বিশেষত ৭৫ সালের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্র-বিন্দু হয়ে উঠেছে এই একটি বিষয়। বাংলাদেশ - ভারত সম্পর্ক। প্রতিটি নির্বাচনের আগে এবং পরে এই ইস্যুটি থাকে হট ফেভারেট। ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে যে, এই ইস্যুটি সবসময় উত্থাপিত হয় আমাদের সুশীল সমাজ থেকে এবং ক্রমান্নয়ে তা সঞ্চালিত হয় রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও দলের মধ্যে। শুধু তাই নয়, দূর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, এই ইস্যুটি বাস্তবিক ভাবেই জাতীকে আজ দ্বিধাবিভক্ত করে দিয়েছে।
সময়ের পালাক্রমে বাংলাদেশের রাজণীতি আজ দুইটি ধারায় আখ্যায়িত। একটি ভারত পন্থি। অপরটি ভারত বিরোধী। সচরাচর আওয়ামী লীগকে পক্ষের আর বিএনপি কে বিপক্ষের বলেই আলোচিত হয়। সুতরাং আখ্যায়িত বলছি এই জন্য যে, এই দুই বহুল আলোচিত আখ্যায়নের মাঝে কোনটা সত্য, আর কোনটা বানোয়াট, সেটা নিয়েও আছে বিস্তর তর্কাতর্কি। কথায় তো বলেই, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছুই নেই। যা হোক, সেই বিষয়ে না হয় আরেকদিন যাওয়া যাবে। আজ বরং সম্পর্ক নিয়েই শুধু বলি।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রথম ভারত সফরে এই ইস্যুটি উত্থাপিত হয়েছিল। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সংষ্পর্শে বেড়ে উঠা আপাময় জনগনের নেতা হিসেবেই হয়তো বঙ্গবন্ধু সেদিন বুঝতে পেরেছিলেন যে, রাজনীতির নোংরা খেলায় এই বিষয়টি একদিন উঠে আসবে। আর তাই, সুস্পষ্ট ভাবে ভারতের কাছে তিনি এই বিষয়টি পরিস্কার করেছিলেন। কংগ্রেস সমেত ইন্দিরা গান্ধী কথা দিয়েছিলেন কখনো ভারত বাংলাদেশের আভ্যন্তরিন কোন বিষয়ে নাক গলাবে না। এবং বঙ্গবন্ধুও কথা দিয়েছিলেন, বাংলাদেশে ভারত নিয়ে রাজনীতি হবে না।
ভারত আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশি। শুধু আয়তনই নয়, বরং সবথেকেই ভারত আমাদের চেয়ে বড়। সেই হিসেবেই বড় ভারতের কাছে আমাদের এক্সপেক্টটেশন ছিল অনেক। সময়ের বিভিন্ন উত্থান-পতনের কারনে সেই এক্সপেক্টটেশন আমাদের পূরন হয়ে উঠেনি। বরং ভারতের কিছু কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের জাতীয় জীবনে দুখ দিয়েছে। রাগান্বীত করেছে। এই কথা অস্বীকার করার কোন কারন নেই। কিনতু, তারপরেও ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক আছে এবং রাখার দায়িত্বের অর্ধেক আমাদের। ভারত শুধু প্রতিবেশী নয় বরং ভারত থেকেই আমাদের সবচেয়ে বেশী প্রাপ্তি পেতে হবে। আমাদের স্বার্থকে, প্রয়োজনকে, চাহিদাকে ধরে রাখতে ভারতকে আমাদের পাশে রাখতেই হবে। এবং তা রাখতে হবে শুধু মাত্র সম্পর্কের মাধ্যমেই।
সুতরাং, বড় প্রতিবেশী ভারত থেকে আমাদের চাহিদাকে, প্রয়োজনকে, স্বার্থকে উঠিয়ে নিয়ে আসতে হলে যে জিনিষটির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী, তা হলো জাতীয় ভাবে একাত্ব হয়ে নিজেদের স্বার্থকে সংরক্ষন করা। বঙ্গবন্ধু তা পেরেছিলেন, কেননা জাতী ছিল একতাবদ্ধ। অথচ আজ অবস্থা তার বিপরিত। আজ আমরা দ্বিধা বিভক্ত। এই দ্বিধা বিভক্তি ক্রমান্নয়ে আমাদের দূর্বল করে দিচ্ছে। আমাদের প্রাপ্তি থেকে আমাদের বঞ্চিত করছে। রাজনীতির নোংরা খেলার ছলে, কেউ কেউ নিজেদের দূরভিসনদ্ধি হাসিলের লক্ষ্যে আমাদের মধ্যে বিভাজন ছড়াচ্ছে। ভারত বিরোধী রাজনীতির নামে কোন কোন রাজনৈতিক দল বরং আমাদের লক্ষ্য থেকেই আমাদের সরিয়ে নিচ্ছে। আর ভারত সেই সুঝোগ কাজে লাগাচ্ছে নিজেদের স্বার্থে।
