Babar sent to TFI cell for interrogation

The Criminal Investigation Department on Friday sent the detained former BNP state minister for home affairs Lutfozzaman Babar to the Task Force for Interrogation Cell in the August 21 grenade attack case. The CID, meanwhile, interrogated former deputy inspector general of the Special Branch Shamsul Islam and the former Armed Police Battalion superintendent Mostofa Kamal in the case. Shamsul Islam was the acting Special Branch chief in the absence of the chief additional inspector general Abdul Qaiyum and Mostofa Kamal was additional deputy commissioner of the Motijheel zone of the police when the incident took place.

A CID official said Babar, during interrogation, claimed he had first been informed of the incident by former deputy inspector general Shamsul Islam for which Shamsul was summoned to the CID office on Friday. The CID official also said the detained Harkat-ul-Jihad-al-Islami founder Moulana Sheikh Abdus Salam, also the chief of the Islamic Democratic Party, named a person to have link with a white microbus that carried the attackers from Bangabandhu Avenue after the attack.

Some CID personnel also conducted several raids on city places such as Mohammadpur to arrest that person named Monir. A high official on the investigation team told New Age, ‘We have interrogated Shamsul Islam and Mostofa Kamal as part of the investigation.’ CID officials said both of them had been interrogated, separately and together, for hours. Babar and Shamsul Islam were also interrogated face-to-face. The officials also said they had sent letters to then inspector general of police Shahudul Huq, then Dhaka Metropolitan Police commissioner Ashraful Huda and then CID chief former additional inspector general Forrukh Ahmad asking them to the CID office for interrogation the case.

The detained Harkatul chief Mufti Abdul Hannan was sent to the Dhaka Central Jail Friday afternoon after being remanded in custody for two days in two phases by the Criminal Investigation Officer although he had been remanded in the custody of the Detective Branch at Mirpur in another case. Another BNP deputy minister Abdus Salam Pintu is now in jail and his brother Maulana Tajuddin, also a leader of Lashkar-e-Taiba, accused in the case, is in hiding. Twenty-four people, including Awami League’s women affairs secretary Ivy Rahman, were killed and 200 others injured in the grenade attack on the Awami League rally on Bangabandhu Avenue on August 21, 2004.

-New Age

Comments

SalimC's picture

রিমান্ড এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন ?

