দুর্নীতির দায়ে নাজমুল হুদার ১২ বছর কারাদণ্ড/শালা কুত্তার ১০০০ বছরের জেল হওয়া উচিত

অবৈধ উপায়ে সম্পত্তি অর্জন ও সম্পত্তির তথ্য গোপনের দায়ে বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নাজমুল হুদার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন এলাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আশরাফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। প্রদীপ চৌধুরী জানাচ্ছেন বিস্তারিত।

এর আগে গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রায় আড়াই কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার দায়ে নাজমুল হুদাকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। ঘুষ নিতে সহযোগিতা করায় সিগমা হুদাকেও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুইটি ধারায় দেওয়া রায়ে অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের জন্য হুদাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তথ্য গোপনের জন্য ২ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। আসামীর আটকের দিন থেকে এ সাজা কার্যকর হবে।

আদালত ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৫ হাজার ২৮৯ টাকা এবং দোহারের বেথুয়ার একটি বাগানবাড়ি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক তালেবুর রহমান গত বছর ১১ জুলাই ধানমণ্ডি থানায় হুদা দম্পতি বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।

এতে অভিযোগ করা হয়, নাজমুল হুদা কমিশনে দাখিল করা হিসাব বিররণীতে ২ কোটি ৫৯ লাখ ২৬ হাজার টাকার সম্পত্তির তথ্য গোপন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তার জ্ঞাত আয়ের বাইরে ৭ কোটি ৬২ লাখ ২০ হাজার টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। আর সিগামা হুদা এ কাজে স্বামীকে সহযোগিতা করেছেন।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হয় ১৩ জানুয়ারি থেকে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৯২ জন সাক্ষ্য দেয়। আসামিরাসহ সাফাই সাক্ষ্য দেয় আরও ৫ জন। ২০ মার্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক রায় দেওয়ার এই দিন ধার্য করেন।

যৌথবাহিনীর সদস্যরা গতবছর ৩ ফেব্র"য়ারি নাজমুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে। সিগমা হুদাকে গ্রেপ্তার করা হয় গত ৫ জুলাই।

তত্ত্বাবধায় সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৮ ফেব্র"য়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন দেশের ৫০ জন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলা ও অন্যান্যদের তালিকা প্রকাশ করে ৭২ ঘন্টার মধ্যে স্ত্রী সন্তানসহ স্থাবর--অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব জমা দিতে বলে। ওই তালিকায় নাজমুল হুদার নামও ছিল।

দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম