ওয়াইম্যাক্সের লাইসেন্স ফি নির্ধারিত সময়ে দিতে ব্যর্থ দুই কোম্পানি ॥ সময় বাড়ানো হয়েছে এক মাস

WiMax

ইত্তেফাক: রেকর্ড মূল্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ওয়াই ম্যাক্সের লাইসেন্স দেয়া হলেও সেই লাইসেন্স ফি নিয়েই সমস্যা দেখা দিয়েছে। নিলামে বিজয়ী তিনটি কোম্পানির মধ্যে বাংলালায়ন কমিউনিকেশন্স এবং ব্র্যাক বিডিমেইল নেটওয়ার্ক লিমিটেড চুক্তি অনুসারে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লাইসেন্সের অর্ধেক ১০৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। বরং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ টাকা পরিশোধের শেষ সময় ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে কোম্পানি দুটির আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ দেলওয়ার। বুধবার চিঠি দিয়ে কোম্পানি দুটিকে লাইসেন্স ফি’র অর্ধেক টাকা জমা দেয়ার সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বিটিআরসি’র এমন সিদ্ধান্তের পরেও নিলামে বিজয়ী অপর কোম্পানি অগুরি ওয়ারলেস আজ বৃহস্পতিবার লাইসেন্স ফি’র অর্ধেক টাকা জমা দেবে বলে জানা গেছে। বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান আরো জানান, অর্ধেক টাকা জমা দেয়ার সময় বৃদ্ধি করা হলেও মোট টাকা পরিশোধের সময় আগের মতোই তিন মাস রয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেশে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রযুক্তি ওয়াইম্যাক্সের জন্য অনুষ্ঠিত নিলামে লাইসেন্স ফি হিসাবে ২১৫ কোটি টাকা দেয়ার শর্তে লাইসেন্স পায় তিনটি কোম্পানি। নিলামের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ১১ ধারায় উল্লেখ ছিল, কোন কোম্পানি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাইসেন্স ফি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তারা লাইসেন্সের অধিকার হারাবেন। এক্ষেত্রে নিলামের চতুর্থ বা পর্যায়ক্রমে পঞ্চম-ষষ্ঠরা সুযোগ পাবেন; কিন্তু সাম্প্রতিক বিশ্ব বাজারে অর্থনৈতিক মন্দার কথা বলে টাকা পরিশোধের জন্য সময় বৃদ্ধির দাবি জানায় নিলামে বিজয়ী দুটি কোম্পানি।

সূত্র জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার কারণে নিলামে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দামে লাইসেন্স পেতে হয়েছে। সে কারণে বিজয়ী দু’একটি কোম্পানি থেকে শেয়ার হোল্ডাররা নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন। জানা গেছে, শুরুতে ব্র্যাক বিডিমেইল নেটওয়ার্ক লিমিটেডের সঙ্গে ভারতীয় কোম্পানি রিলায়েন্স গ্রুপ থাকলেও পরে তারা পিছিয়ে যায়। একই সঙ্গে বেশি দামে লাইসেন্স কেনা হচ্ছে কারণ দেখিয়ে ব্র্যাকের অপর দেশীয় এক সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নেয়। প্রায় একই অবস্থা হয়েছে অপর আরেকটি কোম্পানিরও। এ অবস্থায় লাইসেন্স বিজয়ী কোম্পানীগুলো ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করলেও ব্যাংক সাড়া দিচ্ছে না।

এদিকে নিলামে অংশ নেয়া অপর একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, লাইসেন্সের টাকা দেয়ার জন্য এতোটা সময় বাড়ানো হবে তা জানলে আরো অনেকেই নিলামে বেশি টাকা পর্যন্ত যেতে পারতেন। তাতে প্রকৃতপক্ষে বিটিআরসি’র লাভ হতো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ কর্মকর্তা বলেন, আইজিডব্লিউ বা আইসিএক্সের ক্ষেত্রে বিটিআরসি যেমন ‘যৌক্তিকতা প্রমাণ’ করার ব্যবস্থা করেছিল এখানেও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে এমন আয়োজন করা হলে সুফল পাওয়া যেত। এখন টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যাতে পরবর্তীতে সাবমেরিন ক্যাবল বা থ্রি জি’র লাইসেন্সের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

এর আগে ওয়াইম্যাক্সের নিলামে বিশ্বে সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১৮ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বাংলাদেশে এ দর উঠে ২১৫ কোটি টাকা বা ৩১ মিলিয়ন ডলার। রেকর্ড দামে লাইসেন্স দিতে পেরে বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্টরা তখন আনন্দ করলেও এখনো ঝুঁকির মধ্যেই রয়ে গেছে। তাছাড়া বেশী দামে ওয়াই ম্যাক্সের লাইসেন্স বিক্রির কারণে গ্রাহকদেরকেও বেশি দামে ইন্টারনেট সুবিধা পেতে হবে বলে মনে করছে ওয়াই ম্যাক্স সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

Your rating: None