কোকো ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

মিজানুর রহমান খান, প্রথমআলো: ‘আরাফাত রহমান কোকো ও তাঁর সহযোগীরা একটি বিদেশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অপরাধ করেছেন।’ কোকো ও সিমেন্সের সঙ্গে যুক্ত থাকা ফজল সেলিম ও জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে কলম্বিয়ার আদালতে গত ৬ জানুয়ারি দায়ের করা আরজিতে মার্কিন আইন মন্ত্রণালয় এভাবে গুরুতর অভিযোগ এনেছে। আরজিতে এই চাঁদাবাজি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আরজিতে বিশেষভাবে ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ‘বাংলাদেশের কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারসমূহকে’ ৩২ লাখ ডলারের দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে ঘুষ বিতরণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে গিয়াসউদ্দিন মামুন, তারেক রহমান, সাইফুর রহমানের ছেলে বাবু এবং সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রীর ছেলে ও গ্যাটকোর অন্যতম পরিচালক কাজলের নামটিও উল্লিখিত হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছে যে আরাফাত রহমান কোকো ও সিমেন্স জেনেশুনেই বেআইনি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হয়। দন্ডবিধির ৩৮৩ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে কোকোর বিরুদ্ধে। এই ধারায় তাঁর তিন বছর জেল হতে পারে।
এদিকে গতকাল ঢাকায় মার্কিন দুতাবাসের মুখপাত্র প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে আইন ও বিচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও বিদায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল সালাহউদ্দিন আহমেদের জবানিতে ২০ কোটি মার্কিন ডলার পাচারের সঙ্গে আরাফাত রহমান কোকোসহ জোট সরকারের ১২ জন মন্ত্রীর জড়িত থাকার খবর সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের কাছে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের সুত্রে গত ১২ জানুয়ারি প্রথম আলোর প্রথম পাতার শীর্ষ সংবাদ হিসেবে ‘১৩৮০ কোটি টাকা ঘুষ কোকোসহ জড়িত ১২’ শীর্ষক প্রতিবেদন ছাপা হয়। একই দিন অন্যান্য গণমাধ্যমেও এ তথ্য ফলাও করে ছাপা হয়। কিন্তু প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা যায়, মার্কিন প্রতিনিধিদল গত ১১ জানুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় এবং পরদিন দুদকের দপ্তরে বৈঠক করে। মার্কিন কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রণালয়ের (ফেডারেল জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট) মুদ্রা পাচারসংক্রান্ত শাখার উপপ্রধান লিন্ডা এম স্যামুয়েল এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ডেবরা হেপ্লেভট ঘুষ কেলেঙ্কারি তদন্তে বাংলাদেশে আসেন। দুদকের সঙ্গে বৈঠককালে ২০ কোটি ডলার ও জোট সরকারের ডজনখানেক মন্ত্রীর জড়িত থাকাসংক্রান্ত মিডিয়ার খবরের বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা উষ্ক্না প্রকাশ করেন। তাঁদের যুক্তি: এ ধরনের ইস্যু এমনিতেই সংবেদনশীল। সুতরাং সতর্কভাবে কথাবার্তা বলাই সংগত। দায়িত্বশীল সুত্রমতে, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের অতিরঞ্জিত বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন মহলেও প্রতিক্রিয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে উপস্িথত দুদকের আইনজীবী আনিসুল হক গতকাল বলেন, ‘মার্কিন প্রতিনিধিদল ২০ মিলিয়ন ডলারের হদিস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে কোকোর হিসাবে তিন মিলিয়ন ডলার এবং অন্যত্র ১৭ মিলিয়ন ডলারের খোঁজ মিলেছে।’

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ডজনখানেক মন্ত্রীর কথা তাঁরা বলেননি। আর আমি ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিষয়টি আইনমন্ত্রীর প্রদত্ত বক্তব্যের আলোকেই পুনরাবৃত্তি করেছি মাত্র। তবে আমি যে বিষয়টি মূলত ব্যাখ্যা করতে চেয়েছি তা হলো, এ ধারণা অমূলক যে মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে টাকা নিতে এসেছে। তাঁরা বরং আশ্বস্ত করেছে যে উদ্ধার হওয়া সম্পদ তারা বাংলাদেশের সরকারি কোষাগারে জমা দেবেন।

আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মার্কিন প্রতিনিধিদলটি মূলত অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের আমন্ত্রণেই বাংলাদেশ সফরে এসেছে। আমার সঙ্গে তাদের নিতান্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘটে। ২০০ মিলিয়ন ডলার ও ডজনখানেক মন্ত্রীর বিষয়ে তাঁর মন্তব্য: ‘তদন্ত শুরু হয়েছে, অপেক্ষা করুন। সুষ্ঠু তদন্তে সবকিছুই স্পষ্ট হবে।’ এ বিষয়ে মার্কিন মুখপাত্র গতকাল প্রথম আলোর দুটি প্রশ্নের জবাবে যা বলেছেন তা নিচে দেওয়া হলো:

প্রথম আলো: আইনমন্ত্রী বলেছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল কোকো ছাড়াও বাংলাদেশের প্রায় এক ডজন রুই-কাতলার নামের একটি তালিকা হস্তান্তর করেছে। বাংলাদেশ সরকারের কোনো অংশের কাছে এ রকম তালিকা দেওয়া হয়েছে কি না।

মার্কিন মুখপাত্র: ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের সফররত কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দায়ের করা সম্পদ বাজেয়াপ্তসংক্রান্ত মামলা নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন। আমাদের চলতি কার্যক্রম ব্যাংক হিসাবসমূহের (যেখানে বেআইনি অর্থ গচ্ছিত) বিরুদ্ধে পরিচালিত। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।’

প্রথম আলো: আইনমন্ত্রী এএফপিকেও বলেছেন, মার্কিন সরকার অবৈধভাবে পাচার হওয়া ২০০ মিলিয়ন ডলার উদ্ধারে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে। দুদকের আইনজীবী আনিসুল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কেবল ২০ মিলিয়ন ডলার সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। এর মধ্যে তিন মিলিয়ন সিঙ্গাপুরে এবং অন্যত্র ১৭ মিলিয়ন পাওয়া গেছে বলে মার্কিন প্রতিনিধিদল উল্লেখ করেছে। টাকার এই অঙ্ক সঠিক কি না।

মার্কিন মুখপাত্র: ‘আমরা মার্কিন বিচার বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এতে বলা হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় তিন মিলিয়ন ডলার সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। আমরা ধারণা করতে পারি, ২০০ মিলিয়ন ডলারের তথ্যটি বাংলাদেশ সরকারের, এতে তাদের তদন্তাধীন সামগ্রিক দুর্নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার হওয়া যেকোনো পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এ ধরনের বিষয় মার্কিন সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।’ দুদকের নির্ভরযোগ্য সুত্র গতকাল নিশ্চিত করে যে সিঙ্গাপুরে জব্দ হওয়া তিন মিলিয়ন ডলারের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থও রয়েছে। এই অর্থ দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মোবাইল ফোন কোম্পানি। এটি বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। এর আগে সিমেন্স ও চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের প্রদত্ত ঘুষের কথাই জানা ছিল।

গতকাল চীনের দ্য স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় বেঞ্জামিন স্ক্যান্ট তথ্য দেন যে ২০০৭ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী চায়না হারবার লিমিটেড এখন হংকংয়ে তালিকাভুক্ত চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) লিমিটেডের পূর্ণ মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সিসিসিসি তার প্রাথমিক শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে টাকা তোলার প্রস্তাব দেয়। এ সময় তারা জনসাধারণকে জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর তাদের অন্যতম বৈদেশিক প্রকল্প। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও চায়না রোড ও ব্রিজ করপোরেশন একীভুত হয়ে সিসিসিসি গঠিত হয়।

কলম্বিয়া আদালতের আরজিতে মামলার পটভুমি ব্যাখ্যা করে বলা হয়, ‘১৯৯১ সালের মার্চ থেকে মার্চ ১৯৯৬ এবং পুনরায় অক্টোবর ২০০১ থেকে অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জুন ১৯৯৬ থেকে জুলাই ২০০১ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই সময়ে বাংলাদেশ টিআই সুচকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের অন্যতম বলে চিহ্নিত হয়। ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে আইন মন্ত্রণালয় ও এফবিআই বাংলাদেশ সরকারের কতিপয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং তাঁদের পরিবারসমূহের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। এতে প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের বহুসংখ্যক সদস্য বাংলাদেশে ব্যবসা করা ও সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দিতে ঘুষ নেয়। এবং এর উল্লেখযোগ্য অংশই মার্কিন ডলারে এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে কোকোকে ‘প্রটেকশন মানি’ দেওয়া হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর ২০০৮ সিমেন্স বাংলাদেশ ও ভেনেজুয়েলায় কাজ পেতে ঘুষ দেওয়ার দায় স্বীকার করে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেয়। বাংলাদেশে সিমেন্সের পক্ষে কাজ বাগানো ও ঘুষ লেনদেন হয় ফজল সেলিম ও জুলফিকার আলীর মাধ্যমে। অস্ট্রিয়া, সাইপ্রাস ও জুরিখে ব্যাংক হিসাবকেও তাঁরা এ কাজে ব্যবহার করেছেন। সেলিম ও আলী উভয়ে স্বীকার করেন, নভেম্বর ২০০৪ থেকে আগস্ট ২০০৬ সালের মধ্যে সেলিম তাঁর সিঙ্গাপুরের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টে (নম্বর ০১৭৪০০১৭৭০) সিমেন্স থেকে মোট ১৮ লাখের বেশি ডলার এবং আলীর অ্যাকাউন্টে (নম্বর ০১৭৪৫৩৭৪৬) ১৪ লাখের বেশি ডলার জমা হয়। তাঁরা দুজনেই স্বীকার করেন, এই তহবিল তাঁরা বাংলাদেশের কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন।

