৭৪ আসনে ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশের বেশি

আলতাব হোসেন: নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৪ আসনে ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশের ওপর। আর বেশিসংখ্যক ভোট পড়েছে ১২২ আসনে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ করে। সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে রাজশাহী-৫ আসনে ৯৪.৮৯ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে ঢাকা-১১ আসনে ৭২.৪৮ শতাংশ। মাত্র ৫ আসনে ভোট পড়েছে ৭৫ শতাংশের কম।

নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার মোট ভোট পড়েছে ৮৬.২৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৭৪ আসনে ৯০.০১ থেকে ৯৪.৮৯ শতাংশ, ১২২ আসনে ৮৫.৭৭ থেকে ৮৯.৯১ শতাংশ, ৬৯ আসনে ৮০.০৮ থেকে ৮৪.৯৯ শতাংশ, ২৯ আসনে ৭৫.২২ থেকে ৭৯.৯৮ শতাংশ করে ভোট পড়েছে। আর সর্বনিম্ন ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে মাত্র ৫টি আসনে। ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে নির্বাচন হয়। নোয়াখালী-১ আসনের নির্বাচন ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনে বিভাগীয় শহরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি রাজশাহী বিভাগে ৯০.৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে চট্টগ্রামে ৮২.৫৮ শতাংশ। এছাড়া ঢাকায় ৮৪.৪৪ শতাংশ, বরিশালে ৮৪.১৮ শতাংশ, খুলনায় ৯০.৩৮ শতাংশ এবং সিলেটে ভোট পড়ে ৮৪.৮২ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দলভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার আওয়ামী লীগ ৪৮.০৬ শতাংশ, বিএনপি ৩২.৪৫ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ৭.০৫ শতাংশ আর জামায়াতে ইসলামী ২.৯৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে বাকি ভোট পেয়েছে।

এদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার ক্যাটেগরিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের অবস্থান শীর্ষে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তুলনায় তিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। রংপুর- ৩ আসনে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৬ ভোট। এরশাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধানও দুই নেত্রীর ব্যবধানের চেয়ে বেশি। রংপুর-৩ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ২ লাখ ১৯ হাজার ৪০৬। এরশাদ তিনটি আসনে যে ভোট পেয়েছেন তাও দুই নেত্রীর তিন আসনের মোট ভোটের চেয়ে বেশি। এরশাদ তার তিন আসনে মোট পেয়েছেন ৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৮৭ ভোট। অন্যদিকে দুই নেত্রীর চেয়ে এরশাদের আসনে ‘না’ পড়েছে বেশি। তার তিনটি আসনে ‘না’ ভোটের পরিমাণ ৯ হাজার ৭০২টি।

কুড়িগ্রাম-২ আসনে এরশাদ ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ৯ হাজার ৫০৫। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তাজুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৭৪ ভোট। এ আসনে ‘না’ ভোট পড়েছে ৯৫টি। এদিকে রংপুর-৩ আসনে এরশাদ পেয়েছেন ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৬ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৪০ ভোট। এরশাদের সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ২ লাখ ১৯ হাজার ৪০৬। এ আসনে ‘না’ ভোট পড়েছে ৩ হাজার ৯৯৪টি। ঢাকা-১৭ আসনে এরশাদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৩৬ ভোট। এ আসনে এরশাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আ স ম হান্নান শাহ পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২৬৭ ভোট। এ আসনে ‘না’ ভোটের সংখ্যা ৬ হাজার ২১৩টি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এরশাদের ৩ আসনে ‘না’ ভোটের পরিমাণ ৯ হাজার ৭০২টি।

এদিকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা রংপুর-৬ আসনে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৪২। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নুর মোহাম্মদ ম-ল পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৭২টি। এ আসনে ‘না’ ভোটের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৪টি। বাগেরহাট-১ আসনে শেখ হাসিনা পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৯ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শেখ ওয়াহিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৫৩৩ ভোট। এ আসনে ‘না’ ভোট পড়েছে ৯৫৮টি। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে শেখ হাসিনা পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এস এম জিলানী পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৫১ ভোট। এ আসনে ‘না’ ভোট পড়েছে ৭১০টি।

অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মমতাজউদ্দিন পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৩৪ ভোট। এ আসনে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ হাজার ৪৩৬টি। বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়া পেয়েছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আলতাব আলী পেয়েছেন ৯২ হাজার ৮৩৩ ভোট। এ আসনে ‘না’ ভোট পড়েছে ১ হাজার ৫৮৭টি। ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ফয়েজ আহমদ পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৫৫১ ভোট। এ আসনে ‘না’ ভোট পড়েছে ৯০২টি।