লেনদেনব্যবস্থা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বুধবার কার্যত লেনদেন হয়নি। সারা দিনে এক ঘণ্টার মতো লেনদেন হলেও তা ছিল মূলত আনুষ্ঠানিকতা। ফলে গতকাল ডিএসইসংশ্লিষ্ট সবাইকে বড় ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।
সব মিলিয়ে গতকাল ডিএসইতে চার ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ ছিল। বেশির ভাগ ব্রোকারেজ হাউসের অনলাইন লেনদেনব্যবস্থায় ব্যাপকভাবে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কেউ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভাইরাস ছড়িয়েছে কি না ডিএসই তা খতিয়ে দেখবে বলে জানা গেছে।
ডিএসই কর্তৃপক্ষ বলছে, গত মঙ্গলবার ভাইরাস আক্রমণের বিষয়টি তাদের কাছে প্রথম ধরা পড়ে। এর পরই সেগুলো ভাইরাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় সারা রাত ধরে কাজ করে বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউসের অনলাইন-ব্যবস্থাকে ভাইরাসমুক্ত করা হয়। কিন্তু এর পরেও গতকাল লেনদেন শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান জানান, আগের ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টার পরিবর্তে গতকাল দুপুর ১২টায় ডিএসইর লেনদেন শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় ডিএসইর ১৯৫ ব্রোকারেজ হাউসের মধ্যে ১৬৫টি লেনদেনের জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু লেনদেন শুরুর দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই ১২০টির বেশি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেনব্যবস্থা ভাইরাস আক্রমণের কবলে পড়ে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লেনদেন চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কোরামসংকট দেখা দেয়। এ জন্য তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে লেনদেন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তিনি জানান, এ সময়ে ১৪টি কারগরি দল বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে ঘুরে ঘুরে লেনদেনব্যবস্থা ভাইরাসমুক্ত করে। এর পর দুপুর দুইটায় মাত্র এক ঘণ্টার জন্য আবার লেনদেন চালু করা হয়। লেনদেন একবার চালু হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার বাধ্যবাধকতার কারণেই তা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এ এস এম খায়রুজ্জামান বলেন, যথাসময়ে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর লেনদেনব্যবস্থা অ্যান্টি ভাইরাস হালনাগাদ না হওয়া এবং নকল অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করার কারণে এ আক্রমণ হতে পারে। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করবে ডিএসই। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে লেনদেন পদ্ধতি ঠিক রাখতে হলে শিগগিরই এগুলোতে অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার সংযোজন করা দরকার। যারা নিয়মিত অ্যান্টি ভাইরাস হালনাগাদ করতেন তাঁদের ব্রোকারেজ হাউসে কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি লেনদেনব্যবস্থায় ইন্টারনেট, সিডি, পেন ড্রাইভ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান।