রিমান্ড এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন
আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে হত্যা-সন্ত্রাস ও ছিনতাই-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তেমন প্রশ্নের উত্তরে না গিয়েও বলা যায়, দলটি এবার ক্ষমতায় আসার পর দেশে অপরাধ বেড়েছে অবিশ্বাস্য হারে। শুধু বেড়েছে বলা যথেষ্ট নয়, অপরাধ প্রতিদিনই আগের দিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। সত্যি বলতে কি, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এখন কল্পনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্প্রুতি প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে আজকাল প্রতিদিন ১২টি খুনের ঘটনা ঘটছে। মাসে ৪৫ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছে ১১ জন, আহত হয়েছে ১১৪৮ জন। ওদিকে সরকার নিজেও কম দেখাচ্ছে না। ক্রসফায়ারে নিয়মিতভাবে মৃত্যু ঘটছে কথিত সন্ত্রাসীদের। অক্টোবরেই ক্রসফায়ারে মারা গেছে ২৮ জন। সাংবাদিকসহ নিরীহ অনেকেও র্যাব ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
ঘটনাপ্রবাহে রিমান্ডের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে । একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ১ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাস ২৮ দিনে শুধু রাজধানীতেই দু'হাজার পাঁচজনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের বাইরে ৫৪ ধারায় আটক ১৭২ জনকেও রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট প্রতিদিন গড়ে ৩৫ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। আপত্তি ওঠার কারণ, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তথ্য জানার জন্য সাধারণত রিমান্ডে নেয়া হয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় প্রত্যেককেই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি রয়েছে ঘুষ আদায় করার অভিযোগ। জানা গেছে, বিশেষ করে ৫৪ ধারায় আটক ব্যক্তিদের রিমান্ডে নেয়ার হুমকি দিয়ে থানা পুলিশ ও এক শ্রেণীর আইনজীবী ঘুষের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। রিমান্ড মানেই যেহেতু নির্যাতন, সে কারণে মোটা অংকের টাকা দিয়ে হলেও অভিযুক্তরা রিমান্ডের নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই সুযোগে ফুলে-ফেঁপে উঠছে পুলিশ ও পুলিশের দোসর আইনজীবীরা।
মূল কথায় যাওয়ার আগে রিমান্ড সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। রিমান্ডের আইনটি তৈরি করেছিল ব্রিটিশ শাসকরা। এতে বলা হয়েছিল, কোনো মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ১৫ দিন পর্যন্ত রিমান্ডে নেয়া যাবে। কিন্তু রিমান্ডে নিয়ে কিভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং পুলিশ শারীরিক নির্যাতন করতে পারবে কি না- এসব বিষয়ে ব্রিটিশ আইনে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সাম্রাজ্যবাদীদের সে আইনটিই বাংলাদেশে প্রচলিত রয়েছে। আইনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তদের ওপর যথেচ্ছভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে এমনকি সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না। ২০০৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ তার নির্দেশনায় বলেছিলেন, রিমান্ডে নেয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবীর উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, রিমান্ডে নেয়ার আগে ও পরে অভিযুক্তকে ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে, প্রয়োজনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পুলিশ সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রতি পর্যন্ত চরম উপেক্ষা দেখিয়ে চলেছে। এখানে প্রসঙ্গক্রমে একটি ঘটনার উল্লেখ করা দরকার। জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর জামিনের আবেদন নিত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। বিষয়টিকে হাইকোর্ট আপত্তির চোখে দেখেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলকে মাননীয় আদালত বলেছেন, ‘আপনারা শুনানিতে সময় নেবেন আবার রিমান্ডে নিয়ে টর্চার করবেন- এটা কোন ধরনের আচরণ? এটা ভালো নয়। আমরা এখানে বসেছি মানুষকে লিবার্টি দেয়ার জন্য। আপনাদের ক্ষমতা আছে। আমাদেরকেও পেটান। এভাবে চালাতে চাইলে হাইকোর্ট উঠিয়ে দিন।'