যারা ভারত বিরোধী জাহির করে গর্বিত হন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আসলেই কি তারা ভারত বিরোধী? দিনের আলোতে বজ্র হুংকার ছেড়ে রাতের অন্ধকারে ভারতীয় দূতাবাসে বসে যে সব বিরোধীপক্ষ বাংলাদেশের জনগনকে পক্ষ আর বিপক্ষের মধ্যে দ্বিধা বিভক্ত করে রাখছেন, তাদের পিছু হেটে আমাদের অর্জন কি অর্জিত হবে? না-কি, জাতীয় ভাবে একাত্ব হয়ে, সম্পর্কের মাধ্যমেই বড় প্রতিবেশী ভারতের কাছ থেকে বেশী অর্জন করা সম্ভব?
একটি বারের জন্য কি সুস্থ ভাবে চিন্তা করে আমার এই প্রশ্নের জবাব দেবেন?
Jokes: Indian Hell
Indian Hell:
An Indian dies and goes to hell. There he finds that there is a different hell for each country. He goes first to the German hell and asks "What do they do here?" He is told "First they put you in an electric chair for an hour. Then they lay you on a bed of nails for another hour. Then the German devil comes in and whips you for the rest of the day."
The man does not like the sound of that at all, so he moves on. He checks out the USA hell as well as the Russian hell and many more. He discovers that they are all more or less the same as the German hell.
Then he comes to the Indian hell and finds that there is a very long line of people waiting to get in. Amazed he asks "What do they do here?"
He is told "First they put you in an electric chair for an hour.Then they lay you on a bed of nails for another hour. Then the Indian devil comes in and whips you for the rest of the day."
But that is exactly the same as all the other hells - why are there so many people waiting to get in? "Because maintenance is so bad >that>>the electric chair does not work, someone has stolen all the nails from the bed, and the devil is a former Govt servant, so he comes in, signs the register and then goes to the cafeteria..."
(Source: http://www.thedesi.com/desi_jokes.php )
TIGER71 : ভারত কখনো কাউকে কিছু দেয় না শুধু নিতেই জানে.....
TIGER71 wrote:"....ভারত শুধু প্রতিবেশী নয় বরং ভারত থেকেই আমাদের সবচেয়ে বেশী প্রাপ্তি পেতে হবে। আমাদের স্বার্থকে, প্রয়োজনকে, চাহিদাকে ধরে রাখতে ভারতকে আমাদের পাশে রাখতেই হবে। এবং তা রাখতে হবে শুধু মাত্র সম্পর্কের মাধ্যমেই।".....
ভারতের কাছ থেকে আপনার expectation বাস্তবতার বাইরে চরম অলৌলিক স্বপ্ন মাত্র! ভারত শুধু নিতেই জানে আর দেবার কথা যখন উঠে তখন নানাভাবে তারা সময় ক্ষেপন করে এর প্রমান নিকট অতীতসহ অনেক বার দেখেছি। যেমন: সীমান্তের সমস্যা, যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক, একমুখী বানিজ্য, সমুদ্রের সীমানা ইত্যাদি ব হু উদাহরন দেয়া যাবে। একটা দেশের মানুষদের আচার-আচরন, মানবিক ও চারিত্রিক গুনাবালী বলে দেয় সে কোন পরিবেশ থেকে এসেছে। যারা দাদা বাবুদের সাথে কাজ করেছেন কিংবা থেকেছেন তারা জানেন দাদা বাবুদের বেশীর ভাগই প্রচন্ড আত্ম-অহংকারী, টাউট, মিথ্যেবাদী, ছোট মনের অধিকারী, কন্জুস এবং সর্বোপরী প্রচন্ড স্বার্থপর। আর আপনি আশা করছেন "ভারতের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশী প্রাপ্তি পেতে হবে"!!!!!