এই পর্যায়ে আরজিতে লিন্ডা এম স্যামুয়েল গিয়াসউদ্দিন মামুন ও তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। ‘মামুন বাংলাদেশে একজন শক্তিশালী ব্যবসায়ী। মনে করা হয়, তিনি কোকোর ভাই তারেক রহমানের পক্ষে ঘুষ নিতেন।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া আদালতে মার্কিন সরকারের বিচার বিভাগের দায়ের করা ২০ পৃষ্ঠার আরজির ফুটনোটে ওই তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশ সফররত মার্কিন বিচার বিভাগের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও মানি লন্ডারিং বিভাগের উপপ্রধান লিন্ডা এম স্যামুয়েলের সই করা আরজির আট নম্বর পৃষ্ঠার ১৫ নম্বর দফায় তারেক রহমানের প্রসঙ্গটি এসেছে এভাবে: কোকোকে দেওয়া ঘুষের টাকা সম্পর্কে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে জুলফিকার আলী বলেন, কোকো তাঁর কাছে ধরনা দেন এবং বিটিটিবি প্রকল্পের বিষয়ে ঘুষ দাবি করেন। আলী এ ব্যাপারে মো. গিয়াসউদ্দিন মামুনের কাছে অভিযোগ করেন। মামুন তাঁকে বলেন, কোকো তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আলী বলেন, কোকোকে যদি চাঁদাবাজির (এক্সটরশন) অর্থ না দেওয়া হতো, তাহলে কোকো সিমেন্সের বিটিটিবি প্রকল্প পাওয়ায় বাগড়া দিতে পারতেন। কোনো মূলত এ মামলার এক নম্বর আসামি।

আরজিতে বলা হয়, সিমেন্সের বাংলাদেশের স্থানীয় নির্বাহী সিঙ্গাপুরে কোকোর জেডএএসজেড কোম্পানির হিসাবে এক লাখ ৮০ হাজার ডলার স্থানান্তরের কথা বলেন। কিন্তু ওই হিসাব কোকোর কি না, তা নিশ্চিন্ত হতে আলী সময় নেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে বাবুর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে তিনি টাকা জমা করেন। বাবু হুয়াইকে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৮ আগস্ট ২০০৫ আলী কোকোর সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংক হিসাবে (নম্বর ১০৯৩১০১৩৯৭) ওই অর্থ জমা দেন।

চায়না হারবারের বিষয়ে আরজিতে বলা হয়, বাংলাদেশে পরিচালিত তদন্তে প্রমাণিত হয় যে চায়না হারবারকে চট্টগ্রাম বন্দরের কাজ দিতে ৫ ডিসেম্বর ২০০৪ চায়না হারবার, জুল্লুর রহমান ও আদনানুল ইসলাম চৌধুরীর মধ্যে সমঝোতা স্নারকে সই হয়। শর্ত হয়, ওই কাজ পাইয়ে দিতে কমপক্ষে ১৯ কোটি টাকা ঘুষ দেবে ওই দুজন এবং এ কে এম মুসা কাজলকে। কাজল অন্যান্য কর্মকর্তাকে দেবেন। মুসা কাজল বহুল আলোচিত গ্যাটকোর অন্যতম পরিচালক। আরজিতে বলা হয়, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় কাজল অন্যতম অভিযুক্ত। তদন্তে দেখা গেছে, ওই টাকার ভাগ কোকো ছাড়াও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রীর ছেলে পেয়েছেন। এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট মিজ লাপ্রেভোত্তে এই মামলার প্রাথমিক অনুসন্ধান করেন।

আরজির ৩৫ দফায় কোকোর জেডএএসজেড নামের কোম্পানির যেকোনো সহায়-সম্পদ মার্কিন সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্তযোগ্য বলে দাবি করা হয়।

অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, মার্কিন আইন মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা মামলাটি একটি দেওয়ানি মামলা। এটি কেবল দায়ের করা আরজির পর্যায়ে নেই। আদালত এটি গ্রহণ করেছেন। প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘ভবিষ্যৎই বলে দেবে, এ মামলায় বাংলাদেশ সরকার আদৌ কোনোভাবে পক্ষ হওয়ার প্রশ্ন আসবে কি না। তবে যারাই অভিযুক্ত হয়েছেন, তাঁরা নিশ্চয় আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন।’

Comments

KAY's picture

That was a good decision.