আওয়ামী লীগ সরকার আইন ও আদালতের প্রতি কতটা অসম্মান দেখালে মাননীয় বিচারপতিরা এ ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারেন, সে কথা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না। বাস্তবেও এই সরকারের শুরু থেকেই বিশেষ করে রিমান্ডে নেয়ার মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থাকে তছনছ করে ফেলা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, রিমান্ড মঞ্জুর করা না করা সম্পূর্ণরূপে বিচারকের এখতিয়ার হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচারকরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে অনেক উপলক্ষেই। দৈনিকটির আলোচ্য রিপোর্টে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিচারকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক মামলায় বিচারকদের ওপর ‘চাপ' থাকে। এই ‘চাপ' নিশ্চয়ই রাস্তার লোকজন দেয় না। উদ্বেগের বিষয় হলো, শুধু নিম্ন বা বিচারিক আদালতে নয়, সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষেও এই ‘চাপ' এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
উদাহরণ হিসেবে জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের রিমান্ড সম্পর্কিত একটি ঘটনার উল্লেখ করা যায়। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৭ অক্টোবর কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তারও আগে অভিযুক্ত বাবরকে রিমান্ডে না নিয়ে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারের উদ্যোগে হাই কোর্ট বিভাগের নির্দেশনা স্থগিত করতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার জজের আদালত বসানো হয়েছে। আপত্তির কারণ জানা গেছে সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার সাধারণত চেম্বার জজের আদালত বসে না। কিন্তু সেটাও বসিয়ে ছেড়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল। মাননীয় বিচারপতিকে বাসা থেকে ডেকে এনে তাকে দিয়ে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য হাই কোর্টের দেয়া নির্দেশনা স্থগিত করিয়েছেন তিনি। আদালতের স্বাভাবিক কাজের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। কিন্তু বাবরের রিমান্ড আদেশ আদায় করার জন্য সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আদালত বসানো হয়েছিল। সিনিয়র আইনজীবী মাসুদ আহমদ তালুকদার বলেছেন, এই ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, সরকারের অনৈতিক চাপের কাছে বিচার বিভাগকে নতি স্বীকার করতে হয়েছে। এটা গত ২৯ অক্টোবরের ঘটনা। সেদিন চেম্বার জজের সামনেই প্রতিপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেছেন, ‘বাবর মারা গেলে আপনার মামলা কইরেন!' উল্লেখ্য, হাই কোর্টের নির্দেশনা চেম্বার জজের আদালতে স্থগিত হওয়ার পর কোনো শুনানি ছাড়াই নিম্ন আদালত বাবরকে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
অথচ সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো যায় না। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্বীকারোক্তি আদায়ের কৌশল হিসেবে রিমান্ডে নেয়া ও নির্যাতন চালানো মানবাধিকার ও ফৌজদারি আইনের চরম লংঘন। নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর আচরণ ও শাস্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশও অনুস্বাক্ষর করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এবং পুলিশ কোনো কিছুই মানছে না। সরকারের দায়িত্বশীল কারো কারো বক্তব্য উল্টো পুলিশকে উৎসাহ যোগাচ্ছে। রিমান্ডে নিয়ে কারো ওপর নির্যাতন চালানো হলে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। ২০০০ সালে লালবাগের এক ব্যক্তিকে ১৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার পর ওই ব্যক্তি ‘আওয়ামী পুলিশ কর্মকর্তা' হিসেবে পরিচিত আবদুল কাহার আকন্দের বিরুদ্ধে সিএমএম আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে আবদুল কাহার আকন্দ ওই ব্যক্তির সঙ্গে আপসরফা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সব মিলিয়েই রিমান্ড পরিস্থিতি ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এজন্যই সর্বোচ্চ আদালতের মাননীয় বিচারপতিরাও আজকাল কঠোর মন্তব্য না করে পারছেন না। এতেও যে কাজ হচ্ছে না তার প্রমাণ দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ‘বাবর মারা গেলে আপনার মামলা কইরেন!' বিষয়টি চিন্তা করার মতো। পরবর্তী সময়ে তিনি অবশ্য ‘পুষিয়ে' দেয়ারও অভিনয় করেছেন। গত ৩ নভেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, রিমান্ডে নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে নির্যাতন করা হবে না। আ্যাটর্নি জেনারেলের এই আশ্বাসটুকুর মধ্যে অনুগ্রহ দেখানোর মনোভাব অস্পষ্ট থাকেনি। এই আশ্বাস দেয়ার অবশ্য কারণ রয়েছে। তার আগে দু'জন মাননীয় বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য বের করার নামে রিমান্ডে নিয়ে কাউকে নির্যাতন করা হোক তা কাম্য হতে পারে না। আপনি সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল নন, আপনি রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল। এছাড়া আপনি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সুতরাং আপনার আশ্বাস হচ্ছে জেন্ট্লম্যান্স অ্যাগ্রিমেন্ট। ‘সরকারের নন, রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল' হিসেবে উল্লেখ করে মাননীয় বিচারপতিরা যতোই তাকে সম্মানিত ও উদ্বুদ্ধ-উৎসাহিত করার চেষ্টা করে থাকুন না কেন, প্রতিটি ঘটনাতেই মাহবুবে আলম বুঝিয়ে চলেছেন যে, মনে-প্রাণেই তিনি আসলে আওয়ামী লীগ সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল।
আবদুস সালাম পিন্টু কিংবা লুৎফুজ্জামান বাবরের মতো ব্যক্তির প্রশ্নে নয়, রিমান্ড নিয়ে অপত্তি উঠেছে সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার নিম্নগামিতার পরিপ্রেক্ষিতে। কারণ, রিমান্ডের অর্থ বা উদ্দেশ্য হলো অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা। সেটা জেলগেটে আসামী পক্ষের আইনজীবীর সামনেই পুলিশ করতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদ করার ব্যাপারে হাই কোর্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিবর্তে অভিযুক্তদের রিমান্ডেই নেয়া হয়েছে। এখনো রিমান্ডে নিচ্ছে পুলিশ। এর মধ্যদিয়ে আসলে নির্যাতনের উদ্দেশ্যই প্রাধান্যে এসেছে। অথচ সত্যি শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রধান উদ্দেশ্য হলে সেটা জেলগেটেই করা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে রিমান্ডকেন্দ্রিক আলোচনাকে গতিবেগ দিয়েছে এমপি তাপসের ওপর বোমা হামলা। গত ২১ অক্টোবর মতিঝিলে অবস্থিত অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার বাণী অফিসের সামনে বোমার যে বিস্ফোরণ ঘটেছে এমপি তাপসই তার টার্গেট ছিলেন বলে প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রশ্নসাপেক্ষ হলেও বিষয়টি আলোড়ন তুলেছে। কারণ, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস সাধারণ কোনো মানুষ নন। অনেক কারণেই তার পরিচিতি রয়েছে। তার প্রথম ও প্রধান পরিচিতি হলো, আওয়ামী লীগের প্রাণপুরুষ শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভ্রাতুস্পুত্র তিনি। দ্বিতীয় পরিচিতি, ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকায় তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি হয়েছেন। পরিচিতির তৃতীয় কারণ হলো, পিলখানা হত্যাকান্ডে তার ভূমিকা নিয়ে অনস্বীকার্য অনেক অভিযোগ রয়েছে। বস্তুত এই একটি কারণে ব্যারিস্টার তাপসের নাম দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে! পিলখানা হত্যাকান্ডের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সরকার ধীরে এগোনোর কৌশল নিলেও এ পর্যন্ত যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তার প্রতিটির রিপোর্টেই বিশেষভাবে এসেছে এমপি তাপসের নাম। উদাহরণ হিসেবে এখানে সরকারি তদন্ত কমিটির রিপোর্টের উল্লেখ করা যায়। রিপোর্টের কিছু তথ্য ও দু'চারজনের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যেও তাপসের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে। যেমন ৩৯ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের মোঃ আশরাফুল আলম ও মোঃ আলমগীর শেখ জানিয়েছে, নির্বাচনের কয়েকদিন পর থেকেই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে তাদের বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে। ডিএডি হাবিব তার অডিও স্বীকারোক্তিতে বলেছে, ব্যারিস্টার তাপস এবং শেখ সেলিম এমপির সঙ্গে তারা বৈঠক করেছিল। সরকারি তদন্ত রিপোর্ট বলেছে, প্রতিমন্ত্রী নানক এবং এমপি তাপসের সঙ্গে ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘বিদ্রোহীদের' যে বৈঠক হয় সে বৈঠকেই সেনা অফিসারদের হত্যাকান্ডের চূড়ান্ত পরিকল্পনা ‘অনুমোদন' করা হয়েছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতেও ব্যারিস্টার তাপস পিলখানায় প্রবেশ করেছিলেন। রিপোর্টের ভাষায় তার উদ্দেশ্য ছিল ‘মপিং আপ' অর্থাৎ সব কাজ শেষ করার আয়োজন নিশ্চিত করা। তিনি দ্রুত সব কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও বন্দিরা স্বীকারোক্তি দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২৬ তারিখে এই এমপি তাপসই তিন কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা খালি করার ঘোষণা প্রচার করিয়ে জনমনে আতংক ছড়িয়েছিলেন। প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। সরকারি তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, পিলখানা গেটের অদূরে পুলিশ ও র্যাব অবস্থান নিলেও বিডিআর সদর দফতরের চারদিকের দেয়াল ছিল অরক্ষিত। ফলে ঘাতকরা নির্বিঘ্নে দেয়াল টপকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সন্ধ্যায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছিল। এতে লুটের মালামালসহ বেরিয়ে যেতেও ঘাতকদের পক্ষে সুবিধা হয়েছে। এ সবকিছুর জন্যই ব্যারিস্টার তাপসের দিকে আঙুল উঠেছে। এমপি তাপসের পরিচিতির অন্য একটি কারণও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। শোনা যাচ্ছে, মেয়র নির্বাচনে তিনিই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন। এজন্য তাকে পরিচিত করে তোলার জন্য সরকার নাকি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল।
এত বেশি পরিচিতি যার, তার ওপর বোমা হামলার ঘটনায় সাড়া পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষ মাত্রই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিচার দাবি করেছেন। কিন্তু সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে সরকারের প্রশ্নসাপেক্ষ তৎপরতার কারণে। দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ঠিক সেদিকেই পা বাড়িয়েছে- যেদিকে সরকার বাড়াতে বলেছে। ‘অল্পের জন্য' বেঁচে যাওয়া এমপি তাপস প্রথম সুযোগেই মুজিব হত্যা মামলায় বন্দি ‘খুনিদের' কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীও তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং অন্য দু-চারজন প্রথমে স্বাধীনতা বিরোধীদের কথা বললেও প্রধানমন্ত্রী বলার পর সবাই ওই ‘খুনিদের' পেছনে লেগে পড়েছেন। পুলিশও ‘খুনিদের' কেন্দ্র করেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। পুলিশের বদৌলতে চার মাসের শিশুকে পর্যন্ত কারাগারে ঢুকতে হয়েছে। এখনো গ্রেফতারের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। গ্রাম থেকে কৃষি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিকেও ধরে আনা হচ্ছে। পুলিশ শুধু গ্রেফতার করে এবং অভিযুক্তদের রিমান্ডে নিয়েই থেমে যাচ্ছে না, এর-ওর সম্পর্কে অশ্লীল নানা কেচ্ছা-কাহিনীও প্রচার করছে। ফলে বোমা হামলার মতো গুরুতর একটি বিষয়ও দ্রুত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। মনে হচ্ছে যেন পুলিশের মাধ্যমে নানামুখী সমস্যার দিক থেকে জনগণের মনোযোগ সরিয়ে দেয়াই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। একই কারণে বোমা হামলার ঘটনা নিয়েও প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।
এমপি তাপসের ওপর কথিত হামলার বিচার চায় না এমন মানুষ সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না। পিলখানা হত্যাকান্ডের ব্যাপারে তো বটেই, একই কথা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ অন্য সব ঘটনা সম্পর্কেও সত্য। দেশের রাজনীতিতে সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিটি ঘটনারই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ যেভাবে ঢালাও গ্রেফতার এবং রিমান্ডের নামে নির্যাতনের অভিযান শুরু করেছে তার ফলে একদিকে আসল ঘটনা আড়ালে চলে যাওয়ার আশংকা জোরদার হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাধান্যে আসছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বিষয়টি। পরিস্থিতি এমনকি সর্বোচ্চ আদালতকেও অসহায় বানিয়ে ফেলছে। মানুষ তার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল আদালতের ওপর ভরসা রাখতে পারছে না। এখানেই সরকারের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। সরকারের উচিত সময় থাকতে সচেতন হওয়া যাতে কোনো ঘটনাই আড়ালে চলে যেতে না পারে এবং প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যাতে প্রধান না হয়ে ওঠে। বলা দরকার, এর-ওর সম্পর্কে অশ্লীল ও চটকদার কেচ্ছা-কাহিনী প্রচার করা হলেও সাধারণ মানুষ কিন্তু প্রতিটি বিষয়ই গভীর মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করছে। ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন নয়, মানুষ জানতে চায়, সংঘটিত অপরাধে সত্যিই তার সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না।