ভারত শুধু বাংলাদেশকেই নয় তার সকল প্রতিবেশী দেশকেই তাদের আগ্গাবহ করে রাখতে চায়। কিণ্তু নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকার ক্ষেত্রে তারা যেটা পেরেছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এতদিন তারা করে উঠতে পারে নি । আর এখন অতি সহজেই আপনার মত দেশী-বিদেশী ইংগো-মার্কিন-ভারতের দালালদের কল্যানে চোরাই পথে ক্ষমতায় আসা(বাংলাদেশে সুপরিচিত একজন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন প্রচারনায় ও নির্বাচনের দিন পর্যবেক্ষকের কাজ করতে গিয়ে নিজে বহু ঘটনার চাক্ষুস স্বাক্ষী) মহাজোট সরকার পারলে ভারতকে সবই দিয়ে দেয়। সংসদে শেখ হাসিনার ভারতের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে ভারতের আগ্রাসী চরিত্রের বিরোধীকারীদের কে দেশের অমংগলকারী বলে চিন্ণিথ করে পক্ষান্তরে আবারো প্রমান করেছেন তিনি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী নন, আসলেই ভারতের কোন অংগরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী!!!
টাইগার৭১ ভারতের সাথে মধুচন্দ্রিমায় যেতে চায়
এই সব নিরপেক্ষবাদী ভারতপ্রেমীদের কাছ থেকে সাবধানে থাকুন। এরা ভারতের পক্ষে মিডিয়া প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারতের সাথে সম্পর্কের মধুচন্দ্রিমা বনাম জাতীয় স্বার্থ-
-ভারতের সাথে সম্পর্কের মধুচন্দ্রিমা বনাম জাতীয় স্বার্থ-
-এশিয়ান হাইওয়ে ট্রানজিটসহ ভারতের সাথে স্থল ও নৌবন্দর ব্যবহারের চুক্তি বাংলাদেশকে উপনিবেশ বানাবে
- প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দেয়া তাঁর নীতিনির্ধারণী ভাষণে বলেছেন, ‘এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত না হলে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব।' প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যটিকে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে অর্থহীন বলে মনে করা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশ এশিয়ান হাইওয়ের যে রুটে যুক্ত হচ্ছে, ‘তাতে বিশ্ব বা পূর্ব-পশ্চিমমুখী দেশের সাথে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত। তাছাড়া ভারতের মর্জির ওপর নির্ভরশীল। গুগল চিত্রে এশিয়ান হাইওয়েকে আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে দেখানো হলে তাতে বাংলাদেশের তৃষ্ণা মিটবে না। অথচ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গুগল সার্চ করলেই পুরো ম্যাপটি দেখা যাবে। এতে পুরো সড়ক সম্পর্কে আপনারা বুঝতে পারবেন। এর সাথে শুধু ভারত নয়, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যও সংযুক্ত হবে। এটা একটি আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্ক।' কিন্তু রুট এএইচ-১ ও এএইচ-২-এর সাথে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ দুদিক থেকেই ভারতকে বাংলাদেশের করিডোর ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। ভারতকে অতিক্রম করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশের যুক্ত হবার সম্ভাবনা কি বাংলাদেশ কম্পিউটার স্ক্রিনে গুগল সার্চ করে দেখেই পরিতৃপ্ত থাকবে? এসকাপ-এর আনুকূল্য নিয়ে ভারত এশিয়ান হাইওয়ের যে দু'টি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ কিভাবে, কতদিনে পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপের সাথে যুক্ত হবে, তার কোন রূপকল্প বা নিশ্চয়তা কী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন? নাকি এটাও ‘গাছে কাঁঠাল, গোঁফে তেল' দেয়ার মতো এক ধরনের আত্মপ্রতারণা? তাছাড়া মিয়ানমার রাজি নয়, এই অজুহাতে বাংলাদেশের পূর্বমুখী সংযোগ স্বপ্ন কি হিমাগারে ফেলে রাখা হবে? এশিয়ান হাইওয়ের বাংলাদেশ অংশের ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ এটা বন্ধ করে দিতে পারবে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য তো অনেকটা ছেলে ভুলানো গল্পের মতো শোনাচ্ছে! এশিয়ান হাইওয়ে নির্মাণ হয়ে গেলে তার ওপর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ আসবে। বাংলাদেশ একবার অনুমোদন দিয়ে নতুন কোন ইস্যু তুলে নিজ স্বার্থে শর্ত জুড়ে দিয়ে এশিয়ান হাইওয়ের বাংলাদেশী অংশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের যে কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাকে বিশেষজ্ঞরা অবাস্তব এবং এশিয়ান হাইওয়ের শর্তাবলীর খেলাপ বলে মনে করেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কেমন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে বা এতদসংক্রান্ত অন্য কোন প্রস্তাব থাকলে বাংলাদেশকে এখনই তা আলোচনায় নিয়ে আসতে হবে। এ বিষয় উহ্য রেখে এশিয়ান হাইওয়ের বাংলাদেশ অংশের ওপর বাংলাদেশ ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে তা হবে একটি অবৈধ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান সাপেক্ষ উদ্যোগ। দ্বিতীয়ত: বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তির চাপ উপেক্ষা করে বাংলাদেশের পক্ষে এশীয় হাইওয়ের বাংলাদেশী অংশ বন্ধ করে দেবার মতো সামরিক সামর্থ্য ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞা আছে কিনা, তাও বিবেচনায় নিতে হবে। তৃতীয়ত: উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এশিয়ান হাইওয়ের বাংলাদেশী অংশের ওপর সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাইলে, তার ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি ভারতের ওপরই অধিক মাত্রায় পড়বে। এরকম পরিস্থিতিতে ভারত তার করিডোর ট্রানজিট ব্যবহার উন্মুক্ত রাখতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তায় শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে বাংলাদেশ কী করবে? প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এর কোন নিশ্চয়তা নেই। সুতরাং ট্রানজিট-করিডোরের বাংলাদেশী অংশের ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ থাকা এবং বাংলাদেশ চাইলে এশিয়ান হাইওয়ে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি কিংবা করিডোর বন্ধ করে দিতে পারবে- প্রধানমন্ত্রীর এই ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ রয়েছে। তাছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় বাংলাদেশের ওপর যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চাপ পড়বে, তা সামাল দেবার মতো রাজনৈতিক ও আনুষঙ্গিক শক্তি বাংলাদেশ অর্জন করেছে কিনা, বিশেষজ্ঞ মহল সে প্রশ্ন তুলেছেন। এই চাপই যেখানে উপেক্ষা করে বাংলাদেশ তার জন্য স্বাভাবিক টেকনাফ-ইয়াংগুন রুটে থাকতে পারছে না, সেখানে ভারতের হুমকি, ধমকি উপেক্ষা করবে কিভাবে?
বিগত বিডিআর-বিদ্রোহ দমনে সেনা অভিযান পরিহার করার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশকে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষার প্রয়োজনের কথা বলেছিলেন। ঐ সময় ভারত প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপ করার জন্য প্রস্তুত ছিল। ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা সরকারের বিপদকালে যে কোন সহায়তা দেয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়া হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে ভারত সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের এই আগ্রহকে কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হয়েছে। এবারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনির চারদিনের ভারত সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং তাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা অস্বস্তিতে পড়ুন, ভারত তা চায় না। এসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটা ভিন্নমাত্রা প্রমাণ হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ও তার সরকারের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শক্তি ছাড়াও ভারতের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছেন। দ্বিতীয়ত বিডিআর পুনর্গঠন, বিপুল সংখ্যক সেনা অফিসার হত্যাজনিত বিপর্যয়, ভারতের সাথে বিডিআর ও সেনাবাহিনী পর্যায়ে যৌথ টহল এবং মহড়ার সামরিক-রাজনৈতিক তাৎপর্য বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ তার দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা পলিসি থেকে সরে এসে ভারতের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের ভূখন্ড, সরকারের কোন কর্মকান্ড এবং প্রতিরক্ষা নীতি যাতে ভারতের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর না হয়, বর্তমান সরকার তার নিশ্চয়তা বিধানে তৎপর। এই অবস্থায়, জাতীয় স্বার্থে