদিকে জানা যায়, নির্বাচনের ফলাফল প্রাথমিকভাবে প্রত্যাখ্যান করলেও কারচুপির কোনো ক্লু পাচ্ছেন না তারা। তাই এখনি এ কারচুপির ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে রাজি নয়। গুলশানের কার্যালয়ে দলের রিসার্চ, এনালাইসি, মনিটরিং টিম, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বলছে, আওয়ামী লীগের দ্রব্যমূল্য ও সারের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি ভোটারদের প্রভাবিত করেছে। তবে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) জেড এ খান পরাজয়ের কারণ সম্পর্কে ইত্তেফাককে বলেন, দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দল, দুর্নীতিবাজদের মনোনয়ন, যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের কথা না বলায় এই ভরাডুবি ঘটেছে। মেজর (অব) আখতারুজ্জামান মনে করেন, কেউ কেউ শুধু মনোনয়ন বাণিজ্য করার জন্যই গুলশানের কার্যালয়ে আসতেন। তারাও পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। তাদেরকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। এ ব্যাপারে ব্রিগেডিয়ার (অব) হান্নান শাহ বলেন, দলের শত্রুদের কারণে বিপর্যয় নেমে এসেছে।