বিটিসিএল ৩৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২১ টি মামলা দায়েরের সুপারিশ দুদক এর

বিটিটিবির (বর্তমানে বিটিসিএল) ২৩ কোটি ৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৩৩ টাকা আতœসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠনটির ৩৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক ২১ টি মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক মহাপরিচালক কর্নেল হানিফ ইকবাল সোমবার দুদকে কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংএ এসব কথা জানান। সরকার পরিবর্তনের ফলে দুদকের কার্যক্রমে কোন প্রতিবন্দকতার সৃষ্টি হয়নি বলেও জানান তিনি।

কর্নেল হানিফ ইকবাল বলেন, বিটিসিএলএর ১৪ টি বিভাগিয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বাজেট বহির্ভূত ২০ কোটি ৫২ লক্ষ ১ হাজার ২০৫ টাকা ব্যায় সহ দুর্নীতির মাধ্যমে মোট ২৩ কোটি ৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৩৩ টাকা অপচয় ও আতœসাতের অভিযোগে বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুর রহিম, ফেরদৌস আলম, মোঃ জাবেদ রব্বানী, মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা, মোঃ আইয়ুব আলী, রইসউর রহমান, কবির হাসান, শাহজাহান আলী মোল্লা, নাজিম উদ্দিন প্রামানিক, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ ফখরুল হায়দার চৌধুরী, এ কে এম জাফর সাদেক, আহসান হাবিব তপাদার, মোঃ মুসফিকুর রহমান, মোঃ আব্দুল আওয়াল, অজিত কুমার মুহরী, প্রদিপ কুমার সাহা, উৎপল দেওয়ান, মোঃ হাবিবুর রহমান, খোন্দকার জুবায়ের হাসান, জুলফিকার ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী সাধন কুমার দাশ, হাবিবুর রহমান প্রমানিক, খোরশেদ আলম, আখতারুজ্জামান, ব্রজ গোপাল বনিকক, মোঃ ইউসুফ আলী, মোঃ নাসির, স্বপন কুমার রায়, মোঃ খলিলুর রহমান, হাবিবুল্লাহ কায়সার, মোঃ জাকারিয়া ফরিদি, বিভাগিয় হিসাব রক্ষক গোপেন্দ্র লাল রায়, মোঃ আব্দুস সামাদ, হাবিবুর রহমান আজাদ, নিত্য নন্দ বর্ধন, এ কে এম কামাল উদ্দিন ও এস এম লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীীত প্রতিরোধ আইনে পৃথক পৃথক ২১টি মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছে দুদক।
এ সময় দুদক মহাপরিচরক বিটিসিএলএর ঢাকার শেরেবাংলা নগরস্থ পরিচালকের (সংগ্র) কার্যালয়ের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুদকে অনুসন্ধানে এ কার্যালয়ে ২০০১-২০০২ অর্থ বছরে বাজেট বহির্ভুত বিপুল পরিমানে অর্থ আতœসাতে ঘটনা ধরা পরে। এ সময় সেখানে টেন্ডার ডকুমেন্ট, আপ্যায়ন, পোর্টর কুলি খরচ এবং বিভিন্ন ধরনের ভুয়া বিল ও ভাওচারের মাধ্যমে ৮৭ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৪০ টাকা আতœসাত করা হয়েছে।

অপদিকে সেন্ট্রল টেলিগ্রফ অফিস সহ এর সকল কর্যক্রম বন্ধের জন্য বিটিসিএল এর কাছে সুপরিশ করেছে দুদক। কারন হিসাবে দুদক মহাপরিচালক বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকেই টেলিগ্রফের কাজ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়ে এখানে ২ কোটি ৭৮ হাজার ১১১ টাকা আয় হলেও ব্যায় হয়েছে ২৯ কোটি ৭৬ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০৭ টাকা। এ ছারাও কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতির ঘটনাও ঘটেছে সেখানে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নিজের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনের নামে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে নোয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ২টি পৃথক মামলা দায়েরেরও অনুমোদন দিয়েছে দুদক।