ভারতীয় ইচ্ছার বিপরীতে এশিয়ান হাইওয়ে ট্রানজিট-করিডোর বন্ধ করে দেয়ার আশা করাটা রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তাছাড়া একবার যখন কোন দেশ তার ভূখন্ডের ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ দেয়, তখন তা বন্ধ করে দেয়া সহজ নয়। প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন যে, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আমরা রক্ষা করতে জানি', তখন এতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে কথার কথাই অনেকটা প্রতিফলিত হয়। ট্রানজিট-করিডোর-সমুদ্র বন্দর-এশিয়ান হাইওয়ে ইত্যাদি ভারতকে দিয়ে দেবার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ভারতকে কীভাবে নিবৃত্ত করবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়ার ক্ষেত্রে মরহুম শেখ মুজিবের ক্যারিশমেটিক প্রভাবের কথা স্বীকার করে নিলেও এতে ভারতের কোন সদিচ্ছা ছিল বলে ইতিহাস বলে না। বরং ভারতের শীর্ষ সামরিক বিশেষজ্ঞ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনীতিকরা মনে করেন, একাত্তরে বাংলাদেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে তারা ভুল করেছেন। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি জ্ঞানী জৈল সিং একবার একথা প্রকাশ্যেই বলে ফেলেছেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে ভারতের ইস্টার্ন কমান্ড তাদের সামরিক বিজয় দিবস হিসেবে নিয়মিত পালন করে আসছে। বিগত কেয়ারটেকার সরকারের শেষ দিকে তদানীন্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ ভারত সফরে গিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিজয়গাঁথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করে এসেছেন। এদিকে ভারতের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ফিরতি সফরে বাংলাদেশে আসলে তাদের বিজয় কৃতিত্বের স্বীকৃতিসহ ঢাকায় বিজয় স্তম্ভ নির্মাণ করে তা অক্ষয় করে রাখার কথা বলা হয়েছে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের দামাল মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি আত্মসমর্পণ দলিলে না দিয়ে ভারত যে সামরিক-কূটনৈতিক চাতুর্যের পরিচয় দিয়েছিল, তার বেদনার ক্ষত বাংলাদেশ বহন করে চলেছে। সুতরাং ভারতের আগ্রাসী থাবার কাছে যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সার-নির্যাস বলে মনে করে, তারা ভারতের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা রক্ষায় আর একটি যুদ্ধ করার রাজনৈতিক ইচ্ছা ও নৈতিক শক্তি রাখে কিনা, এ নিয়ে পর্যবেক্ষক মহল সন্দিগ্ধ। পর্যবেক্ষক মহল জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সরকারের অতীত রেকর্ডকে এ ব্যাপারে বিবেচনায় রেখে ভারতের সাথে ‘যুদ্ধ করে স্বাধীনতা রক্ষা'র ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে রাজনৈতিক কথার মারপ্যাঁচ বলে মনে করছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সাথে যে সাত দফা চুক্তি করেছিল, তাতে বাংলাদেশের সার্বভৌম রাষ্ট্রসত্তার স্বীকৃতি কার্যত ছিল না। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরাগান্ধীর সাথে যে ২৫ সালা ‘মৈত্রী' চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা-দেশপ্রেমিক-জনতা তাকে ‘অধীনতামূলক মিত্রতার' চুক্তি বলে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ ‘দাসত্ব চুক্তি' বলে মন্তব্য করেছেন। ২৫ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ঐ অসম চুক্তির দায় বহন করেছে। ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা সীমান্ত চুক্তির শর্তে বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত এতটুকুও লাভবান হয়নি। ভারত বাংলাদেশের বেরুবাড়ি ভূখন্ড নিয়ে তাদের রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেও বাংলাদেশ যুগপৎভাবে প্রাপ্য তিনবিঘা করিডোরের দখল সাড়ে তিন দশকেও পায়নি। দ্বিতীয়তঃ ওই চুক্তি ভারত আজ অবধি তাদের পার্লামেন্টে র্যা টিফাই না করে ভারত চুক্তি বাস্তবায়নকে এড়িয়ে চলছে। এবারেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি ভারত সফরের সময় ১৯৭৪-এর মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেননি। আওয়ামী লীগ যাকে ‘জাতির জনক' মনে করে এবং বাংলাদেশের দল-মত নির্বিশেষে সকল পক্ষ যাকে