মাঝ রাতে ঘুম উড়ে গিয়ে সৃষ্টি করে অস্বস্তি। এমন পরিস্থিতিতে তারকারা কী করেন তাই জানাচ্ছেন। কাল সারারাত ছিল স্বপ্নেরই রাত। ঘুম ছিল না দুটি চোখের পাতায়- এই জনপ্রিয় গানের মতো যদি স্বপ্নের রাত হয়। তবে চোখের পাতায় ঘুম না থাকলেও চলে কিন্তু গভীর রাত সবাই মজা করে নাক ঢেকে ঘুমাচ্ছে, স্বপ্ন বিহীন আপনি হঠাৎই ঘুম ভেঙ্গে জাগলে তখন যে কত কষ্ট লাগে।
তা সেই ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ জানে না। এমন বোরিং সময়ে আমাদের জনপ্রিয় তারকারা কে কী করেন, চলুন এবার তাই জানা যাক। জীবনের অনেক রাতই আনন্দ উত্তেজনায় ঘুমাতে পারেননি আনিসুর রহমান। তবে একটি কঠিন রাতের ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার কথা মিলন আজও মনে করেন।
ঝড়বৃষ্টির সেই রাতে তিনি বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে হাজির হন। সেই এলাকায় তখনও তেমন করে বড় বড় বিল্ডিং হতে শুরু করেনি। মফস্বলের মতো গাছপালা ঘেরা ছিল খালার বাড়িটি। মিলনের থাকার জায়গা হয় চিলে কোঠায়। হতে দুচোখ জুড়ে নামে রাজ্যের ঘুম। হঠাৎ এ পাশ থেকে ও পাশ করতে চোখে পড়ে সাদা হাতওয়ালা একটা কিছু থেকে থেকে গড়ছে। সব ঘুম গেল হাওয়া হয়ে।
মাঝে মাঝে তাকিয়ে দেখেন মাঝে মাঝে চোখ টিপে বন্ধ করে রাখেন। ভয়ে চিৎকারও করতেও পারছেন না। এমন করেই এক সময় ফজরের আজান পড়ে আর মিলন আবিষ্কার করে হ্যাংগারে ঝোলান তার সাদা শার্টটি থেকে থেকে নড়ছিল। আর নিঘুম সেই রাতে তার কিছুই করার ছিল না।
তবে চঞ্চল বলেন, আমার কোন ভয় টয় নেই। গ্রামে মানুষ হওয়া চঞ্চল চৌধুরী খুব ছোটবেলা থেকে অন্ধকারে চলাফেরা করে অভ্যস্ত। গভীর রাতে কখন চঞ্চলের ঘুম ভেঙ্গে যায় আর তা ফিরে আসতে চায় না। তখন সে কম্পিউটার নিয়ে বসে যায়। ভোর অবধি চলে কম্পিউটারের সঙ্গ উপভোগ। ব্যতিক্রম ঘটে যদি পূবাইলে শাহিনের বাড়িতে শুটিং থাকে। আর তখন মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়।
কারণ তখন চঞ্চল চলে যায় পুকুর ঘাটে। জ্যোৎস্নায় চাঁদের আলোয় পানি আর নিঝুম রাত দেখেই কেটে যায় সময়। তবে মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া তানজিকা জানান অন্য কথা। কারণ তার ঘুম খুব ভাল, সহজেই ভাঙ্গাতে চায় না। আর এমন ঘুম কাতুরের ঘুম ভাঙ্গলে বসে যান টিভি নিয়ে।
কারণ তিনি মনে করেন এর চেয়ে ভাল ঘুমের ওষুধ তার জন্য আর হয় না। টিভি দেখতে দেখতে কখন যে চোখ জুড়ে ঘুমের রাণী ভর করে তানজিকা তা টেরই পান না। অন্য এক ঘুমের ওষুধের কথা জানান দেন সজল। সজল ঘুমের ওষুধ হিসেবে বেছে নেই বইকে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে বই-এর ওপর চোখ রাখলেই ঘুমের সাগরে তলিয়ে যান তিনি।
তাই যখন মাঝরাতে ঘুম উড়ে যায় আর ফিরে আসতে চায় না আবার সজল হাতে তুলে নেন বই। আর যথারীতি তলিয়ে যান ঘুমের সাগরে। একই সুরে সুরে মেলান মোশাররফ করিম। যদিও মোশাররফ আগে জানান দিয়ে নেন- ঘুম ভেঙ্গে গেলে তার কাজের কোন ঠিক ঠিকানা থাকে না।
তথাপি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে হতে বই-ই তুলে নিতে হয়। আর মাঝে মাঝে ফোন করে জাগিয়ে তুলেন গভীর ঘুমে অচেতন কোন বন্ধুকে। বন্ধু প্রথমে তাকে এক চোট বকে তারপরে ঘুম ঘুম চোখেই চালিয়ে যান গল্প। একই কাজ করেন আলিফ। তবে আলিফ ঘুমন্ত বন্ধুদের ফোন দেয়ার বিপক্ষে।
তিনি বলেন আমি আমার নিঘুম রাতের সঙ্গী সেই সব বন্ধুদেরই করি যারা জেগে থাকে। অন্যথায় মোবাইলে গান শুনে কিংবা গেমস খেলেই আবার ঘুমে ফিরে যাই। মাঝে মধ্যে নিঘুম রাতে নিজেকে নিয়েও ভাবতে আলিফের খারাপ লাগে না। একই কাজ করেন বিন্দুও। যদিও বিন্দু ঘুমোতে যানই ভোর ৪টায়।
তথাপি ঘুম আসতে না চাইলে নিজেকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সকালে তাঁর কি কাজ আছে, গত সারাদিন সে কি করলো, কতটা অভিজ্ঞতা অর্জন হল। কতটা ক্ষতি হলো, কি ভুল হল, নানা বৈষয়িক কাজের হিসেব খুলে বসেন বিন্দু। ঘুম না এলে কিংবা হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তানিয়া হোসেনেরও নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভালোবাসেন।
তবে সচরাচর তানিয়া ছবি দেখেই ঘুমান। কাজ থেকে ফিরে তানিয়া প্রথম গান শোনেন। তারপর টিভিতে ছবি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন।
তাই যখন মাঝরাতে ঘুম তানিয়াকে ছেড়ে যায়। তখন সে আবার ছবির কাছে ফিরে যান। তবে একেবারে অন্যপথে চলেন রাহি। রাহি বলেন ঘুমোতে যাওয়ার আগে আমি সূরা পড়ে নেই। আর যদি ঘুম ভেঙ্গে যায় তখন কিছুক্ষণ নিজের কাজ নিয়ে ভেবে ঠিক ঠাক গুছিয়ে নেই।
ফলে কোন পোশাক পরব, কোন মেকাপ নেব, এমনকি স্ক্রিপ্টও মাঝে মধ্যে আওড়ে নেই। তরপর আবার সূরা পড়া শুরু করি। সাধারণত সূরা ফাতিহা, সূরা নাস আমার গভীরে খুব এনে দেয়।
