মাছসহ দাম বেড়েছে শাক-সবজির

উপজেলা নির্বাচনের প্রভাব পরেছে ঢাকার কাঁচাবাজারে। নির্বাচনে গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞ থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মালামাল পৌঁছুতে পারেনি রাজধানীতে। আর তাই বৃদ্ধি পেয়েছে মাছ ও তরিতরকারিসহ শাকসবজির দাম। সব ধরনের মাছেই কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। শীতের সবজির দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে চালসহ অন্যান্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজার স্থিতিশিল রয়েছে। রাজধানীর করওয়ান বাজারে শুক্রবার ফোকাস বাংলা নিউজের সরেজমিন অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাচনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পরেছে মাছের বাজারে। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দেখা দিয়েছে মাছের সংকট। এ কারণেই সব ধরনের মাছের দামই বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশি রুই প্রতি কেজি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মিয়ানমারের রুই ১২০ থেকে ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পুঁটি ১২০ টাকা, কাচকি ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, স্বর পুঁটি ১২০ টাকা কেজি দড়ে বিক্রি হচ্ছে। মাছের রাজা ইলিশের দাম প্রতিটি ১৩০ থেকে ৭০০ টাকা। দোকানিরা জানান, দু দিন আগেও এসব মাছের দাম কেজি প্রতি ৩০-৪০ টাকা কম ছিল। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দু একদিনের মধ্যেই দাম কমে আসবে বলে জানান ব্যবসায়িরা।

শাকসবজির বাজারও কিছুটা চড়া। কিছু কিছু সবজির দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেগুন ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ টাকা, সিম ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ টাকা, খিরাই ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৪ টাকা আলু ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৪ টাকা, পেঁপে ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১২ টাকা কেজি দড়ে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্ন সবজির দাম স্থিতিশিলই রয়েছে। টমেটো ২৫ টাকা, গাজর ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৫ টাকা প্রতি কেজি এবং লাল শাক ৫ টাকা, পুঁই শাক ১২ টাকা, পালংশাক ৫ টাকা, লাউ শাক ১০ টাকা আঁটি, মাঝারি সাইজের ফুল কপি প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা, বাঁধা কপি ১৫ থেকে ১৮ টাকা দড়ে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ পাইকারি বাজার থেকে পণ্য কিনতে হলে তাদের শৎকরা দশ ভগ হারে চাঁদা আদায় করা হয়। এ চাদা বন্ধ করতে পারলে প্রতিটি পণ্যের দাম কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা কমানো সম্ভব বলে দাবি তাদের।
তবে বাজার করতে আসা নর্দান জেনারেল ইনসুরেন্সের কর্মকর্তা খুদিরাম সমাদ্দার বলেন, বাজার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে না পারলে পন্যে দাম কমানো সম্ভব হবে না। কৃষককে সরাসরি ঢাকায় এনে পন্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। এতে করে মধ্য সত্তভোগিদের উৎপাত বন্ধ হবে। কৃষকও লাভবান হবে। ভোক্তাও কম দামে পণ্য পাবে। তাই অবিলম্বে বিকল্প বাজার ব্যবস্থ গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।
ডিমের দামও বেড়েছে হালি প্রতি ২ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিম ২৮ টাকা, হাসের ডিম ২৮ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৩২ টাকা হালি দড়ে বিক্রি হচ্ছে।

তবে চাল, ডাল আটার বাজার স্থিতিশিল রয়েছে। মোটা চাল ২৪ টাকা, পাইজাম ২৯ থেকে ৩২ টাকা, মিনিকেট ৩৮ তেকে ৪২ টাকা, নাজির শাইল ৩৬ থেকে ৪২ টাকা কেজি দড়ে বিক্রি হচ্ছে।
মসুর (দেশি) ১০৫ টাকা, মসুর ( ইন্ডিয়ান) ৮০ টাকা, খোসারি ৫৫ টাকা, এঙ্কর ৩৫ টাকা এবং মুগ ডাল ৮৫ টাকা কেজি দড়ে বিক্রি হচ্ছে। আটা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা এবং ময়দা ৩৩ টাকা কেজি দড়ে বিক্রি হচ্ছে।

আগের মতই আছে পেয়াজ, রসুন, আদার দাম। পেয়াজ (দেশি) ৩০ টাকা, পেয়াজ (ইন্ডিয়ান)৩৪ টাকা, রসুন (দেশি) ৬০ টাকা, রসুন (ইন্ডিয়ান) ৩০ টাকা, আদা (দেশি) ৪৫ টাকা, আদা (ইন্ডিয়ান) ৫০ টাকা কেজি দড়ে বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্য তেলের বাজারও স্থিতিশিল রয়েছে সয়াবিন ৮৭ টাকা এবং পাম ওয়েল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দড়ে বিক্রি হচ্ছে। শনিবার থেকে সয়াবিনের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা কমবে বলে জানালেন ব্যবসায়িরা।

মাংসের বাজার স্থিতিশিল আছে তবে বেড়েছে দেশি মুরগির দাম। প্রতি পিস দেশি মুরগি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গুরুর মাংশ আগের মতই ২২০ টাকা, মহিস ২০০ টাকা, খাসির ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা কেজি দড়ে বিক্রি হচ্ছে।