
যুদ্ধাপরাধী ৫৪ ব্যক্তির দেশত্যাগ ঠেকাতে ১২ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বিশেষ এ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ৩ জন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ৪ জন ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার ৩ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ব্যক্তিরা যাতে কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে এদের বিমানবন্দরে পদস্থ করা হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে স্থল, জ্বল ও আকাশ পথে নেয়া হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি।
শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এড. সাহারা খাতুন সাংবাদিকদের বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীরা যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গে ৭১ বিধিতে জরুরী জনগুরুত্বপূর্ন বিষয়ে মনযোগ আকর্ষনী নোটিশ উত্থাপন করেন। তিনি প্রস্তাবটি উত্তাপন করে বলেন, ৩৮ বছরেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়নি। আর দেরী না করে এদের বিচার করতে হবে। এদের বিচার না করলে ৩০ লাখ শহীদ আমাদের অভিশাপ দেবে।
সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা আজ গোটা জাতির দাবি। তা ছাড়া এটা আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার। আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে এই অঙ্গীকার করেছি। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আমরা জাতিসংঘের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ধরনের আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা চলছে। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা অবশ্যই করবো। তাদের বিচার অবশ্যই হবে। সুতরাং উত্থাপিত প্রস্তাবটি গ্রহণ করা যেতে পারে।
সংসদে যুদ্দাপরাধীদের বিচারের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়ায় নতুন করে আতংক সৃষ্টি হয়েছে ৭১ এর যুদ্দাপরাধীদের মাঝে। বৃহস্পতিবার রাতেই তারা দেশ ছেড়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর ও কুয়েতের পথে পারি জমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বলে একাধিক সূত্রে জানাযায়।
যুদ্ধাপরাধীরা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারে এমন আশংকাং বিমান বন্দর ও সীমান্তে নেয়া হয় কঠোর নজরদারি। তৎপর রাখা হয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের। পুলিশ, র্যাব ও বিডিআর তাদের টহল ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো জানিয়েছে, ৫৪ জন যুদ্ধাপরাধী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করে অপরাধ সংঘটন, দূর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ আহরণ এবং দেশের ভেতরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হচ্ছেন, জামায়াত নেতা গোলাম আযম, জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, এটিএম আজহারুল ইসলাম , দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আবু ইউসুফ, আবুল কালাম আজাদ, একেএম নাজির আহমেদ, মাওলানা আব্দুস সোবহান, এবিএম খালেক মজুমদার, বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, মাওলানা শামছুল ইসলাম, এম এ জব্বার ইঞ্জিনিয়ার ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

Comments
মাঝরাতে জেগে ওঠে
মাঝরাতে জেগে ওঠে
মৃত স্বজনের হাড়।
এবার কোথায় পালাবি
রা-জা-কা-র?
যুদ্ধাপরাধীদের আস্ফালন
কিছুদিন আগে মুজাহিদ বলেছিল দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই । তা'হলে আর ভয় পাওয়ার কি আছে ? তোমরা যদি সত্যি যুদ্ধাপরাধী না হয়ে থাক, তা'হলে আইনিভাবে প্রমান ও মোকাবেলা কর ।
এবার যুদ্ধপরাধীদের ছেড়ে দিলে পরবর্তীতে জনগন তাদের ছাড়বে না।
আ'লীগ বিএনপির মতো ভূল করবে না,তারা জানে এবার যুদ্ধপরাধীদের ছেড়ে দিলে পরবর্তীতে জনগন তাদের ছাড়বে না।