Hasina,took the ones from old MPs who did not have any allegation of corruption against them like Motia Choudhury.Now media and opposition will not be able to point finger to any of them and thus embarrass her newly formed government.

WatchDog_bd's picture

সেলিম সাহেব -WatchDog

একটা প্রশ্ন না করে পারছিনা, আপনার কাছে কোন জিনিষটা প্রথম, আপনার জন্মভূমি না জিয়া পরিবার? ককো, তারেক এবং মামুন গংদের অপরাধকে পাশ ডিঙ্গিয়ে আওয়ামী অপরাধের প্রসংগ টেনে কি বুঝাতে চাইছেন বোধগম্য হলনা? মার্কিন ফেডারেল জাষ্টিস ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের র্নিলজ্জ, বেহায়া, মিথ্যুক রাজনীতিবিদদের তাবেদারী প্রতিষ্ঠান নয় যে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কাউকে হেয় করবে। আপনি কি জানেন জেল হতে মুক্তি পেয়ে এই দুই চোর কেন যুক্তরাষ্ট্রে যায়নি? তারা জানত ঐ দেশের ফেডারেল সরকার তাদের অপরাধের তদন্ত করছে এবং যে কোন সময় গ্রেফতার করতে পারে। ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন এবং দেখুন নদীর পানি কোন দিকে গড়ায়। যদি প্রমানিত হয় এই কুলাংগারের দল মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঘুষ খেয়ে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগকে কলুষিত করেছে, তা হলে দলীয় আর দেবী পূজার গন্ডি হতে বের হয়ে সোচ্চার হউন এ সব অপকর্মের বিরুদ্বে। এ টা কোন দলীয় ইস্যু নয়, রাষ্ট্রীয় ইস্যু । এ সব অনাচারের সমাপ্তি টানা না গেলে বাংলাদেশে কখনোই অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ে উঠবেনা। আওয়ামী লীগ বিএনপি মুদ্রারই অন্য পিঠ, র্দুনীতির কালিমা সবার তঘমায়, including Sheikh Hasina। কিন্তূ ককো তারেক গংরা এই মিছিলে চ্যাম্পিয়ন। একজনের অপরাধ অন্যজনেরটা দিয়ে ঢাকার চেষ্টা একেবারেই শিশু শুলভ বলে মনে হয়।

ভাল থাকুন

hridoy's picture

হ SalimC চাচা, তুমি ঠিকই কহিতেছ...........

Imageহ SalimC চাচা, তুমি ঠিকই কহিতেছ। ঠিক তোমার নেত্রীর মত। আর তোমার লেখা পড়ার আদলও ঠিক তোমার নেত্রীর মত। তয় চাচা, তুমি কয় কেলাসে "স্বশিক্ষিত"? "তাই বলি ভাই know them selp"-----চাচা, কও তো দেখি এইডার অর্থডা কি?

সবাই ভাল থাকুন,
সুস্হ থাকুন,
সুন্দর থাকুন-
-হৃদয়

SalimC's picture

আওয়ামি লিগ এর old mp-montri সবাইকে বাদ দিলো কেন?

ঠিক কইছ মনু তাহলে আওয়ামি আমলে দুরনিতির পাহাড কে করছিল?১৯৯৬- ২০০১ এ কে bangladesh কে সনতাসির ঘাটি করছিলো ?দুরনিতিতে কে first champion হয়য়াছিল ?তাহলে আওয়ামি লিগ এর old mp-montri সবাইকে বাদ দিলো কেন? তাই বলি ভাই know them selp , ভাল কে ভাল মনদকে মনদ বলটে শিখ ,টয়লেটকে টয়লেট বল ,গনদ কে সুবাস বইলোনা,নিরবাচনের পর ঠেকে এযাবত ১২০০ লোককে কে পংগু করছে? ২২ জন (bnp)বি এন পির নেতাকে কে খুন করেছে, অসনখ বাডি ঘর কে জালিয়েছে ?