শ্রদ্ধার সাথে ‘রাষ্ট্রের স্থপতি' হিসেবে স্বীকার করে থাকেন, তার সাথে ভারত যে চুক্তি করেছে, তাকে তারা মর্যাদা দেয়নি। বরং ওই চুক্তির দলিল তারা ইতিহাসের বর্জ্যে ফেলে রেখেছে সাড়ে তিন দশক ধরে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঐতিহ্যের সাথে এটাও একটা অবিচ্ছিন্ন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবার দাবি রাখে। তৃতীয়তঃ ১৯৭৪-এর চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত অব্যাহতভাবে রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষ, অস্থিরতা ও উত্তেজনার মধ্যে সময় পার করেছে। এমন দিন নেই, যেদিন ভারতীয় বিএসএফ-এর নির্দয় গুলীর শিকার হয়ে সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশী না মরছেন। চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় সীমান্তে অপদখলীয় ভূখন্ড নিয়ে বিরোধ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব বিস্তার করছে। বিশেষ করে, জনগণের পর্যায়ে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করে রেখেছে, যা সরকারি পর্যায়ে ভারতের সাথে সম্পর্কের মধুচন্দ্রিমা যাপন সত্ত্বেও জনমনের অবিশ্বাস ও দূরত্ব দূর করতে পারেনি। ভারতও বাংলাদেশকে বিশ্বাস করতে পারেনি বলে পুরো সীমান্ত জুড়ে ব্যয়বহুল ও বিপদসংকুল কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক পাহারা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যূহ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা ‘অবৈধ অনুপ্রবেশের' অভিযোগ করে এসেছে। কয়েক কোটি বাংলাদেশী নাকি ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। ভারত এদের মাঝে মাঝেই সীমান্ত এলাকায় জড়ো করে বাংলাদেশে ‘পুশইন' আগ্রাসন চালাচ্ছে। ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধুচন্দ্রিমা উদ্যাপনের মুহূর্তে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি কথিত বাংলাদেশী অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং ‘পুশইন' ইস্যুতে প্রতিপক্ষের সাথে কোন আলোচনা করেছেন বলেও যৌথ প্রেস বিবৃতিতে দেখা যায় না। ভারতের উগ্র হিন্দুবাদী নেতারা তথাকথিত বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশ সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা দখল করে পুনর্বাসনের হুমিকও দিয়েছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর অপবাদ ও নিরাপত্তা হুমকিমূলক এই ইস্যুটি ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে। চতুর্থত: ভারতের পশ্চিম বাংলার বাংলাদেশ সন্নিহিত এলাকায় চিত্ত সুতার-কালিদাস বৈদ্য-পার্থ সামন্তদের নেতৃত্বে খুলনা, যশোর, বরিশাল, ফরিদপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘স্বাধীন বঙ্গভূমি' আন্দোলন চলছে। এরা কয়েক কোটি দেশান্তরী হিন্দুর জন্য বাংলাদেশের ভেতরে আর একটি ‘হিন্দুরাষ্ট্র' চায়। ভারতের ভূখন্ডে বাংলাদেশ বিরোধী এসব অন্তর্ঘাত নিয়ে ডা. দিপু মনি কোন কথা বলেননি। পার্বত্য চট্টগ্রামের একদল বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতীয়রা ভারতীয় ভূখন্ডে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয়। এ নিয়েও আলাদাভাবে কোন কথা নেই। পঞ্চমত: স্বাধীনতার পর ভারত ফারাক্কা বাঁধ পরীক্ষামূলকভাবে চালুর কথা বলে তদানীন্তন আওয়ামী লীগ সরকার থেকে যে অনুমোদন নিয়েছিল, তার অমর্যাদা করে ভারত বাংলাদেশের গঙ্গা-প্রবাহে ন্যায্যহিস্যা না দিয়েই ফারাক্কা বাঁধ একতরফাভাবে ব্যবহার করছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় এসে আবার শেখ হাসিনার আগ্রহে যে ৩০ সালা গঙ্গাচুক্তি করা হয়েছে, তাতেও বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশকে পানির প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত করা ছাড়া এ চুক্তিতে আর কোন অর্জন নেই। বিগত ৪/৫ বছর ধরে ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে আসছে না। নতুন করে টিপাইমুখ বাঁধ ও ব্রহ্মপুত্র সংযোগ মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের সর্বাত্মক পানি আগ্রাসনের নজীর। তিস্তার পানি প্রবাহ থেকেও বাংলাদেশকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। এছাড়া ৫৪টি অভিন্ন নদীর সবগুলোই ভারত নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে নদী-সংস্কৃতির ওপর গড়ে ওঠা পাললিক বাংলাদেশ অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে। তারপরও বাংলাদেশ নিঃশর্তভাবে হাঙ্গরের মুখে হাত ঢুকিয়ে পরীক্ষা করতে চাইছে কেন, এ প্রশ্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের।
এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হওয়া ছাড়াই বাংলাদেশ বিগত ৩৮ বছর ধরে সমৃদ্ধি ও আশাবাদ নিয়ে টিকে আছে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশ ৬ শতাংশ জিডিপি অর্জনকারী দেশ হিসেবে ‘এমার্জিং টাইগার' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এশিয়ান হাইওয়ের বর্তমান রুটপ্লানে বিশ্বের সাথে নয়, ভারতের সাথে অাঁষ্টে-পৃষ্ঠে সংযুক্ত হয়ে পড়ার মধ্যদিয়ে বরং বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থনৈতিক ভিত্তি ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলবে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেননা ভারতের সর্বাত্মক বৈরিতা, অর্থনৈতিক অন্তর্ঘাত, চোরাচালান, পণ্য ডাম্পিং, মাদক আগ্রাসন, অঘোষিত ভারতীয় নাগরিকদের অব্যাহত হুন্ডি-যুদ্ধ মোকাবিলা করেও বাংলাদেশ অগ্রগতির পথে আগুয়ান। এশিয়ান হাইওয়ের ভারতকেন্দ্রিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বাংলাদেশকে ভারত-নির্ভর একটি পঙ্গু দেশ হিসেবে টিকে থাকতে বাধ্য করবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ‘বিচ্ছিন্নতার অবসান' যদি বৃহৎ ভারতের দীর্ঘদিনের লালিত শৃক্মখলে বাংলাদেশকে বন্দী করার লক্ষ্য পূরণ হয়, তাহলে এশিয়ান হাইওয়ে -করিডোর-ট্রানজিট বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী হতে বাধ্য। প্রধানমন্ত্রী এশিয়ান হাইওয়েকে ‘আন্তর্জাতিক রুট' বললেও বর্তমান রুট প্লান অনুযায়ী এটা ভারতের করিডোর ও ট্রানজিটের লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবের সাথে মিল না রেখে বিদেশীদের কথায় হাততালি দেয়ার পথ পরিহার করা সম্ভব না হলে জাতীয় বিপর্যয় প্রতিরোধ করা কঠিন হবে। ট্রানজিট দিলে ‘ভারত সব নিয়ে যাবে',- যারা এ ধরনের আশংকা করছেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু তাদের সাথে ভিন্নমতই পোষণ করছেন না, তিনি তাদের মনোভাবকে বিদ্রূপও করেছেন। অথচ নির্বাচিত সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের আশঙ্কা নিরসনে তার দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেমের দোহাই দিয়েছেন। তবে দেশপ্রেম কোন বায়বীয় বিষয় নয়। দেশপ্রেমেরও শর্ত আছে, পরিচয় ও প্রকৃতি আছে। দেশপ্রেম কী, তা শিখতে হলে অন্তত ভারতের রাজনীতিক-আমলা-বুদ্ধিজীবীদের দিকে তাকানো যায়। ভারত কোন ‘জুজু' নয়, মূর্তিমান বিভীষিকা। তবে অবশ্যই এক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকতে পারে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা বক্তৃতায় হয় না। কার্যক্রম ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়া স্বাধীনতা রক্ষা করা যায় না। তবে ভারতের ব্যাপারে যে অনাস্থা ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা বক্তৃতায় কেটে যাবে না। এজন্য ভারতকে সার্বভৌম সমতার নীতিতে ফিরে আসতে হবে, বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতির দায় থেকে মুক্তি দিতে হবে। তবে ভারতের সাথে ডা. দিপুমনি যে তিন দফা চুক্তির সম্মতি দিয়ে এসেছেন, তা কার্যকর হলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাবার বদলে বাংলাদেশ ভারতের একটি অঘোষিত উপনিবেশ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
News: 15 killed in crossfire in 12 days
A dog can never be termed as hypocrite since theyare animal. There some human being whose character and behavioer is like animal and more specifically like dog. Since they are human dog they can bery well be hypocrite. Baksalis fall into this catagory. Where BNP government created RAB these hypocrite BAKSALIs use to scream in favor of a wellknown criminal when they die from cross fire. We to bring foam of criticism in their mouth if any criminal died ogf crossfire. Now, they are completely silent. I don't hear a single word against crossfire from these human dogs. Hypocricy is religion of these human dogs.